02/10/2025
#কুহুজান
#জারা_আজমিন_মানহা
#পার্ট ১১
কুহুর চোখের মায়া ঠোঁটের কোমলতা,,মুখের কোমল রেখা অদ্ভুত কাপুনি দিয়ে গেলো,,।
শবনম চৌধুরী সবাইকে তাড়া দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দিলেন,, কত দূর জার্নি করে এসেছে নিশ্চই খিদে লাগছে,, সবাইকে সবার ঘরে পাঠিয়ে খাবার গুছাতে চলে গেলে,,
সবাই খাওয়া দাওয়া করে নিল তারপর শুধু হলো কার জন্য কি আনছে বিদেশ থেকে,,
তাহির চৌধুরী প্রথম লাকেজ খুলতে বের হয়ে আসলো বিভিন্ন প্রয়োজনী জিনিসএকটি নকশা-ছাপা কাঠের বাক্স, একটি নরম ক্যানভাস-ঝলমলে বাক্স, আর ছোট ছোট লাইটিং।
তাহির হাসলেন, “সবার জন্য টুকটাক জিনিস আছে”
শবনম delicately খোলা হাসিতে বললেন, “আহা—তাহির, কী সুন্দর! তোমার এই গিফটগুলো আমি যত্ন সহকারে রেখে দিবো।”
তাহির দ্বিতীয় লাগেজ খুলে -সকলের জন্য আনা কাপড় দিলেন,,
তারপর ছোট-ছোট কাঠের মগ ও একটি চা-সেট, সঙ্গে একটি ছোট থ্রি-চারা টার্চ টিপস—“চা নাও, স্মৃতি মেশাও” বলে হাসলেন তিনি। কুহু মুগ্ধ চোখে আসবাপ পএ দেখছিলো,,
Tahir বললেন বড় এটা ফটোফ্রেম দিয়ে বললেন, “এটা আমাদের পুরো পরিবার এর ছবি,,,
_________________
নয়টা বাজে দেওয়াল ঘড়িতে । চৌধুরী বাড়িতে আসর বসেছে সবাই সব বিষয় নিয়ে গল্প করতেছে—। বড় টেবিলটা জাঁকজমকের মতো সাজানো হয়েছে । খাবারের বেলা পরিবারের লোকজন একত্র হয়েছে শুধু আরভিদ এর চেয়ার টা ফাকা।
শেষ কবে সে এই চেয়ারে বসে খেয়েছে সেটা সকলের অজানা,,।
টেবিলের সামনে সূচনাবৃত্তির মতো বসে আছে চৌধুরী, পরিবার , শুরুতে বসেছেন বাড়ির কর্তা মনির চৌধুরী। পাশে তাঁর ছোট ভাই তাহির চৌধুরী, । পাশে আছে রউশি,, আদিবা সাফাদ,,কুহু শবনম চৌধুরী ও সপ্না চৌধুরী পাশে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে,,শেফালী রান্না ঘর সামলাতে ব্যাস্ত,,
তাহির চৌধুরী ধীরে ধীরে ঠোঁট রেখা নড়িয়ে একটা সিগার-নরম হাসি ছড়িয়ে বড় ভাই মনির চৌধুরী দিকে তাকিয়ে বললেন, “বাড়ির সবচেয়ে বড় কর্তা তুমি ভাইয়া,,,আমি কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন তোমার সম্মতি ও সমর্থন লাগবে।”
ছোট ভাইয়ের ভালোবাসা দেখে মন ভরে গেলো,, তিনি বললেন: বলে ফেলো,, সম্মতি দেওয়ার হলে দিবো,,
তাহির (নরম গলায়):
"ভাইয়া... বলবো?"
মনির চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে তাকালেন, তবে কিছু না বলে মাথা নাড়লেন।
তাহির:
"রউশির ব্যাপারে... মানে, ওর বিয়ের কথা ভাবছি। আপনার অনুমতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।"
টেবিল যেন মুহূর্তেই ভারী হয়ে গেল। খাবারের স্বাদ হারিয়ে সবাই তাকিয়ে রইল মনির চৌধুরীর দিকে।
মনির হাত থেমে গেল, চামচটা প্লেটে রাখলেন। চোখে গাম্ভীর্য, তবে ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।
মনির চৌধুরী:
"রউশির বিয়ে... হুঁ। তোমরা ভেবেছো, ভালোই? আমি চাই, ওর জীবনে যেন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত যেন না আসে।"
তাহির তড়িঘড়ি মাথা নত করল।
তাহির:
"ভাইয়া, ছেলে আমার পছন্দ এখন শুধু আপনার দোয়া আর অনুমতি চাই।"
কিছুক্ষণ নীরবতার পর মনির গভীর নিশ্বাস ফেললেন।
মনির চৌধুরী (দৃঢ় কণ্ঠে):
"তাহলে ঠিক আছে। , আমি রাজি। তবে সবকিছু আগে ছেলেকে দেখতে হবে আমার।"
তাহির স্বস্তির হাসি নিয়ে মাথা নিচু করল। চারদিকে আবার খাবারের শব্দ ফিরে এল, রউশি বেশ লজ্জা পেলো বাবার এহেন কথাই,,।
তাহির:রউশি বিয়েটা ভালোই ভালোই দিতে পারলে,, আরভিদ এর বিয়ের বিষয় টা দেখবো,,।
মনির চৌধুরী জোরে একটা বিষয় খেলেন তারপর বিড়বিড় করে বললেন :যার বিয়ের আশায় বসে আছো,, তার বিয়ে তিন বছর আগেই হয়ে গেছে,,নিজের বিয়ে নিজেই করে নিয়েছে,।
পরে জোর গলায় বললেন: হুম,, পরেটা পরে দেখো,,,।
তাহির:দিন ক্ষন দেখে ছেলে পক্ষ কে আসতে বলি,,।
মনির :হুম,,।
শবনম:তাইলে এই খুশিতে মিষ্টি মুখ হয়ে যাক,,।
এটা বলে কিচেন ঘরে চলে গেলেন,, আদিবা বিভিন্ন কথা বলতেছে রউশি সাথে,,। সাফাদ চুপচাপ খাচ্ছে,, তার মুখে কোনো কথা নেই,,। হঠাৎ কুহুর দিকে তাকাতেই দেখলো মাথা নিচু করে আছে,, সে চঞ্চল গলায় বললো:কুহু তুমি খাবে না,,?
কুহু:না ভাইয়া আপনি খান,, আমি পরে খাবো,,
এটা বলে কুহু রান্না ঘরে চলে গেলো,,।
___________
গভীর রাত। গাড়ির হেডলাইট কাটতে কাটতে চৌধুরী ভিলার সামনে এসে থামল।
আরভিদ গাড়ির দরজা খুলে নেমে এল। চারিদিকে অস্বাভাবিক নীরবতা।ঝড়ো হওয়া বইছে মনে হচ্ছে কাল বৈশাখী আগামন হবে,,
অনেক বার গাড়ির আওয়াজ করলো আরভিদ,, দরজা খুলার নাম নেই,, কিছুই বিরক্ত হয়ে নেমে হলো,, দু’জন সিকিউরিটি অচেতন ঘুমে কাত।
একজনের মাথা হেলে পড়েছে, আরেকজনের হাত থেকে বন্দুক প্রায় ছুটে যাচ্ছে।
আরভিদ দাঁড়িয়ে ঠান্ডা চোখে তাদের দেখল। ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি রেখা টেনে বললো,,আমার প্রাসাদের প্রহরীরা ঘুমের রাজ্যে। যদি শত্রুরা আজ আসে—তাহলে কি তাদের স্বপ্নের ভেতরে উপকাত করবে?”
আরভিদ:বাল,, আমার টাকা দিয়ে বাল পুষি,, যেই বাল শুধু খাই আর ঘুমাই,,।
সিকিউরিটি দের নড়চড় না দেখে এবার খোলা আকাশে পিস্তল দিয়ে শুট করলো,,
হঠাৎ করে বিকট শব্দ হওয়ার। সিকিউরিটিদের ঘুম ভেঙে চমকে উঠল।
আরভিদ তাদের দিকে তাকাল এমন এক দৃষ্টি নিয়ে—যেন সেই চাহনিই ছিল ভয়কর,,।
আরভিদের মুখ সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে উঠল রাগে। সে গর্জে উঠল—
“এই হচ্ছে তোমাদের ডিউটি? আজ যদি শত্রুরা ঢুকত—তাহলে কি ওদের জন্য বিছানা পেতে খাওয়া দাওয়া ব্যবস্থা করতে? নাকি স্বপ্নে আমাকে বাঁচাতে?”
সিকিউরিটিরা হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে দাঁড়ালো, কাঁপা কাঁপা গলায় ক্ষমা চাইতে লাগল।
আরভিদ রাগে তাদের দিকে আঙুল তুলল—
“আর একবার এমনটা হলে… এই গেইটের বাইরেই তোমাদের ঘুমানোর জায়গা হবে। বুঝেছো?”
তার গম্ভীর কণ্ঠে এগুলো বলে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলো,,
____________
আরভিদ সোজা দরজা খুলে ঘরে মধ্যে ঢুকে চোখ মুখ কুচকে ফেলে পড়ে, ঘর খালি কোথাও কুহু নেই,, আপন গলায় বললো:বান্দি ঘরে বান্দি গেলো কই,,,
ফোন বের করে কিছু একটা দেখলো জুম করে দেখে তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আদিবা রুমে দিকে গেলো,,আদিবা রুমের দরজা খুলে আরভিদ ধীরে ধীরে ঘরভর্তি অন্ধকারে পদক্ষেপ নেন।বিছানায় পাশে গিয়ে ফ্লাশ জ্বালিয়ে দেখলো,,কুহু আদিবা পাশে বিড়াল ছানার ন্যায় ঘুমিয়ে থাকতে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে তার শীতল স্পর্শে কুহুকে কোলে নিয়ে তার ঘরে আসে,,।
বিছানায় শুইয়ে গিয়ে আরভিদ ও তার পাশে শুয়ে পড়ে,,
কুহু গভীর নিঃশ্বাসে ঘুমোয়, মুখচোখের ভেতরে শান্ত একটা হাসি লুকোনো,, কুহুর মুখটা দেখলে আরভিদ এর কিছু একটা হয়ে যায়,, কি হয় সেটা সে জানে না,, সারারাত ধরে কুহুকে দেখলেও তার দেখার তৃষ্ণা মিটবে না,,।
হঠাৎ একটা গাঢ় উষ্ণতা তার পাশে এসে জড়িয়ে ধরা মতো অনুভব হয়—একটি নরম চাপ, ঠিক যেন কেউ তার পাশে জড়িয়ে ধরে আছে। কুহুর চোখ বন্ধ করে বলে:আদিবা ছাড় আমাকে,, ঘুমাতে দে,,
এটা শুনে কেউ আরো শক্ত করে ঘরে,, কুহু কিছুতেই নড়তে পারে না,, তার দম যায় যায় অবস্থা।
কুহু জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে বললো:এই আদিবা ছাড় কিন্তু ভালো ভালো বলে দিচ্ছি,, তুই আবার কবে, থেকে তোর ভাইয়ের পারফিউম ইউস করতেছিস,,?
আরভিদ:বাবাহ,, মেডাম দেখি আবার আমার পারফিউম এর খোঁজ রাখে,, আমি কি পারফিউম দি,,
কুহু টেনে টুলে চোখ খুললো,, চোখের সামনে আরভিদের মুখ ভেসে উঠতেই ভয় পেয়ে বিদ্যুৎ গতিতে সরে গেল,, একটা শীতল হাওয়া দিয়ে গেলো তার হৃৎপিন্ডে।
কুহু বেডের ওই পাশে ঘরে যেতেই আরভিদ আর কুহুর কাছে চলে আসলো, এক ধাক্কা-পিছে পিঠ বাধে কুহুর;দেওয়ার এর সাথে চিপকে থাকার কারণে একটু ও নাড়তে পারে, আরভিদ এবার নেশালো কন্ঠ বললো:
তুমি ভয় কেন পাও
প্রান স্বজনি আমার দেখিয়া।
তোমায় প্রেম সোহাগে রাখবো
আমার বুকে জরাইয়া।
{সকলে একটু নিজেদের মতামত দিবেন যেমন গল্পটা কেমন কি লিখলে ভালো হয়}