Affectionate Creation

Affectionate Creation ❤️Amazed by the immense beauty of the Creator❤️

23/06/2025

"ইন্না লিল্লাহ" বলার আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা।
উচ্চারনঃ- "ইন্না লিল্লাহ"।
লেখাঃ- শাহাব উদ্দিন তুহিম

গ্রামের নাম ছিলো সবুজপুর। এখানকার মানুষগুলো খুবই শান্তিপ্রিয় এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল। এই গ্রামে মেহেদী নামের একজন সৎ ও ধার্মিক যুবক বাস করতেন। তিনি সবসময় আল্লাহর আদেশ মেনে চলার চেষ্টা করতেন এবং তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখতেন।

মেহেদীর জীবনে একটি বড় পরীক্ষা আসে একদিন, যখন তিনি তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি হারিয়ে ফেলেন। তার একমাত্র বোন, রাকিয়া, যিনি তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন, হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুদিনের মধ্যেই ইন্তেকাল করেন। এই ঘটনা মেহেদীর জন্য ছিলো এক গভীর শোকের মুহূর্ত।

যখন রাকিয়ার মৃত্যুর সংবাদ আসে, মেহেদী তার হৃদয়ের গভীর কষ্ট অনুভব করেন। কিন্তু তিনি সাথে সাথে বলেন, "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" (আমরা তো আল্লাহর, এবং আমাদের আল্লাহর দিকেই ফিরে যেতে হবে)। এই বাক্যটি উচ্চারণ করে তিনি আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাসের প্রদর্শন করেন এবং বুঝতে পারেন যে, এই জীবন এবং পৃথিবীর সকল জিনিসই আল্লাহর হুকুমের অধীন।

মেহেদীর এই বাক্যটি উচ্চারণ করার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা এবং কষ্টের কথা জানিয়ে দেন। এটি তাকে গভীর শোক থেকে উত্তরণের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে। যদিও বোনের মৃত্যুর শোক তার জীবনে বিশাল এক শূন্যতা সৃষ্টি করে, তবুও "ইন্না লিল্লাহ" বলার মাধ্যমে তিনি নিজের মনে এক ধরণের সান্ত্বনা পান। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং তার হুকুমের প্রতি সন্তুষ্টি মেহেদীকে এই কঠিন সময়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।

অন্যদিকে, মেহেদীর এক বন্ধু ছিলো, যার নাম আরিফ। আরিফ একজন ভালো মানুষ হলেও, বিপদের সময়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং "ইন্না লিল্লাহ" বলার গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন না। একদিন আরিফের পরিবারে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তার বাড়িতে আগুন লাগে এবং অনেক কষ্টে তারা নিজেদের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু আরিফের বাড়ির সমস্ত সম্পদ আগুনে পুড়ে যায়। এই ঘটনায় আরিফ খুবই ভেঙে পড়েন এবং হতাশায় ডুবে যান।

আরিফ এই বিপদের সময়ে "ইন্না লিল্লাহ" বলার পরিবর্তে শুধু দুঃখ প্রকাশ করতে থাকেন এবং নিজের ভাগ্যকে দোষ দিতে থাকেন। এই কারণে তার মধ্যে অশান্তি এবং হতাশা বৃদ্ধি পায়, যা তার জীবনকে আরও কষ্টকর করে তোলে। তিনি বুঝতে পারেননি যে, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং "ইন্না লিল্লাহ" বলার মধ্যে যে শান্তি ও সান্ত্বনা আছে, তা তাকে এই বিপদ থেকে মানসিকভাবে মুক্তি দিতে পারতো।

কিছুদিন পর, মেহেদী আরিফের কাছে যান এবং তাকে তার নিজের অভিজ্ঞতা এবং "ইন্না লিল্লাহ" বলার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন। মেহেদী তাকে বোঝান যে, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং তার হুকুমের প্রতি সন্তুষ্টি আমাদের জীবনের সকল কষ্টকে সহ্য করার শক্তি দেয়। আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন এবং আমরা যদি তার প্রতি ভরসা রাখি, তবে তিনি আমাদের জন্য এমন কিছু ভালো নির্ধারণ করে রাখেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

ফজিলত ও আমলঃ- এই গল্প থেকে আমরা শিখি যে, জীবনে যে কোনো বিপদ বা কষ্ট আসুক না কেন, আমাদের সবসময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখা উচিত এবং "ইন্না লিল্লাহ" বলা উচিত। এটি আমাদেরকে মানসিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে এবং আল্লাহর কাছে আমাদের কষ্টের কথা জানিয়ে দেয়। বিপদের সময়ে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করা এবং তার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা আমাদের জীবনের পথকে সহজ করে দেয়।

নামের ব্যাখ্যাঃ- বিপদের সময় "ইন্না লিল্লাহ" বলা আমাদের হৃদয়ে শান্তি নিয়ে আসে এবং আল্লাহর উপর আমাদের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে। এই বাক্যটি আমাদের জীবনের কষ্ট ও শোককে আল্লাহর সামনে তুলে ধরার একটি মাধ্যম। এটি আমাদের মনকে শোধিত করে এবং আমাদেরকে আল্লাহর রহমতের দিকে আকৃষ্ট করে।

"যাদের উপর কোন বিপদ নিপতিত হলে তারা বলে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।" [সূরা বাকারা - ০২/১৫৬]
Affectionate Creation

21/06/2025

"আলহামদুলিল্লাহ" বলার শক্তি।
উচ্চারণ "আলহামদুলিল্লাহ"।
লেখাঃ- শাহাব উদ্দিন তুহিম

একটি ছোট্ট শহরে বাস করতেন রাকিবুল ইসলাম নামে একজন সাধারণ মানুষ। তিনি খুবই দরিদ্র ছিলেন, কিন্তু তার অন্তরে ছিলো অগাধ বিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভরসা। তার পরিবারের জন্য তিনি প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং আল্লাহর দেয়া প্রতিটি নিয়ামতের জন্য সবসময় আলহামদুলিল্লাহ বলতেন।

রাকিবুলের জীবনে সবকিছুই ছিল সীমিত। তার পরিবারের সদস্যরা ছোট একটি কুঁড়েঘরে থাকতো। তাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ছিলো রাকিবুলের দিনমজুরের কাজ। তাদের খাবার-দাবারেরও অভাব ছিলো, কিন্তু রাকিবুল কখনো আল্লাহর দেয়া কোনো কিছুতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি। বরং, তিনি প্রতিটি ছোট ছোট উপহার ও অনুগ্রহের জন্য সবসময় আলহামদুলিল্লাহ বলতেন।

একদিন রাকিবুলের শহরে একটি ভয়াবহ ঝড় আসে। ঝড়ের কারণে অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফসলের ক্ষতি হয়, এবং অনেকেই তাদের সম্পত্তি হারিয়ে ফেলে। রাকিবুলের কুঁড়েঘরও এই ঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার পরিবার খুবই বিপদে পড়ে, কিন্তু রাকিবুল এই কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন এবং বললেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাদের জীবন রক্ষা করেছেন।”

ঝড়ের পরে, শহরের কিছু ধনী ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য উদ্যোগ নেন। তারা প্রতিটি পরিবারকে কিছু অর্থ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস প্রদান করে। কিন্তু রাকিবুলের আলহামদুলিল্লাহ বলার কারণে, তিনি আরো বড় একটি বরকতের মুখোমুখি হন।

একদিন, শহরের এক ধনী ব্যক্তি, যিনি বিদেশে ছিলেন, তিনি ফিরে এসে রাকিবুলের সম্পর্কে শুনেন। তার দানশীলতা এবং আল্লাহর প্রতি ধৈর্যশীলতার কথা শুনে তিনি রাকিবুলের জন্য একটি নতুন বাড়ি তৈরি করে দেন। শুধু তাই নয়, তাকে একটি ছোট ব্যবসা শুরুর জন্য পর্যাপ্ত অর্থও প্রদান করেন।

রাকিবুল এই ঘটনায় খুবই বিস্মিত হন এবং আবারও আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার জীবন সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়, কিন্তু তিনি কখনোই আল্লাহর প্রতি তার কৃতজ্ঞতা ভুলেননি। প্রতিটি মুহূর্তে তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলতেন এবং তার জীবনের এই পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন।

অন্যদিকে, একই শহরের আরেকজন ব্যক্তি ছিল, যার নাম মুনির। মুনির একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তার জীবনে প্রচুর সম্পদ ছিল। কিন্তু তিনি কখনোই তার জীবনে আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন না। তিনি সবসময় আরও চাইতেন এবং মনে করতেন যে, তার সাফল্য শুধুমাত্র তার নিজের কৃতিত্ব।

একদিন, মুনিরের ব্যবসায় একটি বড় ধস নামে। তার সমস্ত সম্পদ হারিয়ে যায়, কিন্তু তিনি কখনোই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি। তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় এবং সে বুঝতে পারে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করার ফল কী হতে পারে।

মুনির অবশেষে তার ভুল বুঝতে পারে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তিনি রাকিবুলের কাছে যান এবং তার থেকে কৃতজ্ঞতা ও আলহামদুলিল্লাহ বলার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা নেন। এরপর থেকে, মুনির আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শুরু করেন এবং তার জীবনের প্রতিটি ছোট ছোট নিয়ামতের জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলতে শুরু করেন।

ফজিলত ও আমলঃ- এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর দেয়া নিয়ামতগুলোর জন্য সবসময় কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। "আলহামদুলিল্লাহ" বলা কেবলমাত্র একটি বাক্য নয়, এটি আমাদের জীবনে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ এবং তার প্রতি বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। জীবনে কঠিন পরিস্থিতি আসলেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকলে আল্লাহ আমাদের জন্য বরকতের দরজা খুলে দেন।

নামের ব্যাখ্যাঃ- কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং "আলহামদুলিল্লাহ" বলা আমাদের জীবনে বড় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আল্লাহর দেয়া ছোট বড় সমস্ত নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, কারণ এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি প্রধান মাধ্যম।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ কোন বান্দাকে যখন যে নিয়ামতই দান করেন, তাতে সে যদি বলে, “আলহামদু লিল্লাহ”, তবে তা (প্রশংসা) তাকে প্রদত্ত জিনিসের চেয়ে উত্তম। [ইবন মাজাহ - ৩৮০৫]
Affectionate Creation

জুম্মার আমল
20/06/2025

জুম্মার আমল

জুম্মা মোবারাক اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا উচ্চারণ : আল্...
20/06/2025

জুম্মা মোবারাক
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম তাসলিমা।

19/06/2025

"সুবহানাল্লাহ" বলার শক্তি।
উচ্চারনঃ- "সুবহানাল্লাহ"।
লেখাঃ- শাহাব উদ্দিন তুহিম

একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করতেন মসজিদুল হক নামের একজন সাধারণ মানুষ। তার নামের মতোই তার কাজ এবং জীবনধারা ছিলো ইসলামিক। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি কুরআন তেলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তার জীবনের মূলমন্ত্র ছিল, "সুবহানাল্লাহ" বলা, যা দ্বারা তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতেন।

মসজিদুল হক ছিলেন একজন কৃষক, এবং তার ফসলই ছিলো তার জীবিকার প্রধান মাধ্যম। একবার, তার ফসলের মাঠে এক অদ্ভুত রোগ দেখা দেয়। আশেপাশের সবাই তাকে পরামর্শ দেয় বিষ ছিটিয়ে রোগ তাড়াতে। কিন্তু, মসজিদুল হক সবকিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে, তার ফসল রক্ষা করার জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে থাকেন।

প্রতিদিন, যখন তিনি তার ফসলের মাঠে যেতেন, তখন তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে বলতেন, "সুবহানাল্লাহ।" এই বাক্যটি তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিতো এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন।

একদিন রাতে, মসজিদুল হক স্বপ্ন দেখেন যে, তার ক্ষেতের মধ্য দিয়ে স্বর্গীয় আলো প্রবাহিত হচ্ছে, এবং সেই আলো তার ফসলকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। পরের দিন সকালে উঠে তিনি দেখতে পান, তার ফসলের মাঠে যে রোগ ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে সেরে গেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, তার ফসল অন্য সবার চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় রয়েছে।

মসজিদুল হক বুঝতে পারেন যে, এটি আল্লাহর একটি বিশেষ রহমত, যা তার "সুবহানাল্লাহ" বলার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তার এই ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই তার জীবনের এই অসাধারণ ঘটনার প্রশংসা করতে শুরু করে। গ্রামবাসীরাও এই ঘটনা দেখে "সুবহানাল্লাহ" বলার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং তারা নিজেদের জীবনে এই বাক্যটি বলার অভ্যাস গড়ে তোলে।

কিন্তু, গ্রামের অন্য প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি, রশিদুল ইসলাম, এই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়নি। সে নিজেও একজন কৃষক ছিল এবং সে মসজিদুল হকের মতোই ফসল ফলাতো। কিন্তু, সে আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস না রেখে নিজের মনের জোরে সবকিছু করার চেষ্টা করতো। তার ক্ষেতেও একবার রোগ দেখা দেয় এবং সে অনেক চেষ্টা করেও তা সারাতে পারেনি।

রশিদুল ইসলাম মসজিদুল হকের ঘটনাটি শুনেছিল, কিন্তু সে এটিকে কেবলমাত্র কাকতালীয় ঘটনা বলে মনে করেছিল। তার বিশ্বাস ছিলো না যে, "সুবহানাল্লাহ" বলার মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে। তার এ অবিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে তার ফসল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

এরপর রশিদুল ইসলাম উপলব্ধি করে যে, আল্লাহর পবিত্রতা ও তার প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমেই প্রকৃত সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তিনি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মসজিদুল হকের মতো "সুবহানাল্লাহ" বলতে শুরু করেন।

ফজিলত ও আমলঃ- এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর পবিত্রতা ও তার মহিমা ঘোষণা করার মাধ্যমে আমরা তার রহমত ও সাহায্য লাভ করতে পারি। "সুবহানাল্লাহ" বলা কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এটি আমাদের অন্তরের পবিত্রতা এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের প্রতীক। এই বাক্যটি প্রতিদিন বলা আমাদের জীবনে আশীর্বাদ নিয়ে আসতে পারে এবং আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হতে পারে।

নামের ব্যাখ্যাঃ- সুবহানাল্লাহ বলার শক্তি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে এই গল্পটি আমাদের সচেতন করে তোলে। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করার মাধ্যমে আমরা তার কাছে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারি এবং তার অনুগ্রহ লাভ করতে পারি।

কোন বিস্ময়কর ভালো বিষয় দেখলে سُبْحَانَ اللَّهِ (সুবহানাল্লাহ) বলা সুন্নাহ। ‎

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে উঠে বললেনঃ সুব্‌হানাল্লাহ! অদ্যকার রাতে কত যে ধন-ভান্ডার এবং কত যে বিপদাপদ অবতীর্ণ করা হয়েছে। কে আছ যে এ হুজরাবাসিনীদের অর্থাৎ তাঁদের স্ত্রীদের জাগিয়ে দেবে যাতে তাঁরা সলাত আদায় করে। দুনিয়ার কত বস্ত্র পরিহিতা, আখিরাতে উলঙ্গ হবে! [সহিহ বুখারি ৬২১৮
Affectionate Creation

19/06/2025

I got over 10 reactions on one of my posts last week! Thanks everyone for your support! 🎉

17/06/2025

"আল্লাহু আকবার" বলার শক্তি।
উচ্চারনঃ- "আল্লাহু আকবার"।
লেখাঃ- শাহাব উদ্দিন তুহিম

সুজন একজন মাঝবয়সী মানুষ, গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। প্রতিদিনের মতোই সে তার ক্ষেতের কাজ করতো, বাড়িতে সময় কাটাতো, এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করতো। তবে একদিন তার জীবনে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, যা তাকে “আল্লাহু আকবার” বলার গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে।

একদিন দুপুরের দিকে, সুজন তার ক্ষেতের ফসল দেখতে যায়। হঠাৎ করে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, আর শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। সুজন নিজের ফসল বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে কাজ শুরু করে। সে জানতো, এই ঝড়ে ফসল ধ্বংস হয়ে গেলে তার পরিবারের জন্য খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

ঝড়ের সময়, হঠাৎ করে তার একমাত্র গরুটি খুঁটি থেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে যায় এবং দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। সুজন দৌড়ে গরুটিকে ধরার চেষ্টা করে, কিন্তু তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিলো না। গরুটি ছুটতে ছুটতে গ্রামের পাশের একটি জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। সুজন হতাশ হয়ে পড়ে, কারণ সেই গরুটি তার জীবিকার প্রধান মাধ্যম ছিলো।

ঝড় থেমে গেলে, সুজন মনমরা হয়ে জঙ্গলের দিকে হাঁটতে থাকে। তার মনে তখন একটাই চিন্তা, কীভাবে গরুটি খুঁজে বের করবে এবং কীভাবে তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলকে বাঁচাবে। সে যখন জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে, তখন তার মনে পড়ে তার ছোটবেলায় শিখানো একটি দোয়া, “আল্লাহু আকবার”—যা সবসময় আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বকে প্রকাশ করে।

সুজন তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর নামে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং বারবার বলতে থাকে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।” কিছুক্ষণ পরেই সে দেখে, তার হারিয়ে যাওয়া গরুটি একটি ঝোপের মধ্যে আটকে আছে এবং সেখান থেকে পালাতে পারছে না।

সুজন গরুটিকে ধীরে ধীরে উদ্ধার করে এবং তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে ফিরে এসে সে বুঝতে পারে যে, আল্লাহর নামে সাহায্য প্রার্থনা করার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে তার কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এরপর থেকে সুজন যেকোনো বিপদ বা সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রথমেই “আল্লাহু আকবার” বলতে শুরু করে।

তারপর একদিন, গ্রামের চারদিকে প্রচুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, গ্রামের পাশের নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে এবং যেকোনো সময় বন্যা হতে পারে। সুজন আবারও তার ফসল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। তবে, এবার সে আগের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে আল্লাহর উপর ভরসা করে। সে “আল্লাহু আকবার” বলে ফসল রক্ষার জন্য চেষ্টা করতে থাকে।

মিরাকলস্বরূপ, সেই রাতে যখন নদীর পানি বাড়তে থাকে, তখন গ্রামে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। পানি গ্রামের দিকে না এসে অন্যদিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। গ্রামের মানুষজন এই ঘটনার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তারা বুঝতে পারে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তিনি যেকোনো সময় তার বান্দাদের সাহায্য করতে সক্ষম।

ফজিলত ও আমলঃ- সুজনের জীবনের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, “আল্লাহু আকবার” বলা কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এটি আমাদের বিশ্বাসের শক্তি এবং আল্লাহর মহিমার প্রমাণ। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও ক্ষমতা স্মরণ করার মাধ্যমে আমরা যে কোনো বিপদ থেকে মুক্তি পেতে পারি।

নামের ব্যাখ্যাঃ- এই গল্পটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনে আল্লাহর নাম স্মরণ করার গুরুত্ব তুলে ধরে। “আল্লাহু আকবার” বলে আমরা সব সময় আল্লাহর প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও ভরসা প্রকাশ করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সব সময় সাহায্য করবেন, যদি আমরা তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি।

"আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, মহত্ত্ব বা বড়ত্বের কোনো কৃতিত্ব দেখলে আমরা বলি: আল্লাহু আকবার অর্থাৎ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।"

‘উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে বললাম, আপনি কি আপনার স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না। তখন আমি বললামঃ ‘আল্লাহু আকবার’। [সাহিহ বুখারি, হাদিস নং - ৬২১৮]
Affectionate Creation

15/06/2025

15/06/2025

The Quran 24

15/06/2025

"ইন শা আল্লাহ" বলার গুরুত্ব.
উচ্চারনঃ- "ইন শা আল্লাহ" বলার গুরুত্ব।
লেখাঃ- শাহাব উদ্দিন তুহিম

মফস্বলের এক ছোট্ট গ্রামে থাকতো আব্দুল হাকিম নামে এক যুবক। আব্দুল হাকিম ছিলো অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ। সে ধান চাষ করতো এবং গ্রামে সবার কাছে একজন সৎ চাষী হিসেবে পরিচিত ছিলো। একদিন, আব্দুল হাকিমের পিতার বন্ধুর ছেলে শহর থেকে গ্রামে আসে এবং হাকিমের সাথে দেখা করে। শহরের লোকটি অনেক ধনী এবং তার জীবনের গল্প শুনে হাকিম খুবই প্রভাবিত হয়।

শহরের লোকটি হাকিমকে বিভিন্ন রকম ব্যবসায় বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় এবং জানায় যে, ধান চাষ করে এত কষ্ট করে লাভ করা সম্ভব নয়। শহরে নতুন একটি ব্যবসা শুরু করার কথা বলে সে হাকিমকে তার সাথে যেতে প্রস্তাব দেয়। হাকিম প্রথমে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হলেও পরে রাজি হয়। কিন্তু, হাকিম এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়ে যে, সে শহরের লোকটির সাথে সবকিছু ঠিক করে ফেলে, কিন্তু কখনো "ইন শা আল্লাহ" বলতে মনে রাখে না।

শহরের লোকটি হাকিমকে তার ব্যবসায় অংশীদার করার জন্য শহরে নিয়ে আসে। তারা একসাথে একটি বড় অর্ডারের জন্য চুক্তি করে, কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। অর্ডারের মালামাল পৌঁছাতে দেরি হয়, আর সেখান থেকে লোকসান হতে শুরু করে। তাদের ব্যবসা দাঁড়াতে পারে না এবং কিছুদিনের মধ্যেই পুরো উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়।

হাকিমের মন খুব খারাপ হয়ে যায়, এবং সে বুঝতে পারে যে কিছু একটা ভুল হয়েছে। এরপর তার মনে পড়ে যায় তার বাবার শিখিয়ে দেওয়া একটি কথা: "কোনো কাজ শুরুর আগে যদি আল্লাহর ইচ্ছার কথা স্মরণ না করো, তবে সেই কাজ সফল হতে পারে না। সবসময় 'ইন শা আল্লাহ' বলে কাজ শুরু করতে হয়।"

এতদিন হাকিম তার জীবনের ছোট ছোট কাজেও “ইন শা আল্লাহ” বলতো, কিন্তু এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সে ভুলে গিয়েছিলো আল্লাহর ইচ্ছার কথা।

তখন হাকিম আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং অঙ্গীকার করে যে, এরপর থেকে জীবনের যেকোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সে “ইন শা আল্লাহ” বলবে। এর মাধ্যমে সে আল্লাহর সাহায্য ও অনুমতি প্রার্থনা করবে, যেন সেই কাজে আল্লাহর ইচ্ছা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

গ্রামে ফিরে হাকিম আবার তার ধান চাষ শুরু করে এবং এইবার সমস্ত কাজ আল্লাহর উপর নির্ভর করে করে। সে ব্যবসার সাথে সাথে সামাজিক কাজও করতে শুরু করে। প্রতিটি কাজে “ইন শা আল্লাহ” বলার অভ্যাস গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে তার কাজের মধ্যে আল্লাহর বরকত আসতে শুরু করে এবং সে আবার সফল হতে থাকে।

ফজিলত ও আমলঃ- এই গল্প আমাদের শেখায়, কোনো কাজ শুরুর আগে “ইন শা আল্লাহ” বলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। “ইন শা আল্লাহ” বলতে ভুলে গেলে, আমরা আল্লাহর ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে কাজ শুরু করি, যা সফলতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

নামের ব্যাখ্যাঃ- আব্দুল হাকিমের গল্পটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবনের যেকোনো কাজ, ছোট বা বড়, শুরুর আগে আল্লাহর ইচ্ছার কথা স্মরণ করা উচিত। “ইন শা আল্লাহ” বলার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর উপর ভরসা রাখি এবং তার সাহায্য প্রার্থনা করি। এতে করে আমাদের কাজের মধ্যে বরকত আসে এবং আল্লাহ আমাদের সেই কাজে সাফল্য দেন।

"আর কখনোই কোন বিষয়ে বলো না যে, আমি এটা কাল করব।"
"তোমার প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত। এবং যখন তুমি ভুলে যাও, তখন তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করো এবং বলো, হয়তো আমার প্রতিপালক আমাকে এর চাইতে অধিক সঠিক পথের দিকে পথপ্রদর্শন করবেন।" [সূরা আল-কাহাফ - ১৮/২৩-২৪]
Affectionate Creation

Address

Goalundo

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Affectionate Creation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share