31/01/2026
আত্মদর্শনের মহাকাব্য
পর্ব-১: সৃষ্টির আদি আহ্বান
নূর সাগরে ভেসে ছিলাম,
নামহীন এক চেতন,
আমি তখন আমিই ছিলাম,
বেদনাহীন এক কেতন!
আর্শের ছায়ায় কুন ফায়াকুন,
সৃষ্টি হলো ধরা,
আত্মা এলো আদেশ বয়ে
নফস অচেনা সরা।
সেই আদেশে লেখা ছিল
ফেরার গোপন পথ,
ভুলে গেলে নিজকে তুমি
দেহে বন্দি রথ।
পর্ব-২: আত্মার অবতরণ
মাটির ঘরে নামল আত্মা
নূরের পাখা ভাঁজে,
দেহ পেল চেতনার নিঃশ্বাস
রক্ত-মজ্জার মাঝে।
দেহ ভাবল, আমিই সব,
আত্মা রইল নীরব,
প্রদীপ জ্বলে প্রদীপে নয়
তেলেই আলো সরব।
নাজমুল বলে, দেহের মাঝে
অচিন পাখি কাঁদে,
দেহ জাগে কার আলোতে
সেই জগতটা বাঁধে।
পর্ব-৩: দেহ–নগরের বিভ্রম
দেহ নগর, ইন্দ্রের রাজা,
কে দরজায় পাহারা?
চক্ষু-কর্ণ-জিহ্বা ও মন
সবাই মিলে দেয় সাড়া।
নফস বসে যায় সিংহাসনে,
অসার তরে হাঁকে,
আত্মা পড়ে অন্ধকূপে
নীরব ছবি আঁকে।
এই নগরে সত্য বন্দি,
মিথ্যা হচ্ছে শাসক,
রূপ এখানে ঈশ্বর হলে
ভুলই হয় প্রশাসক।
পর্ব-৪: প্রেম ও রূপের মায়া
রূপের মাঝে রূপে পাগল
রূপেই পড়ে প্রেমে,
রূপের শেষে ভাঙন আসে
আঁধার আসে নেমে।
ভেতরের রূপ দেখলে তবে
খাবার ভুলে যেত,
নূরের প্রেমে মাতাল হয়ে
সত্যের মুক্তি পেত।
নাজমুল বলে, রূপের পিছে
রূপ লুকানো থাকে,
অন্ধ চক্ষু বন্ধ থাকলে
সবই ধোঁকার ফাঁকে।
পর্ব-৫: দাম্পত্য ও আত্মবিচ্ছেদ
একই খাটে জীবন কেটে,
শরীর চেনে শরীর,
রুহ না চিনলে দাম্পত্য হয়
মরুর বুকে অধীর।
স্বামী মানে স্ব যোগ আমি,
স্ত্রী মানে সে শক্তি,
রুহের মাঝে রুহ না মিললে
রুহ মানে না ভক্তি।
পরগাছাকে গাছের সাথে
তুলনা করলে ভুল,
তেমন করে আত্মা ছাড়া
বিবাহ কেবল ধূল।
পর্ব-৬: আত্মার জ্ঞান
জন্মের পূর্বে আত্মা জানত
সত্য-মিথ্যা সৃষ্টি,
কর্মের টানে ভুলে গেলে
ভুল পথে যায় দৃষ্টি।
জ্ঞান হারায়নি; ঢেকে গেছে,
ঘুমের ঘোরে আলো,
হৃদয় জাগলে ভয় লাগে না
সবই লাগে ভালো।
দ্বীনের আলোয় নিজকে জ্বালো,
জ্ঞানের দুয়ার ভালো।
নিজেকে ভুললে সব হারাবে
জ্বালো জ্ঞানের আলো।
পর্ব-৭: শিশুর কান্না ও বিস্মৃতি
শিশু কাঁদে অকারণে,
চোখে থাকে ভয়,
আত্মা তখন বলে ওঠে
এমন কেন হয়?
ঘুমের ঘোরে পূর্বজন্ম,
জেগে ভুলে যায়,
নফসের জাল ছিন্ন চেতন
জেগে আবার ঘুমায়।
এই কান্না সেই স্মৃতির রেশে
ভাষা খুঁজে পায় না,
দেহের ভাষা আত্মার কথা
ধরে রাখতে চায় না।
পর্ব-৮: সালাত, ধর্ম ও বিজ্ঞান
সালাত মানে দাঁড়ানো নয়,
ঝোঁকার নামও নয়,
সালাত মানে সত্তার সাথে
সত্তার সংযোগ হয়।
দমে দমে স্মরণ করলে
ভাঙে নফসের ঘর,
তখনই হয় সালাত কায়েম
জাগে দীলের স্বর।
সময়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ
শুরু মাত্র পথে,
শেষের কথা স্মরণ হলেই
জীবন ওঠে রথে।
পর্ব-৯: ধ্যান ও পুনর্জাগরণ
ধ্যান মানে পূর্ণ জাগরণ,
ঘুম ভাঙানোর নাম,
দেহে বন্দি নূরকে ডাকা
দিলে ফেরার দাম।
নামাজে নয়, মসজিদে নয়,
রুহের মাঝেই স্থান,
আত্মা জাগলে খুলে যাবে
সকল ধর্মের প্রাণ।
নাজমুল বলে:
ঘরে বসে ঘর খোঁজো নয়,
ঘর চিনে নাও বাইরে
সকল আপনভাবে বোঝে,
আপন মুর্শিদ নাই রে।
পর্ব-১০: মুর্শিদের সোহবত
একলা কভু জাগে আত্মা!
লাগে ঘর্ষণ আলো,
আলোকিত আত্মার মাঝে
ঘুমন্ত দীপ জ্বালো।
মুর্শিদ আয়না, মুর্শিদ আলো,
নূরে নিজের রূপ,
আত্মা থাকলে সবই ভালো
গুরু চিনলে চুপ!
মানুষ যখন নিজকে চেনে
জীবন ভরে আলো,
নিজের সত্তা নিজের কাছে
লাগে তখন ভালো।
পর্ব-১১: আত্মদর্শন
একদিন তুমি রূপ দেখিলে
রূপের ভেতর রূপ,
দেহ তখন তুলোর মতো
হালকা হবে ধূপ।
ওজন পড়ে যায় মাটিতে,
মনটা উড়াল দেয়,
আমি তখন আমি নই আর
আত্মার রূপে নেই।
নাজমুল বলে:
মনের ভিতর মন মজে যায়
বাইরে তাকে খুঁজে,
মরার আগে মরতে পারলে
আসল নকল বোঝে।
পর্ব-১২: আমি–তুমি বিলীন
আমি আর তুমি মিলেমিশে
নূরানী ঢেউ জাগে,
নাম-রূপ-যশ পড়ে থাকে
দেহঘরের বাগে।
তোমার দর্শন পাইলে আমি,
আমার দর্শন তুমি,
এই একত্বই সত্য তখন
এই ভুবনের ভূমি।
ভেদাভেদ সব মুছে গিয়ে
একই সত্তা জাগে,
আমি ছাড়া আর কিছু নেই
এই বোধই লাগে।
পর্ব-১৩: মহাবিশ্বের রহস্য
মহাবিশ্বের কারখানা তাই,
নিয়ম চলে নূরের,
আরশ হতে কণায় কণায়
আদেশ আসে দূরের।
আগুন-পানি-মাটি-বায়ু
সবই নূরের রূপ,
রুহানী চোখ খুলে দেখে
নূরই থাকে চুপ।
যে আলোতে বিশ্ব চলে
সে আলোতেই স্রষ্টা,
আত্মা জাগলে সেই গুণেই
মানুষ পূর্ণ দ্রষ্টা।
পর্ব-১৪: মুক্তি
যেদিন আত্মা চেতন হবে
সেদিন মুক্তি সত্য,
সীমা ভাঙা স্বাধীন সত্তা
নূরের সঙ্গে মত্ত।
দেহ তখন স্মৃতির খোলস,
ব্যবহৃত এক ঘর,
নূরটি তখন মহাসত্তায়
চিরজাগ্রত পর।