GSKF

GSKF দুনিয়ায় মজদুর এক হও "এক হও"

08/05/2024

ট্রেড ইউনিয়ন কী..?

28/04/2024
 #মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস...- ১লা মে দিনটি পৃথিবীর অনেক দেশে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয় যা মে দিবস নামে...
30/04/2023

#মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস...

- ১লা মে দিনটি পৃথিবীর অনেক দেশে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয় যা মে দিবস নামেও পরিচিত। বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই এ দিনটি সরকারীভাবে ছুটির দিন। ১৮৮৬ সালের মে মাসে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক আন্দোলন ও আত্মাহুতিকে এদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরন করা হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশে পালিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এইদিনটি পালিত হয় না।

'শ্রমিক' - সভ্যতার প্রতিটি ইট,বালু, পাথরে যাদের ফোটা ফোটা ঘাম জড়িয়ে আছে তারা কিন্তু কখনোই সভ্যতার আশীর্বাদধন্য শ্রেনী ছিলনা, এখনো নয়। আজকের এই পোস্টে ১৮৮৬ সালের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক সেই আন্দোলন নিয়েই লিখব বলে ঠিক করেছি।
ঊনিশ শতকের গোড়ার দিককার কথা। শ্রমিকরা তখনো শোষিত, সপ্তাহে ৬ দিনের প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘন্টার অমানবিক পরিশ্রম করতো কিন্তু তার বিপরীতে মিলত নগন্য মজুরী। অনিরাপদ পরিবেশে রোগ-ব্যধি, আঘাত, ম্রত্যুই ছিল তাদের নির্মম সাথী। তাদের পক্ষ হয়ে বলার মত কেউ ছিলনা তখন। ১৮৬০ সালে শ্রমিকরাই মজুরি না কেটে দৈনিক ৮ ঘন্টা শ্রম নির্ধারনের প্রথম দাবি জানায়। কিন্তু কোন শ্রমিক সংগঠন ছিলনা বলে এই দাবী জোরালো করা সম্ভব হয়নি। এই সময় সমাজতন্ত্র শ্রমজীবি মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে। শ্রমিকরা বুঝতে পারে বনিক ও মালিক শ্রেণীর এই রক্ত শোষণ নীতির বিরুদ্ধে তাদের সংগঠিত হত হবে। ১৮৮০-৮১ সালের দিকে শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠা করে Federation of Organized Trades and Labor Unions of the United States and Canada [১৮৮৬ সালে নাম পরিবর্তন করে করা হয় American Federation of Labor]। এই সংঘের মাধ্যমে শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে শক্তি অর্জন করতে থাকে। ১৮৮৪ সালে সংঘটি '৮ ঘন্টা দৈনিক মজুরি' নির্ধারনের প্রস্তাব পাশ করে এবং মালিকও বনিক শ্রেণীকে এই প্রস্তাব কার্যকরের জন্য ১৮৮৬ সালের ১লা মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। তারা এই সময়ের মধ্যে সংঘের আওতাধীন সকল শ্রমিক সংগঠনকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংগঠিত হওয়ার পুনঃ পুনঃ আহবান জানায়। প্রথম দিকে অনেকেই একে অবাস্তব অভিলাষ, অতি সংস্কারের উচ্চাকাংখা বলে আশংকা প্রকাশ করে। কিন্তু বনিক-মালিক শ্রেণীর কোন ধরনের সাড়া না পেয়ে শ্রমিকরা ধীরে ধীরে প্রতিবাদি ও প্রস্তাব বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে থাকে। এ সময় এলার্ম নামক একটি পত্রিকার কলাম 'একজন শ্রমিক ৮ ঘন্টা কাজ করুক কিংবা ১০ ঘন্টাই করুক, সে দাসই' যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালে। শ্রমিক সংগঠনদের সাথে বিভিন্ন সমাজতন্ত্রপন্থী দলও একাত্মতা জানায়। ১লা মে কে ঘিরে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের আয়োজন চলতে থাকে। আর শিকাগো হয়ে উঠে এই প্রতিবাদ প্রতিরোধের কেন্দ্রস্থল।
১লা মে এগিয়ে আসতে লাগল। মালিক-বনিক শ্রেণী অবধারিতভাবে ঐ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। ১৮৭৭ সালে শ্রমিকরা একবার রেলপথ অবরোধ করলে পুলিশ ও ইয়ুনাইটেড স্টেটস আর্মি তাদের উপর বর্বর আক্রমন চালায়। ঠিক একইভাবে ১লা মে কে মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রস্তুতি চলতে থাকে। পুলিশ ও জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা শিকাগো সরকারকে অস্ত্র সংগ্রহে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে। ধর্মঘট আহবানকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য শিকাগো বানিজ্যিক ক্লাব ইলিনয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ২০০০ ডলারের মেশিন গান কিনে দেয়।
১লা মে - সমগ্র যুক্ত্ররাষ্ট্রে প্রায় ৩০০,০০০ শ্রমিক তাদের কাজ ফেলে এদিন রাস্তায় নেমে আসে। শিকাগোতে শ্রমিক ধর্মঘট আহবান করা হয়, প্রায় ৪০,০০০ শ্রমিক কাজ ফেলে শহরের কেন্দ্রস্থলে সমবেত হয়। অগ্নি গর্ভ বক্তৃতা, মিছিলে, মিটিং, ধর্মঘট, বিপ্লবী আন্দোলনের হুমকি সবকিছুই মিলে ১লা মে উত্তাল হয়ে উঠে। পার্সন্স, জোয়ান মোস্ট, আগস্ট স্পীজ, লুই লিং সহ আরো অনেকেই শ্রমিকদের মাঝে পথিকৃত হয়ে উঠেন। ধীরে ধীর আরো শ্রমিক কাজ ফেলে আন্দোলনে যোগ দেয়। আন্দোলনকারি শ্রমিকদের সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১লক্ষ। আন্দোলন চলতে থাকে। ৩ মে (কারো কারো মতে ৪মে)১৮৮৬ সালে সন্ধ্যাবেলা হালকা বৃষ্টির মধ্যে শিকাগোর হে-মার্কেট বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকগণ মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হন। আগস্ট স্পীজ জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলছিলেন। হঠাত দূরে দাড়ানো পুলিশ দলের কাছে এক বোমার বিস্ফোরন ঘটে, এতে এক পুলিশ নিহত হয় এবং ১১ জন আহত হয়, পরে আরো ৬জন মারা যায়। পুলিশবাহিনীও শ্রমিকদের উপর অতর্কিতে হামলা শুরু করে যা সাথে সাথেই রায়টের রূপ নেয়। রায়টে ১১ জন শ্রমিক শহীদ হন। পুলিশ হত্যা মামলায় আগস্ট স্পীজ সহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এক প্রহসনমূলক বিচারের পর ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর উন্মুক্ত স্থানে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। লুই লিং একদিন পূর্বেই কারাভ্যন্তরে আত্মহত্যা করেন, অন্যএকজনের পনের বছরের কারাদন্ড হয়। ফাঁসির মঞ্চে আরোহনের পূর্বে আগস্ট স্পীজ বলেছিলেন, "আজ আমাদের এই নি:শব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে"।
২৬শে জুন, ১৮৯৩ ইলিনয়ের গভর্ণর অভিযুক্ত আটজনকেই নিরপরাধ বলে ঘোষণা দেন, এবং রায়টের হুকুম প্রদানকারী পুলিশের কমান্ডারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। আর অজ্ঞাত সেই বোমা বিস্ফোরণকারীর পরিচয় কখনোই প্রকাশ পায়নি।
শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের "দৈনিক আট ঘন্টা কাজ করার" দাবী অফিসিয়াল স্বীকৃতি পায়। আর পহেলা মে বা মে দিবস প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দাবী আদায়ের দিন হিসেবে, পৃথিবীব্যাপী আজও তা পালিত হয়।

👉 গার্মেন্টস শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ২৫,০০০/- টাকা করা  হোক✊
17/03/2023

👉 গার্মেন্টস শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ২৫,০০০/- টাকা করা হোক✊

13/03/2023

ক্ষতিপূরণ ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত নীতিমালা
Compensation & Benefit Policy

ভূমিকাঃ _____________________ শ্রম আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্যশীল হয়ে সকল শ্রমিকের যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। ________________________ তৎকর্তৃক নিযুক্ত প্রত্যেক শ্রমিককে, শ্রম আইনের অধীন পাওনাদি পরিশোধ করতে এবং কোম্পানীতে কর্মরত সকল শ্রমিকের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে থাকে। চাকুরীর অবসান, ছাঁটাই, ডিসচার্জ, অপসারণ, পদত্যাগ, অবসর, বরখাস্ত অথবা অন্য যেভাবেই হউক না কেন, কোম্পানী শ্রমিকের আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ করে থাকে। সুতরাং ________________________ সকল শ্রমিকের যে সকল পাওনাদি আইন সম্মত উপায়ে পরিশোধ করে থাকে তাহা নিম্নরুপঃ

উল্লেখ যে, ____________________________ এর কর্তৃপক্ষ সব সময় বাংলাদেশ শ্রম আইন, আন্তর্জাতিক শ্রম বিধি বিধান ও বায়ারের আচরনবিধি উপর কাজ করতে অঙ্গিকারবদ্ধ।

উদ্দেশ্যঃ কর্তৃপক্ষ এই নীতিমালার ব্যবহার পরিচালনার মূল্যবোধ নিয়ে গর্বিত। ইহার সকল লেনদেন ও অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরত্ব সহকারে বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সুতরাং ____________________ সকল শ্রমিকের যে সকল পাওনাদি আইন সম্মত উপায়ে পরিশোধ করে থাকে তাহা নিম্নরুপঃ

ক্ষতিপূরণের পরিমাণঃ
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তাহার চাকুরির স্বাভাবিক ছাঁটাই, বরখাস্ত, অবসান, পদত্যাগজনিত ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত হইবে।

লে-অফকৃত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণঃ
বদলী বা সাময়িক শ্রমিক ব্যতিত সকল শ্রমিক যার নাম মাষ্টার রোলে অন্তর্ভূক্ত আছে এবং ১ বৎসর কাল চাকুরী সম্পন্ন করেছেন তিনি সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যাতিত লে-অফের সকল দিনের জন্য ক্ষতিপূরণ পাবেন। যদি কোন পঞ্জিকা বৎসরে কোন শ্রমিককে অবিচ্ছিন্নভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে ৪৫ দিনের অধিক সময়ের জন্য লে-অফ করা হয়, এবং উক্ত ৪৫ দিনের পর লে-অফের সময় যদি আরোও ১৫ দিনের বা তদুর্ধ্ব হয়, তাহা হইলে উক্ত শ্রমিককে, শ্রমিক এবং মালিকের মধ্যে ভিন্নরূপে কোন চুক্তি না থাকিলে, পরবর্তী প্রত্যেক ১৫ বা তদুর্ধ্ব দিনসমূহের লে-অফের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে, এস.সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড-এর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সকল ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে।

ক্ষতিপূরণ (প্রথম ৪৫ দিন পর্যন্ত)ঃ
* মোট মূল মজুরী এবং মহার্ঘভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে এর অর্ধেক।
* পূর্ণ বাসাভাড়া;

পরবর্তী ৪৫ দিনঃ
* মোট মূল মজুরী এবং মহার্ঘভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে এর অংশ;
* পূর্ণ বাসাভাড়া।

 মৃত্যুজনিত ক্ষতিপুরণঃ
যদি কোন শ্রমিক কোন মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে অন্ততঃ ০২ (দুই) বৎসরের অধিককাল চাকুরীরত থাকা অবস্থায় মুত্যুবরণ করেন, তাহা হইলে মৃত শ্রমিকের কোন মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে তাহার কোন পোষ্যকে তাহার ক্ষতিপূরণ হিসাবে-
* প্রত্যেক পূর্ণ বৎসর বা উহার ০৬ (ছয়) মাসের অধিক সময় চাকুরীর জন্য ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরী; এবং
* কর্মরত অবস্থায় অথবা কর্মকালীন দূর্ঘটনার কারণে পরবর্তীতে মুত্যুর ক্ষেত্রে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মজুরী অথবা গ্র্যাচুইটি, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন এবং এই অর্থ মৃত শ্রমিক চাকুরী হইতে অবসর গ্রহণ করিলে যে অবসরজনিত সুবিধা প্রাপ্ত হইতেন, তাহার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে।

 ছাঁটাইজনিত ক্ষতিপূরণঃ কোন শ্রমিককে প্রয়োজন অতিরিক্ততার কারণে কোন প্রতিষ্ঠান হইতে ছাঁটাই করা যাইবে।
ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করা হলে যে দিন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করা হয়েছে তার পরবর্তী ত্রিশ কমদিবসের মধ্যে নিম্নোক্ত পাওনা পরিশোধ করতে হবে;

যদি কোন শ্রমিক কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অন্যূন্য ১ বৎসর চাকুরীতে নিয়োজিত থাকেন, তাহা হইলে তাহার ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মালিককে-
* ১ মাসের লিখিত নোটিশ অথবা নোটিশ মেয়াদের জন্য নোটিশের পরিবর্তে মজুরী প্রদান করিতে হইবে;
* প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরী বা গ্র্যাচুইটি যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিতে হইবে।
* বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতা (যদি থাকে)।
* বর্তমান মাসের বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতা (যদি থাকে)।
* যদি অর্জিত ছুটি ভোগ করে না থাকে তাহলে পাওনা অর্জিত ছুটির মজুরী; (যদি থাকে)।
* ভবিষ্য তহবিল (যদি থাকে)।

 ডিসচার্জজনিত ক্ষতিপূরণঃ
অপসারণ (Discharge) অর্থ-হল শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে অথবা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে মালিক কর্তৃক কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান।
অপসারণ বা ডিসচার্জের মাধ্যমে শ্রমিকের চাকুরী অবসান করা হলে যে দিন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করা হয়েছে তার পরবর্তী ৩০ কমদিবসের মধ্যে শ্রমিক নিন্মোক্ত পাওনা পাওয়ার অধিকারীঃ
যদি কোন শ্রমিক কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অন্যূন্য ১ বৎসর চাকুরী সম্পূর্ণ করিলে তাহাকে মালিক তাহার-
* প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরী বা গ্র্যাচুইটি যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিতে হইবে।
* বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতা (যদি থাকে)।
* চলতি মাসের বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতা (যদি থাকে)।
* অর্জিত ছুটির ভাতা (যদি থাকে)।

 অব্যাহতি বা টার্মিনেশন (Termination by Employer)ঃ
যখন কোন স্থায়ী শ্রমিককে ছাঁটাই, বরখাস্ত, অপসারণ ইত্যাদি অপরাধ ছাড়া চাকুরীর সমাপ্তি ঘটানো হয় তখন তাকে অব্যাহতি বা টার্মিনেশন বলা হয়। যেকোন সময় তার কারখানার স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে শ্রমিকের প্রাপ্য টাকা-পয়সা প্রদান করে যে কোন শ্রমিককে চাকুরী হইতে অব্যাহতি দিতে পারে।

একজন স্থায়ী শ্রমিককে মালিক অবশ্যই ১২০ দিন বা ৪ মাস আগে শ্রমিককে নোটিশ দেন অথবা আদেশটি সাথে সাথে কার্যকর করতে চাইলে নোটিশের পরিবর্তে ৪ (চার) মাস বা ১২০ দিনের মজুরী দিয়ে দেন। তবে মাসিক বেতনে নিযুক্ত অস্থায়ী শ্রমিককে ১ মাসের নোটিশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১৪ দিনের লিখিত নোটিশ বা নোটিশ সময়ের মজুরী দিয়ে দেন।

ক্ষতিপূূরণঃ
অব্যাহতি বা টার্মিনেশনের মাধ্যমে শ্রমিকের চাকুরী অবসান করা হলে যে দিন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করা হয়েছে তার ৩০ (ত্রিশ) কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিক নিচের পাওনা পেয়ে থাকেনঃ
* বকেয়া মজুরী এবং ওভারটাইমের ভাতা (যদি থাকে);
* বর্তমান মাসের মজুরী এবং ওভারটাইমের ভাতা;
* শ্রমিক যদি অর্জিত ছুটি ভোগ করে না থাকেন তাহলে পাওনা অর্জিত ছুটির মজুরী;
* শ্রমিক যতদিন কাজ করেছে তার প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মজুরী হারে ক্ষতিপূরণ অথবা গ্রাচুইটি থাকলে এর মধ্যে যেটি বেশী হবে সেটি;
* অব্যাহতির জন্য ১২০ দিন বা ৪ মাস পূর্বে যদি নোটিশ না দিয়ে থাকে তাহলে ১২০ দিন বা ৪ মাসের মজুরী;
* প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিধান থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা (যদি থাকে)।

 বরখাস্ত (Dismissal)ঃ
বরখাস্ত (Dismiss) হল-অসদাচরণের কারণে মালিক কর্তৃক কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান। নি¤œলিখিত অসদাচারণের কারণে মালিক কর্তৃক শ্রমিককে চাকুরী হতে বরখাস্ত করতে পারেনঃ
ক) উপরস্থের কোন আইন সঙ্গত বা যুক্তিসঙ্গত আদেশ মানার ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা বা অমান্য করা;
খ) মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কে চুরি, আত্মসাৎ, প্রতারণা বা অসাধুতা;
গ) মালিকের অধীন তাঁর বা অন্য কোন শ্রমিকের চাকুরী সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান;
ঘ) বিনা ছুটিতে বা অভ্যাগত অনুপস্থিতি অথবা ছুটি না নিয়া এক সঙ্গে ১০ দিনের অধিক সময় অনুপস্থিতি;
ঙ) কর্মস্থলে অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
চ) প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য কোন আইন, বিধি বা প্রবিধানের অভ্যাসগত লংঘন;
ছ) প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃংখলতা বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর;
জ) কাজে কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি;
ঝ) প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত চাকুরী সংক্রান্ত, শৃংখলা বা আচরণসহ যেকোন বিধির অভ্যাসগত লংঘন;
ঞ) মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ, অন্যায় পরিবর্তন, উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারাইয়া ফেলা।

এক্ষেত্রে মালিক কর্তৃক নিচের কতিপয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। যেমনঃ-
* শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ লিখিতভাবে করা হয়;
* লিখিত অভিযোগের এক কপি শ্রমিককে দিতে হবে এবং জবাব দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ৭ দিন সময় দেওয়া হয়;
* ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেওয়া হয়;
* মালিক বা ম্যানেজার এরূপ আদেশ অনুমোদন করেন;
* এছাড়া অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত শ্রমিককে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত সাপেক্ষে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে এবং বিষয়টি কোন আদালতে বিচারাধীন না থাকলে এর মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হবে না। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে গড় মজুরী, অর্ধেক খোরাকী ভাতা হিসেবে পাবেন।

বরখাস্তজনিত ক্ষতিপূরণঃ
* বকেয়া মজুরী এবং ওভারটাইমের ভাতা (যদি থাকে);
* বর্তমান মাসের মজুরী এবং ওভারটাইমের ভাতা;
* যদি অর্জিত ছুটি ভোগ করে না থাকে তাহলে পাওনা অর্জিত ছুটির মজুরী কাটা যাবে না;
* শ্রমিক যতদিন কাজ করেছে তার প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য ১৫ দিনের মজুরী হারে ক্ষতিপূরণ অথবা গ্রাচুইটি থাকলে এর মধ্যে যেটি বেশী হবে সেটি;
* প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিধান থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা (যদি থাকে)।
(৩) উপ-ধারা (২) (ক) এর অধীন অপসারিত কোন শ্রমিককে, যদি তাহার অবিচ্ছিন্ন চাকুরীর মেয়াদ অন্যূন ১ (এক) বছর হয়, মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক সম্পুর্ণ চাকুরী বৎসরের জন্য ১৫ দিনের মজুরী প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (৪) এর (খ) ও (ছ) এর অধীন অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করা হইলে তিনি কোন ক্ষতিপূরণ পাইবেন না। তবে এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক তাহার অন্যান্য আইনানুগ পাওনাদি যথা নিয়মে পাইবেন।

 পদত্যাগ (Resign)ঃ
কোন স্থায়ী শ্রমিক স্বেচ্ছায় যদি কারখানা থেকে চাকুরী ছেড়ে চলে যেতে চায় অর্থাৎ পদত্যাগ করতে চায় তবে তাকে অন্তত ৬০ দিন পূর্বে লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানের মালিককে পদত্যাগপত্র বা নোটিশ দিতে হবে। যদি নোটিশ দিতে না পারেন তবে তিনি ৬০ দিনের মূল মজুরীর সমপরিমাণ অর্থ তার মালিককে প্রদান করবেন।

পদত্যাগজনিত সুবিধাদিঃ
* বকেয়া মজুরী এবং ওভারটাইমের ভাতা (যদি থাকে);
* ৫ বছরের বেশী কিন্তু ১০ বছরের কম কাজ করে থাকলে প্রতি বছর কাজের জন্য ১৪ দিনের মজুরী এবং ১০ (দশ) বছরের বেশী কাজ করে থাকলে প্রতি বছর কাজের জন্য ৩০ দিনের মজুরী, ক্ষতিপুরণ বা গ্রাচ্যুইটি যা বেশী হয় তা পাবেন;
* যদি অর্জিত ছুটি ভোগ করে না থাকে তাহলে পাওনা অর্জিত ছুটির মজুরী;
* প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিধান থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা (যদি থাকে)।

 শ্রমিকের অবসর গ্রহণঃ
অবসর অর্থ এই আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী কোন শ্রমিকের নির্দিষ্ট বয়সে (অর্থাৎ ৬০ বছর) বয়সে উপনীত হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে চাকুরীর অবসান। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছর চাকুরী পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে শ্রমিকের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণকেও অবসর বলিয়া গণ্য হইবে।

অবসরজনিত সুবিধাদিঃ
* বকেয়া মজুরী এবং ওভারটাইমের ভাতা (যদি থাকে);
* বর্তমান মাসের মজুরী এবং ওভারটাইমের ভাতা;
* যদি অর্জিত ছুটি ভোগ করে না থাকে তাহলে পাওনা অর্জিত ছুটির মজুরী;
* শ্রমিক যতদিন কাজ করেছে তার প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মজুরী হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান;
* প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিধান থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা (যদি থাকে)।

 অব্যয়িত ছুটির মজুরী প্রদানঃ
যদি কোন শ্রমিকের ছাটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অবসর, পদত্যাগ বা অন্য কোন কারনে চাকুরী অবসান হয় এবং তার কোন বাৎসরিক ছুটি পাওনা থাকলে উক্ত ছুটির পরিবর্তে মজুরী দেওয়া হয়।

 প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাঃ
কোন প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা বিভাগে বে-আইনি ধর্মঘটের কারণে মালিক উক্ত শাখা বা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারেন এবং এরূপ বন্ধের ক্ষেত্রে ধর্মঘটে অংশগহণকারী শ্রমিকগণ কোন মজুরী পাবেন না।
তবে, এরূপ ধর্মঘটের জন্য অন্য শাখা ক্ষতিগ্রস্থ হলে উক্ত বিভাগও বন্ধ করে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে শ্রমিককে ৩ দিন পর্যন্ত লে-অফ এর ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমপরিমাণ মজুরী প্রদান করা হয়।

 মৃত শ্রমিকের অপরিশোধিত মজুরী পরিশোধঃ
মৃত্যুজনিত কারণে অথবা তার খোঁজ না পাওয়ার কারণে তার সকল পাওনা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কতৃক মনোনীত ব্যক্তিকে দেওয়া হয় তাকে না পওয়া গেলে শ্রম আদালতে জমা দেওয়া হয়।

 মৃত্যুকালীন সুবিধাঃ
যদি কোন শ্রমিক কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অন্ততঃ ৩ বৎসরের অধিককাল চাকুরীরত অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন, তাহলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা পোষ্যকে প্রত্যেক পূর্ণ বৎসর বা উহার ৬ মাসের অধিক সময় চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০ দিনের মজুরী প্রদান করা হয়।

 দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অধিকার (আহত শ্রমিকের)ঃ
আহত শ্রমিকের মজুরী যাই হোক না কেন কারখানায় কর্মরত অবস্থায় যদি কোন শ্রমিক দূর্ঘটনার শিকার হয়ে এবং তার যদি কোন অঙ্গহানী বা শারীরিক ক্ষতি হয় এবং এই ক্ষতি যদি স্থায়ী ধরনের হলে তিনি নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন।

 দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অধিকার (নিহত বা মৃত্যুবরণ)ঃ
নিহত শ্রমিকের মজুরী যাই হোক না কেন কারখানায় কর্মরত অবস্থায় যদি কোন শ্রমিক দূর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করে তাহলে ঐ শ্রমিকের উত্তরাধিকারী বা তার উপর নির্ভরশীলগণ নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবে।

সুবিধাদি (Benefit)

 মজুরী (Wages)ঃ
* সরকারী নিয়ম অনুসারে প্রত্যেক শ্রমিকের মাসিক ২০৮ ঘন্টা শ্রমকে তার মূল মজুরী হিসাবে ধরা হয়।
* বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত সর্ব-নিন্ম মজুরীর নিয়ম কাঠামো মেনে মজুরী প্রদান করা হয়।
মজুরীর পাঁচটি অংশঃ
ক) মূল মজুরী (টাকা);
খ) বাড়ি ভাড়া (মূল মজুরীর ৪০%);
গ) চিকিৎসা ভাতা ২৫০ টাকা;
ঘ) যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা ও
ঙ) খাদ্য ভাতা ৬৫০ টাকা।

 মজুরী (Wages)ঃ
মাসিক প্রদানঃ
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিদেরকে পরবর্তী মাসের ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে মজুরী এবং ওভারটাইমের টাকা একসাথে প্রদান করা হয়।
মজুরী বৃদ্ধি (Increment)ঃ এক বছর চাকরী পূর্ণ হলে পরবর্তী বছর প্রত্যেক শ্রমিককের নূন্যতম ৫% মজুরী বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা আছে যা তাদের জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে করা হয়।
মজুরী প্রদানের রশিদঃ
_________________________ কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক মাসের মজুরী প্রদানের পূর্বে সকল শ্রমিকদের পে-স্লিপে প্রদান করে থাকে।

 কার্যঘন্টা (Working Hours)ঃ
* সাধারন কর্মঘন্টাঃ দৈনিক সকাল ৮.০০ টা থেকে ৫.০০ টা পর্যন্ত।
* অতিরিক্ত কাজের সময়ঃ বিকাল ৫.০০ টা থেকে ৭.০০ টা পর্যন্ত (যা স্বেচ্ছাধীন)।
* শিফ্টিং ডিউটির ক্ষেত্রে সকাল ০৮:০০ ঘটিকা থেকে সন্ধ্যা ০৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা ০৮:০০ ঘটিকা থেকে সকাল ০৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত।
সাপ্তাহিক কাজের সময়ঃ
দৈনিক ৮ ঘন্টা + ওভারটাইম ২ ঘন্টা। সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা + ওভারটাইম ১২ ঘন্টা সপ্তাহে ওভার টাইমসহ সর্বোচ্চ মোট ৬০ ঘন্টা এবং বৎসরে গড়ে ৫৬ ঘন্টা।

 বিশ্রাম (Rest)ঃ
প্রতি কর্ম দিবসে দুপুর ১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন ভোজের ও বিশ্রামের জন্য বিরতি দেয়া হয়।

 অতিরিক্ত কাজ (Over Time)ঃ
কোন শ্রমিক দৈনিক নির্ধারিত ৮ ঘন্টার পর অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য করা হয়। সর্বমোট কার্যকাল ওভারটাইমসহ দৈনিক ১০ ঘন্টা এবং সপ্তাহে ৬০ ঘন্টা এবং তা বৎসরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫৬ ঘন্টা। ওভারটাইম সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। নির্ধারিত কাজের সময়ের পরে ওভারটাইম কাজের ক্ষেত্রে কেউ কাজ করতে না চাইলে তাকে ছুটি প্রদান করা হয়।
ওভারটাইম হারঃ অতিরিক্ত কাজের জন্য একজন শ্রমিকের প্রাপ্য মূল মজুরীর দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম হিসাব করা হয়।
ওভার টাইম নির্নয়ের সূত্রঃ মূল মজুরী  ২০৮  ২  অতিরিক্ত কর্মঘন্টা।
পিস রেট শ্রমিকের ক্ষেত্রেঃ মোট মজুরী  ২০৮  অতিরিক্ত কর্মঘন্টা।

 ছুটি (Leave)
সাপ্তাহিক ছুটি (Weekly Holiday)ঃ প্রত্যেক শ্রমিককে সপ্তাহে ১ (এক) দিন (প্রতি শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান করা হয়। জরুরী প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে খোলা রাখা হয়, তবে সেক্ষেত্রে যথাশীঘ্র সম্ভব বিকল্প ছুটি প্রদান করা হয়।

মজুরীসহ বার্ষিক বা অর্জিত ছুটি (Earn Leave)ঃ কারখানায় কোন শ্রমিক অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরীর মেয়াদ এক বছর পূর্ণ করলে তিনি পরবর্তী বার মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বার মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ প্রতি ১৮ (আঠার) দিনে একদিন ছুটি অর্জন করবেন। যদি বার মাসের মধ্যে আংশিক বা সম্পূর্ণ ছুটি ভোগ না করে থাকেন, তবে পরবর্তী বার মাসের পাওনা ছুটির সঙ্গে তা যোগ হয়। এই অর্জিত ছুটির পরিমাণ ৪০ (চল্লিশ) দিন পর্যন্ত জমা হয়। প্রত্যেক শ্রমিককে বছরে অন্ততঃ ১১ (এগার) দিন পর্ব উপলক্ষ্যে মজুরীসহ ছুটি মঞ্জুর করা হয়। অনুরূপ পর্বের দিন ও তারিখ কারখানার কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেন এবং তা নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)ঃ প্রত্যেক শ্রমিক বছরে পূর্ণ মজুরীসহ ১০ (দশ) দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

অসুস্থতার ছুটি (Sick Leave)ঃ প্রত্যেক শ্রমিক বছরে পূর্ণ মজুরীসহ ১৪ দিন অসুস্থতার ছুটি ভোগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, প্রাপ্য নৈমিত্তিক ও অসুস্থতার ছুটি জমা রেখে পরবর্তী বছরে ভোগ করা যায় না।

মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave)ঃ কোন মহিলা শ্রমিক যিনি ছয় (৬) মাস কাজ করবেন তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন। মাতৃত্বকালীন ছুটির মোট সময় ১৬ সপ্তাহ (১১২ দিন), যা দুই ভাগে ভোগ করা হয়। সন্তান প্রসবের পূর্বে ৮ সপ্তাহ ও সন্তান প্রসবের পরে ৮ সপ্তাহ এই মোট ১৬ সপ্তাহ পূর্ণ বেতনে ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সন্তান প্রসবের পূর্বে ৮ সপ্তাহের টাকা এবং সন্তান প্রসবের পরে অবশিষ্ট ৮ সপ্তাহের টাকা প্রদান করা হয়।

 নিয়োগ কার্যকরী কাল (Probation Period)ঃ
চাকরীতে যোগদানের তারিখ থেকে প্রত্যেক শ্রমিকেরই ৩ (তিন) মাস অবেক্ষকাল (Probation Period) হিসেবে গণ্য হবে। অবেক্ষকাল চলাকালে কর্তৃপক্ষ বিনা কারণে ও কোন রকম নোটিশ ছাড়া যে কোন শ্রমিককে চাকরী হতে অব্যাহতি দিতে পারবেন। অবেক্ষকাল এবং শিক্ষানবীসকাল শেষ হওয়ার পর একজন শ্রমিক স্বাভাবিকভাবে স্থায়ী শ্রমিকে পরিণত হবেন, যদি কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে তার অবেক্ষকালের সময় বৃদ্ধি না করেন।

কল্যাণমূলক ব্যবস্থাদি (Welfare Activities)

 মেডিকেয়ার সেন্টারঃ
শ্রমিকদের স্বাস্থ্য-সেবা ও কর্মকালীন র্দূঘটনার তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান করার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে নিজস্ব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র বা হেল্থকেয়ার (মেডিকেল) সেন্টার। হেল্থকেয়ার সেন্টারের দায়িত্বে আছেন একজন অভিজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার। হেল্থকেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে সারা বছর শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা-সুবিধা প্রদান করা হয়। এছাড়াও কার্যকালীন অবস্থায় আহতদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যয়ভার কোম্পানী বহন করে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়েই সমান অধিকার প্রাপ্য।

 শিশু পালন কেন্দ্র (Day Care Centre)ঃ
কর্মজীবি মায়েদের জন্য তাদের ৬ বছরের কম বয়সী সন্তানদের লালন-পালনের জন্য রয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টারের সুবিধা। এই সেন্টারে বাচ্চাদের বিভিন্ন রকমের খেলনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করা হয়। শিশুদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যাপারে কোম্পানীর ডাক্তার সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 উৎসব বোনাস (Festival Bonus)ঃ
যে সকল শ্রমিক-কর্মচারী যাদের চাকুরী ন্যুনতম চাকুরীর বয়স ১ বছর পূর্ণ করিয়াছেন তাদেরকে বছরে দুই ঈদে দুটি উৎসব বোনাস প্রদান করা হয়।

 ট্রেণিং (Training)ঃ
প্রত্যেক শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। এ জন্য এখানে শুরু করা হয়েছে সারা বছর ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচী। সকলকে সচেতন, মানসিক উন্নয়ণ, কাজে অধিতর দক্ষ ও গতিশীল, কোম্পানীর প্রতি একাত্মবোধ সৃষ্টি করাই ট্রেণিং এর মূল উদ্দেশ্য। ট্রেণিং কর্মসূচীতে প্রথমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সকল সুপারভাইজার, ইনচার্জ ও ম্যানেজারদের। যারা পরবর্তীতে প্রশিক্ষিত করেন তাদের তদারকিতে থাকা শ্রমিকগণকে এবং পরবর্তীতে উক্ত শ্রমিকগণকে আবার মূল প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকদেরকে যে সকল বিষয়গুলো সম্বন্ধে অবগত করা হয় তা হলোঃ
* দেশীয় আইন ও কর্মস্থল সংক্রান্ত বিধি নিষেধ, * শিশু শ্রম;
* কার্মঘন্টা; * জোরপূর্বক শ্রম বা কাজ;
* বৈষম্য, হয়রানী ও নির্যাতন, * পেশাগত দায়িত্ববোধ;
* পেশাগত নিরাপত্তা; * অগ্নি নিরাপত্তা;
* হাউস কিপিং; * ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গুরুত্ব;
* মজুরী ও ওভারটাইম; * চাকুরী হতে অব্যাহতি ও বরখাস্ত;
* অভিযোগ পদ্ধতি ও পরামর্শ, * সকল প্রকার ছুটি;
* ক্যান্টিন/খাবারের ব্যবহার বিধি।

 প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনান্য (First Aid and others)ঃ
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) এবং শ্রম বিধি ২০১৫ অনুযায়ী কারখানার প্রতিটি বিভাগে আছে প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দেওয়া আছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিটি ব বাক্সের জন্য ২ (দুই) জন প্রশিক্ষিত প্রাথমিক চিকিৎস নিয়োজিত আছেন।

 ডাইনিং হল বা খাবার কক্ষঃ
ফ্যাক্টরীতে কর্মরত সকলের জন্য ফ্যাক্টরীর অভ্যন্তরে এক সাথে ৩০০ জনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ডাইনিং হল বা খাবার কক্ষ রয়েছে।

 বাধ্যতামূলক গ্রুপ বীমা সুবিধাদিঃ
ফ্যাক্টরীতে নিয়োগের পর প্রতিটি শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের গ্রুপ বীমার আওতায় আনা হয়ে থাকে।

 অনান্য (Others)ঃ
* প্রত্যেক শ্রমিককে কোম্পানীর নিজস্ব খরচে পরিচয় পত্র প্রদান করা হয়;
* শ্রমিকদের নিরাপদ পানি পান করার জন্য কর্মস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে;
* কারখানার পুরুষ ও মহিলা শ্রমিকদের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক পর্যাপ্ত পরিমাণ টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে;
* প্রত্যেক শ্রমিককে হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য ইলেকট্রনিক ফেস পাঞ্চ কার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। যার মাধ্যমে কারখানায় আসা-যাওয়া এবং ওভারটাইমের সময় রেকর্ড করা হয়;
* যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর নীতি অবলম্বন করা হয়।

লক্ষ্যঃ ভবিষৎ এ যদি বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে শ্রমিকের ক্ষতিপূরন বা সুযোগ সুবিধা বর্ধিত হয় তাহলে তা মানতে __________________ কর্তৃপক্ষ সর্বদায় নিয়োজিত থাকিবে ।

উপসংহারঃ উক্ত নীতিমালা ____________________ কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে পালন করে থাকে এবং উক্ত নীতিমালার উপর কারখানার সকল পরিচালকবর্গ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদেরকে অবহিত করা হয়ে থাকে।



rmg

13/03/2023

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬
( ২০০৬ সনের ৪২ নং আইন )
[ ১১ অক্টোবর ২০০৬ ]
দ্বাদশ অধ্যায়

দুর্ঘটনাজনিত কারণে জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ

ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য মালিকের দায়িত্ব১৫০। (১) চাকুরী চলাকালে উহা হইতে উদ্ভূত দুর্ঘটনার ফলে যদি কোন শ্রমিক শরীরে জখমপ্রাপ্ত হন তাহা হইলে মালিক তাহাকে এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী ৰতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিবেন।

(২) কোন মালিক উক্তরূপ ৰতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকিবেন না, যদি-

(ক) জখমের ফলে তিন দিনের অধিক সময় কোন শ্রমিক সম্পূর্ণ বা আংশিক কর্মৰমতা না হারান;

(খ) জখমের ফলে মারা যান নাই এরূপ কোন শ্রমিকের দুর্ঘটনায় জখম প্রাপ্ত হওয়ার প্রত্যৰ কারণ ছিল-

(১) দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকের মদ্যপান বা মাদক দ্রব্য সেবনের ফলে উহার প্রভাবাধীন থাকা;

(২) শ্রমিকগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত বিধি বা সুষ্পষ্ট আদেশ শ্রমিক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা;

(৩) শ্রমিকগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা করা হইয়াছে ইহা জানা সত্ত্বেও শ্রমিক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে কোন আঘাত নিরোধক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা অন্য কোন কৌশল অপসারণ করা বা উপেৰা করা।

(৩) যদি-

(ক) তৃতীয় তফসিলের "ক" অংশে বর্ণিত কোন চাকুরীতে নিযুক্ত কোন শ্রমিক উহাতে উক্তরূপ চাকুরী সম্পর্কিত বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি বলিয়া উলিস্নখিত কোন ব্যাধিতে আক্রানত্দ হন, অথবা

(খ) কোন শ্রমিক অবিচ্ছিন্নভাবে কোন মালিকের অধীন অনূ্যন ছয় মাস তৃতীয় তফসিলের "খ" খন্ডে বর্ণিত কোন চাকুরীতে নিযুক্ত থাকাকালে উক্ত তফসিলে উক্তরূপ চাকুরী সম্পর্কে বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি বলিয়া উলিস্নখিত কোন ব্যাধিতে আক্রানত্দ হন,

তাহা হইলে উক্তরূপ ব্যাধিতে আক্রানত্দ হওয়া এই ধারার অধীন কোন দুর্ঘটনার ফলে জখম বলিয়া গণ্য হইবে এবং, যদি না মালিক ইহার বিপরীত কিছু প্রমাণ করেন, দুর্ঘটনাটি চাকুরী চলাকালে উহা হইতে উদ্ভূত বলিয়া গণ্য হইবে।

ব্যাখ্যাঃ এই উপ-ধারার প্রয়োজনে, কোন চাকুরীকাল অবিচ্ছিন্ন বলিয়া গণ্য হইবে যদি উহার সহিত অন্য কোন মালিকের অধীন একই প্রকার কোন চাকুরী যুক্ত না থাকে।

(৪) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তৃতীয় তফসিলে উলিস্নখিত চাকুরীর সহিত অন্য কোন প্রকারের চাকুরীও যোগ করিতে পারিবে এবং এরূপ ৰেত্রে উক্ত চাকুরী সম্পর্কিত বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি কি হইবে তাহাও সুনির্দিষ্টভাবে উলেস্নখ করিবে, এবং তৎপর উপ-ধারা (৩) এর বিধান এরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন এই অধ্যায় দ্বারা উক্ত ব্যাধি উক্ত চাকুরী সম্পর্কে বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে।

(৫) উপ-ধারা (৩) এবং (৪) এর ৰেত্র ব্যতীত অন্য ৰেত্রে, কোন ব্যাধি সম্পর্কে কোন শ্রমিককে কোন ৰতিপূরণ প্রদেয় হইবে না যদি না উক্ত ব্যাধি প্রত্যৰভাবে সংশিস্নষ্ট শ্রমিকের চাকুরী চলাকালে উহা হইতে উদ্ভূত কোন দুর্ঘটনায় জখমের কারণে হয়।

(৬) এখানে উলিস্নখিত কোন কিছুই কোন শ্রমিকের জখম সম্পর্কে কোন ৰতিপূরণ পাওয়ার অধিকার প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া বুঝাইবে না যদি তিনি মালিকের অথবা অন্য কোন ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে উক্ত জখমের ৰতিপূরণের জন্য দেওয়ানী আদালতে কোন মোকদ্দমা দায়ের করিয়া থাকেন।

(৭) কোন আদালতে উক্ত জখম সম্পর্কে শ্রমিক কর্তৃক কোন ৰতিপূরণ মামলা দায়ের করা যাইবে না, যদি-

(ক) তিনি শ্রম আদালতে উক্ত জখমের জন্য ৰতিপূরণের দাবী করিয়া দরখাসত্দ পেশ করিয়া থাকেন; অথবা

(খ) তাহার এবং তাহার মালিকের মধ্যে এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী উক্ত জখম সম্পর্কে ৰতিপূরণ প্রদানের জন্য কোন চুক্তি হইয়া থাকে।

(৮) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে, "শ্রমিক" বলিতে মালিক কর্তৃক সরাসরি অথবা ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত এমন ব্যক্তিকে বুঝাইবে, যিনি-

(ক) রেলওয়ে আইন, ১৮৯০ (১৮৯০ সনের ৯নং আইন) এর ধারা ৩ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী একজন রেল কর্মচারী (যিনি রেলওয়ের কোন প্রশাসনিক, জেলা বা উপজেলা অফিসে কোন স্থায়ী পদে নিযুক্ত নহেন, এবং চতুর্থ তফসিলে উলিস্নখিত কোন পদেও নিযুক্ত নহেন) অথবা

(খ) চতুর্থ তফসিলে উলিস্নখিত কোন পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি;

তাহার চাকুরীর চুক্তি লিখিত হউক বা অলিখিত হউক, স্পষ্ট হউক বা অস্পষ্ট হউক, এবং কোন জখম প্রাপ্ত শ্রমিকের উলেস্নখের ৰেত্রে, তিনি মারা গেলে তাহার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিগণ অথবা তাহাদের যে কোন একজনও উহার অনত্দর্ভুক্ত হইবেন।

ব্যাখ্যাঃ এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে, কোন স্থানীয় কর্তৃপৰ অথবা সরকারের পৰে কোন বিভাগের কোন ৰমতা প্রয়োগ বা কর্তব্য সম্পাদনকে, যদি না কোন ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়, উক্ত কর্তৃপৰ বা বিভাগ এর ব্যবসা বা বাণিজ্য বলিয়া গণ্য হইবে

13/03/2023

আইনে শ্রমিকদের জন্যেও বলা রয়েছে অনেক কিছু। ছাঁটাই হলে শ্রমিককে এক মাস আগে জানাতে হবে। ঐ প্রতিষ্ঠানে প্রতি এক বছর চাকুরীর জন্য এক মাসের বেসিক বেতন পাবেন শ্রমিক। যেমন দশ বছর চাকুরী করলে সে দশ মাসের বেসিক বেতন পাবে।

13/03/2023

#চাকুরী থেকে ছাঁটাই ও বরখাস্ত: কি বলা আছে শ্রম আইনে?

৬ মার্চ ২০১৯
বাংলাদেশ পোশাক খাতে কাছাকাছি সময়ে বেতন নিয়ে আন্দোলন হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক খাতে কাছাকাছি সময়ে বেতন নিয়ে আন্দোলন হয়েছে।

বাংলাদেশে পোশাক খাতে গত দুই মাসে অন্তত সাড়ে সাত হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে দাবি করছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো।

বাংলাদেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে চাকুরী হারানো কোন ব্যাপারই নয়, এমন একটি অভিযোগ রয়েছে।

বলা হয় সামান্য একটু দোষে অথবা মালিকের পছন্দ অপছন্দের কারণে আপনার জীবিকা নাই হয়ে যেতে পারে।

কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী হিসেবেও নানা কারণে আপনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।

জেনে নিন শ্রমিক ও কর্মীদের চাকুরিচ্যুত করা প্রসঙ্গে কি বলা আছে বাংলাদেশের আইনে, বাস্তবতা কি আর বিচারে কোথায় যাবেন।

বরখাস্ত, ছাঁটাই, চাকুরীর অবসান

শ্রম আদালতের বার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট একেএম নাসিম বলছিলেন পৃথিবীর সব দেশেই ছাঁটাই, বরখাস্ত, চাকুরিচ্যুতি সম্পর্কে নানা ধরনের নিয়ম আছে। বাংলাদেশে এই সবগুলোর আলাদা ব্যাখ্যা আছে।

বাংলাদেশে শ্রম আইন ২০০৬-এর চ্যাপ্টার দুইতে এ সম্পর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে আলাদা আলাদা নিয়মের উল্লেখ রয়েছে। এর সবগুলোর মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম তফাৎ।

শ্রম আইনে চাকুরিচ্যুতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নিয়ম করা আছে।

শ্রম আইনে চাকুরিচ্যুতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নিয়ম করা আছে।

অ্যাডভোকেট নাসিম বলছেন, "চাকুরী হারানোর সবচাইতে বড় শাস্তি ধরা হয় বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টিকে। কোন শ্রমিক যদি কোন ধরনের অন্যায়, অপরাধ, অসদাচরণ করে তাহলে এটা করা হয়ে থাকে। সে অন্যায় নানা রকম হতে পারে।"

"আরেকটি হল টার্মিনেশান বা চাকুরীর অবসান। সেটি হল কোনও মালিকের আপনাকে পছন্দ হচ্ছে না কিন্তু সে আপনাকে বরখাস্ত করার কোন কারণ দিতে পারছে না। সেটিকে বলা হয় টার্মিনেশান।"

ছাঁটাই সম্পর্কে অ্যাডভোকেট নাসিম ব্যাখ্যা করে বলছিলেন, "ছাঁটাই হল যেমন ধরুন কোন মালিকের একশ জন শ্রমিক আছে। তিনি যদি মনে করছেন তার একশ জন শ্রমিকের মধ্যে দশজনকে দরকার নেই। অথবা তিনি তাদের বেতন দিয়ে কর্মী হিসেবে রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। তাহলে তিনি সবচাইতে পরের দিকে নিয়োগ দেয়া দশজন কর্মীকে ছাঁটাই করতে পারেন। এটিকে বলে রিডানডেনসি"

প্রাতিষ্ঠানিক খাতে সুরক্ষা কম?

অ্যাডভোকেট নাসিম বলছেন শ্রমিক কারা হবেন আর কর্মী কারা হবেন তারও ব্যাখ্যা দেয়া আছে।

কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে শ্রমিক ও কর্মী নির্ধারিত হয়।

কর্মীরা সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক খাতে অফিস আদালতে কাজ করেন বলে মনে করা হয়।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যালয়েও শ্রমিক থাকতে পারেন। শ্রম আইন শুধু শ্রমিকদের ক্ষেত্রেই কাজে আসবে।

আরো পড়ুন:

পোশাক শিল্পে যৌন হয়রানি: 'ওরা গায়ে হাত দেয়'

পোশাক শিল্পে যৌন হয়রানি: 'ওরা গায়ে হাত দেয়'

‘ওরা বলছিল 'হামিল', কিন্তু আমি বুঝি নাই'

তিনি বলছেন, চাকুরী হারানোর ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের যারা কর্মী তাদের সুরক্ষা সবচাইতে কম।

চাকুরীতে নিয়োগের সময় চাকুরী-দাতার সাথে চুক্তিতে কতটা দর-কষাকষি আপনি করতে পেরেছেন তার উপর নির্ভর করবে চাকুরী চলে গেলে আপনি কতটা সুবিধা পাবেন বা চাকুরী যাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন গুলো কি হবে।

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে প্রচুর শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে প্রচুর শ্রমিক ছাঁটাই করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সাধারণত এসব ক্ষেত্রে নানা অফিসে নিয়ম আলাদা।

মি. মোল্লা বলছেন, বাংলাদেশে এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন আইন করা হয়নি।

তাদের সুরক্ষাও কম। সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কিছু নিয়ম আছে।

তবে বিশ্বব্যাপী একটি নিয়ম হল এক মাসের নোটিশ দিতে। সেটি মানেন প্রায় সবাই।

বরখাস্ত, ছাঁটাই, চাকুরীর অবসানের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী কি ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন সেটিও নির্ভর করে চাকুরী-দাতার সাথে চুক্তির উপর।

এই ব্যাপারেও বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোন আইন নেই।

চাকুরী হারানো শ্রমিকের যেসব সুবিধা প্রাপ্য

আইনে শ্রমিকদের জন্যেও বলা রয়েছে অনেক কিছু। ছাঁটাই হলে শ্রমিককে এক মাস আগে জানাতে হবে।

ঐ প্রতিষ্ঠানে প্রতি এক বছর চাকুরীর জন্য এক মাসের বেসিক বেতন পাবেন শ্রমিক।

যেমন দশ বছর চাকুরী করলে সে দশ মাসের বেসিক বেতন পাবে। ক্ষেত্র বিশেষে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ক্ষতিপূরণও পেতে পারেন।

তবে বরখাস্ত হওয়া শ্রমিক কোন ধরনের বেতন ভাতা ছাড়াই চাকুরী হারাবেন।

কিন্তু তাকে বরখাস্তের আগে কারণ দর্শাও নোটিস করতে হবে, অন্যায়ের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে, তদন্তে শুধু মালিকের পছন্দের ব্যক্তি নয় শ্রমিক পক্ষের ব্যক্তিও থাকতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের নিয়োগ চুক্তির উপর নির্ভর করে তিনি কি সুবিধা পাবেন।

প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের নিয়োগ চুক্তির উপর নির্ভর করে তিনি কি সুবিধা পাবেন।

সেই সাথে শ্রমিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এরপর যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয় তবেই তাকে বরখাস্ত করা যাবে।

চাকুরীর অবসান বা টার্মিনেশান হলে শ্রমিককে অন্তত চার মাস আগে জানাতে হবে।

অথবা মালিক কোন নোটিশ ছাড়াই যদি তাকে চলে যেতে বলেন তাহলে তাকে চারমাসের বেতন দিতে হবে।

বাস্তবতা কেমন?

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের পরামর্শক আবু ইউসুফ মোল্লা বলছেন, "যেমন পোশাক খাতে বরখাস্ত না করে ছাঁটাই করা হয় বেশি। টার্মিনেশান ক্লজটাও তারা ব্যবহার করেন। তবে ছাঁটাই করার প্রবণতাই বেশি। এতে কম বেনিফিট দিতে হয়। আবার শ্রমিক এটিকে আইনত কোন চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। আর এসব তারা আইনজীবীদের পরামর্শেই করে থাকেন।"

তিনি বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপত্রের বালাই নেই সেখানে মৌখিক কথাতেই চাকুরিচ্যুতি হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক খাতে সকল প্রতিষ্ঠানই আইনি বিষয়ে পরামর্শক নিয়োগ করে থাকে।

মি. মোল্লা বলছেন, "পোশাক খাতে আজকাল তারা বরখাস্ত করার দরকার পরলে তদন্ত করে। আগের মতো এক পাক্ষিক তদন্তও হয়না। কমপ্লায়ান্সের কারণে তাদের এটা করতে হয়।"

অন্যায় হলে কোথায় যাবেন?

বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে সাতটি শ্রম আদালত রয়েছে।

আপনি যদি মনে করেন আপনার সাথে অন্যায় হয়েছে তাহলে সেখানে আপনি মামলা করতে পারেন।

তবে বাংলাদেশে এই আদালতগুলোতে অভিযোগ মীমাংসা হতে এতটাই সময় লাগে এবং যে পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হয় তাতে শ্রমিক পর্যায়ের একজন ব্যক্তি সেখানে যাননা।

অথবা তারা এমন আদালত বিষয়ে কিছু জানেনই না। তবে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারি একটি সেল রয়েছে।

কিন্তু তার কার্যক্রম বাস্তবে খুবই সীমিত।

আর প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মী পর্যায়ে যারা আছেন তাদের জন্য বিচার পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশে সীমিত।

সূত্র:- BBC NEWS বাংলা

Address

Gazipur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when GSKF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category