Jesmin Chowdhury Jui

Jesmin Chowdhury Jui "তোমাদের ছোট লেখিকা আফা"📝
"উপন্যাস প্রেমিদের welcome" 🌸❤️

 #অন্ধকারের_মায়াবতী  #পর্ব_31 #লেখিকা_  Jesmin Chowdhury Jui -----সমুদ্রের পাড়ে বাতাসে জুঁইয়ের চুল উড়ছে।  রুদ্র তখনো দূর...
21/08/2026

#অন্ধকারের_মায়াবতী
#পর্ব_31
#লেখিকা_ Jesmin Chowdhury Jui
-----
সমুদ্রের পাড়ে বাতাসে জুঁইয়ের চুল উড়ছে।

রুদ্র তখনো দূর থেকে জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে।
ওর বুকের ভিতর হাজারটা কথা জমে আছে।
ডাক দিবে কি দিবে না...

হঠাৎ রুদ্রের চোখ পড়লো একটা ছেলের দিকে।

ছেলেটার বয়স ২২-২৩ হবে। বিদেশি টুরিস্ট।
গায়ে সাদা শার্ট, চোখে সানগ্লাস।
ছেলেটা অন্যরকম ভাবে জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
তারপর আস্তে আস্তে জুঁইয়ের দিকেই এগোচ্ছে।

রুদ্রের কপালের রগ দপদপ করে উঠলো।

ছেলেটা একদম জুঁইয়ের কাছে চলে গেল।
হাত বাড়িয়ে জুঁইয়ের শরীরে টাচ করতে যাবে...

*ধাম!!!*

এক সেকেন্ডের মধ্যে ছেলেটা বালিতে পড়ে আছে।
সামনে দাঁড়িয়ে *রুদ্র খান*।

চোখ দুইটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে এক লহমায়।
হাত মুষ্টিবদ্ধ। সিরাগুলো দৃশ্যমান।
কপালের রগ ফুলে আছে। শ্বাস ভারী।

রুদ্র ছেলেটাকে কলার ধরে টেনে তুলল।
তারপর পরপর *3, 4 টা ঘুসি* মারলো মুখে।
হাতটা মুচকে দিল।

*রুদ্র*: _দাঁতে দাঁত চেপে_
"কুত্তার বাচ্চা! তোর সাহস কি করে হয় ওর গায়ে হাত দেওয়ার?
তোকে আজ আমি মেরেই ফেলব জানোয়ারের বাচ্চা!
তুই কার দিকে হাত বাড়াইছিস জানিস?
তোর কলিজা মেপে দেখব তোর সাহস কত!"

এগুলো বলছে আর এলোপাথাড়ি ছেলেটাকে মারছে।

রুদ্রের রাগের সাথে যেন *সমুদ্রও ভয়ংকর* হয়ে উঠেছে।

এক একটা ঢেউ আগের চেয়ে বড়।
পানি আছড়ে পড়ছে পাথরে। শব্দটা গর্জনের মতো।
বাতাসে লবণের গন্ধের সাথে রাগের গন্ধ।
আকাশের মেঘগুলো কালো হয়ে আসছে।

এর ভিতর *এক ফোঁটা দুই ফোঁটা করে বৃষ্টি* পড়তে শুরু করলো।

টিপটিপ বৃষ্টি। প্রথমে হালকা।
বালিতে পড়ে ছোট ছোট গর্ত হচ্ছে।
জুঁইয়ের Pink Top এর উপর বিন্দু বিন্দু পানি।
সমুদ্রের নোনা পানি আর আকাশের বৃষ্টি মিশে একাকার।

সবাই অবাক।
কেউ যেন কিছু বুঝতেই পারছে না হঠাৎ রুদ্রের কি হলো।

*মাইরা* ভয়ে আরহামের শার্ট খামছে ধরেছে।
কারণ আরহাম ওর সামনে দাঁড়িয়েছে।

*আরিয়ান* গিয়ে রুদ্রকে আটকানোর ট্রাই করলো কিন্তু পারলো না।
রুদ্রের শরীরে তখন অসুরের শক্তি।

*পিউ* আর *টিয়া* দূর থেকে চিয়ার করছে।
*পিউ*: "মার ভাইয়া! আরও মার!"
*টিয়া*: "হ্যাঁ! ওর মতো ছেলেদের উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার!"

টুরিস্টরা সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে। কেউ আটকাচ্ছে না।

এবার *জুঁই* ধীরে ধীরে রুদ্রের দিকে এগিয়ে গেল।

১৩ বছরে এই প্রথম জুঁই নিজ ইচ্ছায় রুদ্রের সামনে দাঁড়ালো।
জুঁই রুদ্রের হাতটা শক্ত করে ধরলো।
তারপর অন্য ছেলেটাকে যেতে বলল।

ছেলেটার নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরছে।
ঠোঁট কেটে গেছে। ভয়ে কাঁপছে।

রুদ্র প্রথমে রাগ দেখাতে গেল।
হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলো।
কিন্তু যখন দেখলো সামনে *জুঁই*...
তখন ভালো ছেলের মতো ছেলেটাকে ছেড়ে দিল।
আর জুঁইয়ের হাতের দিকে তাকিয়ে রইলো।

ছেলেটা উঠে দৌড়ে পালানোর সময় একবার ঘুরে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল,
*"তোকে দেখে নিব। Wait and See।"*

রুদ্র কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইলো। চোখে আগুন।

আকাশ থেকে এখন আর অল্প না, *অনেক বৃষ্টি* পড়ছে।
ঝুম বৃষ্টি।

সমুদ্রের পানি, আকাশের পানি আর মানুষের ভিড় সব এক হয়ে গেছে।
বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে সবার শরীর। কিন্তু কারো খেয়াল নেই।

এই বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে *কিছু অতীতের কথা*।
কিছু ভালোবাসা, কিছু দায়িত্ব।
সব স্মৃতি আজ এই Amalfi এর বৃষ্টিতে ধুয়ে আসছে।

রুদ্রের শার্ট ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে।
চুল থেকে পানি পড়ছে।
কিন্তু ওর চোখ এখনো জুঁইয়ের হাতের দিকে।
যে হাতটা ওর রাগ থামিয়ে দিল।

*আরহাম* দূর থেকে সব দেখে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
*"সময় সব বদলে দেয়। রাগও, ভালোবাসাও।"*

বৃষ্টি বাড়ছেই।
আর রুদ্র আর জুঁই...
দুইজন বৃষ্টিতে ভিজছে। মাঝখানে ১৩ বছরের দূরত্ব।

*আরহাম* নিজের পিছন থেকে মাইরাকে বের করে বলল,
"কিচ্ছু হয়নি মহারানি। এইখানে দাঁড়ান, আমি আসছি।"

মাইরা লজ্জা পেল।
অনেক ভয়ের মধ্যে কি করে ফেলেছে ভেবেই গাল লাল হয়ে গেল।
এই প্রথম মাইরা ওর ভাইদের ছাড়া অন্য কোনো ছেলেকে টাচ করলো।

আরহাম জুঁইয়ের কাছে গিয়ে ওর কোটটা জুঁইকে পরিয়ে দিল আর বলল,
"চল, হোটেলে ফেরা যাক।"

রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল, "Thanks রুদ্র।"
রুদ্র একটা মুচকি হাসি দিল।

তারপর সবাই রওনা দিল হোটেলের উদ্দেশ্যে।

------

*সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট। হোটেল সৌন্দর্য।*

সবাই নিজ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে গেছে।
বাইরে তখনো হালকা বৃষ্টির রেশ।
জানালার কাঁচে বিন্দু বিন্দু পানি।
আকাশে কমলা-বেগুনি রঙের মেঘ।
হোটেলের লাইটগুলো একে একে জ্বলে উঠছে।

*মাইরা* পিউদের রুমের দরজায় নক করলো।

*টিয়া* দরজা খুলে মাইরাকে দেখে বলল,
"ভিতরে আসো। কোনো দরকার? জুঁই কই?"

*মাইরা*: "না, কোনো দরকার নেই।
আর জুঁই ফোন টিপছে।
কালকে তো চলে যাব তাই ভাবলাম ছাদে সবাই একটু আড্ডা দেই।
জুঁইকে প্রথমে বললে ও না করে দিত।
তাই তোমাদের আগে বললাম।"

মাইরার কথা শুনে *টিয়া* আর *পিউ* রাজি হয়ে গেল।
*পিউ*: "আমরাও এটাই ভাবছিলাম। চল আগে জুঁইকে রাজি করাই।"

*পিউ, টিয়া, মাইরা* ৩ জন মিলে জুঁইকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, ইমোশনাল কথা বলে রাজি করালো।

তারপর *জুঁই* আরহামকে মেসেজ করে জানালো।
*মাইরা* ওর ভাইদের রাজি করাতে চলে গেল।
আর *পিউ, টিয়া* গিয়ে *আদি*কে বলল।

----

"রাত ৮টা। ছাদে।"

ছাদের একপাশে ছোট ছোট *White Color এর বেতের চেয়ার আর গোল টেবিল* পাতা।
টেবিলের মাঝে *হলুদ লাইটের Fairy Light* জড়ানো।
আলোগুলো বাতাসে হালকা দুলছে।
মনে হচ্ছে আকাশের তারা নেমে এসেছে।

চারপাশে বড় বড় *গাছের টব*।
টবে Bougainvillea আর জুঁই ফুলের গাছ।
বাতাসে হালকা ফুলের গন্ধ।
ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগছে।

ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ালে নিচে পুরো *ফ্লোরেন্স* শহর দেখা যায়।
পাহাড়ের গায়ে রঙিন বাড়িগুলোতে আলো জ্বলছে।
দূরে *Arno নদীর* পানি কালো হয়ে আছে।
ঢেউয়ের শব্দ হালকা ভেসে আসছে।
আকাশে অল্প অল্প তারা।
চাঁদটা মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছে।
বাতাসে ঠান্ডা ভাব।
তাই সবার গায়ে হালকা *শাল / জ্যাকেট*।

টেবিলের উপর *খাবার* সাজানো:
*গরম গরম Margherita Pizza, Garlic Bread, Bruschetta, Popcorn এর বাটি, আর ৩-৪ রকমের Gelato*।
সাথে *Lemon Tea আর Hot Chocolate* এর মগ।
ধোঁয়া উড়ছে।

এক পাশে ছোট *Bluetooth Speaker* এ হালকা গান বাজছে।
_"Perfect" - Ed Sheeran_ এর সুর ভেসে আসছে।

এক এক করে সবাই আসা শুরু করলো।
সবার আগে *পিউ, টিয়া, আদি* আর *জুঁই* এল।
পরে *আরহাম* এল।
তারপর *মাইরা* আর *আরিয়ান*।
আর সবশেষে *রুদ্র*।

সবাই এক একটা চেয়ারে বসে পড়লো।
*আরহাম* মাইরার পাশে বসলো।
মাইরা আরহামকে দেখে বিকেলের কথা মনে হয়ে লজ্জা পেল।
*জুঁই, পিউ, আদি, টিয়া* একসাথে।
আর *রুদ্র* আর *আরিয়ান* একসাথে বসেছে।

*পিউ* বলে উঠলো,
"আয় কিছু খেলা যাক।"

*মাইরা* খুশি হয়ে বলল,
"হুম। কি খেলবে?"

*টিয়া* বলল,
"কি আর খেলব। আয় Hide and Seek খেলি।"

*জুঁই* না করে দিল।
"ছাদে এগুলা খেলা যাবে না। মরলে একদম কবরে চলে যাবে।"

*মাইরা* বলল,
"আসো Truth or Dare খেলি।"

*পিউ, টিয়া* রাজি।
*আরহাম, রুদ্র* আর *জুঁই* বলল খেলবে না।
মাইরা সবাইকে জোর করতে শুরু করলো।
"প্লিজ প্লিজ। কালকেই তো চলে যাব। একটু মজা করি।"
সবার এত জোরাজুরিতে শেষে রাজি হয়ে গেল।

*আরিয়ান* নিচ থেকে একটা বোতল নিয়ে আসলো।
*আরিয়ান* বলল,
"গেম শুরু করা যাক। যার দিকে বোতলের মুখ থাকবে তাকেই প্রশ্ন করা হবে।"

প্রথমে *আরিয়ান* বোতল ঘুরালো।
ওটা গিয়ে *মাইরার* দিকে পড়লো।

*পিউ* জিজ্ঞাসা করলো,
"কি নিবে?"

*মাইরা* বলল,
"Truth।"

*আরহাম* মাইরাকে প্রশ্ন করলো,
"মাইরা, তুমি কি আমাকে চিনো?"

আরহামের এমন প্রশ্নে *পিউ, আদি, টিয়া* আর *মাইরা* অবাক।
কি জিজ্ঞাসা করছে এটা? কোন প্রশ্ন হলো?

*মাইরা* কিছু না ভেবেই উত্তর দিল,
"হ্যাঁ। আপনি তো জুঁইয়ের বড় ভাইয়া আর রুদ্র ভাইয়ার বন্ধু।"

মাইরার উত্তর শুনে *আরহামের* বুক মোচড় দিয়ে উঠলো।
তাহলে তার মহারানি তাকে ভুলেই গেছে।
আগের কিছু মনে নেই। আরহাম আর কিছু বলল না। চুপ করে গেল।

*জুঁই* ভাইয়ের মনোভাব বুঝে নিজেই পরের বার বোতল ঘুরালো।
এবার থামলো *পিউর* দিকে।

*মাইরা* প্রশ্ন করলো,
"Truth or Dare?"

*পিউ* Truth নিল।
এবার *মাইরা* প্রশ্ন করলো,
"ধর তোমার জামাই তোমাকে বলল ২ দিন না খেতে। তখন তুমি কি করবে?"

*পিউ* যেন আকাশ থেকে পড়লো।
এমন কথা শুনে সে মুখটাকে রাগী রাগী ভাব করে মাইরাকে বলল,
"তাহলে জামাইকে খেয়ে ফেলব।"

পিউর এমন উত্তর শুনে সবাই "হুহা" করে হাসতে শুরু করলো।
পরিবেশটা হালকা হয়ে গেল।

তারপর আবার বোতল ঘুরানো হলো।
এবার বোতল গিয়ে থামলো *জুঁইয়ের* দিকে।

*জুঁই* Dare নিল।

*টিয়া* জুঁইকে বলল,
"ডান্স করতে হবে।"

*জুঁই* প্রথমে না করে দিল।
"আমি পারবো না। ছাদে ডান্স?"
কিন্তু পরে টিয়ার আর সবার জোরাজুরিতে রাজি হয়ে গেল।

Speaker এ গান পাল্টে দিল *আদি*।
হিন্দি গানের সুর ভেসে আসলো।
গান: "Barsore Megha Megha" - Shreya Ghoshal

বৃষ্টির মৌসুমে মেঘলা আকাশে গানটা যেন একদম মিলে গেল।
ঠান্ডা বাতাস + মেঘলা ভাব + Fairy Light সব একসাথে।

জুঁই মাঝখানে এসে দাঁড়ালো।
ওর পরনে ছিল হালকা *Black Color এর Kurti*।
দুপাট্টাটা কাঁধ বরাবর।
চুলগুলো খোলা। বাতাসে উড়ছে।
Fairy Light এর আলো ওর মুখে পড়ছে।
একদম পরীর মতো লাগছে।

জুঁই যখন নাচ শুরু করলো...
হাতের প্রতিটা ভাঁজে, পায়ের প্রতিটা তালে যেন গল্প ছিল।
চোখ বন্ধ করে যখন ঘুরছিল,
ওর দুপাট্টা বাতাসে উড়ে একটা বৃত্ত বানাচ্ছিল।
হাসিটা ছিল নরম।
কিন্তু চোখে ছিল মায়া।
Smooth মুভমেন্ট। কোনো তাড়াহুড়া নেই।
যেন ও নাচছে না, ওর ভেতরের সব কথা নাচের মাধ্যমে বলছে।

সবাই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
কারো যেন চোখের পলক পড়ছে না।

*রুদ্র* মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে।
যেন চোখের পলক ফেললে দামি কিছু হারিয়ে যাবে।
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
এত সুন্দর, এত Smooth নাচ।
ওর বুকের ভেতর ধুকপুক করছে।
_"এই মেয়েটা আমার পিচ্চি পরি? এত বড় হয়ে গেছে?"_

আর *আদি*...
ও জুঁইয়ের একবার কলেজে নাচ দেখেছিল।
তাও চোখ সরাতে পারছে না।
মনে মনে বিড়বিড় করছে,
_"জুঁইফুল... তুই কি কখনো আমার হবি?
অনেক বেশি মনে ধরেছে তোকে।
অনেক চেষ্টা করতেছি যেন ভালো না বাসি।
কিন্তু কিভাবে যেন হয়ে যাচ্ছে।
নিজেকে আটকাতে পারছি না।"_

জুঁইয়ের নাচ শেষ হতেই সবাই যেন ঘোর থেকে বের হলো।
সবাই হাত তালি দিচ্ছে।
*পিউ*: "উফ জুঁই! কি নাচলি! সেই হইছে।"
*টিয়া*: "পুরা Pro হয়ে গেছিস। ছেলে হলে তোকে নিয়ে পালাতাম!"
*মাইরা*: "Wow, just wonderful। জুঁই দারুন হয়েছে।"

সবাই নাচের প্রশংসা করলো।
শুধু *রুদ্র* ছাড়া।
সে এখনো পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে।
মুখে কোনো কথা নেই।
চোখে হাজারটা অনুভূতি।

খেলা আবার শুরু হলো।
এবার বোতল ঘুরে থামলো *রুদ্রের* দিকে।

*আরহাম* রুদ্রকে বলল,
"কি নিবি?"

*রুদ্র* বলল,
"Dare।"

আরহাম যেন এটারই আশায় ছিল।
*আরহাম* ঝট করে বলল,
"গান গাইতে হবে।"

রুদ্র জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ওকে।"

*আরহাম* অবাক।
কারণ রুদ্র ওকে ছাড়া কারো সামনে গান গাইতে পারতো না।
ওর Uncomfortable লাগে।
তাহলে এত সহজে রাজি হলো কিভাবে?

Speaker এর গান বন্ধ করে দিল *পিউ*।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।
শুধু Arno নদীর হালকা শব্দ আর বাতাসের শোঁ শোঁ।

*রুদ্র* উঠে দাঁড়ালো।
রেলিং এর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
এক হাত পকেটে।
অন্য হাত দিয়ে মাইক ধরলো।
চোখ বন্ধ করলো এক সেকেন্ডের জন্য।
তারপর চোখ খুলে সোজা *জুঁইয়ের* দিকে তাকালো।
আর গান শুরু করলো...

**_"Agar tum mil jao...
Zamana chhod denge hum...
Tumhe paa kar zamana bhar se rishta tod denge hum...
Agar tum mil jao..."_**

রুদ্রের গলা কাঁপছিল।
কিন্তু গানের প্রতিটা লাইন যেন কলিজা থেকে আসছিল।
ওর চোখটা স্থির। একদম জুঁইয়ের দিকে।
যেন না বলা অনেক কথা গানের দ্বারা বলে দিচ্ছে।

সবাই মন দিয়ে শুনলো।
কিন্তু *জুঁই*...
ওর যেন কলিজায় লাগলো গানটা।
ওর চোখের কোণা ভিজে উঠলো।
ঠোঁট কাঁপছে। কিন্তু কিছু বললো না।
শুধু মাথা নিচু করে বসে রইলো আর মন দিয়ে গানটা শুনতে লাগলো।

গান শেষ।
রুদ্র কাউকে কিছু না বলে একটা ব্যথাতুর হাসি দিয়ে তারপর চুপচাপ নিচে চলে গেল।
আর সবাই তখনো রুদ্রের দিকেই তাকিয়ে।

*মাইরা* আর *আরিয়ান* অবাক।
কারণ রুদ্র অনেক গম্ভীর টাইপের। কথা কম বলে।
বোঝার পর থেকে কখনো রুদ্রকে গান গাইতে দেখেনি।
আর আজ গান গাইলো, তাও এমন গান।

*আরিয়ান* হয়তো কিছু বুঝেছে।
রুদ্রের চাহনি দেখে।
রুদ্র যেভাবে জুঁইয়ের দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে থেকে গানটা গাইলো।
আর জুঁইয়ের প্রতি এত Possessive।
মনে মনে বিড়বিড় করলো,
"এবার তাহলে ভাবি ডাকটা কাউকে ডাকতে পারব।"

*আরহাম* সবটা বুঝেও চুপ।
সে জানে তার বন্ধুর মনের সকল অনুভূতি, সকল যন্ত্রণা।
আর গানটাও যে জুঁইয়ের জন্য গেয়েছে, তাও বুঝেছে।
ওর বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।
একদিকে বন্ধুত্ব, অন্যদিকে আদরের বোন।

*পিউ* আর *টিয়া* তো প্রশংসা করতে ভুলছে না।
*পিউ*: "যেমন দেখতে, গানের গলাটাও তেমন সুন্দর।"
*টিয়া*: "এত Cute ছেলে ভাই। গলায় জাদু আছে।"

আর *আদি*...
সে ভাবছে, রুদ্র কি জুঁইকে পছন্দ করে?
রুদ্রের চাহনি, জুঁইয়ের প্রতি Caring,
জুঁইয়ের প্রতি Possessiveness সবগুলোই এমন বুঝাচ্ছে যে রুদ্র জুঁইকে পছন্দ করে।
আদির কেন যেন কষ্ট হচ্ছে।
এটা ভেবে যে জুঁইকে অন্য কেউ পছন্দ করে।

সবার ভাবনার মাঝে *আরহাম* গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
"সবাই নিচে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়। অনেক রাত হয়েছে।
সকালে ট্রেন আছে। রুমে যাও।"

আরহামের কথা শুনে সবাই নিচে চলে গেল।
শুধু বসে রইলো *জুঁই* আর *আরহাম*।

ছাদের বাতাসে তখন শুধু Fairy Light এর দুলুনি।
আর ২টা মানুষের বুকের ভেতরের তোলপাড়।

আরহাম জুঁইয়ের কাঁধে হাত রাখলো।
জুঁই নিজের ভাইয়ের বুকে মুখ লুকালো।
আর অঝোরে কান্না করে দিল।
কোনো শব্দ নেই। শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না।
কিছু জমানো কষ্ট, অভিমান, ভালোবাসা সব একসাথে বের হচ্ছে।

*আরহাম* বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
কিছু বললো না।
শুধু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
কারণ ও জানে, এখন কোনো কথাই জুঁইয়ের কান্না থামাতে পারবে না।

চলবে......?

(পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি চাইলে বেশি বেশি রেসপন্স করো, আর ভালো ভালো মন্তব্য করবে, তোমাদের ভালো মন্তব্য শোনে উৎসাহিত ফিল হয়, আর ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থী)

20/08/2026

নিজের প্রিয়সিকে টাচ করতে চাওয়ার অপরাধে , তাকে মেরে আধমরা করে দেওয়া "আমাদের গ্যাংস্টার বস "

#স্পলার


#থিম ( #থ্রিলার, #গ্যাংস্টার #মাফিয়া #রোমান্টিক #রিভেন্স #রাজনৈতিক)

#উপন্যাস #উপন্যাস_প্রেমী

18/08/2026

সকলকে অবাক করে দিয়ে Barsore megha megha গানে নৃত্য করে জুই.....!

#থিম-( #কাজিন_রিলেটেড #থ্রিলার #মাফিয়া #গ্যাংস্টার #রোমান্টিক #রিভেন্স #রাজনৈতিক)

#উপন্যাস #উপন্যাস_প্রেমী

 #অন্ধকারের_মায়াবতী  #পর্ব_৩০ #লেখিকা_ Jesmin Chowdhury Jui -------এভাবে জুঁই শুক্র আর রবিবার ছাড়া প্রতিদিন কাউন্সেলিং ন...
17/08/2026

#অন্ধকারের_মায়াবতী
#পর্ব_৩০
#লেখিকা_ Jesmin Chowdhury Jui

-------

এভাবে জুঁই শুক্র আর রবিবার ছাড়া প্রতিদিন কাউন্সেলিং নিতে যেত।

প্রথম ১০ দিন জুঁই ছিল একদম চুপচাপ।

ডক্টরের প্রশ্নের উত্তর দিত না।
শুধু জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকত।

তারপর ধীরে ধীরে ডক্টর নুসরাতের মায়া,

বাবা-মায়ের আদর, আরহামের পাগলামিতে জুঁই আবার একটু একটু করে কথা বলা শুরু করল।

আরহাম রোজ কলেজ ফাঁকি দিয়ে জুঁইকে স্কুলে দিয়ে আসত।
টিফিন খাইয়ে দিত।
বিকালে পার্কে নিয়ে যেত।
রাতে ঘুম পাড়ানোর গল্প বলত।

ওষুধ, কাউন্সেলিং আর ভালোবাসার ধারায়
ধীরে ধীরে জুঁই আবার হাসতে শিখল।

কিন্তু ও রুদ্রকে পুরোপুরি ভোলেনি।
শুধু এটুকু বুঝেছে যে
"লুদু বাইয়া অনেক দূরে।
ওর অনেক বড় সমস্যা।
সমস্যা শেষ হলে ও আবার ফিরে আসবে।

আর আমাকে কোলে নিয়ে বলবে, আমার পিচ্চি পরি।"

এভাবে দেখতে দেখতে ১ মাস কেটে গেল।

লাস্ট দিন ডক্টর আরহামকে আলাদা করে বলেছিলেন,

*ডক্টর নুসরাত*: "আলহামদুলিল্লাহ, ও এখন 98% ভালো আছে।

কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন।
জুঁই যদি আর কখনো এমন আঘাত পায়, কারো কাছ থেকে এমন অবহেলা পায়,

তাহলে ওর মনের ক্ষতটা আর জোড়া লাগবে না।
তখন ও ভিতর থেকে ভেঙে যাবে।
তাই ওকে আগলে রাখবেন।"

সেই দিনের পর থেকে আরহাম শপথ নিয়েছিল।

বাইরের কারো সাথে জুঁইকে বেশি মিশতে দেয়নি।

নিজেই ওর ছায়া হয়ে গিয়েছিল।

আর এখন?

জুঁই আবার আগের মতো চঞ্চল হরিণী হয়ে গেছে।

পুরো চৌধুরী মেনসন একাই মাতিয়ে রাখে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত "ভাইয়া ভাইয়া" করে আরহামের পিছে ঘোরে।

এখন ওর খেলার সাথী আর কেউ না।
ওর ভাই *আরহাম*।
কলেজ, প্রাইভেট, বন্ধু - সব বাদ দিয়ে

আরহাম ওর বোনের জন্য বেস্ট ভাইটা হয়েছে।

স্কুলে দিয়ে আসা, টিফিন খাওয়ানো,
হোমওয়ার্ক করানো, রাতে ঘুম পাড়ানো -
সব আরহামই করত।

এভাবেই জুঁই বড় হয়ে উঠছে।
আর বুঝতে শুরু করেছে যে
হয়তো রুদ্র আর ফিরবে না।
হয়তো ওর লুদু ভাইয়া শুধুই একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে।

কিন্তু ছোট্ট মনটা এখনো রাত হলে
জানালার পাশে বসে আকাশের তারা গোনে আর বিড়বিড় করে,
*"লুদু বাইয়া... তুমি কবে আসবা?"*

--
বর্তমান।
ইতালি। ফ্লোরেন্স শহর।
"Hotel Sudhorjor" এর ছাদ।

রাত প্রায় ৫টা।
শহরটা এখনো ঘুমিয়ে আছে।
চারপাশে গাঢ় নিস্তব্ধতা।
যেন পুরো পৃথিবীটা নিঃশ্বাস বন্ধ করে আছে।
শুধু সময়ের কাঁটা টিকটিক করে বলছে, নতুন একটা দিন আসছে।

দূরে ফ্লোরেন্স শহরের আলো গুলো এখনো নেভেনি।
হলুদ, সোনালি আলো গুলো ঝিলমিল করছে।
উঁচু উঁচু বিল্ডিং, পুরনো গির্জার চূড়া, সরু গলি - সব আলোয় মোড়া।
মনে হচ্ছে আকাশের সব তারা গুলো ক্লান্ত হয়ে শহরের বুকে নেমে এসে বসেছে।
আর উপরে কালো আকাশে ভোরের প্রথম আভা।
হালকা নীল আর কমলার মিশেল।
যেন কোনো শিল্পী তুলির আঁচড়ে আকাশটাকে রাঙিয়ে দিচ্ছে।

নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে *Arno নদী*।
পানির মৃদু ছলাৎ ছলাৎ শব্দ।
নদীর বুক চিরে চলে গেছে *Ponte Vecchio* ব্রিজ।
ব্রিজের গায়ে লাগানো দোকান গুলো অন্ধকারে ঘুমিয়ে আছে।
মাঝে মাঝে দূরের কোনো পুরনো গির্জা থেকে ভেসে আসছে ঘন্টার ধ্বনি।
*ডং... ডং...*
সেই শব্দ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বুকের ভিতর গিয়ে লাগছে।

ঠান্ডা বাতাসে ভেসে আসছে ভোরের কুয়াশার গন্ধ।
আর অজানা ফুলের সুবাস।
ছাদের টবে রাখা জুঁই ফুলের গাছটায় ছোট ছোট সাদা ফুল ফুটেছে।
শিশিরে ভিজে চিকচিক করছে পাতা গুলো।

ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে ২ জন মানুষ।
একজনের চোখে জল।
আরেকজনের চোখে পুরনো স্মৃতি আর নিজের বোনকে আগলে রাখার অদম্য ইচ্ছা।

*রুদ্র*।
কালো শার্ট। উপরের ২টা বোতাম খোলা।
হাতা কনুই পর্যন্ত ফোল্ড করা।
চোখ দুইটা টকটকে লাল।
মদের বোতলটা কখন হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেছে টেরও পায়নি।
পায়ের পাশে কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে আছে।
মদের তীব্র গন্ধের সাথে মিশে আছে ওর দীর্ঘশ্বাস।

ওর চোখের কোণে অশ্রুকণা চিকচিক করছে।
বুকের ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছে।
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

যেন বুকের উপর কেউ পাথর চাপা দিয়ে রেখেছে।

মনে মনে শুধু একটা মুখই ভাসছে -
জুঁইয়ের সেই ছোট্ট মুখ।
দুইটা বড় বড় ডাগর চোখ।
আর ঠোঁটে লেগে থাকা সেই ডাক -
*"লুদু বাইয়া... আমায় নিয়ে দাও?"*
এই কথাটা ১৩ বছর ধরে ওর কানে বাজছে।
ঘুমের মধ্যে, কাজের মধ্যে, নিঃশ্বাসের মধ্যে।

**_"আমার মায়াবতী পিচ্চিটা...
ওর জন্য কতটা কষ্ট করেছি আমি।
ওকে হাসানোর জন্য নিজে কত রাত না ঘুমিয়ে গল্প বানিয়েছি।
রাজপুত্র আর পরীর গল্প।
ওকে কোলে নিয়ে ছাদে বসে তারা গুনেছি।
আর আজ?
আজ আমি ওর সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ।
আমি কতটা খারাপ।
কি এমন ক্ষতি হত যদি ওকে একবার জড়িয়ে ধরে বলে আসতাম,
পিচ্চি আমি ফিরে আসব?
ওকে বুঝিয়ে আসতাম?
ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলতাম, আমি আছি আর সারাজীবন থাকবো?"_*_

ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।
পানি গড়িয়ে শার্ট ভিজিয়ে দিচ্ছে।
১৩ বছরের জমানো অপরাধবোধ আজ বাঁধ ভেঙে বের হচ্ছে।

আর ওর পাশে দাঁড়িয়ে আছে *আরহাম*।
সাদা শার্ট। চোখে একরাতের ক্লান্তি।
চোখের নিচে কালি।
ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
ওর মাথায় ঘুরছে পুরনো স্মৃতি।

মনে পড়ছে হসপিটালের সেই রাত।
জুঁইয়ের ছোট্ট শরীরটা কাঁপছিল।
আর মুখ দিয়ে বিড়বিড় করছে, *"লুদু বাইয়া..."*

মনে পড়ছে স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা।
*"ভাইয়া ভাইয়া"* করে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরা।
মনে পড়ছে রাত ২টায় জ্বর নিয়ে জুঁইয়ের কপালে জলপট্টি দেওয়া।

ওর পিচ্চি বোনটা কত কিছুই না সহ্য করেছে।

রুদ্রের অনুপস্থিতি।

আর সবার উপরে, প্রিয় মানুষটাকে হারানোর কষ্ট।

আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ধীরে রুদ্রের দিকে তাকাল।
দেখল রুদ্রের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।
শক্ত ছেলেটা আজ একদম ভেঙে গেছে।
যে ছেলে কখনো কাঁদত না, সে আজ বাচ্চার মতো কাঁদছে।

আরহাম ভারী গলায় বলল,
*আরহাম*: "রুদ্র...
শোন...
আমার দিকে তাকা।"

রুদ্র ঘোলা চোখে তাকাল।

*আরহাম*: "এটা লাস্ট চান্স।
আল্লাহর কসম, আর কোনো চান্স পাবি না তুই।
১৩ বছর অনেক দেরি করে ফেলেছিস।
অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।
এবার যদি আমার বোন তোর জন্য এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলে...
যদি ওর চোখের নিচে আর একটা কালি পড়ে...
যদি ও আর একবার 'রুদ্র ভাইয়া' বলে কাঁদে...
তাহলে আমি তোকে ছাড়ব না।
তুই বন্ধু হলেও ছাড়ব না।
কথা দিলাম।"

রুদ্র কোনো কথা বলল না।
ওর গলা বুজে আসছে।
শুধু আরহামের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

বন্ধুর বুকে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।
১৩ বছরের জমানো কষ্ট, অপরাধবোধ, আত্মগ্লানি, ভালোবাসা
সব একসাথে বের হয়ে আসছিল।

*রুদ্র*: "ভাই... আমি... আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি রে ভাই...
আমার মায়াবতী... ও কি আমাকে মাফ করবে?
ও কি আমাকে আর রুদ্র ভাইয়া ডাকবে?"

আরহাম রুদ্রের পিঠে হাত বুলিয়ে দিল।
ওর নিজের চোখেও পানি।
কিন্তু গলা শক্ত করে রাখল।

ঠিক তখনই...
দূরের কোনো মসজিদ থেকে ভেসে আসলো *ফজরের আজান*।
_*_"আল্লাহু আকবার... আল্লাহু আকবার...
আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম...
হাইয়া আলাল ফালাহ..."_**

ভোরের আজানের সাথে
ফ্লোরেন্সের আকাশে রঙ ধরতে শুরু করল।
কালো আকাশে প্রথমে হালকা ধূসর,
তারপর গোলাপি, তারপর কমলা, তারপর সোনালি।
সূর্য উঁকি দিচ্ছে দূরের পাহাড়ের পিছন থেকে।

Arno নদীর পানিতে ভোরের প্রথম রোদ পড়ে
হাজার হীরার মতো চিকচিক করছে।
ছাদের টবে রাখা গাছগুলোর পাতায় শিশির জমেছে।
ঠান্ডা বাতাসে ভোরের পবিত্রতা।

পাখিরা ডাকতে শুরু করেছে।
চড়ুই, কাক, নাম না জানা পাখি।
শহরটা ধীরে ধীরে জেগে উঠছে।
দোকানদাররা দোকান খুলছে।

আজানের ধ্বনির সাথে রুদ্র চোখ মুছে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
ওর চোখে এখন আর শুধু কান্না নেই।
আছে প্রতিজ্ঞা। আছে আগুন। আছে জেদ।

*আরহাম*: "ঘরে যা। ফ্রেশ হয়ে নামায পড়ে নে।
আমিও নামাযে যাচ্ছি।"

এই বলে আরহাম নামাযের নিয়ত নিয়ে নিচে চলে গেল।

আর রুদ্র দাঁড়িয়ে রইল ছাদে।
ভোরের আলোয় ভেজা শহরটার দিকে তাকিয়ে।
ওর মনের কিছু কথা মনেই রয়ে গেল।

---
ইতালি। ফ্লোরেন্স শহর।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে *৪টা দিন*।

এই ৪ দিনে সবাই অনেক মজা করেছে। অনেক ঘুরেছে।

*Day 2: উফিজি গ্যালারি + আরনো নদী*

সকাল ১০টা। সবাই ঢুকলো *Uffizi Gallery* তে।
উঁচু ছাদ, সোনালি ফ্রেমে আঁকা পৃথিবী বিখ্যাত সব ছবি।
*Venus এর জন্ম, Mona Lisa এর হাসি, যিশুর কষ্ট* - সব দেয়ালে দেয়ালে।
ঠান্ডা মার্বেলের ফ্লোরে পায়ের শব্দ গমগম করছে।

*পিউ*: _ছবির সামনে দাঁড়িয়ে_ "ভাইয়া, এই আন্টির হাসি এত রহস্যময় কেন? ও কি আমার থেকে চকলেট লুকাইছে?"
*টিয়া*: "এটা ৫০০ বছরের পুরনো ছবি রে গাধা। তখন তো তুই জন্মাসই নাই।"
*পিউ*: "তাইলে আন্টি আমার জন্য ৫০০ বছর ধরে অপেক্ষা করতেছে? কি কিউট!"
*আদি*: "তুই চুপ কর। তোর কারণে Guard আমাদের দিকে তাকাচ্ছে কখন যেনো লাত্থি দিয়ে বেড় করে দেই ।"

ছবি দেখা শেষে বিকাল ৫টায় সবাই গেল *Arno নদীর ধারে*।
নদীর পানি কাঁচের মতো। পাড়ে বসার জন্য পাথরের সিঁড়ি।
চারপাশে হলুদ লাইট। *Ponte Vecchio* ব্রিজে মানুষের ভিড়।
রাত ১টা পর্যন্ত আড্ডা।

সবাই আদিকে গান গাওয়ার জন্য জোর করছিল।

কারণ জুঁইদের পাশেই আরেকটা মিউজিক দল গান গাইছিল।
আদি সবার জোরাজুরিতে রাজি হয়ে গেল।

*আদি* গিটার নিয়ে বসলো। জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলো
**_"তুমি হাসলে আমার আকাশে রোদ ওঠে,
চোখের পানিতে বন্যা নামে।
কিছু জমানো কথা,
নদীর জলে ভাসে..."_*_

সবাই চুপ।
শুধু নদীর ছলাৎ ছলাৎ আর আদির গলা।
*জুঁই* চোখ নিচু করে বসে ছিল।
*আরহাম* পাশে বসে জুঁইয়ের কাঁধে চাদরটা টেনে দিল।

*আরহাম*: "ঠান্ডা লাগবে, পিচ্চি।"
*জুঁই*: _মাথা নাড়ল_ "লাগবে না ভাইয়া।"

দূরে *রুদ্র* দাঁড়িয়ে ছিল একটা গাছের সাথে হেলান দিয়ে।
কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে।
আর ফিরে ফিরে জুঁইয়ের দিকে তাকাচ্ছে।
ওর বুকের ভিতরটা হু হু করছিল।
ইচ্ছা হচ্ছিল দৌড়ে গিয়ে বলে _"পিচ্চি, আমিও আছি"*।
কিন্তু পা নড়লো না।

*Day 3: সিয়েনার গ্রাম + আঙুর বাগান*

পরদিন সকালে গাড়ি নিয়ে রওনা *Siena*।
২ ঘন্টার রাস্তা। দুইপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ।
সোনালি রোদে আঙুর বাগানগুলো ঝলমল করছে।
সারি সারি আঙুরের লতা। পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ছে।
বাতাসে ভেসে আসছে মাটি আর আঙুরের মিষ্টি গন্ধ।

পুরনো পাথরের বাড়িগুলো ২০০ বছরের পুরনো।
ছাদে লাল টালি। জানালায় জুঁই ফুলের টব।

*টিয়া*: "ভাই, এই বাড়িগুলো দেখতে Harry Potter এর মতো।"
*পিউ*: "হ্যাঁ। আর আমি হইলাম Hermione। তুই হইলি Dobby।"
*টিয়া*: "তোরে আমি Dobby বানায় দিব।"
*আদি*: _আঙুর ছিঁড়ে_ "এইটা খাওয়া যাবে?"
*আরিয়ান*: "চাষির অনুমতি ছাড়া খেলে জরিমানা ২০০ ইউরো।"
*আদি*: _আঙুর ফেলে দিয়ে_ "আমার পেটে ২০০ ইউরোর আঙুর নাই ভাই।"

*আরহাম* এক গুচ্ছ আঙুর পেরে জুঁইয়ের মুখের সামনে ধরলো।
*আরহাম*: "নে পিচ্চি, দেখ খেয়ে কেমন লাগে। টক লাগলে বলিস।"
*জুঁই*: _একটা খেয়ে_ বলল "মিষ্টি। একদম তোমার মতো।"
আরহাম হেসে জুঁইয়ের মাথায় টোকা দিল।

*Day 4: পাথরের বাড়ি + শান্ত পরিবেশ*

শেষ দিন সবাই গেল *Tuscany* এর একটা ছোট গ্রামে।
চারপাশে পাহাড়। মাঝে পুরনো পাথরের বাড়ি।
দেয়ালগুলো হলদে পাথরের। ছাদে লতা-পাতা।
কোনো গাড়ির শব্দ নেই। শুধু বাতাস আর দূরের গির্জার ঘন্টা।

বাড়ির উঠানে বড় একটা জলপাই গাছ।
গাছের নিচে কাঠের বেঞ্চ।
সকালের রোদ এসে পড়েছে উঠানে।
একটা বিড়াল রোদ পোহাচ্ছে।

*পিউ*: "এখানে নেটওয়ার্ক নাই। আমি TikTok করতে পারব না।"
*টিয়া*: "তোর TikTok এর চেয়ে এই শান্তিটা দামি। চুপ কর ৫ মিনিট।"
*পিউ*: _৫ সেকেন্ড পর_ "পারলাম না। আমার মুখে পোকা কামড়ায়।"
সবাই হেসে দিল।

*আরহাম* জুঁইকে নিয়ে গেল পাহাড়ের উপরে।
নিচে পুরো গ্রাম দেখা যায়।

*আরহাম*: "কেমন লাগছে, পিচ্চি?"
*জুঁই*: "শান্তি লাগছে ভাইয়া। অনেক দিন পর।"
*আরহাম*: _জুঁইয়ের হাত ধরলো_ "বোনু, ভাইয়া সব সময় তোর পাশে আছে। তাই বেশি চিন্তা করিস না। আর তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।"
*জুঁই*: "বলো ভাইয়া।"
*আরহাম*: "হোটেলে ফিরে বলব।"

সন্ধ্যায় হোটেলে ফেরার সময় *রুদ্র* গাড়িতে উঠার সময় দেখে জুঁইয়ের পাশের সিটটা ফাঁকা ।
ওর বুক ধক করে উঠলো।
ইচ্ছা হলো বসে যায়।
কিন্তু তার আগেই মাইরা বসে পরলো রুদ্র শেষে আদির পাশে বসে পড়লো।
জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,
*"৪ দিন হয়ে গেল পিচ্চি। আর কতদিন দূরে থাকব? এত অভিমান কেন?"*

রুদ্র এই ৪ দিনে অনেক চেষ্টা করেছে জুঁইয়ের সাথে কথা বলতে।
কিন্তু পারেনি।
জুঁই সব সময় Ignore করেছে।
সবার সামনে কিছু জিজ্ঞাসা করলে "হ্যাঁ, না" তে উত্তর দিত।
কিন্তু একা রুদ্রের আসেপাশেও আসেনি।

---

রাত ৮টা।
*Hotel Sudhorjor*।

জুঁইয়ের রুমের দরজাই নক করল আরহাম।
*মাইরা* দরজা খুলে দিল।

আরহাম মাইরার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
*আরহাম*: "কি বোকাফুল, কেমন আছিস? পিচ্চি কই?"

মাইরা ২ হাত কোমরে দিয়ে পিচ্চিদের মতো ঝগড়ার ভাব নিয়ে বলল,
*মাইরা*: "এই এই! আপনি আমাকে এগুলা বলে ডাকেন কেন হ্যাঁ?
আমি কি বোকা? আমি অনেক চালাক। বুঝলেন?
আর একদিন বোকা বললে দেইখেন কি করি!"

আরহাম মাথাটা একটু মাইরার দিকে ঝুঁকিয়ে বলল,
*আরহাম*: "কি করবেন মহারানি?"

আরহাম মাথা ঝুঁকাতেই মাইরা লাফ দিয়ে পিছিয়ে গেল।
আর বলল,
*মাইরা*: "হুহ! আপনাকে কিডন্যাপ করে মাছকে খেতে দিব!"

আরহাম হাসলো মাইরার বাচ্চা কথাটা শুনে।

এর মধ্যে জুঁই পিছন থেকে বলল,
*জুঁই*: "ভাইয়া, কোনো দরকার?"

আরহাম মাইরার পিছনে জুঁইকে দেখে বলল,
*আরহাম*: "হুম। কিছু কথা ছিল।"

মাইরা আরহাম আর জুঁইকে Space দিয়ে বের হয়ে গেল।
রুমে এখন শুধু ভাই আর বোন।

আরহাম দরজাটা ভিতর থেকে লাগিয়ে দিল।
জুঁই খাটের কোণায় বসে পড়লো।
আরহাম ওর সামনের চেয়ারে বসলো।

বাইরে থেকে ভেসে আসছে ফ্লোরেন্সের রাতের শব্দ।
আর রুমের ভিতর ভারী নিস্তব্ধতা।
কারণ আরহামের চোখে আজ অন্যরকম কিছু ছিল।

--
রাত ১০টা।
প্রায় *2 ঘন্টা* ধরে আরহাম আর জুঁইয়ের আলোচনা চললো।
কি কি কথা হয়েছে... সেটা পরে জানা যাবে।

১০টা বাজতেই আরহাম দরজা খুলে বের হয়ে গেল।
জুঁই এখনো একই জায়গায় বসে আছে অনুভূতিহীন ভাবে।
আরহাম যেতেই জুঁই চুপচাপ শুয়ে পড়লো।
ঘুম আসলো না। শুধু ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলো।

---

সকাল ১০টা।
আজকে *Last Day Florence শহর*।
আজকে সবাই *Amalfi Coast* এর উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।

হোটেলের লবিতে সবাই জড়ো।
কিন্তু সবার চোখ আজ একজনের দিকে।
*জুঁই*।

প্রায় অনেক বছর পর জুঁই আবার *Floral টাইপের ড্রেস* পরেছে।

জুঁইয়ের আজকের লুক গায়ে *Baby Pink Floral Long Top*।
Top টা হাঁটু পর্যন্ত লম্বা। সারা গায়ে ছোট ছোট সাদা আর হালকা গোলাপি ফুলের প্রিন্ট।
গলায় V-cut, হাতায় হালকা ফোলা Sleeve। কোমরে পাতলা একটা সাদা বেল্ট।
নিচে *White Wide Leg Linen Pant*।
পায়ে *White Strappy Block Heel*। হিল ২ ইঞ্চি।
হাতে *Beige Color এর Dior Saddle Bag*। ব্যাগের চেইনে ছোট একটা Pearl এর লকেট ঝুলছে।
চুলগুলো ছাড়া। মাঝখানে সিঁথি। কানের পাশে দুইটা খোঁপার মতো করে পিন করা।
ঠোঁটে হালকা Pink Lip Gloss। গালে একটু Blush। চোখে কাজল টানা।

জুঁইয়ের গায়ের রঙ *শ্যামলা*। কিন্তু আজ রোদে ওর গা চকচক করছে।
গাল দুইটায় *টোল পরে*। হাসলে যেন পরিদের মতো লাগে।
চোখ দুইটা বড় বড়, অনেক মায়াবী। পাপড়ি গুলো অনেক ঘন।
ঠোঁটগুলো গোলাপি। নাকের ডগা একটু লাল।
সব মিলিয়ে ফুলের রাজকন্যা লাগছে... একদম *ফুলের মতো তাজা*।

*পিউ*: _হা করে তাকিয়ে_ "কেরে এটা? পরী এলো কোথা থেকে!"
*টিয়া*: "আমারও একই প্রশ্ন। এটা কে? আমাদের জুঁই কই?"
*আদি*: পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে।
*মাইরা*: _জুঁইয়ের গাল টেনে_ "এত সুন্দর কেন তুমি? অনেক সুন্দর লাগছে।"

*আরহাম* সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে থমকে গেল।
জুঁইকে দেখে ওর চোখে মুগ্ধতা কাজ করলো আর মনে মনে বিড়বিড় করলো,
*"মাশাআল্লাহ। আমার পিচ্চি বনু।"*

*আরহাম*: _আস্তে করে জুঁইকে বলল_ "অনেক সুন্দর লাগছে বনু।"
জুঁই শুধু মাথা নাড়লো।

কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে *রুদ্র*।
ওর চোখ আটকে গেছে জুঁইয়ের উপর।
Pink Floral ড্রেস, খোলা চুল, টোল পড়া গাল...
রুদ্রের ১৩ বছরের পুরনো স্মৃতি সব একসাথে মনে পড়ে গেল।
সেই পিচ্চি জুঁই পরি।

রুদ্র বিড়বিড় করে বলল,
*"এই পিচ্চিটাই তো আমার... মায়াবতী। My sweet cherry..."*

জুঁই একবার রুদ্রের দিকে তাকালো। তারপর চোখ সরিয়ে ফেলল।

*পিউ* আর *টিয়া* জুঁইয়ের কাছে গিয়ে ওকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে শুরু করলো।
*পিউ*: "জুঁই রে, তোকে সেই লাগতাছে। একদম ফুলের মতো।
এখন থেকে এমন ড্রেস পরবি। অনেক সুন্দর মানায় তোকে।"
*টিয়া*: "হ্যাঁ। কারণ আমরা তো তোকে সবসময় Pant-Shirt, Gengi তে দেখি।
এগুলোতে অন্যরকম লাগে তোকে।"

জুঁই বিরক্ত হয়ে বলল,
*জুঁই*: "চুপ বাল। আমার মন চেয়েছে তাই পরেছি।
এখন বেশি পকপক করলে গিয়ে আবার চেঞ্জ করে আসব।"
*মাইরা*: "আচ্ছা জুঁই বাদ দে। চল যাওয়া যাক।"

এটা বলে সবাই রওনা দিল *Amalfi Coast* এর উদ্দেশ্যে।

৩ ঘন্টার জার্নি শেষে গাড়ির জানালা খুলতেই চোখ জুড়িয়ে গেল।

সামনে *পাহাড়ের গায়ে রঙিন শহর*।
হলুদ, কমলা, গোলাপি, আকাশি রঙের বাড়িগুলো একটার উপর একটা সাজানো।
যেন কেউ রঙের বাক্স উল্টায় দিয়েছে পাহাড়ের উপর।
বাড়িগুলোর ছাদে লাল টালি। বারান্দায় ঝুলছে Bougainvillea ফুল।
সরু সরু গলি। গলির দুইপাশে লেবুর দোকান।
Lemon গুলো এত বড় যে ফুটবলের মতো লাগে।

আর তার নিচেই *নীল সমুদ্র*।
পানি এত স্বচ্ছ যে নিচের পাথর পর্যন্ত দেখা যায়।
ঢেউ এসে পাথরে আছড়ে পড়ছে। শব্দটা মিউজিকের মতো।
বাতাসে লবণ আর লেবুর গন্ধ।
দূরে সাদা পালের নৌকা ভাসছে। আকাশে সাদা মেঘ।
সূর্যের আলো পানিতে পড়ে হাজারটা হীরার মতো চিকচিক করছে।

রাস্তার পাশে ছোট ছোট স্টল।
একটায় *Gelato* - রঙিন আইসক্রিমের পাহাড়।
আরেকটায় *Limoncello* - লেবুর শরবত।
আরেকটায় হাতে বানানো *Ceramic প্লেট, মগ, চুড়ি*।
বাতাসে ভাজা Seafood আর Pizza এর গন্ধ।

সবাই হা করে তাকিয়ে আছে।
*আদি*: "ভাই এটা কি পৃথিবী নাকি জান্নাত?"
*পিউ*: "আমি এখানেই বাড়ি বানাবো।"
*টিয়া*: "তোর কিডনি বেচা লাগবে এখানে বাড়ি করতে চাইলে।
আগে ভাব কোথায় কোথায় ছবি তুলবি। জায়গাটা কি সুন্দর!"

*মাইরা* অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর মনে বলছে,
"আল্লাহর তৈরি সব কিছুই কত সুন্দর।"

একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে জায়গাটা ঘুরে দেখতেছে।
*পিউ*: _একটা Lemon হাতে নিয়ে_ "এইটা দিয়ে কি টক বানানো যাবে?"
*আদি*: "এইটা Lemon না রে। এটা হলো Amalfi Lemon।
এটা দিয়ে শুধু Perfume বানায়।"
*টিয়া*: "তাহলে এটা আমি খেয়ে Perfume হয়ে যাই। তোরা আমাকে শুঁকিস।"
সবাই হেসে দিল।

দেখতে দেখতে বিকেল হয়ে গেল।
সবাই *Lunch* করলো।
টেবিলে ছিল *Margherita Pizza, Seafood Pasta, Bruschetta, Caprese Salad, আর Tiramisu*।
খাওয়ার পর সবাই আইসক্রিম খেল।

তারপর সবাই সমুদ্রের কাছে গেল।
এখন সমুদ্রের পাড়ে অনেক ভিড়।
মানুষ আসতেছে। কেউ ছবি তুলতেছে, কেউ নৌকায় ঘুরতেছে।

জুইরা সবাই সবার মতো ঘুরছে।
*জুঁই* চুপচাপ সমুদ্রের পাড়ে।
নীল ঝিলমিল পানির দিকে তাকিয়ে আছে।
পায়ের কাছে ঢেউ এসে লাগছে। ওর Pink Top এর কোণা বাতাসে উড়ছে।

*আরহাম* বাংলাদেশ থেকে কল এসেছে দেখে একটু দূরে গিয়ে কথা বলছে।
*মাইরা* আর *আরিয়ান* একসাথে Ceramic এর দোকান দেখতেছে।
*পিউ, টিয়া, আদি* তিনজন মিলে Icecream নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেছে।

আর *রুদ্র*?
রুদ্র জুঁইয়ের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে।
জুঁইয়ের দিকে মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
ওর ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে বলে,
*"পিচ্চি, এই সমুদ্রের মতো আমার বুকেও ঢেউ উঠে। শুধু তোর জন্য।"*
কিন্তু পা নড়ে না।

বাতাসে সমুদ্রের ঢেউ আর জুঁইয়ের চুল উড়ছে।
রুদ্র পিছন থেকে ডাক দিবে কি দিবে না... এই দ্বিধায় আছে।

চলবে.......?

(ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, তোমাদের জন্য বড় করে পর্ব দিয়েছি, তাই তোমরা বেশি বেশি করে রেসপন্স করবা নাহলে ১০০ দিন পরপর ছোট করে একটা পর্ব দিব হুহ 😁🌺 )

15/08/2026

রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বলা আরহামের এই লাইনটা......!

#স্পইলার


#থিম ( )


 #অন্ধকারের_মায়াবতী  #পর্ব_২৯ #লেখিকা_ Jesmin Chowdhury Jui ------বিকাল ৫:৩০ মিনিট।  রুদ্রের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কাল...
14/08/2026

#অন্ধকারের_মায়াবতী
#পর্ব_২৯
#লেখিকা_ Jesmin Chowdhury Jui

------

বিকাল ৫:৩০ মিনিট।
রুদ্রের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কালো Mercedes G-Wagon।
ড্রাইভার চাচা আগেই বুঝে গিয়েছিল কিছু একটা হয়েছে।

আরহাম দরজা খুলতেই জুঁইকে সাবধানে পিছনের সিটে বসালো।
নিজেও উঠে বসে জুঁইকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

*আরহাম*: "চাচা, তাড়াতাড়ি। এভারকেয়ার হসপিটাল যান।"
ওর গলা কাঁপছিল।
রাগে না। ভয়ে।
যে মেয়েকে এখন পর্যন্ত কেউ একটা ধমকও দেয়নি,
সেই মেয়ের গায়ে আজ হাত উঠেছে।
বাসায় কি জবাব দেবে?

জুঁই এর ডান হাতটা লাল হয়ে ফুলে গেছে।
আঙুলের দাগ স্পষ্ট বসে গেছে।
ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে পিচ্চিটা।
আরহামের শার্ট খামচে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

*জুঁই*: "লুদু বাইয়া... বেতা... অনেক বেতা লুদু বাইয়া..."
("রুদ্র ভাইয়া... ব্যথা... অনেক ব্যথা রুদ্র ভাইয়া...")
এই একটা কথাই বিড়বিড় করছে বারবার।

*আরহাম* জুঁই এর কপালে গভীর করে চুমু দিল।
"কাঁদিস না পিচ্চি। আর একটু সহ্য কর।
আমরা এখনই ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি।
আর কেউ তোর গায়ে হাত দিতে পারবে না। প্রমিস করলাম।"

গাড়ি ছুটছে ধানমন্ডি দিয়ে।
জানালা দিয়ে বিকেলের শেষ রোদ ঢুকছে।
কিন্তু আরহামের চোখে আগুন জ্বলছে।

১৫ মিনিটের মধ্যেই গাড়ি এভারকেয়ারের ইমার্জেন্সির সামনে থামল।
আরহাম জুঁইকে কোলে নিয়ে দৌড়ে ভিতরে ঢুকল।

*আরহাম*: "ডাক্তার! ডাক্তার কোথায়!
আমার বোনের হাত। প্লিজ দেখুন।"

নার্সরা দৌড়ে এলো।
জুঁইকে বেডে শুইয়ে দিল।
ডাক্তার হাতটা ভালো করে চেক করলেন।

*ডাক্তার*: "Nail marks আছে।
অনেক জোরে চেপে ধরেছে।
X-Ray করতে হবে। ফ্র্যাকচার হয়নি তো।
আর ব্যথার জন্য ইনজেকশন দিতে হবে।"

*আরহাম*: "যা করতে হয় করুন।
টাকার চিন্তা করবেন না।"
ওর চোখ লাল।
হাত দুইটা মুঠো হয়ে আছে।

ইনজেকশন দেওয়ার সময় জুঁই চিৎকার করে উঠল।
*"লুদু বাইয়া!!"*
আরহাম শক্ত করে জুঁই এর অন্য হাতটা ধরে রাখল।
"আমি আছি পিচ্চি। আমি আছি। কাঁদিস না সোনা।"

ট্রিটমেন্ট শেষ।
ডাক্তার বললেন, "ফ্র্যাকচার নেই।
তবে কয়েকদিন ব্যথা থাকবে।
মলম আর ব্যথার ওষুধ দিয়ে দিচ্ছি।"

আরহাম "Thank you" বলে জুঁইকে কোলে নিয়েই বের হলো।
জুঁই এতক্ষণ কান্না করে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেছে।
আরহামের বুকেই মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে।

গাড়িতে উঠে আরহাম ড্রাইভার চাচাকে বলল,
"বাসার দিকে রওনা দেন চাচা।"
তারপর ফোন বের করে রুদ্রের নাম্বারে ডায়াল করল।
কল যাচ্ছে না। বন্ধ দেখাচ্ছে।
কারণ রুদ্র ওই ফোন বাংলাদেশেই রেখে গেছে ওর ঘরে।

আরহাম ফিসফিস করে বলল,
*_"রুদ্র, তুই কোথায় ভাই?
আমার বোনটা যে কষ্ট পাচ্ছে।
একবার আমাদের জানাতেও পারতি।"_*

গাড়ির কাঁচে রাতের ঢাকা শহর পিছলে যাচ্ছে।
আরহামের কোলে জুঁই।
হাতে ব্যান্ডেজ।
ঘুমের মধ্যেও বিড়বিড় করছে,
*"লুদু বাইয়া জাব... লুদু বাইয়া জাব..."*

*রাত: ১০টা | চৌধুরী মেনসন*

চৌধুরী মেনসনের সামনে গাড়িটা থামল।
আরহাম জুঁইকে কোলে নিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকল।

সবাই ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল।
জুঁইয়ের বাবা *আহসান উল্লাহ* জুঁইকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে কোলে নিল।
মায়াভরা চোখে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

তিনি অফিসে ছিলেন।
যখন শুনেছেন জুঁই কান্না করছে, তখনই চলে এসেছেন।
কিন্তু বাসায় এসে শুনেন আরহাম জুঁইকে রুদ্রের বাসায় নিয়ে গেছে।
তাই মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

আরহামকে অনেকবার কল করেছেন।
আরহাম শুধু বলেছে, "আব্বু একটু সমস্যা হয়েছে।
একটু দেরি হবে।
প্লিজ একটু অপেক্ষা কর।
আমি পিচ্চিকে নিয়ে আসছি।"

কথা শুনে আহসান উল্লাহ প্রথমে চিন্তিত হলেও কিছু বলেননি।
শুধু বলেছিলেন, "তাড়াতাড়ি এসো।
আমি অপেক্ষা করছি আমার মেয়ের জন্য।"

আহসান উল্লাহ জুঁইকে দেখতে দেখতে চোখ গেল ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে।
কিন্তু কিছু বললেন না।
কারণ তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে।

জুঁইয়ের মা *আমেনা চৌধুরী* এর কাছে জুঁইকে দিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,
"ওকে ঘরে শুইয়ে দিয়ে আসো।"

আমেনা চৌধুরী জুঁইকে নিয়ে উপরে চলে গেলেন ওর রুমে।

আর নিচে আরহাম মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ও বুঝে গেছে এখন কি হতে পারে।

ঠিক তাই হলো।
আহসান উল্লাহ সজোরে আরহামের গালে *ঠাস* করে একটা থাপ্পড় মারলেন।

আরহাম ১৭ বছরে একদিনও মার খায়নি।
কিন্তু আজ তার পিচ্চি বোনের জন্য মার খেল।
তবুও কষ্ট পায়নি।
কারণ দোষটা তারই।
সে থাকতে তার ফুলের মতো বোনটাকে কেউ আঘাত করল।
আর ও কিছুই করতে পারল না।
রেহেনা খানের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়তো আরহাম মেরে বসতো।
কিন্তু ওটা রুদ্রের সৎ মা... তাই চুপ করে ছিল।

আরহাম ভাঙা গলায় বলল,
"আব্বু... সরি।"
তারপর রুদ্রের সৎ মায়ের কথা,
রুদ্রের কথা...
সব খুলে বলল।

আহসান উল্লাহ সবকিছু শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে আরহামের মাথায় হাত রাখলেন।

*আহসান উল্লাহ*: "বাবা কষ্ট পেয়ো না।
আমি ভুল করেছি তোমাকে মেরে, আরহাম।"

আরহাম মাথা নত করেই বলল,
"না আব্বু। আপনি ভুল করেননি।
আপনি আমার ভুলের শাস্তি দিয়েছেন।
আমার নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল।
আমার বোনটাকে আমার সামনে অন্য কেউ আঘাত করল।"

আহসান উল্লাহ আরহামকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
"কিছু হয়নি বাবা।
তুমি উপরে যাও।
অনেক রাত হয়েছে।
ঘুমিয়ে পড়ো।"

----

সকাল ৮টা।

রোদ উঠেছে অনেকক্ষণ।
কিন্তু চৌধুরী মেনসনের একটা রুমে এখনো অন্ধকার।

জুঁই ঘুম থেকে উঠেই আবার কান্না শুরু করে দিল।
একই কথা। একই আর্তনাদ।
"লুদু বাইয়ার কাছে জাব...
( রুদ্র ভাইয়ার কাছে জাব...")

আহসান উল্লাহ মেয়ের কান্নার জন্য অফিসে যাননি।
জুঁই কান্না করতে হাঁপিয়ে গেছে।
ছোট বুকটা ওঠানামা করছে।
তবুও কান্না থামছে না।

দেখতে দেখতে বিকেল হয়ে গেল।
জুঁই কিচ্ছু খাচ্ছে না।
মা, বাবা, ভাই - সবার হাজার জোরাজুরিতেও মুখে এক লোকমা ভাতও তোলেনি পিচ্চিটা।

ঠিক মতো ঘুমায়ও না।

ঘুমালেও ১ ঘন্টা পর চমকে উঠে।
ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে,

*"লুদু বাইয়া... তুমি কোতায়... আমায় নিয়ে দাও..."*
("রুদ্র ভাইয়া, তুমি কোথায়, আমায় নিয়ে যাও")

এমন করে দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৩ দিন।

এই ৩ দিনে চৌধুরী পরিবারের রুটিনই হয়ে গেছে -

জুঁইকে বুঝানো, কান্না থামানো, জোর করে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো।

কান্না বন্ধ করলেও চুপচাপ জানালার পাশে বসে থাকে।
ঠিক মতো খায় না, ঘুমায় না, হাসে না।

এই ৩ দিনে জুঁই মাত্র ৩ থেকে ৪ বার খেয়েছিল।

সেটাও রুদ্রের আগের ভয়েস রেকর্ড শুনিয়ে।

কিন্তু আজকে ও কেমন যেন হয়ে গেছে।

একদম উদাস। একদম মন মরা।
চোখের নিচে গাঢ় কালি।
ঠোঁট দুইটা ফ্যাকাশে।

আগের সেই হাসিখুশি, চঞ্চল, দৌড়ে বেড়ানো পিচ্চিটা নেই।
যেন একটা প্রাণহীন পুতুল।

*আহসান উল্লাহ* আর *আরহাম* মিলে ডিসিশন নিল -
আর দেরি করা যাবে না।
জুঁইকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যেতেই হবে।

যেমন ভাবনা তেমন কাজ।

বিকাল ৪টা।
এভারকেয়ার হসপিটালের চাইল্ড সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট।

জুঁই যেতে চায়নি।
আরহামের শার্ট খামচে ধরে বলেছিল,
*"জাব না... লুদু বাইয়ার কাছে জাব..."*

কিন্তু আরহাম ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বলেছে,
"পিচ্চি, রুদ্র বলেছে এখানে আসতে।
আর বলেছে, ভালো মেয়েরা ডক্টরের কথা শোনে।
না আসলে রুদ্র ভাইয়া আর আদর করবে না, ভালোবাসবে না।"

"লুদু বাইয়া" নামটা শুনেই জুঁই চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল।
মাথা নেড়ে বলেছিল, *"আইচ্ছা..."*

*ডক্টর নুসরাত* - Child Psychologist।
ভদ্রমহিলার চোখ দুইটা অনেক মায়াবী।
তিনি প্রায় ৪০ মিনিট জুঁই এর সাথে কথা বললেন।
রঙ পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকালেন।
পুতুল দিয়ে খেললেন।
গল্প শোনালেন।

তারপর আহসান উল্লাহ আরহামকে আলাদা করে ডাকলেন।

*ডক্টর নুসরাত*: "দেখুন, বাচ্চাটা *Separation Anxiety* তে ভুগছে।
ওর জীবনের সবচেয়ে Safe জায়গা,
সবচেয়ে কাছের মানুষটাকে ও হঠাৎ হারিয়েছে।

আর যেহেতু রুদ্র ওর কাছে বাবা-মায়ের থেকেও বেশি Close ছিল,

তাই ও এই ধাক্কাটা নিতে পারছে না।
ওর অবচেতন মন মেনে নিতে পারছে না যে রুদ্র ওকে ছেড়ে চলে গেছে।"

*আরহাম* এর গলা ধরে আসছিল।
"তাহলে এখন কি করব আন্টি?
আমার পিচ্চিটা কি ঠিক হবে না?"

*ডক্টর নুসরাত* মৃদু হাসলেন।
"ওকে সময় দিতে হবে।
আর প্রফেশনাল কাউন্সেলিং করাতে হবে।
*পরপর ১ মাস, প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন করে* ওকে আমার কাছে আনতে হবে।
আমরা ওকে ধীরে ধীরে বুঝাবো যে ও একা না।

ওর পরিবার আছে। ওকে ভালোবাসার মানুষ আছে।

আর রুদ্রও ওকে ভালোবাসে,
কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে দূরে আছে।"

*আহসান উল্লাহ* এর চোখ ছলছল করছিল।

"এটা ওর জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে ডক্টর।

আমার মেয়েটা... ও তো ফুলের মতো নরম।"

*ডক্টর নুসরাত*: "ভয় পাবেন না।
সময় মতো ট্রিটমেন্ট হলে ৯০% চান্স আছে ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু দেরি করলে ওর মনের ভিতর গভীর দাগ পড়ে যাবে।

যা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
আর হ্যাঁ, ওকে রুদ্রের কথা মনে করিয়ে কষ্ট দেবেন না।

বরং ওকে ব্যস্ত রাখুন। খেলনা, নতুন জিনিস, বাইরে ঘোরানো, গল্পের বই।

ওকে বোঝান, জীবন থেমে থাকে না।"

ডক্টরের কথা শুনে আরহামের বুকের ভিতরটা ফেটে যাচ্ছিল।
ওর জন্যই তো পিচ্চিটার এই অবস্থা।

ও যদি সেদিন রুদ্রের বাড়িতে না যেত...
ও যদি রেহেনা খানকে আটকাতে পারত...

বাসায় ফেরার পথে জুঁই আরহামের কোলে ঘুমিয়ে পড়ল।
ছোট্ট শরীরটা ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়েছে।

আরহাম ওর ব্যান্ডেজ করা হাতটা আলতো করে ধরে বিড়বিড় করল,
"সরি পিচ্চি।

তোর ভাইয়া তোকে এত কষ্ট দিল।
আমি থাকতে তোর গায়ে কেউ হাত দিল।

কিন্তু প্রমিস করছি, খুব তাড়াতাড়ি রুদ্রকে খুঁজে বের করব।
আর তোকে তোর লুদু বাইয়ার বুকে ফিরিয়ে দেব।"

গাড়ির বাইরে তখন সন্ধ্যার আজান।

আর ভিতরে একটা ভাইয়ের নীরব চোখের পানি।

চলবে.......?

(২২০০+ওয়ার্ড)

(ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি চাইলে বেশি বেশি রেসপন্স করবেন।আর পেজটাকে ফলো করে পাশে থাকুন)

Address

Gazipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jesmin Chowdhury Jui posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share