15/09/2026
মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল বড় মাথাব্যথ্যা হতে চলেছে। দূর্ভিক্ষ এবং চুড়ান্ত অর্থনৈতিক মন্দার জন্য কি প্রস্তুতি রাখা উচিত?
হুথিরা ইয়েমেনের অনেক বড় স্ট্র্যাটেজিক যায়গার দখল নিয়ে ফেলেছে। সৌদির সবচেয়ে বিগেস্ট ট্রেড রুট বাব এল মান্দেব এখন হুথিদের প্রায় নিয়ন্ত্রণে।
ছবিটা সৌদির ইস্ট ওয়েস্ট পাইপলাইন, এইখানে হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়ে সম্পুর্ন ধংস করে ফেলেছে।
১২০০ কিমি দৈর্ঘের এই পাইপ বিশ্বের মোট তেল সাপ্লাই এর প্রায় ৫% সরবারাহ করতো। যা প্রায় ৪-৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল।
তেলের বিষয়ে পরে আসি। এইটা কিন্তু সৌদির একটা অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ছিলো। সেইটা প্রায় ভেঙে দেয়ার মত অবস্থা। সৌদির অর্থনীতি না চললে ওরা শ্রমিকদের বেতন দেবে কই থেকে?
মেইন কথা বিশাল সম্ভাবনা আছে আমাদের লেবার ফোর্স যারা আছে গণহারে হয়তো তাদের একসময় বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।
আমাদের প্রায় ৬৫% এর বেশি প্রবাসী ওয়ার্কার মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে।
আরব আমিরাত অলরেডি ৪,৮০০ বাংলাদেশীর ভিসা বাতিল করেছে।
এখন যদি এই অবস্থায় সৌদি যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনীতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় আমাদের শ্রমিক ফেরত পাঠানো শুরু করে অবস্থা কোন যায়গায় পৌছাবে চিন্তা করছেন?
এইযে আমরা বলিনা রিজার্ভ এত বিলিয়ন এত বিলিয়ন। এইগুলা সম্পুর্ন রেমিট্যান্স এর টাকা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দিয়ে আমরা তেল গ্যাস কিনি, বিদ্যুৎ উৎপাদন করি, খাবার আমদানি করি।
এদের যদি ফেরত পাঠায়, আমরা ডলার পাব কই থেকে? অতি জরুরি খাদ্যপন্য আমদানিও চুড়ান্ত ক্রাইসিসে চলে যাবে, তেল গ্যাস অনেক দুরের বিষয়।
আর এইটা কার দোষ জানেন? সম্পুর্ন আমাদের। আমাদের নিজের হাতের কামাই করা ক্রাইসিস।
আজকে দেখেন আমাদের রপ্তানি আয় কত? আমাদের রপ্তানি আয় আছে কোনো? যে ডলার আয় করবো আমরা?
আমরা আছি এক বিদেশ গিয়ে লেবার দেয়া, মানুষের বাথরুম সাফ করা, আর ভিক্ষা করে ডলার নিয়ে আসা।
আজকে দেখেন -
বাংলাদেশের জিডিপি - ৫১০ বিলিয়ন ডলার।
ভিয়েতনামের জিডিপি - ৫২৭ বিলিয়ন ডলার।
সেইখানে আমাদের রপ্তানি আয় আর ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় শুনলে আপনার চক্ষু কপালে উঠবে।
বাংলাদেশের রপ্তানি - ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
ভিয়েতনামের রপ্তানি - ৪৭৩ বিলিয়ন ডলার।
জিডিপি প্রায় একই হওয়া সত্ত্বেও ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে ১০ গুণ বেশি রপ্তানি করে। ১০ গুণ বেশি ডলার ইনকাম করে।
কারণ কি? আমরা কামলা, আমরা শ্রমিক। কামলা দিয়ে রিজার্ভ ফুল করি আমরা।
আর ভিয়েতনাম? ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, ম্যাসিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনীতি, প্রযুক্তিভিত্তিক গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কৃষি কোথায় নাই তারা?
স্বাধীনতার ৫০ বছর কবেই পার হয়ে গেছে। আজকে দেশে কোনো কলকারখানা আছে? বাস্তবেই রে ভাই ২০-২৫ কোটি মানুষের এই দেশে কয়টা কারখানা চোখে দেখেছেন বলতে পারবেন?
দেশে কোনো ম্যানুফ্যাকচারিং আছে? নাই, সব বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশী এডুকেশন সিস্টেমের যে দশা একটা দেশীয় ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা কোনো প্রজেক্ট করা যায়না, বিদেশী কোম্পানি, বিদেশী ইঞ্জিনিয়ার লাগবেই।
দেশের তেল গ্যাস কয়লা থোরিয়াম সিলিকন এসবের যে মজুদ আছে, কখনো কাজ হইছে? কোনো কাজ হয়নাই।
সোলার? সোলার নিয়েও খুব বেশি কাজ হয়নাই আজকে এত যুগের পর যুগ কেটে গেছে।
আজকেই যদি আমাদের রিজার্ভ ফাকা হয়, তেল গ্যাস সব আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, সামান্য ফোন চার্জ করার ইলেকট্রিসিটি কই থেকে পাবেন হিসাব করছেন?
কিছুই নাই আমাদের ভাই এইরকম ভয়াবহ বিশ্বে একদিন সার্ভাইভ করার মত। না আছে মিলিটারি, না আছে ইকোনমি, না আছে ফ্যাক্টরি, না আছে ম্যানুফ্যাকচারিং।
আমাদের খালি আছে দালাল, আর লিবিয়া দিয়ে ইউরোপে ঢুকে বিদেশীদের কামলা দেও, বাথরুম পরিস্কার করো আর রেসিস্ট গালি শোনো সারাদিন।
সৌদিতে তো আমাদের মহিলা কর্মীদের দাসী গণ্য করে তাদের সাথে কি নিকৃষ্ট কাজ হয় আশাকরি জানেন?
ইয়েস, এভাবেই ডলার কামাই আমরা প্রবাসী কামলা দিয়ে। এভাবেই এই ডলার দিয়ে তেল গ্যাস আর খাদ্য কিনে টিকে আছি কোনোমতে।
আর ওদিকে দেখেন ভিয়েতনাম। একটা দেশ আমেরিকার সাথে ১৯ বছর টানা যুদ্ধ করেছে। ৮ বছর সরাসরি মিলিটারি কনফ্রন্টেশন একটা নিউক্লিয়ার সুপার পাওয়ারের সাথে।
তারপর? তাও তাদের মিডিল ইস্টে শেখদের বাথরুম সাফ করার জন্য, আর কামলা দেয়ার জন্য যাইতে হয়নাই।
তাদের সেমিকন্ডাক্টর আছে, টেক্সটাইল আছে, হ্যাই ভ্যালু কৃষি আছে।
৪৭৩ বিলিয়ন ডলার জাস্ট রপ্তানিই করে তারা৷ এই ৪৭৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের জন্য তাদের কোনো শেখের কামলা দিতে হয়নাই।
কি একটা দেশে থাকিরে ভাই কোনো কলকারখানা নাই, চাকরি নাই, কোনো ভালো কাজ নাই, শিক্ষা নাই। সারাজীবন কি এভাবেই কামলাই দিতে হবে?
আমি এই খবর নিয়ে আতঙ্কিত। তেলের ব্যারেল ১০৭ ডলারে পৌছায় গেছে। সৌদির অর্থনীতি প্রায় চাঙ্গে উঠবে যদি হুথিরা আরও কয়েকটা ড্রোন শট নেয় জাস্ট।
আমি ভাবছি মধ্যপ্রাচ্য থেকে যদি আমাদের গণহারে শ্রমিক ফেরত আসে, দেশের অর্থনীতি কই যাবে, বেকারত্ব কই যাবে, খাবার দাবার, বিদ্যুৎ, সার, কৃষি এসবের কি হবে?
কি চরম অনিশ্চয়তা!!
Ahnaf Tahmid Arjon