01/09/2023
০৮ বছর ধরে হুমায়ূন আহমেদ জাফর ইকবালের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।
জাফর ইকবাল আট বছরে কোনদিন তার বাড়িতে যায় নাই। অথচ হুমায়ূন আহমেদ বিশ্বাস করতেন, তার ভাই একদিন রাগ আর অভিমান ভুলে তার বাসায় আসবে, তার সাথে কথা বলবে।
জাফর ইকবাল যায় নাই। দ্বিতীয় বিয়ে করার "অপরাধে" সে বড় ভাইরে দূরে সরাইয়া দিসিলো।
এই অভিমান ভাঙলো যখন হুমায়ূন কোমায়, লাইফ সাপোর্টে। জাফর ইকবাল হুট করে আমেরিকা চলে গেলেন, হুমায়ূনের হাত ধরে বললেন, আমি স্যরি দাদাভাই, আমাকে মাফ করে দিও। আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম।
বাট ঐ সময় হুমায়ূন আর কোন জবাব দিতে পারেননি।
এর কিছুক্ষণ পর হুমায়ূন আহমেদ মারা যান।
বাট এখনও জাফর ইকবাল হুমায়ূনের স্মৃতি মনে করতে গেলে সেই অপরাধের কথা স্বীকার করেন। আফসোস করেন। সম্ভবত দাদাভাইকে একটা স্যরি বলার এই আফসোস থেকে জাফর ইকবাল কোনদিন মুক্তি পাবেন না।
এই সেদিনও উনি একটা ইন্টারভিউতে বললেন, দাদাভাইকে আমি ভুল বুঝেছিলাম। আর একটু আগে যদি যাইতে পারতাম, আরেকটু বেশি সময় যদি পাশে থাকতে পারতাম, আরেকবার যদি বলতে পারতাম যে আমি তোমারে ভালোবাসি, তাইলে হয়তো তার কষ্টটা একটু কমতো।
জাফর ইকবালের এই কথা শুনে কেন যেন মনে হলো, আমরা মানুষেরা অভিমান করতে, ঘৃণা করতে বা ভুল বুঝতে এতো কম সময় নিই, অথচ ভালোবাসার কথা বলতে বা একটা স্যরি বলতে এতো বেশি সময় কেন নিই?
একটা মানুষরে বাজে কথা বলে দূরে সরাইয়া দিতে আমাদের এক মিনিট দেরি হয় না, অথচ তারে ভালোবাসি বলতে আমাদের আট বছর লাইগা যায় কেন?
অভিমান, রাগ থাকতেই পারে। ভুল বোঝাবুঝিও থাকতে পারে, দূরত্বও থাকতে পারে। বাট সেই দূরত্ব এতো বেশি কেন হয়, যে একটা স্যরি বলতে বলতে ঐ মানুষটার বেঁচে থাকার মেয়াদটাই শেষ হয়ে যায়?
আর এই সবে লাভটাই বা কী হয়?
এই যে দুইটা ভাই।
একজন মইরা গেল ছোট ভাইয়ের জন্য ওয়েট করতে করতে। অপরাধবোধ আর কষ্টের গ্লানি নিয়ে। আর আরেকজন বেঁচে থাকলো একটাবার স্যরি বলতে না পারার আফসোস আর অনুতাপ নিয়ে।
মানুষ দিনশেষে দুঃখী, বাট এই দুঃখে আমাদের নিজের দায়ও কি কম?
©