30/05/2026
মাঝেমধ্যে ভাবি, আল্লাহ কেন কুকুর সৃষ্টি করলেন? কুকুর খাওয়া যায় না, বিনা কারণে পালাও নিষেধ। নামাযের সামনে দিয়ে গেলে নামায ভেঙে যায়। খাবার পাত্রে মুখ দিলে সাত সাতবার ধুতে হয়। শেষে মাটি দিয়ে আবারও ঘষতে হয়। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করা যায় না। মাংস-দুধ খাওয়া যায় না। এরপরও আল্লাহ কেন কুকুর সৃষ্টি করলেন?
আল্লাহর কোন সৃষ্টিই হিকমতের বাইরে নয়। আমরা দেখি আসহাবে কাহফের সঙ্গী হয়েছে একটি কুকুর। একটি তেজস্বী কালো ঘোড়া, বলবান মহিষ কিংবা বনের রাজা সিংহও তো তাঁদের সঙ্গী হতে পারতো। হলো না। কেন?
সম্প্রতি জনাব সাদেক মিয়ানমারের একটি গ্রাম থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তার সাথের পোষা কুকুরটিও না খেয়ে দীর্ঘ পথ মাড়িয়ে এসেছে।
বার্মার বর্বর সৈন্যরা যখন তাদের আক্রমন করে, সাদেকের পাহারাদার কুকুরটি তেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু গুলির সামনে একটি কুকুর কিই বা করতে পারে। নাফ নদীর পারে তারা পাঁচদিন বসে ছিল। এতটুকু পখ কুকুরটি তাদের সাথেই হেঁটে হেঁটে এসেছে। ট্রলারে উঠে তারা যখন শাহপরীর দ্বীপ রওনা হয়েছেন, কুকুরটি পাড়ে ডাকাডাকি শুরু করেছে। অবশেষে নদীর স্রোত ঠেলে একাই সাঁতড়ানো শুরু করেছে। শেষে ট্রলার ঘুরিয়ে এনে বাড়তি একজন যাত্রীর ভাড়া দেয়ার শর্তে কুকুরটিকে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে। আমার আসহাবে কাহফের কুকুরটির কথা খুব মনে পড়ছে। মাওলানা রুমি বলেছেন,
شد سر شیران عالم جمله پست ** چون سگ اصحاب را دادند دست
বিশ্বে যখন বাঘ-সিংহের মাথা হেঁট হলো, তখন আসহাবে কুকুর ভাগ্যে এগিয়ে গেলো।
چه زیان استش از آن نقش نفور ** چون که جانش غرق شد در بحر نور
ঘৃণ্য আকৃতির জন্য আসহাবে কাহফের কুকুরের আর কি ক্ষতি, যখন তার আত্মা ডুবে আছে নুরের সমুদ্রে।
হাচিকো নামের একটি কুকুর ছিল জাপানের এক প্রফেসরের। একদিন প্রেন স্টেশনে হাচিকোকে বিদায় জানিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। আসলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে হার্ট এটাক করে মারা গিয়েছিলেন। পরবর্তী নয়টি বছর ঝড়বৃষ্টি সব উপেক্ষা করে হাচিকো তার মালিকের অপেক্ষা করেছে- শিবুয়া স্টেশনে। একদিন সেখানেই প্রাণত্যাগ করেছে।
আরেকটি কুকুর ছিল অস্ট্রেলিয়ার রেড ডগ। তার মালিক মারা যাওয়ার পর তার খোঁজে সে পুরো অস্ট্রেলিয়ার উপকূল চষে ফেলেছিল। এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি আছে। আমরা কতটুকু শিক্ষা নেই, সেটাই হলো কথা।
শিবলিকে বলা হয়েছিল, আপনি তাসাউফ শিখলেন কিভাবে? তিনি বললেন, আমি এক রাতে দেখেছিলাম একটি কুকুর মনিবের দরজার সামনে বসে আছে। মনিব বারবার তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। সে আবারও এসে বসছে। আমি বললাম, কুকুরকি কি নির্লজ্জ। তখন কুকুরটি বলে উঠল, আমি কোথায় যাবো? সে যে আমার মনিব!’
আশ্চর্যের বিষয় হলো যুন-নূন তাসাউফের সংজ্ঞায় বলেছেন, আল ইনাখাতু ইলা বাবিল হাবিব, ওয়া ইন তুরিদা আনহু অর্থাৎ তাড়িয়ে দেয়া হলেও প্রেমাষ্পদের দরজায় পড়ে থাকা। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছাড়া বর্তমানে কুকুর ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় কি?
আসলে আল্লাহ যা বানিয়েছেন, সবকিছুতেই বিরাট প্রজ্ঞা আছে, আমরা বুঝি আর না বুঝি।
©আবদুল্লাহ যুবায়ের।