27/12/2025
নতুন ঘটনার ভিড়ে আজকাল একটা ভয় কাজ করে: আমরা কি ওসমান হাদীকে ভুলে যেতে বসেছি?
আমি জানি, “ভুলে যাওয়া” অনেক সময় ইচ্ছা করে হয় না। জীবন আমাদের টেনে নিয়ে যায়। প্রতিদিনের টেনশন, নতুন নতুন খবর, নতুন ক্ষোভ, নতুন শোক। স্ক্রল করতে করতে চোখ ক্লান্ত হয়, মনও ক্লান্ত হয়। কিন্তু হাদীর কথা মনে পড়লে একটা কথা খুব পরিষ্কার লাগে: কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়াটা শুধু স্মৃতির ব্যর্থতা না, এটা আমাদের ভেতরের সাহসটা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার নাম।
ওসমান হাদী আমার কাছে একদিনের শিরোনাম না।
তিনি একটা অনুভূতি। একটা জেদ। একটা নীরব শপথ।
যেটা বুকের ভেতর চুপচাপ থাকে, কিন্তু দরকারের সময় মাথা উঁচু রাখতে শেখায়।
আপনি লক্ষ্য করেছেন? কিছু মানুষ চলে যাওয়ার পর তাদের নামটা কেমন নীরব হয়ে যায়। চারদিকে শব্দ থাকে, কিন্তু নামটা শোনা যায় কম। তবু রাতে, একা সময়ে, কোনো এক অন্যায় দেখে হঠাৎ মনে পড়ে যায়। কারণ তারা আমাদের ভিতরটা নাড়িয়ে দিয়ে যায়। হাদীও তেমনই। তাকে মনে পড়া মানে শুধু তাকে মনে পড়া না, নিজের ভেতরের মানুষটাকেও একটু জাগিয়ে তোলা।
নতুন ঘটনার ঢেউ তো আসবেই। কিন্তু ঢেউ আসে বলে কি আগের আগুন নিভে যায়? যে কষ্টটা আমরা সত্যি অনুভব করি, সেটা “পুরোনো পোস্ট” হয়ে যায় না। শুধু আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি, আর ব্যস্ততার আড়ালে অনেক সময় আমাদের ভালোবাসাটাও লুকিয়ে থাকে।
হাদীকে মানুষ ভুলে যাবে কি না, সেটা আসলে সময় ঠিক করবে না। আমরা ঠিক করব।।আমরা তাঁকে শুধু কয়েকটা পোস্টে রেখে দেব, নাকি নিজের ভেতরে জায়গা দেব?
আমি বিশ্বাস করি, হাদীকে মনে রাখা মানে বড় বড় কথা বলা না। মনে রাখা মানে ছোট ছোট জায়গায় সোজা থাকা।
অন্যায় দেখলে “চুপ থাকি” না বলে, অন্তত নিজের ভেতরে একটা ‘না’ বলা। সত্যকে সুবিধামতো মোড় না দেওয়া। ভয়কে অজুহাত বানিয়ে নরম হয়ে না যাওয়া।
আর সবচেয়ে বড় কথা, হাদীর মতো মানুষকে নিয়ে “ট্রেন্ড শেষ” বলা যায় না। কারণ তিনি ট্রেন্ড না, তিনি অন্তরের একটা দাগ।
যে দাগ বিবেকে পড়ে, সেটা সময় মুছতে পারে না।
হয়তো ইস্যুর ভিড়ে আমরা তার নাম কম বলছি। কিন্তু যারা সত্যি করে ভালোবাসে, তারা জানে হাদীর জায়গা নিউজফিডে না, হাদীর জায়গা মানুষের বুকের ভেতর।
ওসমান হাদী যদি আমাদের ভেতরে একটা প্রশ্ন রেখে গিয়ে থাকেন, তাহলে সেই প্রশ্ন যতদিন বাঁচবে, হাদীও ততদিন বাঁচবেন।
NouMuslim Muhammad Raj