Ekla Ami-একলা আমি

Ekla Ami-একলা আমি গল্প প্রেমীদের স্বাগতম......
(2)

 #কুহুজান  #জারা_আজমিন_মানহা  #পার্ট ১১কুহুর চোখের মায়া ঠোঁটের কোমলতা,,মুখের কোমল রেখা অদ্ভুত কাপুনি দিয়ে গেলো,,।শবনম চ...
02/10/2025

#কুহুজান
#জারা_আজমিন_মানহা
#পার্ট ১১

কুহুর চোখের মায়া ঠোঁটের কোমলতা,,মুখের কোমল রেখা অদ্ভুত কাপুনি দিয়ে গেলো,,।

শবনম চৌধুরী সবাইকে তাড়া দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দিলেন,, কত দূর জার্নি করে এসেছে নিশ্চই খিদে লাগছে,, সবাইকে সবার ঘরে পাঠিয়ে খাবার গুছাতে চলে গেলে,,

সবাই খাওয়া দাওয়া করে নিল তারপর শুধু হলো কার জন্য কি আনছে বিদেশ থেকে,,

তাহির চৌধুরী প্রথম লাকেজ খুলতে বের হয়ে আসলো বিভিন্ন প্রয়োজনী জিনিসএকটি নকশা-ছাপা কাঠের বাক্স, একটি নরম ক্যানভাস-ঝলমলে বাক্স, আর ছোট ছোট লাইটিং।

তাহির হাসলেন, “সবার জন্য টুকটাক জিনিস আছে”

শবনম delicately খোলা হাসিতে বললেন, “আহা—তাহির, কী সুন্দর! তোমার এই গিফটগুলো আমি যত্ন সহকারে রেখে দিবো।”

তাহির দ্বিতীয় লাগেজ খুলে -সকলের জন্য আনা কাপড় দিলেন,,

তারপর ছোট-ছোট কাঠের মগ ও একটি চা-সেট, সঙ্গে একটি ছোট থ্রি-চারা টার্চ টিপস—“চা নাও, স্মৃতি মেশাও” বলে হাসলেন তিনি। কুহু মুগ্ধ চোখে আসবাপ পএ দেখছিলো,,

Tahir বললেন বড় এটা ফটোফ্রেম দিয়ে বললেন, “এটা আমাদের পুরো পরিবার এর ছবি,,,

_________________

নয়টা বাজে দেওয়াল ঘড়িতে । চৌধুরী বাড়িতে আসর বসেছে সবাই সব বিষয় নিয়ে গল্প করতেছে—। বড় টেবিলটা জাঁকজমকের মতো সাজানো হয়েছে । খাবারের বেলা পরিবারের লোকজন একত্র হয়েছে শুধু আরভিদ এর চেয়ার টা ফাকা।

শেষ কবে সে এই চেয়ারে বসে খেয়েছে সেটা সকলের অজানা,,।

টেবিলের সামনে সূচনাবৃত্তির মতো বসে আছে চৌধুরী, পরিবার , শুরুতে বসেছেন বাড়ির কর্তা মনির চৌধুরী। পাশে তাঁর ছোট ভাই তাহির চৌধুরী, । পাশে আছে রউশি,, আদিবা সাফাদ,,কুহু শবনম চৌধুরী ও সপ্না চৌধুরী পাশে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে,,শেফালী রান্না ঘর সামলাতে ব্যাস্ত,,

তাহির চৌধুরী ধীরে ধীরে ঠোঁট রেখা নড়িয়ে একটা সিগার-নরম হাসি ছড়িয়ে বড় ভাই মনির চৌধুরী দিকে তাকিয়ে বললেন, “বাড়ির সবচেয়ে বড় কর্তা তুমি ভাইয়া,,,আমি কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন তোমার সম্মতি ও সমর্থন লাগবে।”

ছোট ভাইয়ের ভালোবাসা দেখে মন ভরে গেলো,, তিনি বললেন: বলে ফেলো,, সম্মতি দেওয়ার হলে দিবো,,

তাহির (নরম গলায়):
"ভাইয়া... বলবো?"

মনির চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে তাকালেন, তবে কিছু না বলে মাথা নাড়লেন।

তাহির:
"রউশির ব্যাপারে... মানে, ওর বিয়ের কথা ভাবছি। আপনার অনুমতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।"

টেবিল যেন মুহূর্তেই ভারী হয়ে গেল। খাবারের স্বাদ হারিয়ে সবাই তাকিয়ে রইল মনির চৌধুরীর দিকে।

মনির হাত থেমে গেল, চামচটা প্লেটে রাখলেন। চোখে গাম্ভীর্য, তবে ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।

মনির চৌধুরী:
"রউশির বিয়ে... হুঁ। তোমরা ভেবেছো, ভালোই? আমি চাই, ওর জীবনে যেন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত যেন না আসে।"

তাহির তড়িঘড়ি মাথা নত করল।

তাহির:
"ভাইয়া, ছেলে আমার পছন্দ এখন শুধু আপনার দোয়া আর অনুমতি চাই।"

কিছুক্ষণ নীরবতার পর মনির গভীর নিশ্বাস ফেললেন।

মনির চৌধুরী (দৃঢ় কণ্ঠে):
"তাহলে ঠিক আছে। , আমি রাজি। তবে সবকিছু আগে ছেলেকে দেখতে হবে আমার।"

তাহির স্বস্তির হাসি নিয়ে মাথা নিচু করল। চারদিকে আবার খাবারের শব্দ ফিরে এল, রউশি বেশ লজ্জা পেলো বাবার এহেন কথাই,,।

তাহির:রউশি বিয়েটা ভালোই ভালোই দিতে পারলে,, আরভিদ এর বিয়ের বিষয় টা দেখবো,,।

মনির চৌধুরী জোরে একটা বিষয় খেলেন তারপর বিড়বিড় করে বললেন :যার বিয়ের আশায় বসে আছো,, তার বিয়ে তিন বছর আগেই হয়ে গেছে,,নিজের বিয়ে নিজেই করে নিয়েছে,।

পরে জোর গলায় বললেন: হুম,, পরেটা পরে দেখো,,,।

তাহির:দিন ক্ষন দেখে ছেলে পক্ষ কে আসতে বলি,,।

মনির :হুম,,।

শবনম:তাইলে এই খুশিতে মিষ্টি মুখ হয়ে যাক,,।

এটা বলে কিচেন ঘরে চলে গেলেন,, আদিবা বিভিন্ন কথা বলতেছে রউশি সাথে,,। সাফাদ চুপচাপ খাচ্ছে,, তার মুখে কোনো কথা নেই,,। হঠাৎ কুহুর দিকে তাকাতেই দেখলো মাথা নিচু করে আছে,, সে চঞ্চল গলায় বললো:কুহু তুমি খাবে না,,?

কুহু:না ভাইয়া আপনি খান,, আমি পরে খাবো,,

এটা বলে কুহু রান্না ঘরে চলে গেলো,,।

___________

গভীর রাত। গাড়ির হেডলাইট কাটতে কাটতে চৌধুরী ভিলার সামনে এসে থামল।
আরভিদ গাড়ির দরজা খুলে নেমে এল। চারিদিকে অস্বাভাবিক নীরবতা।ঝড়ো হওয়া বইছে মনে হচ্ছে কাল বৈশাখী আগামন হবে,,

অনেক বার গাড়ির আওয়াজ করলো আরভিদ,, দরজা খুলার নাম নেই,, কিছুই বিরক্ত হয়ে নেমে হলো,, দু’জন সিকিউরিটি অচেতন ঘুমে কাত।
একজনের মাথা হেলে পড়েছে, আরেকজনের হাত থেকে বন্দুক প্রায় ছুটে যাচ্ছে।

আরভিদ দাঁড়িয়ে ঠান্ডা চোখে তাদের দেখল। ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি রেখা টেনে বললো,,আমার প্রাসাদের প্রহরীরা ঘুমের রাজ্যে। যদি শত্রুরা আজ আসে—তাহলে কি তাদের স্বপ্নের ভেতরে উপকাত করবে?”

আরভিদ:বাল,, আমার টাকা দিয়ে বাল পুষি,, যেই বাল শুধু খাই আর ঘুমাই,,।

সিকিউরিটি দের নড়চড় না দেখে এবার খোলা আকাশে পিস্তল দিয়ে শুট করলো,,

হঠাৎ করে বিকট শব্দ হওয়ার। সিকিউরিটিদের ঘুম ভেঙে চমকে উঠল।
আরভিদ তাদের দিকে তাকাল এমন এক দৃষ্টি নিয়ে—যেন সেই চাহনিই ছিল ভয়কর,,।

আরভিদের মুখ সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে উঠল রাগে। সে গর্জে উঠল—

“এই হচ্ছে তোমাদের ডিউটি? আজ যদি শত্রুরা ঢুকত—তাহলে কি ওদের জন্য বিছানা পেতে খাওয়া দাওয়া ব্যবস্থা করতে? নাকি স্বপ্নে আমাকে বাঁচাতে?”

সিকিউরিটিরা হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে দাঁড়ালো, কাঁপা কাঁপা গলায় ক্ষমা চাইতে লাগল।
আরভিদ রাগে তাদের দিকে আঙুল তুলল—

“আর একবার এমনটা হলে… এই গেইটের বাইরেই তোমাদের ঘুমানোর জায়গা হবে। বুঝেছো?”

তার গম্ভীর কণ্ঠে এগুলো বলে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলো,,
____________
আরভিদ সোজা দরজা খুলে ঘরে মধ্যে ঢুকে চোখ মুখ কুচকে ফেলে পড়ে, ঘর খালি কোথাও কুহু নেই,, আপন গলায় বললো:বান্দি ঘরে বান্দি গেলো কই,,,

ফোন বের করে কিছু একটা দেখলো জুম করে দেখে তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আদিবা রুমে দিকে গেলো,,আদিবা রুমের দরজা খুলে আরভিদ ধীরে ধীরে ঘরভর্তি অন্ধকারে পদক্ষেপ নেন।বিছানায় পাশে গিয়ে ফ্লাশ জ্বালিয়ে দেখলো,,কুহু আদিবা পাশে বিড়াল ছানার ন্যায় ঘুমিয়ে থাকতে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে তার শীতল স্পর্শে কুহুকে কোলে নিয়ে তার ঘরে আসে,,।

বিছানায় শুইয়ে গিয়ে আরভিদ ও তার পাশে শুয়ে পড়ে,,

কুহু গভীর নিঃশ্বাসে ঘুমোয়, মুখচোখের ভেতরে শান্ত একটা হাসি লুকোনো,, কুহুর মুখটা দেখলে আরভিদ এর কিছু একটা হয়ে যায়,, কি হয় সেটা সে জানে না,, সারারাত ধরে কুহুকে দেখলেও তার দেখার তৃষ্ণা মিটবে না,,।

হঠাৎ একটা গাঢ় উষ্ণতা তার পাশে এসে জড়িয়ে ধরা মতো অনুভব হয়—একটি নরম চাপ, ঠিক যেন কেউ তার পাশে জড়িয়ে ধরে আছে। কুহুর চোখ বন্ধ করে বলে:আদিবা ছাড় আমাকে,, ঘুমাতে দে,,

এটা শুনে কেউ আরো শক্ত করে ঘরে,, কুহু কিছুতেই নড়তে পারে না,, তার দম যায় যায় অবস্থা।

কুহু জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে বললো:এই আদিবা ছাড় কিন্তু ভালো ভালো বলে দিচ্ছি,, তুই আবার কবে, থেকে তোর ভাইয়ের পারফিউম ইউস করতেছিস,,?

আরভিদ:বাবাহ,, মেডাম দেখি আবার আমার পারফিউম এর খোঁজ রাখে,, আমি কি পারফিউম দি,,

কুহু টেনে টুলে চোখ খুললো,, চোখের সামনে আরভিদের মুখ ভেসে উঠতেই ভয় পেয়ে বিদ্যুৎ গতিতে সরে গেল,, একটা শীতল হাওয়া দিয়ে গেলো তার হৃৎপিন্ডে।

কুহু বেডের ওই পাশে ঘরে যেতেই আরভিদ আর কুহুর কাছে চলে আসলো, এক ধাক্কা-পিছে পিঠ বাধে কুহুর;দেওয়ার এর সাথে চিপকে থাকার কারণে একটু ও নাড়তে পারে, আরভিদ এবার নেশালো কন্ঠ বললো:

তুমি ভয় কেন পাও

প্রান স্বজনি আমার দেখিয়া।

তোমায় প্রেম সোহাগে রাখবো

আমার বুকে জরাইয়া।

{সকলে একটু নিজেদের মতামত দিবেন যেমন গল্পটা কেমন কি লিখলে ভালো হয়}

 #অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা[পর্ব ২০] # লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম (🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্...
27/09/2025

#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ২০]
# লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)


বাইরে প্রকৃতি যেনো ক্ষুব্ধ আকাশ থেকে ঝরে পড়ছে ধুমধারাক্কা বৃষ্টি। চারপাশে গাছপালা একটানা ধৈ ধৈ করে কেঁপে উঠছে, বাতাসের ঝাপটায় উঠেছে ঝড়ো হাহাকার। কিন্তু এহসান মঞ্জিলের ভেতরে বাইরের অস্থিরতার বিন্দুমাত্র সাড়া নেই।

রমণীর বুকের ভেতর দুরুদুরু কাঁপন। শ্বাস যেন আটকে আসছে। কোথায় যে তার ওড়নাটা পড়ে গেছে সে নিজেও জানে না। মনে মনে সন্দেহ জন্মায় নিশ্চয়ই বিছানা থেকে দূরে ফেলেছে। নষ্ট পুরুষটি ইচ্ছে করেই ওড়নাটা সরিয়ে একটানে খুলে নিয়েছিল। চোখ তুলে তাকাতে পারে না সে। ওই নীলাভ দৃষ্টি যেন সর্বনা'শের ঘূর্ণি যেখানে ডুবে গেলে আর ফেরার উপায় নেই।

নির্লজ্জ পুরুষটি প্রথমে জোর করে বিয়ে করেছে, আর এখন সেই জোরেই চাইছে বাসরের অধিকার আদায় করতে। রমণীর অন্তরের ভেতর জ্বা'লা ধরেছে। ভয়, লজ্জা, ঘৃণা সব মিলেমিশে মনে মনে কেবল বকুনি দিচ্ছে সে, অথচ মুখে একটিও শব্দ বেরোচ্ছে না।
নরম তুলতুলে বিছানায় ন্যান্সির উপর নিজের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে শুয়ে আছে আফরিদ এহসান। পরণে শুধু কালো রঙের ট্রাউজার প্যান্ট ছাড়া কিছুই নেই। চোখ দুটো শক্ত করে বুজে রেখেছে ন্যান্সি। তাকাবে না মোটেও।
আফরিদ চোখে হাসে ,ভীতু মেয়েটা তার মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। ছুঁতেও পারছে না আর না ছুঁয়েও থাকতে পারছে না ‌। ছুঁয়ে দিলে যদি ঝরে পড়ে? তবে কাকে জ্বা'লাবে ?

লালচে গালে নাক ঘষে আফরিদ ,এই মেয়ের সব কিছু তার ভালো লাগে। বিশেষ করে লালচে গাল গুলো। মারাত্মক টানে তাকে। পরপর গালে চুমু খায়। শিউরে উঠে ন্যান্সি , ফাঁকা ঢোক গিলছে একের পর এক।

"গাল লাল কেন?"

ন্যান্সি রিনরিনে গলায় বলল।
"জানি না।"

আফরিদ শুনলো , অতঃপর কিয়ৎক্ষণ চলল নীরবতা। তবে থামেনি আফরিদ এহসান। গালে কুটকুট করে কামড় বসায়। ব্যথায় অস্ফুট স্বরে আওয়াজ করে মেয়েটা। ছটপট করতে ছাড়া পেতে , কিন্তু নষ্ট পুরুষ তাকে ছাড়তে চায় না মোটেও।

"শুন না।"

গলা ভেজায় ন্যান্সি , বরাবরের ন্যায় ফিসফিসিয়ে বললো।
"সরুন আপনি।"

"পরে।"

আফরিদের নির্বাক জবাব।‌ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি। আফরিদ ন্যান্সির উদরে স্পর্শ করতে থাকে। জিজ্ঞাসু কন্ঠে শুধোয়।

"আম্মু আব্বু দেশী নাকি বিদেশী?"

"মানে?"

"বা'ল,তোর বাপ মা দেশী মা'ল নাকি বিদেশী মা'ল।"

চমকে উঠে ন্যান্সি , তড়িঘড়ি করে বলল।
"বাংলাদেশের এটা কি জানেন না?"

চোখ পাকিয়ে তাকালো আফরিদ। দৃষ্টি নত হয়ে আসে ন্যান্সির। মেজাজ হারাচ্ছে আফরিদ ,এক কথা বারবার জিজ্ঞেস করতে পারে না সে। বরাবরই অধৈর্য পুরুষ সে , কিন্তু কিভাবে কিভাবে যে বউয়ের বেলায় ধৈর্য্য ধরেছে তা একমাত্র খোদা তায়ালা বলতে পারবেন।

"আমি কি জিজ্ঞেস করছি তোর প্রতিবেশী বাপ মায়ের কথা? আমি তোর বায়োলজিক্যাল ফাদার আর মাদারের কাহিনী জানতে চাইছি।"

চট করে উঠে বসলো আফরিদ , থমথমে মুখ করে তাকালো ন্যান্সির নাজুক মুখ পানে। মূহুর্তের মধ্যে মেজাজ ঠান্ডা হয়ে আসে। নৈঃশব্দ্যে ঠোঁট ফুলিয়ে উঠে বসেছে মেয়েটা। আফরিদ একগাল হেসে বলল।

"বল না!"

"মনে নেই ওদের ,মুখ অস্পষ্ট। "

আফরিদ ভ্রু কুঁচকে নিল। পরক্ষণেই মজার ছলে আওড়াল।
"আমার এখন একটা জিনিস মন চাচ্ছে। জানিস কি?"

প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে মুখ তুলে তাকায় ন্যান্সি। আফরিদ লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বলল।

"রে*****

এক লাফে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ন্যান্সি। এই পুরুষ বলে কি? নিজের স্ত্রী কে কেউ এসব বলে?
ন্যান্সি কে ভয় পেতে দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে আফরিদ। তার হাসি যেনো থামতেই চাইছে না। তাকে হাসতে দেখে আরো বেশি ভয় লাগছে। এখুনি বোধহয় মাইমুনা এহসান গদগদ কন্ঠে ডেকে উঠবেন "বেটা হোয়্যাট হ্যাপেন্ড?"

"হুঁশ চুপ করুন , হাসছেন কেন এখুনি সবাই চলে আসবে।"

আফরিদ নিশ্চুপ। ভ্রু বাঁকালো তৎক্ষণাৎ।
"রুম সাউন্ড প্রুফ , কোনো শব্দ যাবে না। এবং কি তোর ম...

ন্যান্সি থাকলো না ,চলে গেল কাইট্যানের কাছে। কোলে তুলে বসে পড়ল ফ্লোরে। কাইট্যান জেগে উঠেছে। তাকে খাওয়ানো প্রয়োজন।
আফরিদ তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ ,পলক ফিরছে না একদম। অস'ভ্য দৃষ্টি চলে যাচ্ছে ওড়না বিহিন বক্ষভাজে।
কবে থেকে যে তার চোখ দুটো লুই'চ্চা হইছে সেটাই তো টের পেলো না! কি আশ্চর্য ব্যাপার নিশ্চয়ই এই বউ তাকে কালা জাদু করেছে।

"ওই শা'লী তুই আমারে কালো জাদু করছ কেন?"

ধমকের স্বরে কথাটা শুনে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো ন্যান্সি। বোঝার চেষ্টা করে নষ্ট পুরুষের অভিব্যক্তি?

"আমি কেন আপনাকে কালো জাদু করতে যাবো?"

আফরিদ গভীর ভাবে চোখ বুলিয়ে ন্যান্সির ঠোঁট পরখ করে। কিভাবে ঠোঁট এলিয়ে কথা বলছে সে? কথা বলার সময় চোখ দুটো গোল হয়ে আসে। আফরিদের মন উড়ু উড়ু করছে। বসা থেকে উঠে এসে ধপাস করে বসে পড়ল ন্যান্সির পাশে।

"একটা কথা বলি?"

ন্যান্সি দু দ্বারে মাথা দোলায়। আফরিদ ওর ঠোঁটে আঙ্গুল ছুঁয়ে বলল।

❝আমার বুকে একটু মাথা রাখো।শুনো হৃদস্পন্দন, মাংসপিণ্ড টা তুমি ছাড়া কিছুই বুঝে না।❞

নিশ্চুপতার ভেতরও এক অদৃশ্য ঢেউ বয়ে চলেছে। নষ্ট পুরুষটির প্রেমময় বাক্য যেন বৃষ্টির টুপটাপ ফোঁটার মতো গিয়ে আছড়ে পড়ছে ন্যান্সির অন্তরে। বুক কেঁপে ওঠে, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। নিষ্পলক নয়নে সে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ সেই দৃষ্টিতে ভয় নেই, আছে অচেনা , অদ্ভুত মাদ'কতা।

আফরিদ এহসানের চোখে এক অদ্ভুত ঘো'র চাহনির গভীরতা ন্যান্সির বুকের ভেতর কাঁপুনি তোলে। ধীরে ধীরে ঝুঁকে আসে সে, ঠোঁটের দিকে এগোতে থাকে নিশ্চুপ , অদ্ভুত ভঙ্গিতে। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের কাইট্যান বিড়ালটি ম্যাও ম্যাও করে ওঠে।

ন্যান্সির ভেতর আ'তঙ্ক আর অজানা শিহরণ জড়িয়ে ধরে। ঠোঁট ছোঁয়ানোর আগে নষ্ট পুরুষটি নির্লিপ্তভাবে ট্যাব চকলেট মুখে পুরে নেয়। চমকে ওঠে ন্যান্সি ,ঘোর কা'টল তার। পালাতে চায়, কিন্তু আর সময় পায় না। আফরিদের উষ্ণ ওষ্ঠ আঁকড়ে ধরা মাত্রই শরীরটা ঝুঁকে পড়ে ফ্লোরে। ন্যান্সির দু’হাত ছটফট করে, হৃদপিণ্ড দ্রুত লাফায়, অথচ প্রতিরোধ যেন অর্ধেকেই হারিয়ে যায়।

পাশেই বসে থাকা বিড়ালটি নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকে ম্যাও ম্যাও।হাত বাড়িয়ে নখের সাহায্যে টেনে ধরে ন্যান্সির চুল। আফরিদ দিশাহারা , বাঁধনহারা ‌। নিজেকে ছেড়ে দেয় পাগলাটে ঘোড়ার মতো। আশ্লেষে চুষে শুষে নেয় প্রেম সুধা। অবাধ্য হাত দুটো জাপটে ধরে তার ধনুকের ন্যায় তনু।
আকস্মিক আফরিদ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো ন্যান্সি। হেসে ফেলল আফরিদ।

গা জ্বলে উঠলো ন্যান্সির , তীব্র রাগ নিয়ে আওড়াল।
"সবসময় সুযোগে থাকেন তাই না? এমন করেন কেন কি করেছি আমি?"

ঠোঁট উল্টায় আফরিদ এহসান। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ন্যান্সির দিকে। ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়ালো , কোঁকড়ানো চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল।

"তোর শরীরের ডার্টি মার্কা র'ক্ত আমার শিরা উপশিরায় চলমান। তাই প্রতিশোধ নিচ্ছি ,যাতে আর কোনো দিন কাউকে নিজের কারেন্ট ওয়ালা র'ক্ত দিয়ে ভেতরে কারেন্ট জাগাতে না পারে!"

যুক্তিহীন কথায় আবারো বোকা বনে গেল ন্যান্সি। কোন দুঃখে যে এই নষ্ট পুরুষ কে নিজের র'ক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিল? নিজের কপালে নিজেই দুঃখ ডেকে এনেছে সে!
কাইট্যান আবারো ম্যাও ম্যাও করে উঠলো , অসহায় চোখে তাকায় ন্যান্সি। কাইট্যান বোধহয় ন্যান্সির দুঃখ টা বুঝতে পারলো। তাই তো আফরিদ কে গা'লি দিচ্ছে।

"শা'লা লুইচ্চা খালি চুমু খাওয়ার ধা'ন্দা তোর। আর একবার আমার আম্মুর কাছে আইসা দেখ তোরে কাম'ড়াইয়া খাইয়া ফেলমু।"

কিন্তু আফসোস চেয়েও মুখ খুলে বলতে পারলো না কাইট্যান।

বজ্রপাতের শব্দে কেঁপে উঠল চারদিক, যেন আকাশও অস্থিরতার কথা বলে দিচ্ছে। সেই তীব্র শব্দে শিউরে উঠল ন্যান্সির অন্তর। ঘরের ভেতরে দুষ্টু পুরুষ বিছানায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছে তাকে কাছে গিয়ে বসার কোনো ইচ্ছে ন্যান্সির নেই। বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে উঠছে ঢেউয়ের মতো। কি করবে এখন?

ঠিক তখনই গম্ভীর কণ্ঠে শোনা গেলো আফরিদের গলা।

"দাঁড়িয়ে থাকবি সারা রাত?"

নিরুত্তর ন্যান্সি । তার নীরবতা যেন বিক্ষুব্ধ বাতাসের মতো নিস্তব্ধ ঘরে ভেসে থাকে। ন্যান্সি পায়ের নখ দিয়ে খুঁটতে লাগলো ফ্লোরে। আফরিদ প্রত্যুত্তরে কিছু না শুনতে পেয়ে চোখ তুলে তাকাল, আবারো প্রশ্ন করল, এবার কণ্ঠটা একদম শান্ত।

"কি হলো, আয়?"

ন্যান্সির চোখের পাতা কেঁপে উঠে,ধীরে মাথা তোলে, দ্বিধাগ্রস্ত দৃষ্টিতে এক ঝলক তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে উঠল।
"আপনার কাছে শুলেই আপনি কিছু না কিছু করতে চান।"

ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে তোলে আফরিদ এহসান, চোখে খেলা করা আফরিদের দুষ্টু হাসি চোখ এড়ালো না ন্যান্সির । আফরিদ হাসে ,কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ। শান্ত সুরে আশ্বস্ত করে আফরিদ।

"কিছু করব না, চলে আয়।"

একটু দ্বিধা, তারপর ন্যান্সি পদক্ষেপ ধীরে ধীরে বিছানার দিকে এগোয়। কাছে যেতেই আফরিদ দু’হাতে তাকে টেনে নেয় আপন আলিঙ্গনে, বাহুবন্ধনে বন্দি করে ফেলে অনায়াসে। কানে ফিসফিসিয়ে বলে

"নরম নরম, গরম গরম বান্দি জানকি বাচ্চা।"

কথাগুলো যেন মায়াবী মন্ত্রের মতো ভেসে আসে। মুহূর্তেই চাদরের নিচে ঢেকে যায় তাদের দু’জনের দেহ। কী অদ্ভুত এক জাদুতে ন্যান্সির সমস্ত অস্থিরতা মিলিয়ে যায়। বুক ভরে আসে নিস্তব্ধ শান্তি, আর অল্প পরেই সে ডুবে যায় গভীর ঘুমে, যেন ঝড়ের রাতও তার ক্লান্ত আত্মাকে আর ছুঁতে পারে না। আফরিদ ঘুমন্ত মায়াবীর কপালে চুমু খায়। নেশাতুর কন্ঠে শুধোয়।

"কবে আমার হবি, অ্যাঞ্জেলিনা? তোকে জোর করেও আমার করতে ইচ্ছে করে যদি ব্যথা পাস? ধ্যাত বা'ল বা'ল বা'ল ব্যথাও দিতেও পারব না আবার না ছুঁয়ে থাকতেও পারব না। ইয়া খোদা অ্যাঞ্জেলিনা কে আমার জন্য পাগল করে দাও এরপর লুতুপুতু করার সুযোগ করে দাও। আমি আফরিদ এহসান তোমার নামে মসজিদে গুনে গুনে এক হাজার টাকা দিব।"

🌿_______________🌿

রুমে ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে কল্পনা। তার ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাস বলে দিচ্ছে সে গভীর ঘুমে ডুবে আছে। নীলাদ্রি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ধূর্ত লোকটা এগিয়ে গেল জানালার দিকে। চুপচাপ কাউকে খুঁজে , আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে কেউ একজন। ওই তো দূরে রয়েছে। নীলাদ্রি বাঁকা হাসলো , চুপচাপ আবারো কাবার্ডের কাছে এগিয়ে গেল। কাবার্ড খুলে কালো রঙের ব্যাগ টা বের করে নিয়ে আসে। আবারো জানালার কাছে এগিয়ে গেল। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার উদ্দেশ্যে ব্যাগ টা ছুঁড়ে ফেলল।‌ তড়িঘড়ি করে ব্যাগ টা তুলে নিল আগুন্তক। হাতের ইশারায় সালাম জানিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেল।

নীলাদ্রি শান্ত হলো , তৎক্ষণাৎ কাঁধে হাতের স্পর্শ পেতেই হকচকিয়ে গেল। কল্পনা জেগে গিয়েছে। নীলাদ্রি কে জানালার কাছে দেখে সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।

"তুমি এখানে কি করছো? আর এত রাতে জানালা কেন খুলেছো?"

নীলাদ্রি মেয়েদের বেশি প্রশ্ন করার স্বভাব টা মোটেও পছন্দ করে না।
"আহা কল্পনা দেখছো তো দাঁড়িয়ে আছি , তাহলে জিজ্ঞেস করছো কেন?"

কল্পনা আবারো শুধোয়।
"সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি। এত রাতে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"

নীলাদ্রি তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে আওড়ালো।
"ঘুম আসছিল না তাই।"

কল্পনা নির্লজ্জের মত হাসলো। নীলাদ্রির বুকে হাত বুলাতে বুলাতে বলল।
"তাহলে বিছানায় এসো তোমার ঘুমের ব্যবস্থা না হয় আমিই করে দিচ্ছি।"

নীলাদ্রি বিরক্ত হলো , গায়ে পড়া মেয়ে গুলো দেখলে জুতো পেটা করতে ইচ্ছে করে তার। এগুলো শুধু সারাদিন থাকেই বিছানায় যাওয়ার জন্য। সুযোগ খুঁজতে থাকে সবসময়। যদি কল্পনা তার বউ না হতো তাহলে এখুনি গলা কেটে ফেলতো। মোটেও হাত কাঁপতো না তার। কল্পনা জোরপূর্বক তাকে টেনে নিয়ে গেল বিছানার দিকে। নীলাদ্রির ধূর্ত মস্তিষ্ক চিন্তায় আছে। কাজটা আদতেও কি ঠিকঠাক ভাবে করতে পারবে? নাকি কোনো ঝামেলা হবে? আসলে নীলাদ্রির উচিত ছিলো নিজে গিয়ে কাজটা করা ,এত দুশ্চিন্তা নেওয়া যাচ্ছে না। খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা করতে হবে।

চলবে..........।✨

 #শুভ্র_মায়ার_প্রেমকথন  # লিমা_ইমরাত  #পর্ব_৫" আপনি আমাকে ভালোবাসেন শুভ্র ভাই "?মায়ার হঠাৎ প্রশ্নে চমকালো শুভ্র। ল্যাপ...
26/09/2025

#শুভ্র_মায়ার_প্রেমকথন
# লিমা_ইমরাত
#পর্ব_৫

" আপনি আমাকে ভালোবাসেন শুভ্র ভাই "?

মায়ার হঠাৎ প্রশ্নে চমকালো শুভ্র। ল্যাপটপে অনবরত চলতে থাকা হাতের আঙ্গুল গুলো স্থির হলো। কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ ফেলে তাকালো রমণীর মলিন মুখের পানে। গম্ভীর কণ্ঠে শুধালো "

____" ভালোবাসি বললে আমার নামে লিখে দিতে হবে নিজের সম্পূর্ণ জীবন ? জড়িয়ে নিতে হবে আমায় আষ্টেপৃষ্টে । রাজি আছো মায়াবতী? তোমাকে আমার নামে লিখে দিতে ?

মায়ার ছলছলে চোখে গভীর দৃষ্টিতে তাকালো সে। অসহায়ত্ব আর যন্ত্রণার আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না ওই ডাগর ডাগর আঁখি জোড়ায়। তবে আজ ঐ চোখের ভাষা পড়তে অক্ষম শুভ্র। পড়তে পারলো না সে ; অথবা পড়তে চাইলো না। প্রেয়সীর মুখ থেকে শুনতে চাইলো জবাব।

____ভালোবাসি বললে আগলে নিবে আমায় তোমার বুকে?সংসার করবে আমার সঙ্গে মায়াবতী?

_____আমার মতো অভাগীর কপালে আপনার মতো শুভ্র সুখ নেই ; থাকতে পারে না। আমার ভাগ্য টা বরাবরই নির্দয় আমার ওপর। হাত বাড়িয়ে যাই ছুঁই; ছাই হয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় নিমেষেই। আপনাকে আমার ধ্বংশ প্রায় জীবনে জড়ানোর মতো দুঃসাহস আমার নেই ছোট সাহেব।

_____আমার থেকে পালানোর উপায়ও নেই তোমার। ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তোমার একমাত্র আশ্রয়স্থল হবে আমার বুক। তুমি নিজে থেকে ঠাঁই খুঁজে নিবে সেথায়।

_____আমাকে মেরে ফেলুন শুভ্র ভাই। আমার বাঁচতে ইচ্ছে করে না আর। বাঁচার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাই না আজকাল। অসহ্য যন্ত্রণা হয় গোটা শরীর জুড়ে। জ্বলে পুড়ে যায় গোটা মস্তিষ্ক। আমি একদম সহ্য করতে পারি না শুভ্র ভাই!

" শুভ্রর ভেতর টা দুমড়ে মুচড়ে গেলো যেনো। চোখ বন্ধ করতে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পরলো গাল বেয়ে। মায়া দেখার আগেই মুছে ফেললো কৌশলে। উঠে গিয়ে মায়াকে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। ছোট্ট গোলগাল মুখ খানায় সহস্র চুমু খেলো। মায়া কেঁপে উঠলো তবে ছড়ানোর চেষ্টা করলো না। কেনো করলো না? গত কাল শুভ্র তাকে গভীর ভাবে ছুঁয়ে দিলো । তবুও কেনো এত সাভাবিক থাকবে সে? তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা মায়াকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুভ্রর স্পর্শ তার জন্য অবৈধ । তবে কেনো সেটা অনুভব করলো না মায়া। কেনো মনে হয় এটা শুভ্রর অধিকারবোধ ছিল।

" ___তুমি একটু অসুস্থ মায়াবতী। তোমার এলার্জির সমস্যা আছে। এই জন্য শরীরে জ্বালাপোড়া হয় । মেডিসিন অনেক বেশি পাওয়ারফুল হওয়ায় মস্তিষ্ক অচল লাগে তোমার। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।

____বড় মা আমাকে একটা ওষুধ দিতো। সেটা খেলে আমি আরাম পাই ; কোনো যন্ত্রণা থাকে না আমার। আপনি বড় মায়ের কাছে থেকে ওই ওষুধ গুলো এনে দিবেন আমাকে?

" শুভ্র তপ্ত শ্বাস ফেললো । নিজের মায়ের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হলো নিজের অন্তরাত্মার কাছে। একটা ফুলের মতো নিষ্পাপ এতিম মেয়েকে তার মা কি করে ফেলেছে? মেয়েটা মানসিক অবস্থা ঠিক নেই; সেটা ভালোই বুঝতে পারে শুভ্র। আর কিছু দিন এভাবে ড্রা*গস হয়তো বদ্ধ পাগল হয়ে যেতো মায়া।

____ওই ওষুধ আর খাওয়া যাবে না । এখন থেকে নতুন ডাক্তার এসে তোমার চেকাপ করবে রোজ। তোমার যত ব্যথা যন্ত্রণা সব ঠিক হয়ে যাবে মায়াবতী। তুমি আর তোমার বড় মায়ের কথা মনে করবে না। আমি আছি না তোমার জন্য ?

" মায়ার কি হলো কে জানে। আদুরে বিড়াল ছানার মতো মুখ গুজে দিলো শুভ্রর গলায়। ছোট্ট দম নিয়ে বললো "

_____আপনি তো আমাকে সহ্য করতে পারেন না শুভ্র ভাই। কথায় কথায় বকা দেন ; আমাকে মারেন । গত কালকেও কত ব্যথা দিলেন। তাহলে আপনি কেনো আমার যন্ত্রণা কমাতে চাইছেন? সবার মতো দয়া দেখাচ্ছেন এতিম মায়াকে?

শুভ্র কথার প্রসঙ্গ বদলাতে বললো "

____আমাকে বিয়ে করবে মায়াবতী? আমার মনে থাকলেও তুমি ভুলে গেছো আমাদের বিয়ের কথা। গত কাল রাতেই বলেছিলাম আমি তোমার স্বামী। তুমি মনে করতে পারনি তখন। আমি চাচ্ছি আবার তোমাকে বিয়ে করতে। করবে আমায় বিয়ে?

_____আমি তো মনে রাখতে পারি না অনেক কিছু। যদি আবার ভুলে যাই?

____তাহলে আবারো বিয়ে করবো। তুমি যত বার আমাকে ভুলে যাবে আমি ততবার তোমাকে বিয়ে করব।

____আমাদের বিয়েটা কিভাবে হয়েছিল শুভ্র ভাই? আমার কেনো মনে পড়ে না?

____আমার শাসন করাটা মনে রাখতে পারলে । অথচ বিয়ে ভুলে গেলে মায়াবতী? এ কেমন অবিচার তোমার। দের বছর আগে তোমাকে সাথে নিয়ে আমার বন্ধু রিহানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম আমি। সেই দিন রাতে একটা বা*স্টার্ড বাজে ভাবে ছুঁতে চেয়েছিল ; তবে তার আগেই আমি দেখতে পেয়েছিলাম তোমাকে। ওই জা*নোয়ার এর হাত থেকে তোমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে সেদিন রাতেই কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেছিলাম আমরা। সাক্ষী ছিল আমার চার বন্ধু। বিয়ের পর তোমাকে নিয়ে আমি শাহরিয়ার বাড়িতে ফিরে গিয়ে সবাইকে যখন জানালাম আমাদের বিয়ের ব্যাপারে । তখন কৌশলে আম্মু আমাকে বিদেশ ফাটিয়ে দিল ব্যবসার কাজে। এরপর শুরু হলো তোমার ওপরে সবার অত্যাচার আর নির্যাতন। আমি সব শুনেছি ভাবির থেকে। যত দিনে আমি দেশে ফিরে আসলাম ততদিনে খুব বেশি দেরি হয়ে গেছিল। তুমি অনেক কিছুই ভুলে গেছিলে মায়াবতী। তুমি আমাদের বিয়েটাকে ভুলে গেছিলে ; অস্বিকার করেছিলে আমাকে মানতে। যেটা আমি একদমই সহ্য করতে পারিনি। তাইতো এত রুড ছিলাম তোমার প্রতি। আমি ভাবতাম তুমি ইচ্ছে করে আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছো ; অবহেলা করছো। তবে ভাবি আমাকে জানালো বড় ভাই আর আম্মু মিলে তোমাকে ড্রাগস দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমি সেদিন হতবাক হয়ে শুধু শুনে গেছি ভাবির কথা। এরপর আমি আম্মুর বিরোধিতা না করে গোপনে তোমার চিকিৎসা শুরু করলাম। আম্মু ভাবলো আমি তোমাকে ভুলে যাচ্ছি দিনদিন। তবুও তার মনের শান্তির জন্য আমার উপস্থিতিতে সে তোমাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো। যখন সবাই জানে তুমি আমার স্ত্রী ; ধর্মীয় ভাবে এবং আইনত ভাবে তুমি আমার স্ত্রী। তারা সেই পবিত্র সম্পর্কটাকে অপমান করলো মায়াবতী। তারা আমার ভালোবাসাকে অগ্নিকুন্ডে ফেলে দিলো জ্বলে পুড়ে ছাই হওয়ার জন্য।

শুভ্র এক দমে কথা গুলো বলে থামলো। বুকের সঙ্গে মিশে থাকা বিড়াল ছানার দিকে তাকাতেই দেখলো সে ঘুমিয়ে পড়েছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাসলো শুভ্র। কপালে আলতো চুমু খেয়ে মায়াকে কোলে নিয়েই উঠে দাঁড়ালো । বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজেও সুয়ে পড়লো মায়ার সঙ্গে। একটা প্রশান্তির ঘুম প্রয়োজন তার। দীর্ঘদিন ধরে নির্ঘুম রাত পার করে এসেছে সে। সেই কাঙ্ক্ষিত নারীর অপেক্ষার অবসান ঘটেছে এবার। দুজনে মিলে ছোট্ট একটা বাবুই পাখির সংসার সাজাবে । তবে তার আগে মায়াকে সম্পূর্ণ সুস্থ করতে হবে। আর কিছু দিন পরেই মায়াকে নিয়ে লন্ডন চলে যাবে শুভ্র। মায়ার পাসপোর্ট এবং ভিসার কিছু প্রসেসিং এর জন্য সে এখনো বাংলাদেশে রয়েছে। নয়তো যেদিন মায়াকে তুলে আনলো সেদিনই চলে যেতো শুভ্র। এই দেশে তার আপন মানুষ কেউ নেই আর। যারা আছে তারা তার আপন কেউ নয়। তাহলে কি হবে এখানে থেকে ?

ভাবতে ভাবতেই ঘুমের রাজ্যে পারি জমালো শুভ্র। মায়াকে আরো খানিকটা শক্ত করে ধরলো নিজের সঙ্গে। সুখ পাখিদের যুগলবন্দী সুখে থাক আজীবন!

#চলবে.......

 #কুহুজান  # জারা_আজমিন_মানহা  #পার্ট ১০শবনম :আমি চাই তুই একটু আরভিদ কে বোঝ মা,,আর পালিয়ে যাস না,, যতই পালিয়ে যাস ওর হাত...
26/09/2025

#কুহুজান
# জারা_আজমিন_মানহা
#পার্ট ১০

শবনম :আমি চাই তুই একটু আরভিদ কে বোঝ মা,,আর পালিয়ে যাস না,, যতই পালিয়ে যাস ওর হাত থেকে বাচতে পারবি না,,

কুহু:ফুফি তুমি ও জানো তোমার ছেলে আমার সাথে কেমন ব্যাবহার করে,,,

শবনম গম্ভীর কন্ঠে বললেন:ও আগে এমন ছিলাম না রে মা,,, আমাদের অবহেলা,, ও এক কাল নাগিনী জন্য আমার ছেলে এমন হয়ে গেছে,,।

কুহু:কাল নাগিন কে,,?

শবনম চৌধুরী নরম সুরে বললেন:সত্যি তো তুই ও বা জানবি কিভাবে,, ছোট থেকেই তো ভাইজান তোকে এই বাড়িতে আসতে দিতো না,, একদিন তোকে সব খুলে বলবো,, কুহু শোন, আরভিদ এর যতোটা অধিকার ঠিক তেমনি তোর সমান। বিয়ে হওয়ার পর মেয়েদের ঠিকানা সাধারণত স্বামীর ঘরেই সীমিত থাকে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তোর ঠিকানা ও এটিই হবে—এই বাড়ি, এই ঘর, এই সংসার—সবকিছু তোর অংশ। আমার ছেলের মেজাজ উগ্র স্বভাবের, কালকে বিষয় নিয়ে আমি অনুতপ্ত । সময় লাগলে চলবে, একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।

কুহু মাথা নিচু করে বসে আছে,, শবনম চৌধুরী কুহুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন :চিন্তা করিস না,, আমি আরভিদ এর সাথে কথা বললো,,।

কুহু:ফুফি আমি আব্বু সাথে কথা বললো,,

শবনম:মা রে আমাকে ফুফি বলে আর লজ্জা দিস না,, এখন তো আমি তোর শাশুড়ি,,, আরভিদ তো এমনিতেই আমাকে মা ডাকে না কতো বছর,, তুই অন্তত মা বলে ডাক,, তুই মা বলে ডাকলে অন্তত ছেলের থেকে মা ডাকের আশা একটু মিটবে,,।

কুহুকে চুপ থাকতে দেখে শবনম বললে:আচ্ছা বাদ দে তোর যা ইচ্ছা তাই বলিস,,

শবনম কিছুটা অনুসুচনা স্বরে বললেন:আরদিভ এর হয়ে আমি তোর কাছে মাফ চাচ্ছি,,, আরভিদ কে আর কি বলবো তুই তো জানিস আমি বেশি কিছুই বললে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়,,হাজার হলেও আমি মা আমার সন্তান দূরে থাকলে আমার কষ্ট লাগে,,

কুহুকে চুপ থাকতে দেখে শবনম চৌধুরী সব কথা বাদ দিয়ে বললেন:সোনা মা চল কিছু খেয়ে নিবি,, এমনি তেই তুই অনেক অসুস্থ,,?

কুহু:উহু,, খিদে নেই,,

শবনম:কুহু তুই এতো কিসের টেনশন করিস? কালকে ডাক্তার এর কাছে শুনলাম,,,

কুহু:কই,, কিসের টেনশন,, আমার শুধু আমার বাবা মাকে নিয়েই টেনশন,,

কুহু:তোর মতো একটা চাদের টুকরো মেয়ে থাকতে আর কি দরকার,,।

শবনম চৌধুরী কুহুকে সকালে নাস্তা করিয়ে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে নিচে চলে গেলে।

_________

সকাল সকাল সব গুছিয়ে নিয়েছে তারা আজকে সে নিজের বাড়ি চলে যাবে,, এতোদিন সে কুহুর টানে ছিলো,, অনেক বন্ধু এসেছে গেছে,, কিন্তু কুহুর মতোই কাউকে পাইনি,, বন্ধু কথা বললে অনেক বন্ধু জীবনে এসেছে গেছে কিন্তু কলেজ লাইফের বন্ধু কুহুই থেকে গেছে,, আর থাকবে,,। কুহুর সাথে তারার বন্ডিং মাঝে মাঝে সাপ বেজি,, মাঝে মাঝে জোড়া কবুতর,,সব মিলিয়ে ভালো চলতেছিলো,, হঠাৎ আরভিদ এর আগমনে সব ভেঙে গেলো,,, না জানি কখনো আগের মতো চলতে পারবে কি না,,,।

আস্ত একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিচে চলে গেলো,,আরশাফ ময়না বেগম সোফায় বসে কথা বলতে ছিলো,, তারা তাদের পাশে গিয়ে বসলো,, হঠাৎ তারাকে দেখে আরশাফ বললেন :কিছু বলবি মা,,

তারা: আঙ্কেল আন্টি,,আমি আজ চলে যাচ্ছি।

আরশাফ:আর কটা দিন থেকে যাও,,?

তারা:না আঙ্কেল অনেক দিনই তো আছি বাবা-মা ও বাড়িতে একা আছে,,।

আরশাফ: বাড়ি গিয়ে আমাদের আবার ভুলে যেও না আমারা ও তোমার মা বাবার মতো।কুহু ও চলে গেলো তুমি ও যাবে বাড়িটা আমার ফাকা হয়ে যাবে,,

তারা:চিন্তা করেন না আমি এসে মাঝে মাঝে দেখা করে যাবো,,

আরশাফ: (তারা মাথায় হাত রেখে) তুমি যেখানেই থাকো, আমাদের ভালোবাসা তোমার সঙ্গে থাকবে।

তারা:আমার জন্য দোয়া করবেন,,

আরশাফ:আচ্ছা,,

ময়না: আর কদিন থেকে যেতে পারতিস,,। তুই চলে গেছিস শুনলে অহু স্কুল থেকে এসে কান্না করবে,,

তারা:আমি আবার আসবো,,।

তারা কুহুর মা-বাবা তাকে বিদায় জানিয়ে নিজের গন্তব্য দিকে চলে যায়,,।

মির্জা গ্রূপে একটা কালো গাড়ি থামে,,আরভিদ বের হয়ে ভিতরে ঢুকতে যাবে এমন গার্ডরা এগিয়ে এলে—এটা দেখে হেসে ফেলে।
আরভিদ:
“সামনে থেকে সরে যা ,,না হলে আমার হাতে রক্ত লাগাতে বাধ্য হবো…”

দু’জন গার্ড ভয়ে পিছিয়ে যায়।
সে বাঁ হাতে পিস্তল আঙ্গুল দিয়ে ঘুরাতে ঘুরাতে ভিতরে ঢুকে যায়,, সাথে রাফি ও পাঁচজন বডিগার্ড, তাদের হাতে বড় বড় রাইফেল ,,

রুমের ভেতরে বসে আছেন মির্জা গ্রূপের মালিক ফারুক। চোখে দাম্ভিকতা।
আরভিদ ঝড়ের গতিতে ঢোকে, ঢুকে সামনে থাকা চেয়ার এ বসে পায়ের পর পা তুলে ,, একটা সিগারেট ঠোঁটে গুঁজে বলে।

আরভিদ (গভীর, ভয়ানক কণ্ঠে):
“আমার সাথে লাগতে নিষেধ করেছিলাম না ।
তুই তিনবার আমাকে মেরে ফেলতে জন্য লোক পাঠিয়ে ছিস,, আমার ফ্টেরিতে আগুন দেওয়া চেষ্টা করেছিস,,

কি ভেবেছিস আমি জানতে পারবো না,, পিছন থেকে আঘাত করে লাভ আছে।”এবার আমি সরাসরি এসেছি নে যা করবি কর,,

ফারুক মির্জা: চৌধুরী গ্রুপের এমপি নিজেই এসেছে,,কি ভাগ্য আমার,,।

আরভিদ: আমার সাথে লাগতে আসিস না,, মির্জা গ্রূপ একদম রাস্তায় বসিয়ে দিবো,,।

ফারুক মির্জা: সময় হয়ে দেখা যাবে কে কাকে রাস্তায় বসিয়ে দেয়,,,।

আরভিদ:I don't care about all that(সে সবের পরোয়া আমি করি না)

ফারুক মির্জা: নিজেকে কি মনে করো,,?

সে হঠাৎ হো হো করে হেসে ওঠে। টেবিলের গ্লাস ভেঙে ফেলে মাটিতে, কাচের টুকরো হাতে তুলে নিয়ে ফারুক মির্জা সামনে ঝুঁকে পড়ে।

আরভিদ (ফিসফিস করে):
“অনেক কিছু,,, যেমন তোকে আমি খুন করে দিয়ে যেতে পারি…।

ফারুক: এতো কিছু পারলে বডিগার্ড নিয়ে এসেছো কেন,,,

আরভিদ: এটা তো শো করতে,,আমার হাত জন্ম থেকে আগুনের মতো শক্ত, এখানে বডিগার্ড লাগে না, আমার হাত টাই যথেষ্ট…।

সুধরে যা আমি আরভিদ বার বার ওয়ারনিং দিতে আসবো না,,।

এটা বলে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যায় হাসতে হাসতে, দরজা খুলে বের হয়ে যায় আরভিদের সেই সাইকো হাসি করিডোরে প্রতিধ্বনি হতে থাকে।

ফারুক মির্জা ল্যাপটপ আছাড় দিয়ে বসে:কত বড় সাহস আমার অফিসে এসে আমাকে খুনের হুমকি দিয়ে গেল,,,।

খুব শ্রীঘ্রই তোর এই বিশ দাত আমি ভেঙে দিবো।

---
বয়ে চলা নদীর স্রোতের মতো সময়ও দ্রুত গড়িয়ে যেতে লাগল। কুহু আবারও নতুন করে নিজের জীবন সাজাতে শুরু করল। এখন সে পুরোপুরি সুস্থ, শরীরে খানিকটা গোলগাল ভাবও এসেছে—শবনম আর শেফালির যত্নে সে যেন নতুন আলোয় ভরে উঠেছে।

কুহুর সাথে সাথে চৌধুরী বাড়ির পরিবেশেও চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসতে লাগল। চৌধুরী বাড়িতে টানা দশ দিন থেকে কুহু যেন আপনজন হয়ে উঠল। আদিবার সাথে তার দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে উঠল, দুজনের হাসি-আড্ডায় চারদিক ভরে যায়।

সবকিছু যেন ঠিকঠাক চলছে। এরই মাঝে শবনম চৌধুরীর মনের ইচ্ছে—কুহুকে তিনি নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত করবেন, সমাজের সামনে তাকে শক্ত করে দাঁড় করাবেন। প্রয়োজন হলে ছেলের বিরুদ্ধে গিয়ে কুহুকে প্রতিষ্ঠিত করবে,,এটা তার শেষ সিদ্ধান্ত।

আরভিদ কুহুকে ওই দিন শেষ দেখা ছিল যেদিন কুহুকে বাজে ভাবে মেরেছিল,,,তার পর এখনো পর্যন্ত দেখা হয়নি। কুহু এখন তার ননদ আদিবার সঙ্গে,,আরভিদ চৌধুরী বাড়িতে আসে কি না আসে সেটা কুহুর অজানা,,।

___---___---___----____----____----____----___---___-----

পাঁচ বছরের দীর্ঘ দূরত্বের পর লন্ডন থেকে বাংলা দেশে ফিরছে মনির চৌধুরী ভাই তাহির চৌধুরী তার স্ত্রী স্বপ্না চৌধুরী ,, মেয়ে রওশা,, ছেলে সাফাদ সহ ফিরছেন,, সেজন্য চৌধুরী বাড়িতে আয়োজন চলতেছে

তাদের জন্য অপেক্ষা করছে শবনম, মনির, আদিবা—দূরে গাড়ির শব্দে বুঝতে পারলেন তারা চলে এসেছে

মনির চৌধুরী গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরে, খুশির মুখে বললেন, “অবশেষে পরিবার আবার একসাথে।”

শবনম চৌধুরী গিয়ে স্বপ্না কে জড়িয়ে ধরলো,, তরপর ছেলে-মেয়ের কাছে এগিয়ে গিয়ে ভালো মন্দ জিগ্যেস করে নিলো। কুহু দূর থেকে এসে চাচা শুশুর তাহির চৌধুরী ও চাচি শাশুড়ি সপ্না চৌধুরী কে সালাম করে নিলো“

তারা মাথায় হাত দিয়ে দোয়া দিলেন:সুখি হও মা,,

সাফাদ শবনম চৌধুরী কাছে জিগ্যেস করলো:বড় মা কে এই মেয়ে,,?

কুহু এই কথা শুনে সামনে দিকে তাকাতেই চোখে ভেসে ওঠে সুকাঠাম দেহের এক মানব,,সাফাদ এর দিকে তাকাতেই চোখে চোখ পড়ে যায় সাফাদ ও কুহুর তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে নেয়,,।

শবনম চৌধুরী সাফাদকে দেখে বলল,
“এটা কুহু।”

কুহু নামটা শুনে সাফাদ ভ্রুকুটি কুচিয়ে ফেলল।

শবনম চৌধুরী আবার ধীরে বলল,
“সাফাদ বাবা, ও আমাদের কুহু। চিনতে পেরেছো, আমার ভাইয়ের মেয়ে?”

সাফাদ মনোযোগ দিয়ে তাকাল। পড়াশোনার জন্য অনেকদিন বিদেশে ছিল সে। প্রায় আট বছর আগে… তারপর তার বাবা-মা আর বোনও চলে গেছে। সে কুহুকে শেষ দেখেছিল সাত বছর বয়সে।

শেষবার দেখেছিলো শবনম চৌধুরী সাথে কুহুর বাড়িতে গিয়েছিল তার জন্মদিনে। এখন সেই ছোট্ট মেয়েটা কত বড় হয়ে গেছে।

সাফাদ কুহুর দিকে তাকিয়ে থাকে। ছোটবেলায় সে কুহুকে কত আদর করতো, মনে পড়ে। বড় হয়ে যাওয়ার পর কুহুকে দেখার সুযোগ হয়নি—দেশের বাইরে ছিল সে। আজ কুহুকে দেখে অবাক

গম্ভীর ভাব নিয়ে সাফাদ শবনমকে বলল,
“চিনতে পেরেছি, বড় মা,,

সাফাদ কুহুর দিকে তাকিয়ে রইল। ছোটবেলায় কুহু অনেক দুষ্টু ছিল, সেই মেয়েটা এখন একেবারেই অন্য রূপে বড় হয়ে গেছে।

কুহুর চোখের মায়া, ঠোঁটের কোমলতা, মুখের কোমল রেখা—সবই সাফাদের মনে এক অদ্ভুত কাঁপন নিয়ে এলো।

(নায়ক হিসেবে কাকে চাও আরভিদ ওর সাফাদ কমেন্টে বলে যাও)

 #নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২) #পর্বঃ২৭ # কলমে_সোনালিকা_আইজা⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন⛔*****...
26/09/2025

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ২৭
# কলমে_সোনালিকা_আইজা

⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন⛔

*************

রাতের নির্জনতা গ্রাস করে নিয়েছে পুরো পৃথিবী। অন্ধকারের কালো চাদরে মুড়িয়ে, আকাশে টিমটিমে আলোর মতো ছোট্ট চাঁদের লাইট জ্বালিয়ে দিয়েছে। দুর্বল চাঁদের মিটিমিটি আলো আশপাশের পরিবেশ দেখার জন্য উপযুক্ত নয়। তবুও অন্ধকারের বুক চিরে দিকবিদিকশুন্য হয়ে দৌড়াচ্ছে কৌশিক। চোখে মুখে আতঙ্ক। বুকে জমেছে সহস্র কোটি ভয়। ভয় ডর সব পেছনে ফেলে দুরন্ত কদম ছুটিয়ে চলেছে স্কুলের দিকে। আকাশের মৃদু মেঘ এবার অল্প স্বল্প গর্জন শুরু করেছে। এই মুহুর্তে না হলেও শেষ রাতে ধরনী কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামবে।

ছুটতে ছুটতে সোজা স্কুলের গেইটে এসে পৌঁছালো কৌশিক। দারোয়ান গেইট তালা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার বন্দবস্ত করছিল। কৌশিক জোরে জোরে শ্বাস টেনে বলল,

"গেইট খুলুন। আমি ভেতরে যাবো।"

আচমকা কারো কথা শুনে পেছন ফিরলো দারোয়ান। এরপর চোখ মুখ কুঁচকে বলল,

"এই রাতে ভেতরে গিয়ে কি করবেন সাহেব?"

"দরকার আছে। আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি ভেতরে চেক করবো।"

"কিন্তু, ভেতরে তো কেউ নেই। স্কুল ছুটির পর সবাই বাড়ি চলে গেছে। স্কুল এখন পুরো ফাঁকা।"

তাড়াহুড়োর সময় দারোয়ানের অপ্রয়োজনীয় কথায় চরম বিরক্ত হলো কৌশিক। জোরে একটা শ্বাস টেনে বলল,

"দেখুন, আমি জানি সবাই চলে গেছে। তবুও একবার চেক করতে হবে। আপনি গেইট খুলুন।"

কৌশিকের কথা যেনো দারোয়ানের গায়েই লাগলো না। পাশ থেকে ছোট্ট টিফিন বক্স তুলতে তুলতে বলল,

"আকাশে মেঘ জমেছে সাহেব। যে কোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে। ভেতরে কেউ নেই। আপনি কালকে আসুন।"

কৌশিকের রাগ এবার সপ্তাহ আসমান ছুয়ে গেলো। মনের ভয়, সংশয়, ব্যাকুলতা, রাগ সব মিলিয়ে ভেতরটা জ্বলে উঠলো। আচমকাই দারোয়ানের কলার চেপে ধরে গর্জে উঠলো,

"শা*লা! ফাজলামো করিস আমার সাথে? আমার বউ হারিয়ে গেছে। ওকে খুঁজে না পেয়ে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আর তুই বলছিস কালকে আসতে। তোর এতবড় কলিজা!"

"আপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন।"

"আরে রাখ তোর বাড়াবাড়ি। গেট খোল। নাহলে এখানেই মেরে পুঁতে রেখে দেবো।"

বাঘের মতো গর্জন তুলে হুঙ্কার ছাড়লো কৌশিক। দারোয়ানের নাক বরাবর ঘুসি দেয়ার জন্য হাত তুলতেই দারোয়ানটা একটু ভয় পেয়ে গেলো। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,

"ছ.ছাড়ুন। খুলছি।"

"কুইক।"

তাড়া দিলো কৌশিক। দারোয়ান কোনোমতে গেইটটা খুললেই কৌশিক দৌড়ে ঢুকে গেলো স্কুলের ভেতরে। দুরন্ত পায়ে প্রতিটা ক্লাসরুম, কমনরুম চেক করলো। লাইব্রেরিতে গিয়েও দেখলো। কিন্তু তুবা কোথাও নেই। এই পর্যায়ে শরীরের শক্তি ফুরিয়ে গেলো যেনো। ক্লান্ত দেহে দুশ্চিন্তায় মরন সমান যন্ত্রণা অনুভব হলো। শক্তিহীনের মতো স্কুলের মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। আকাশের দিকে তাকিয়ে গলা ছেড়ে চিৎকার করলো,

"তুবা! জান প্লিজ ফিরে আয়। তোকে ছাড়া বাঁচতে পারিনা বলে বারে বারে হারিয়ে যাস? আমার বুকটা যে পুড়ে যায় সেটা বুঝিস না? ফিরে আয় জান। আমি আর টেনশন নিতে পারছি না।"

-
-

আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা। ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন বাতি ধিকিধিকি জ্বলছে। সেই আলোতে সামনের সাইনবোর্ডের লেখা গুলো আবছা দেখা যাচ্ছে। "কাজি অফিস"। নামটা চোখে পড়তেই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো তুবার। বাঁচার জন্য প্রাণপনে ছোটাছুটি শুরু করলো। কিন্তু সেই স্হান থেকে এক পাও নড়তে পারলো না। পারবে কিভাবে? তুবার হাত যে শক্ত করে চেপে ধরে আছে সিফাত। চোখে মুখে তার চওড়া হাসি। তুবার যে হাতে ব্যথা লাগছে সেদিকে সিফাতের বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই। তার ধ্যান জ্ঞান জুড়ে এখন শুধুই "কাজি অফিস"। তুবা ছাড়া না পেয়ে এবার শব্দ করে কেঁদে ফেললো। কাঁদতে কাঁদতে বলল,

" আমাকে এখানে কেনো নিয়ে এসেছেন? প্লিজ ছাড়ুন। আমি বাড়ি যাবো।"

"যাবে তো অবশ্যই। তবে তার আগে আমরা বিয়ে করবো। গলায় মালা জড়িয়ে পরিবারের সামনে গিয়ে দাঁড়াবো।"

তুবার মাথায় যেনো বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটলো। বৃষ্টি আসার আগেই ভেতরে ভেতরে ঝড় শুরু হয়ে গেলো। থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো পুরো শরীর। তুবা জড়ানো গলায় বলল,

"এমন কেনো করছেন সিফাত ভাই? আপনি তো এমন ছিলেন না।"

"ছিলাম না, হয়ে গেছি। তোমার জন্য এমন হয়েছি। কি করবো বলো? কিছুতেই ভুলতে পারছি না তোমাকে। ভেতরে ভেতরে মরে যাচ্ছি আমি। তোমাকে হারানো সম্ভব নয়। তারচেয়ে বরং চলো আমরা বিয়ে করে নেই।"

"এটা সম্ভব নয়।"

"কেনো সম্ভব নয়?"

"আমি ভালোবাসি না আপনাকে। হাত ছাড়ুন আমার।"

বলেই হাত মোচড়াতে লাগলো তুবা। তবে সিফাত এতোটাই শক্ত করে ধরেছে যে, হাতের বাঁধন বিন্দু মাত্র ঢিল করতে পারলো না তুবা। বরং অতিরিক্ত মোচড়ামুচড়িতে হাতের কব্জি লালচে রঙ ধারণ করলো। সিফাত তুবার বৃথা চেষ্টা দেখে হেঁসে বললো,

"লাভ নেই তুবা। আজ আমাদের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তোমার নিস্তার নেই।"

এই পর্যায়ে রেগে গেলো তুবা। বুকের ভেতর একরাশ ভয় চেপে গর্জন দিয়ে উঠলো,

"ভুল করছেন সিফাত ভাই। আজকের এই ভুলের জন্য আপনাকে সারাজীবন পস্তাতে হবে।"

সিফাত এবার হো হো করে হেঁসে দিলো। সেই হাসি দেখে তুবার গা গুলিয়ে উঠলো। সিফাত কয়েক দফা হেঁসে চোখ মুখ শক্ত করে বলল,

"কি করবে তুমি? মারবে? মারে। তোমার হাতে মার খেতেও আমি রাজি।"

"আমি কিছুই করবো না। যা করার আমার স্বামী করবে।"

তুবার মুখে স্বামী শব্দটা শুনে চমকে উঠলো সিফাত। ভ্রুদ্বয় সামান্য কুঁচকে গেলো। কিছুটা অবাক সুরে বললো,

"তোমার স্বামী আসলো কোথা থেকে? তোমার স্বামী তো একটু পরে আমি হবো।"

তুবা ঠোঁটে তাচ্ছিল্য হাসি ঝুলিয়ে বলল,

"বৃথা স্বপ্ন। আমি অলরেডি বিবাহিতা। কৌশিক ভাই আমার এক এবং একমাত্র স্বামী।"

সিফাত চমকালো বোধহয়। চোখের দৃষ্টিতে একরাশ বিস্ময় দেখা গেলো। কয়েক সেকেন্ড অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো। এর পরপরই বাঁকা হেসে বলল,

"ভালোই মিথ্যে সাজিয়েছো। তোমাদের বিয়ে হলে জামাল মামা নিশ্চয়ই আমাকে বলতো। এসব ঠুনকো অজুহাত দিয়ে বাঁচতে পারবে না তুবা। আজ তোমার আমাকে বিয়ে করতেই হবে।"

বলেই তুবাকে টেনে হিঁচড়ে কাজি অফিসের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো। ভয়ে আতঙ্কে দেহ অসার হয়ে আসলো তুবার। কি করবে এখন সে? কিভাবে বাঁচবে এই বিপদ থেকে। মনে মনে খুব করে চাইলো কৌশিক এসে ওকে বাঁচিয়ে নিক। কিন্তু সেই বা কিভাবে জানবে তুবা এখানে আছে? কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে সিফাতের হাত কামড়ে ধরলো তুবা। কামড়টা এতোই জোরে দিয়েছে যে, দাঁতগুলো খচ করে চামড়া ভেদ করে বিঁধে গেলো। আচমকা হাতে তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভব হতেই ঝটকা মেরে হাত ছেড়ে দিলো সিফাত। তুবা এটাই চাইছিল। ছাড়া পেতেই চোখ মুখ বন্ধ করে ছুট লাগালো উল্টো পথে। পেছন থেকে সিফাত চেঁচিয়ে উঠলো,

"তুবা দাঁড়াও বলছি। আজ ধরতে পারলে তোমার এমন হাল করবো, জীবনে কোনোদিন সমাজের সামনে মুখ দেখাতে পারবে না।"

চিৎকার করে কথাগুলো বলেই তুবার পিছু নিলো সিফাত। তবে সিফাতের কোনো কথাই কানে তুললো না তুবা। এই মুহুর্তে ওর একটাই উদ্দেশ্য। সিফাতের থেকে নিজেকে বাঁচানো। তুবা ছুটতে ছুটতে বাড়ির পথ ধরলো। খানিকদূর গিয়ে হঠাৎ মস্তিষ্কের বাতি জ্বলে উঠলো। সিফাত একজন ছেলে মানুষ। ওর সাথে দৌড়ে তুবা বেশিক্ষণ টিকতে পারবে না। এখান থেকে বাড়ি অনেকটা দূরে। এতো রাস্তা দৌড়াতে গেলে নিশ্চিত সিফাতের হাতে ধরা পড়ে যাবে। তাহলে বাঁচতে হলে অন্য রাস্তা ধরতে হবে। ওকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির সবাই নিশ্চয়ই স্কুলে খোঁজ করতে এসেছে। আর কেউ না হলেও কৌশিক নিশ্চয়ই এসেছে। তুবার মন বলছে কৌশিক স্কুলেই তুবার পথ চেয়ে বসে আছে। মনের ভেতর এক অদম্য আশা নিয়ে তুবা পা ঘোরালো স্কুলের রাস্তায়। ওর থেকে প্রায় পনেরো বিশ হাত দূরে সিফাত।

তুবা জান হাতে নিয়ে দৌড় লাগালো। ও সঠিক জানে না স্কুলে আদৌ কৌশিক আছে কি না। হয় আজ নিজের বিশ্বাসের কাছে জিতে প্রাণে বেঁচে যাবে। নাহলে সারাজীবনের জন্য গায়ে কলঙ্কের দাগ লাগবে।

এমন আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতেই স্কুলের কাছাকাছি চলে এলো তুবা। ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলোতে দূর থেকে কাউকে দেখতে পেলো। স্কুলের লোহার গেইটের সামনে পাথরের মতো বসে আছে কেউ। পিচঢালা রাস্তায় দেহের সমস্ত ভার ছেড়ে দিয়ে মাথা নিচু করে আছে। দূর থেকে দেখেও, চিনতে বিন্দু মাত্র সময় লাগলো না তুবার। অত্যাধিক আতঙ্কের মাঝেও ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো। তুবা ছুটতে ছুটতে চিৎকার করে উঠলো,

"কৌশিক ভাই।"

আচমকা চিকন কন্ঠে পরিচিত ডাক শুনে চমকে মাথা তুলে তাকালো কৌশিক। দূর থেকে তুবাকে ছুটে আসতে দেখে শুকনো ঢোক গিলল। শুকিয়ে যাওয়া বুকটায় একটু শীতল হাওয়া লাগলো যেনো। দেহের হারিয়ে যাওয়া শক্তি হুট করেই ফিরে পেলো। তড়িৎ গতিতে উঠে ছুট লাগালো তুবার দিকে।

কাছাকাছি আসতেই তুবা আছড়ে পড়লো কৌশিকের বুকে। কৌশিক শক্ত করে আগলে ধরলো নিজের সাথে। তবে কিছু জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলো না। অত্যাধিক ভয়, আতঙ্ক আর ক্লান্তিতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে মেয়েটা। কৌশিকের বুকটা মুচড়ে উঠলো তুবার জ্ঞানহীন শুকনো মুখ দেখে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো সন্দেহজনক কাউকে চোখে পড়ে কি না। কিন্তু কাউকে তেমন চোখে পড়লো না। চোখে পড়বে কিভাবে? তুবার মুখে কৌশিক ভাই ডাক শুনে আসামি তো আগেই পালিয়েছে। এখানে আর সময় ব্যায় না করে ঝটপট তুবাকে কোলে তুলে নিলো কৌশিক। এরপর দ্রুত পা বাড়ালো বাড়ির দিকে।

-
-

পুরো ভুঁইয়া মঞ্জিলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়ির ছোটো আদরের দুলালির এহেন করুন অবস্থা কেউই মানতে পারছে না। শুরুতে জ্ঞান না থাকলেও ঘন্টা খানেক পর তুবার জ্ঞান ফিরেছে। সেই তখন থেকে নিজের মাকে জাপ্টে ধরে কেঁদে চলেছে মেয়েটা। কান্নার দাপটে মুখ থেকে কথাও বের হচ্ছে না। জামাল সাহেবের বহু প্রশ্নের পর শুধু এটুকু বলেছে সিফাত ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছিল বিয়ে করতে। এর বেশি আর কিছু বলেনি তুবা। বলবে কিভাবে? এই মুহুর্তে সে যে কেঁদে কেটে মায়ের বুক ভাসাতে ব্যাস্ত। তুবার ওই এক লাইনের স্বীকারোক্তি শোনার পর পরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে কৌশিক। মৌমিতার হাজার বারনও শোনেনি।

কৌশিক যখন বাড়ি ফেরে তখন রাত এগারোটা পেরিয়ে গেছে। এতোক্ষণ ধরে পুরো পরিবার তুবার ঘরেই ছিলো। তবে মাত্রই সবাই যার যার ঘরে ফিরেছে। কৌশিক ঘর্মাক্ত ক্লান্ত দেহটা টেনে নিয়ে দোতলায় উঠলো। লম্বা লম্বা কদম ফেলে এগিয়ে গেলো বারান্দা দিয়ে। নিজের ঘরে না ঢুকে চলে গেলো তুবার ঘরের দিকে। বুকের ভেতর চলতে থাকা প্রলয়কারী ঝড় এখনও থামেনি কৌশিকের। তুবাকে বুকে না নিলে বোধহয় এই ঝড় থামবে না।

তবে দড়জার সামনে আসতেই পা জোড়া থেমে গেলো কৌশিকের। ময়না বেগম মেয়ের পাশে শুয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেলো কৌশিকের। আজ ময়না বেগম এই ঘরেই থাকবে নাকি? তাহলে কৌশিক যাবে কিভাবে? ভাবতে ভাবতে বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘষলো কৌশিক। ঠিক সেই মুহুর্তে পানি ভর্তি জগ নিয়ে তুবার ঘরের দিকে আসলো মৌমিতা। তবে ঘরে আর ঢুকতে পারলো না। তার আগেই কৌশিক ডেকে উঠলো,

"মৌ শোন!"

কৌশিকের ডাক শুনে থেমে গেলো মৌমিতা। পেছন ফিরে একবার ভালো করে তাকালো কৌশিকের দিকে। ওর পোশাকের দফারফা অবস্থা দেখে চোখ ছোটো ছোটো করে বলল,

"মারপিট করে এসেছিস?"

"নাহ্! শা*লাকে খুঁজে পাইনি।"

মৌমিতা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। মুখে আর কিছু বলল না। কারণ জানে, এই ছেলেকে বারন করেও লাভ নেই। ও কারোর কথা শুনবে না। তাই আর বৃথা চেষ্টা করলো না। এরই মাঝে কৌশিক ফের বলে উঠলো,

"দশ মিনিট সময় দিচ্ছি। রাস্তা ক্লিয়ার কর।"

"মানে?"

"মানে চাচিকে তার ঘরে পাঠা। আজ আমি তুবার সাথে থাকবো।"

বলতে বলতে ঘামে লেপ্টে থাকা চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করলো কৌশিক। মৌমিতা মৃদু চেঁচিয়ে উঠে বলল,

"মেয়েটা অসুস্থ। আজ অন্তত অসভ্যতামী করিস না ভাই।"

"অসুস্থ বলেই তো বলছি। আমি কাছে গেলেই ঠিক হয়ে যাবে। ওকে আমার চেয়ে ভালো আর কেউ সামলাতে পারবে না। রাতটুকু থাকতে দে। দেখবি সকালেই পাখির মতো উড়ছে।"

মৌমিতার চোখ মুখে আঁধার নেমে এলো। নাক মুখ কুঁচকে চলে গেলো তুবার ঘরে। এই ভাই নামক প্রাণির জন্য মৌমিতার জীবনে প্যারার শেষ নেই। এখন শুধু শুধু এক ঝুরি মিথ্যে কথা সাজাতে হবে। ভাবতেই গা রি রি করে উঠলো মৌমিতার।

চলবে?

Address

Gazipur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ekla Ami-একলা আমি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share