24/09/2025
অন্তর নষ্টকারী পাঁচটি বিষয়
১️⃣ অতিরিক্ত মেলামেশা (كثرة الخلطة)
মানুষের সাথে প্রয়োজনীয় সম্পর্ক রাখা ইসলামে বৈধ, তবে অতিরিক্ত মেলামেশা অন্তরের প্রশান্তি কেড়ে নেয়।
📖 আল্লাহ বলেন—
“অধিক হাসাহাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।”
(সুনান ইবনে মাজাহ, ৪১৯৩)
বেশি ভিড়ভাট্টায় অন্তর নরম থাকে না, বরং গাফিলতিতে ভরে যায়।
২️⃣ দীর্ঘ আশা (طول الأمل)
দীর্ঘ আশা মানুষকে দুনিয়ার মোহে আটকে রাখে, আখিরাত ভুলিয়ে দেয়।
📖 রাসূল ﷺ বলেছেন—
“বৃদ্ধ হয়ে গেলেও মানুষের দুটি জিনিস তরুণ থাকে— ধন-সম্পদের লোভ এবং দীর্ঘ আশা।”
(সহিহ বুখারি ৬৪২১, সহিহ মুসলিম ১০৪৭)
মৃত্যু ভুলে গিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর থাকা অন্তরকে কলুষিত করে।
৩️⃣ গান-বাজনা (سماع المعازف)
গান-বাজনা অন্তরের নরমতা নষ্ট করে, আল্লাহর যিকর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
📖 আল্লাহ বলেন—
“মানুষের মধ্যে কেউ আছে, যারা অবান্তর কথা (লাহওয়াল-হাদীস) ক্রয় করে, যেন মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে।”
(সূরা লুকমান ৩১:৬)
অনেক তাফসিরকারক (যেমন ইবনু আব্বাস রা., ইবনু মাসউদ রা.) এখানে গান-বাজনাকে বুঝিয়েছেন।
৪️⃣ ভরপেট খাওয়া (كثرة الأكل)
অতিরিক্ত খাওয়া শরীর ও অন্তরের জন্য ক্ষতিকর।
📖 রাসূল ﷺ বলেছেন—
“মানুষ কোনো পাত্রই তার পেটের চেয়ে খারাপভাবে পূর্ণ করে না। কিছু কণিকা খাবার যথেষ্ট, যা তার পিঠ সোজা রাখে। আর যদি অবশ্যই খেতে হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য, আর এক-তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য।”
(সুনান তিরমিযি ২৩৮০, সহিহ)
৫️⃣ অতিরিক্ত ঘুম (كثرة النوم)
বেশি ঘুম আলস্য আনে, নামাজ ও ইবাদত থেকে বিরত রাখে।
📖 আল্লাহ বলেন—
“তুমি তাদেরকে রাতের সামান্য অংশ ব্যতীত ঘুমাতে দেখবে না, আর ভোরের সময় তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।”
(সূরা আয-যারিয়াত ৫১:১৭-১৮)
সাহাবী ও সালাফগণ কম ঘুমাতেন, রাতকে কুরআন-যিকরে জীবন্ত রাখতেন।
অন্তরের রোগ ধীরে ধীরে ঈমানকে দুর্বল করে দেয়।
অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা কমানো,
দীর্ঘ আশা ত্যাগ করা,
গান-বাজনা থেকে বেঁচে থাকা,
খাবার ও ঘুম সংযত করা—
এসবই অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখার উপায়।
📖 আল্লাহ বলেন—
“সফল হলো সে-ই, যে তার অন্তরকে পবিত্র করেছে, আর ধ্বংস হলো সে-ই, যে তাকে কলুষিত করেছে।”
(সূরা আশ-শামস ৯১:৯-১০)