21/08/2026
#অন্ধকারের_মায়াবতী
#পর্ব_31
#লেখিকা_ Jesmin Chowdhury Jui
-----
সমুদ্রের পাড়ে বাতাসে জুঁইয়ের চুল উড়ছে।
রুদ্র তখনো দূর থেকে জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে।
ওর বুকের ভিতর হাজারটা কথা জমে আছে।
ডাক দিবে কি দিবে না...
হঠাৎ রুদ্রের চোখ পড়লো একটা ছেলের দিকে।
ছেলেটার বয়স ২২-২৩ হবে। বিদেশি টুরিস্ট।
গায়ে সাদা শার্ট, চোখে সানগ্লাস।
ছেলেটা অন্যরকম ভাবে জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
তারপর আস্তে আস্তে জুঁইয়ের দিকেই এগোচ্ছে।
রুদ্রের কপালের রগ দপদপ করে উঠলো।
ছেলেটা একদম জুঁইয়ের কাছে চলে গেল।
হাত বাড়িয়ে জুঁইয়ের শরীরে টাচ করতে যাবে...
*ধাম!!!*
এক সেকেন্ডের মধ্যে ছেলেটা বালিতে পড়ে আছে।
সামনে দাঁড়িয়ে *রুদ্র খান*।
চোখ দুইটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে এক লহমায়।
হাত মুষ্টিবদ্ধ। সিরাগুলো দৃশ্যমান।
কপালের রগ ফুলে আছে। শ্বাস ভারী।
রুদ্র ছেলেটাকে কলার ধরে টেনে তুলল।
তারপর পরপর *3, 4 টা ঘুসি* মারলো মুখে।
হাতটা মুচকে দিল।
*রুদ্র*: _দাঁতে দাঁত চেপে_
"কুত্তার বাচ্চা! তোর সাহস কি করে হয় ওর গায়ে হাত দেওয়ার?
তোকে আজ আমি মেরেই ফেলব জানোয়ারের বাচ্চা!
তুই কার দিকে হাত বাড়াইছিস জানিস?
তোর কলিজা মেপে দেখব তোর সাহস কত!"
এগুলো বলছে আর এলোপাথাড়ি ছেলেটাকে মারছে।
রুদ্রের রাগের সাথে যেন *সমুদ্রও ভয়ংকর* হয়ে উঠেছে।
এক একটা ঢেউ আগের চেয়ে বড়।
পানি আছড়ে পড়ছে পাথরে। শব্দটা গর্জনের মতো।
বাতাসে লবণের গন্ধের সাথে রাগের গন্ধ।
আকাশের মেঘগুলো কালো হয়ে আসছে।
এর ভিতর *এক ফোঁটা দুই ফোঁটা করে বৃষ্টি* পড়তে শুরু করলো।
টিপটিপ বৃষ্টি। প্রথমে হালকা।
বালিতে পড়ে ছোট ছোট গর্ত হচ্ছে।
জুঁইয়ের Pink Top এর উপর বিন্দু বিন্দু পানি।
সমুদ্রের নোনা পানি আর আকাশের বৃষ্টি মিশে একাকার।
সবাই অবাক।
কেউ যেন কিছু বুঝতেই পারছে না হঠাৎ রুদ্রের কি হলো।
*মাইরা* ভয়ে আরহামের শার্ট খামছে ধরেছে।
কারণ আরহাম ওর সামনে দাঁড়িয়েছে।
*আরিয়ান* গিয়ে রুদ্রকে আটকানোর ট্রাই করলো কিন্তু পারলো না।
রুদ্রের শরীরে তখন অসুরের শক্তি।
*পিউ* আর *টিয়া* দূর থেকে চিয়ার করছে।
*পিউ*: "মার ভাইয়া! আরও মার!"
*টিয়া*: "হ্যাঁ! ওর মতো ছেলেদের উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার!"
টুরিস্টরা সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে। কেউ আটকাচ্ছে না।
এবার *জুঁই* ধীরে ধীরে রুদ্রের দিকে এগিয়ে গেল।
১৩ বছরে এই প্রথম জুঁই নিজ ইচ্ছায় রুদ্রের সামনে দাঁড়ালো।
জুঁই রুদ্রের হাতটা শক্ত করে ধরলো।
তারপর অন্য ছেলেটাকে যেতে বলল।
ছেলেটার নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরছে।
ঠোঁট কেটে গেছে। ভয়ে কাঁপছে।
রুদ্র প্রথমে রাগ দেখাতে গেল।
হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলো।
কিন্তু যখন দেখলো সামনে *জুঁই*...
তখন ভালো ছেলের মতো ছেলেটাকে ছেড়ে দিল।
আর জুঁইয়ের হাতের দিকে তাকিয়ে রইলো।
ছেলেটা উঠে দৌড়ে পালানোর সময় একবার ঘুরে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল,
*"তোকে দেখে নিব। Wait and See।"*
রুদ্র কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইলো। চোখে আগুন।
আকাশ থেকে এখন আর অল্প না, *অনেক বৃষ্টি* পড়ছে।
ঝুম বৃষ্টি।
সমুদ্রের পানি, আকাশের পানি আর মানুষের ভিড় সব এক হয়ে গেছে।
বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে সবার শরীর। কিন্তু কারো খেয়াল নেই।
এই বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে *কিছু অতীতের কথা*।
কিছু ভালোবাসা, কিছু দায়িত্ব।
সব স্মৃতি আজ এই Amalfi এর বৃষ্টিতে ধুয়ে আসছে।
রুদ্রের শার্ট ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে।
চুল থেকে পানি পড়ছে।
কিন্তু ওর চোখ এখনো জুঁইয়ের হাতের দিকে।
যে হাতটা ওর রাগ থামিয়ে দিল।
*আরহাম* দূর থেকে সব দেখে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
*"সময় সব বদলে দেয়। রাগও, ভালোবাসাও।"*
বৃষ্টি বাড়ছেই।
আর রুদ্র আর জুঁই...
দুইজন বৃষ্টিতে ভিজছে। মাঝখানে ১৩ বছরের দূরত্ব।
*আরহাম* নিজের পিছন থেকে মাইরাকে বের করে বলল,
"কিচ্ছু হয়নি মহারানি। এইখানে দাঁড়ান, আমি আসছি।"
মাইরা লজ্জা পেল।
অনেক ভয়ের মধ্যে কি করে ফেলেছে ভেবেই গাল লাল হয়ে গেল।
এই প্রথম মাইরা ওর ভাইদের ছাড়া অন্য কোনো ছেলেকে টাচ করলো।
আরহাম জুঁইয়ের কাছে গিয়ে ওর কোটটা জুঁইকে পরিয়ে দিল আর বলল,
"চল, হোটেলে ফেরা যাক।"
রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল, "Thanks রুদ্র।"
রুদ্র একটা মুচকি হাসি দিল।
তারপর সবাই রওনা দিল হোটেলের উদ্দেশ্যে।
------
*সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট। হোটেল সৌন্দর্য।*
সবাই নিজ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে গেছে।
বাইরে তখনো হালকা বৃষ্টির রেশ।
জানালার কাঁচে বিন্দু বিন্দু পানি।
আকাশে কমলা-বেগুনি রঙের মেঘ।
হোটেলের লাইটগুলো একে একে জ্বলে উঠছে।
*মাইরা* পিউদের রুমের দরজায় নক করলো।
*টিয়া* দরজা খুলে মাইরাকে দেখে বলল,
"ভিতরে আসো। কোনো দরকার? জুঁই কই?"
*মাইরা*: "না, কোনো দরকার নেই।
আর জুঁই ফোন টিপছে।
কালকে তো চলে যাব তাই ভাবলাম ছাদে সবাই একটু আড্ডা দেই।
জুঁইকে প্রথমে বললে ও না করে দিত।
তাই তোমাদের আগে বললাম।"
মাইরার কথা শুনে *টিয়া* আর *পিউ* রাজি হয়ে গেল।
*পিউ*: "আমরাও এটাই ভাবছিলাম। চল আগে জুঁইকে রাজি করাই।"
*পিউ, টিয়া, মাইরা* ৩ জন মিলে জুঁইকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, ইমোশনাল কথা বলে রাজি করালো।
তারপর *জুঁই* আরহামকে মেসেজ করে জানালো।
*মাইরা* ওর ভাইদের রাজি করাতে চলে গেল।
আর *পিউ, টিয়া* গিয়ে *আদি*কে বলল।
----
"রাত ৮টা। ছাদে।"
ছাদের একপাশে ছোট ছোট *White Color এর বেতের চেয়ার আর গোল টেবিল* পাতা।
টেবিলের মাঝে *হলুদ লাইটের Fairy Light* জড়ানো।
আলোগুলো বাতাসে হালকা দুলছে।
মনে হচ্ছে আকাশের তারা নেমে এসেছে।
চারপাশে বড় বড় *গাছের টব*।
টবে Bougainvillea আর জুঁই ফুলের গাছ।
বাতাসে হালকা ফুলের গন্ধ।
ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগছে।
ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ালে নিচে পুরো *ফ্লোরেন্স* শহর দেখা যায়।
পাহাড়ের গায়ে রঙিন বাড়িগুলোতে আলো জ্বলছে।
দূরে *Arno নদীর* পানি কালো হয়ে আছে।
ঢেউয়ের শব্দ হালকা ভেসে আসছে।
আকাশে অল্প অল্প তারা।
চাঁদটা মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছে।
বাতাসে ঠান্ডা ভাব।
তাই সবার গায়ে হালকা *শাল / জ্যাকেট*।
টেবিলের উপর *খাবার* সাজানো:
*গরম গরম Margherita Pizza, Garlic Bread, Bruschetta, Popcorn এর বাটি, আর ৩-৪ রকমের Gelato*।
সাথে *Lemon Tea আর Hot Chocolate* এর মগ।
ধোঁয়া উড়ছে।
এক পাশে ছোট *Bluetooth Speaker* এ হালকা গান বাজছে।
_"Perfect" - Ed Sheeran_ এর সুর ভেসে আসছে।
এক এক করে সবাই আসা শুরু করলো।
সবার আগে *পিউ, টিয়া, আদি* আর *জুঁই* এল।
পরে *আরহাম* এল।
তারপর *মাইরা* আর *আরিয়ান*।
আর সবশেষে *রুদ্র*।
সবাই এক একটা চেয়ারে বসে পড়লো।
*আরহাম* মাইরার পাশে বসলো।
মাইরা আরহামকে দেখে বিকেলের কথা মনে হয়ে লজ্জা পেল।
*জুঁই, পিউ, আদি, টিয়া* একসাথে।
আর *রুদ্র* আর *আরিয়ান* একসাথে বসেছে।
*পিউ* বলে উঠলো,
"আয় কিছু খেলা যাক।"
*মাইরা* খুশি হয়ে বলল,
"হুম। কি খেলবে?"
*টিয়া* বলল,
"কি আর খেলব। আয় Hide and Seek খেলি।"
*জুঁই* না করে দিল।
"ছাদে এগুলা খেলা যাবে না। মরলে একদম কবরে চলে যাবে।"
*মাইরা* বলল,
"আসো Truth or Dare খেলি।"
*পিউ, টিয়া* রাজি।
*আরহাম, রুদ্র* আর *জুঁই* বলল খেলবে না।
মাইরা সবাইকে জোর করতে শুরু করলো।
"প্লিজ প্লিজ। কালকেই তো চলে যাব। একটু মজা করি।"
সবার এত জোরাজুরিতে শেষে রাজি হয়ে গেল।
*আরিয়ান* নিচ থেকে একটা বোতল নিয়ে আসলো।
*আরিয়ান* বলল,
"গেম শুরু করা যাক। যার দিকে বোতলের মুখ থাকবে তাকেই প্রশ্ন করা হবে।"
প্রথমে *আরিয়ান* বোতল ঘুরালো।
ওটা গিয়ে *মাইরার* দিকে পড়লো।
*পিউ* জিজ্ঞাসা করলো,
"কি নিবে?"
*মাইরা* বলল,
"Truth।"
*আরহাম* মাইরাকে প্রশ্ন করলো,
"মাইরা, তুমি কি আমাকে চিনো?"
আরহামের এমন প্রশ্নে *পিউ, আদি, টিয়া* আর *মাইরা* অবাক।
কি জিজ্ঞাসা করছে এটা? কোন প্রশ্ন হলো?
*মাইরা* কিছু না ভেবেই উত্তর দিল,
"হ্যাঁ। আপনি তো জুঁইয়ের বড় ভাইয়া আর রুদ্র ভাইয়ার বন্ধু।"
মাইরার উত্তর শুনে *আরহামের* বুক মোচড় দিয়ে উঠলো।
তাহলে তার মহারানি তাকে ভুলেই গেছে।
আগের কিছু মনে নেই। আরহাম আর কিছু বলল না। চুপ করে গেল।
*জুঁই* ভাইয়ের মনোভাব বুঝে নিজেই পরের বার বোতল ঘুরালো।
এবার থামলো *পিউর* দিকে।
*মাইরা* প্রশ্ন করলো,
"Truth or Dare?"
*পিউ* Truth নিল।
এবার *মাইরা* প্রশ্ন করলো,
"ধর তোমার জামাই তোমাকে বলল ২ দিন না খেতে। তখন তুমি কি করবে?"
*পিউ* যেন আকাশ থেকে পড়লো।
এমন কথা শুনে সে মুখটাকে রাগী রাগী ভাব করে মাইরাকে বলল,
"তাহলে জামাইকে খেয়ে ফেলব।"
পিউর এমন উত্তর শুনে সবাই "হুহা" করে হাসতে শুরু করলো।
পরিবেশটা হালকা হয়ে গেল।
তারপর আবার বোতল ঘুরানো হলো।
এবার বোতল গিয়ে থামলো *জুঁইয়ের* দিকে।
*জুঁই* Dare নিল।
*টিয়া* জুঁইকে বলল,
"ডান্স করতে হবে।"
*জুঁই* প্রথমে না করে দিল।
"আমি পারবো না। ছাদে ডান্স?"
কিন্তু পরে টিয়ার আর সবার জোরাজুরিতে রাজি হয়ে গেল।
Speaker এ গান পাল্টে দিল *আদি*।
হিন্দি গানের সুর ভেসে আসলো।
গান: "Barsore Megha Megha" - Shreya Ghoshal
বৃষ্টির মৌসুমে মেঘলা আকাশে গানটা যেন একদম মিলে গেল।
ঠান্ডা বাতাস + মেঘলা ভাব + Fairy Light সব একসাথে।
জুঁই মাঝখানে এসে দাঁড়ালো।
ওর পরনে ছিল হালকা *Black Color এর Kurti*।
দুপাট্টাটা কাঁধ বরাবর।
চুলগুলো খোলা। বাতাসে উড়ছে।
Fairy Light এর আলো ওর মুখে পড়ছে।
একদম পরীর মতো লাগছে।
জুঁই যখন নাচ শুরু করলো...
হাতের প্রতিটা ভাঁজে, পায়ের প্রতিটা তালে যেন গল্প ছিল।
চোখ বন্ধ করে যখন ঘুরছিল,
ওর দুপাট্টা বাতাসে উড়ে একটা বৃত্ত বানাচ্ছিল।
হাসিটা ছিল নরম।
কিন্তু চোখে ছিল মায়া।
Smooth মুভমেন্ট। কোনো তাড়াহুড়া নেই।
যেন ও নাচছে না, ওর ভেতরের সব কথা নাচের মাধ্যমে বলছে।
সবাই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
কারো যেন চোখের পলক পড়ছে না।
*রুদ্র* মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে।
যেন চোখের পলক ফেললে দামি কিছু হারিয়ে যাবে।
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
এত সুন্দর, এত Smooth নাচ।
ওর বুকের ভেতর ধুকপুক করছে।
_"এই মেয়েটা আমার পিচ্চি পরি? এত বড় হয়ে গেছে?"_
আর *আদি*...
ও জুঁইয়ের একবার কলেজে নাচ দেখেছিল।
তাও চোখ সরাতে পারছে না।
মনে মনে বিড়বিড় করছে,
_"জুঁইফুল... তুই কি কখনো আমার হবি?
অনেক বেশি মনে ধরেছে তোকে।
অনেক চেষ্টা করতেছি যেন ভালো না বাসি।
কিন্তু কিভাবে যেন হয়ে যাচ্ছে।
নিজেকে আটকাতে পারছি না।"_
জুঁইয়ের নাচ শেষ হতেই সবাই যেন ঘোর থেকে বের হলো।
সবাই হাত তালি দিচ্ছে।
*পিউ*: "উফ জুঁই! কি নাচলি! সেই হইছে।"
*টিয়া*: "পুরা Pro হয়ে গেছিস। ছেলে হলে তোকে নিয়ে পালাতাম!"
*মাইরা*: "Wow, just wonderful। জুঁই দারুন হয়েছে।"
সবাই নাচের প্রশংসা করলো।
শুধু *রুদ্র* ছাড়া।
সে এখনো পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে।
মুখে কোনো কথা নেই।
চোখে হাজারটা অনুভূতি।
খেলা আবার শুরু হলো।
এবার বোতল ঘুরে থামলো *রুদ্রের* দিকে।
*আরহাম* রুদ্রকে বলল,
"কি নিবি?"
*রুদ্র* বলল,
"Dare।"
আরহাম যেন এটারই আশায় ছিল।
*আরহাম* ঝট করে বলল,
"গান গাইতে হবে।"
রুদ্র জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ওকে।"
*আরহাম* অবাক।
কারণ রুদ্র ওকে ছাড়া কারো সামনে গান গাইতে পারতো না।
ওর Uncomfortable লাগে।
তাহলে এত সহজে রাজি হলো কিভাবে?
Speaker এর গান বন্ধ করে দিল *পিউ*।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।
শুধু Arno নদীর হালকা শব্দ আর বাতাসের শোঁ শোঁ।
*রুদ্র* উঠে দাঁড়ালো।
রেলিং এর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
এক হাত পকেটে।
অন্য হাত দিয়ে মাইক ধরলো।
চোখ বন্ধ করলো এক সেকেন্ডের জন্য।
তারপর চোখ খুলে সোজা *জুঁইয়ের* দিকে তাকালো।
আর গান শুরু করলো...
**_"Agar tum mil jao...
Zamana chhod denge hum...
Tumhe paa kar zamana bhar se rishta tod denge hum...
Agar tum mil jao..."_**
রুদ্রের গলা কাঁপছিল।
কিন্তু গানের প্রতিটা লাইন যেন কলিজা থেকে আসছিল।
ওর চোখটা স্থির। একদম জুঁইয়ের দিকে।
যেন না বলা অনেক কথা গানের দ্বারা বলে দিচ্ছে।
সবাই মন দিয়ে শুনলো।
কিন্তু *জুঁই*...
ওর যেন কলিজায় লাগলো গানটা।
ওর চোখের কোণা ভিজে উঠলো।
ঠোঁট কাঁপছে। কিন্তু কিছু বললো না।
শুধু মাথা নিচু করে বসে রইলো আর মন দিয়ে গানটা শুনতে লাগলো।
গান শেষ।
রুদ্র কাউকে কিছু না বলে একটা ব্যথাতুর হাসি দিয়ে তারপর চুপচাপ নিচে চলে গেল।
আর সবাই তখনো রুদ্রের দিকেই তাকিয়ে।
*মাইরা* আর *আরিয়ান* অবাক।
কারণ রুদ্র অনেক গম্ভীর টাইপের। কথা কম বলে।
বোঝার পর থেকে কখনো রুদ্রকে গান গাইতে দেখেনি।
আর আজ গান গাইলো, তাও এমন গান।
*আরিয়ান* হয়তো কিছু বুঝেছে।
রুদ্রের চাহনি দেখে।
রুদ্র যেভাবে জুঁইয়ের দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে থেকে গানটা গাইলো।
আর জুঁইয়ের প্রতি এত Possessive।
মনে মনে বিড়বিড় করলো,
"এবার তাহলে ভাবি ডাকটা কাউকে ডাকতে পারব।"
*আরহাম* সবটা বুঝেও চুপ।
সে জানে তার বন্ধুর মনের সকল অনুভূতি, সকল যন্ত্রণা।
আর গানটাও যে জুঁইয়ের জন্য গেয়েছে, তাও বুঝেছে।
ওর বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।
একদিকে বন্ধুত্ব, অন্যদিকে আদরের বোন।
*পিউ* আর *টিয়া* তো প্রশংসা করতে ভুলছে না।
*পিউ*: "যেমন দেখতে, গানের গলাটাও তেমন সুন্দর।"
*টিয়া*: "এত Cute ছেলে ভাই। গলায় জাদু আছে।"
আর *আদি*...
সে ভাবছে, রুদ্র কি জুঁইকে পছন্দ করে?
রুদ্রের চাহনি, জুঁইয়ের প্রতি Caring,
জুঁইয়ের প্রতি Possessiveness সবগুলোই এমন বুঝাচ্ছে যে রুদ্র জুঁইকে পছন্দ করে।
আদির কেন যেন কষ্ট হচ্ছে।
এটা ভেবে যে জুঁইকে অন্য কেউ পছন্দ করে।
সবার ভাবনার মাঝে *আরহাম* গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
"সবাই নিচে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়। অনেক রাত হয়েছে।
সকালে ট্রেন আছে। রুমে যাও।"
আরহামের কথা শুনে সবাই নিচে চলে গেল।
শুধু বসে রইলো *জুঁই* আর *আরহাম*।
ছাদের বাতাসে তখন শুধু Fairy Light এর দুলুনি।
আর ২টা মানুষের বুকের ভেতরের তোলপাড়।
আরহাম জুঁইয়ের কাঁধে হাত রাখলো।
জুঁই নিজের ভাইয়ের বুকে মুখ লুকালো।
আর অঝোরে কান্না করে দিল।
কোনো শব্দ নেই। শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না।
কিছু জমানো কষ্ট, অভিমান, ভালোবাসা সব একসাথে বের হচ্ছে।
*আরহাম* বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
কিছু বললো না।
শুধু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
কারণ ও জানে, এখন কোনো কথাই জুঁইয়ের কান্না থামাতে পারবে না।
চলবে......?
(পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি চাইলে বেশি বেশি রেসপন্স করো, আর ভালো ভালো মন্তব্য করবে, তোমাদের ভালো মন্তব্য শোনে উৎসাহিত ফিল হয়, আর ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থী)