Ahad Media

Ahad Media প্রচলিত ইসলামিক ইস্যু পেতে আমাদের পেইজের সাথেই থাকুন।

26/05/2026

কোরবানির পশু ক্রয় করবার পর যে ভুলগুলো করা যাবে না

কুরবানি ওয়াজিব নাকি সুন্নাত?আসুন বিস্তারিত জেনেই ইদুল আজহা মুসলমানদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। সে দিনের জন্য মহা...
26/05/2026

কুরবানি ওয়াজিব নাকি সুন্নাত?
আসুন বিস্তারিত জেনেই

ইদুল আজহা মুসলমানদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। সে দিনের জন্য মহান আল্লাহ তা'আলার বিধান হলো, নিজের পছন্দের পশু কুরবানি দেওয়া। এই বিধান নিয়ে পূর্ববর্তী ইমামদের কিছুটা মতানৈক্য আছে। কেউ বলেন ওয়াজিব, আবার কেউ বলেন সুন্নাত। প্রত্যেকের মতের সপক্ষে দলিল ও প্রমাণাদি রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ওয়াজিব জেনে আমল করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে কতক সালাফি আলিম বলছেন, ‘কুরবানি দেওয়া সু্ন্নাত। ওয়াজিব নয়। যারা ওয়াজিব বলে তাদের কোনো দলিল-প্রমাণ নেই। এই সুন্নাত আমলটি না করে এই টাকা দিয়ে ভিন্ন ও তূলনামূলক ভালো কাজ করা যাবে।’ তাদের এমন বক্তব্য মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাই আমি আজকের এই প্রবন্ধে দেখাবো, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ কী কী? কুরআন, হাদিস ও কিয়াস কী বলে? ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণগুলো কেনো শক্তিশালী? যারা কুরবানি সুন্নাত বলে সংশয় তৈরি করছে, এর নিরসন কী?

এখানে পূর্ববর্তী কোনো ইমামের বক্তব্য উদ্ধৃত করবো না। শুধু দালিলিক আলোচনাই করবো। প্রথমে কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণগুলো দেখা যাক।

কুরআন থেকে প্রমাণ:

আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি তোমাকে (হাওজে) কাওসার দান করেছি। কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কুরবানি করো। (সুরা কাউসার: ১-২।)

হজরত ইবনু আব্বাস (রা.) ‘নাহার’ (وانحر) শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘কুরবানির দিন জবাই করো।’ (ইবনু জারির, জামিউল বায়ান- ২৪/৬৯৪, দারু হাজর, কায়রো, মিশর, ১ম প্রকাশ, ১৪২২ হি.। সনদ হাসান লিগাইরিহি।)

হাফিজ ইবনু কাসির (রহ.) এই ব্যাখ্যাটি সালাফদের মধ্যে হজরত আতা, মুজাহিদ, ইকরিমা, হাসান, কাতাদা, মুহাম্মাদ বিন কাব কুরজি, জাহ্যাক, রাবি, আতা খুরাসানি, হাকাম, ইসমাইল ইবনু আবি খালিদ (রহ.) প্রমুখের ব্যাখ্যা বলে দাবি করেছেন। এরপর আরও কয়েকটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করে বলেন, ‘এসব ব্যাখ্যা একদম অপ্রাসঙ্গিক। বিশুদ্ধ মত হলো প্রথমটিই। তথা ‘নাহার’ থেকে উদ্দেশ্য পশু জবাই করা। (বিস্তারিত: ইবনু কাসির, তাফসির- ৭/৬৭৩-৬৭৪, দারু ইবনিল জাউজি, ১ম প্রকাশ, ১৪৩১ হি.)

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা কুরবানি করার আদেশ দিয়েছেন। উসুলবিদদের নীতি অনুসারে আদেশসূচক শব্দ কোনো কাজ বাধ্যতামূলক হওয়া বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর বিপরীতে শক্তিশালী কোনো প্রমাণ থাকলে ভিন্ন অর্থেও ব্যবহার হয়। এখানে যেহেতু ভিন্ন অর্থ বোঝানোর কোনো শক্তিশালী প্রমাণ নেই, তাই বলতে পারি, এই আয়াতে কুরবানি করাকে ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিম্নে প্রদত্ত হাদিসগুলোও এই বক্তব্যকে সমর্থন করে। তবে কিছু হাদিসের শাব্দিক অনুবাদ এই মতের সাংঘর্ষিক মনে হয়। আমরা এই সংশয়গুলোর খণ্ডন প্রবন্ধের শেষে করবো, ইনশাআল্লাহ।

হাদিস থেকে প্রমাণ:

প্রথম হাদিস:
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে এবং কুরবানি করলো না, সে যাতে কোনো ভাবেই আমাদের ইদগাহের নিকট না আসে।’ (আহমাদ, মুসনাদ- ৮/২৬১, হাদিস: ৮২৫৮, দারুল হাদিস, কায়রো, ১ম প্রকাশ, ১৪১৬ হি.। আহমাদ শাকির বলেন, সনদটি হাসান।)

উপরোক্ত হাদিসে সামর্থ্য থাকা সত্বেও কুরবানি না দেওয়া ব্যক্তিকে নবীজি (সা.) ধমক দিয়ে বলেছেন সে যেনো ঈদগাহের আশপাশে না ঘেঁষে। সুন্নাত আমলে ব্যত্যয় ঘটলে সাধারণত এমনতরো ধমক দেওয়া হয় না। বরং ওয়াজিব ও আবশ্যকীয় কিছু পালনে শীতলতা দেখা দিলে এমন ধমক দেওয়া হয়। অতএব আমরা বলতে পারি, নবীজি (সা.) উম্মাহর জন্য কুরবানি বাধ্যতামূলক করেছেন; এটি ঐচ্ছিক আমল নয়।

একটি আপত্তি ও তার খণ্ডন:

এই হাদিসটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর ব্যক্তিগত বক্তব্য (তথা হাদিসে মাওকুফ) নাকি নবীজি (সা.)-এর মুখনিঃসৃত বাণী (তথা মারফু), এ নিয়ে কিছুটা মতানৈক্য আছে। এর উপর ভিত্তি করে অনেকে মুখের উপর বলে ফেলেন, এই হাদিসটি জয়িফ তথা দুর্বল।

খণ্ডন: এই হাদিসটি ইমাম আহমাদ, ইবনু মাজাহ, দারাকুতনি, হাকিম, বায়হাকি (রহ.) প্রমুখ মারফু (নবীজির বাণী) হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হাকিম এবং বায়হাকি মাওকুফ হিসাবেও বর্ণনা করেছেন। এই হাদিস নিয়ে যারা কথা বলেছেন, তাদের প্রায় সকলেই মারফু বর্ণনাকে সহিহ বা হাসান বলেছেন। নিদেনপক্ষে বলেছেন, সনদের সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত (সিকা)। তাদের মধ্যে আছেন ইমাম হাকিম, জাহাবি (মৌন সমর্থন), ইবনু হাজার, ইবনু তুরকিমানি, কাসতাল্লানি, সানয়ানি, আহমাদ শাকির, আলবানি, শুয়াইব আরনাউত প্রমুখ। বায়হাকি (রহ.) বলেছেন, মাওকুফ বর্ণনাটি বিশুদ্ধ। দারাকুতনি (রহ.) বলেছেন, মাওকুফ বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ। এর অর্থ হচ্ছে, মারফু বর্ণনাটি শুদ্ধ।

দ্বিতীয়ত, এই মতানৈক্য হাদিসের বিশুদ্ধতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং বলা যায়, হাদিসটি মারফু হওয়াই বেশি যৌক্তিক ও উসুলের বিচারে বেশি শক্তিশালী। কারণ, হাদিসটির মারফু বর্ণনাকারী মাওকুফ বর্ণনাকারী থেকে বেশি। আর যারা মারফু বর্ণনা করেছেন, তারা সিকা তথা বিশ্বস্ত। এ জন্য ইবনু হাজার আসকালানি (রহ.) বলেছেন, ‘ইবনু ওয়াহাব হাদিসটি মাওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তবে মুকরি (যিনি মারফু বর্ণনা করেছেন) আরো অধিক বিশ্বস্ত তথা সিকা। তাই তার প্রবৃদ্ধি গ্রহণ করা হবে।’ (ইবনু হাজার, ইতহাফুল মাহারা- ১৫/২৫৮, মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদিনা, ১ম প্রকাশ, ১৪১৫ হি.)

হাফিজ ইবনুত তুরকুমানি (রহ.) বলেন, ‘তবে বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর প্রবৃদ্ধি গ্রহণ করা হয়। আর মুকরি হলেন অত্যধিক বিশ্বস্ত। দারাকুতনি আরাজ থেকে উবায়দুল্লাহ ইবনু জাফরের সূত্রে হাদিসটি মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যা বায়হাকির সূত্রের ভিন্ন। এদ্বারা বোঝা গেলো, ইবনু হাব্বাবের হাদিসটি সংরক্ষিত আছে। আর ইবনু আয়াস থেকে মারফু বর্ণনাকারীর সংখ্যা চারজন।’ (ইবনুত তুরকিমানি, আল- জাওহারুন নাকি- ৯/২৬০, দারুল ফিকর।)

দ্বিতীয় হাদিস:
হজরত জুনদুব (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) কুরবানির দিন নামায আদায় করেন, এরপর খুতবা দেন। তারপর জবাই করেন এবং বলেন, 'নামাযের পূর্বে যে ব্যক্তি জবাই করবে তাকে তার স্থলে আর একটি জবাই করতে হবে। আর যে জবাই করেনি, আল্লাহর নামে তার জবাই করা উচিত।' (বুখারি, সহিহ- ১/৩৩৪, হাদিস: ৯৪২, দারু ইবনি কাসির, ৫ম প্রকাশ, ১৪১৪ হি.)

তৃতীয় হাদিস:
হজরত বারা (রা.) বলেন, আবু বুরদা (রা.) নামাজ আদায়ের পূর্বে জবাই করেছিলেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে বললেন, এটার বদলে আরেকটি জবাই করো। তিনি বললেন, আমার কাছে একটি ছয়-সাত মাসের বকরির বাচ্চা ব্যতীত কিছুই নেই। (বর্ণনাকারী) শু’বা বলেন, আমার ধারণা, তিনি আরও বলেছেন যে, বকরির বাচ্চাটি পূর্ণ এক বছরের বকরির চাইতে উত্তম। নবীজি (সা.) বললেন, 'তা হলে এটিকেই জবাই করো। কিন্তু তোমার পরে অন্য কারো জন্য কখনো এই অনুমতি থাকবে না। (বুখারি, সহিহ- ৫/২১১২, হাদিস: ৫২৩৭, দারু ইবনি কাসির, ৫ম প্রকাশ, ১৪১৪ হি.)

উপরোক্ত দুই হাদিসে কুরবানির বিষয়টি আদেশসূচক শব্দ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া, প্রথমবার ভুল কুরবানি দেওয়ার কারণে পুনর্বার কুরবানি দিতে বলা হয়েছে। যা সাধারণত আবশ্যিক ও ওয়াজিব বিধিনিষেধে হয়ে থাকে।

চতুর্থ হাদিস:
হজরত মিখনাফ (রা.) বলেন, আমরা নবীজি (সা.)-এর সাথে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। তখন নবীজি (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘প্রতিটি ঘরের সদস্যের উপর প্রতি বছর কুরবানি এবং ‘আতিরা' বাধ্যতামূলক। তোমরা আতিরা কী জানো? তা হলো, যাকে তোমরা ‘রজবিয়্যা’ বলো।’ (তিরমিজি, জামি- ৩/৩৪১, হাদিস: ১৫৯৬, দারুর রিসালা, ১ম প্রকাশ, ১৪৩০ হি.। ইমাম তিরমিজি বলেছেন, হাদিসটি হাসান। ইবনু হাজার বলেছেন, সনদ শক্তিশালী।) [১]

উপরোক্ত হাদিসের স্পষ্ট বার্তা হলো, কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব।

পঞ্চম হাদিস:
ইবনু উমার (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) মদিনায় অবস্থানকালীন দশ বছরের প্রতি বছর কুরবানি করতেন। (তিরমিজি, জামি- ৩/৩৩০, হাদিস: ১৫৮৪, দারুর রিসালা, ১ম প্রকাশ, ১৪৩০ হি.। ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি হাসান।)

নবীজি (সা.)-এর ধারাবাহিক আমল কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে।

ষষ্ঠ হাদিস:
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমার ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, 'আমাকে আজহার দিনকে ইদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে আল্লাহ তা'আলা এই উম্মাহের জন্য (ইদ হিসেবে) নির্ধারণ করেছেন।' তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, আপনি বলুন, (যদি আমার কুরবানির পশু ক্রয়ের সামর্থ না থাকে, কিন্তু) আমার কাছে এমন উট বা বকরী থাকে, যার দুধ পান করার জন্য বা মাল বহন করার জন্য তা প্রতিপালন করি। আমি কি তাকে কুরবানী করতে পারি? তিনি বললেন, 'না। বরং তুমি তোমার মাথার চুল, নখ ও গোঁফ কেটে ফেলো এবং নাভির নীচের চুল পরিষ্কার করো। এই আল্লাহর নিকট তোমার কুরবানি।' (আবু দাউদ, সুনান- ৪/৪১৬-৪১৭, হাদিস: ২৭৮৯, দারুর রিসালা, ১ম প্রকাশ, ১৪৩০ হি.। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, সনদ শক্তিশালী।)

উপরোক্ত হাদিসে আজহার দিনকে ইদ বানানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। ইদ বানানোর পদ্ধতি হলো, সামর্থ্যবানদের কুরবানি করা, যা প্রশ্নকারীর প্রশ্ন ও নবীজি (সা.)-এর উত্তর পর্বের মাধ্যমে পষ্ট হয়েছে। অতএব বলা চলে, সামর্থ্যবানদের কুরবানি করে আজহার দিনকে ইদ বানানো বাধ্যতামূলক।

কিয়াস ও যুক্তি:
পবিত্র কুরআনে কুরবানিকে আল্লাহর নিদর্শন বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, কুরবানি পূর্বকার উম্মাহর পালিত একটি আমল। ইব্রাহিম (আ.) করেছেন। আর আমাদের ইব্রাহিমি ধর্মের সবকিছু অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এই কুরবানির উপর নির্ভর করে ইসলামের বড় একটি ইদ। ইদুল ফিতারের ক্ষেত্রে রোজা ওয়াজিব। ঠিক সেভাবে আজহার জন্য কুরবানি ওয়াজিব। কুরবানিকে কারো ইচ্ছাধীন করে দিলে, এতে মানুষের মধ্যে ঢিলামি চলে আসবে। যা ইসলামের এই সংস্কৃতি ও এই ইদকে ধ্বংস করার বড় একটি কারণ। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া (রহ.) কথার প্রসঙ্গে এও বলেছেন, মুসলমানদের সকলের এই আমলটি ছেড়ে দেওয়া হজ্ব ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে বড় অপরাধ।’ (বিস্তারিত: ইবনু তায়মিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া- ২৩/১৬২-১৬৩, মাজমাউল মালিক ফাহাদ, ১৪২৫ হি.)

সালাফিদের সংশয়, আমাদের নিরসন:

প্রথম সংশয়:
হজরত উম্মু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন তোমরা জিলহজ্জের চাঁদ দেখো এবং তোমাদের কেউ কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছে করে, সে যাতে চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, সহিহ- ৬/৮৩, হাদিস: ১৯৭৭, দারুত তাবায়া, তুর্কি, ১৩৩৪ হি.)

এখানে ‘ইচ্ছে করে' শব্দ দ্বারা স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে, কুরবানি ওয়াজিব না। কারণ, ওয়াজিব বিষয়ে ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো বিধান থাকে না। অথচ নবীজি (সা.) উপরোক্ত হাদিসে বলেছেন, ‘এবং তোমাদের কেউ কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছে করে’। অতএব এ দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, কুরবানি সুন্নাত, ওয়াজিব নয়।

সংশয় নিরসন:
শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া (রহ.) এই আপত্তির জোরালোভাবে খণ্ডন করেছেন। যার সংক্ষেপ হলো, ‘আর কখনো কখনো ওয়াজিবকে শর্তের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় হুকুম বর্ণনার জন্য। যেমন কুরআনে বলো হলো, যখন তোমরা নামাজের ইচ্ছে করো, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধুয়ে নাও..। কুরআনে আরো বলা হলো, যার ইচ্ছে সে সঠিক পথ অবলম্বন করুক। এখানে ইচ্ছে করাটা ওয়াজিব। তাছাড়া কুরবানি সবার জন্য নয়, বরং সামর্থ্যবানদের উপরই ওয়াজিব। আর একটি হাদিসে আছে, যে হজ্বের ইচ্ছে করে, সে যাতে দ্রুত করে…। অথচ সামর্থ্যবানদের উপর হজ্ব ফরজ। ঠিক এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে কুরবানির হাদিসে, তোমাদের কেউ যদি কুরবানির ইচ্ছে করে..।’ (বিস্তারিত: ইবনু তায়মিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া- ২৩/১৬৩, মাজমাউল মালিক ফাহাদ, ১৪২৫ হি.)

দ্বিতীয় সংশয়:
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘তিনটি কাজ আমার জন্য ফরজ আর তোমাদের জন্য নফল। বিতর, কুরবানি ও কুরবানির নামাজ।’ (আহমাদ, মুসনাদ- ২/৫০২, হাদিস: ২০৫০, দারুল হাদিস, ১ম প্রকাশ, ১৪১৬ হি.)

হাদিসের স্পষ্ট ঘোষণা হলো, কুরবানি আমাদের জন্য ওয়াজিব না।

নিরসন:
হাদিসটি দুর্বল তথা জয়িফ। ইমাম বায়হাকি, ইবনুল জাওজি, ইবনুস সালাহ, নাবাবি, ইবনু হাজার আসকালানি, আহমাদ শাকির, শুয়াইব আরনাউত প্রমুখ বিশেষজ্ঞ আলিম এই হাদিস জয়িফ বলেছেন। ইবনু হাজার বলেন, ‘এই হাদিসের ভিত্তি হলো আবু জানাব কালবি, যিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু জানাব জয়িফ, মুদাল্লিস। এর উপর তিনি হাদিসটি ‘আন' দিয়ে বর্ণনা করেছেন।’ (ইবনু হাজার, তালখিসুল হাবির- ২/৪৫, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, ১ম প্রকাশ, ১৪১৯ হি.)

তৃতীয় সংশয়:
আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) একটি শিংযুক্ত ভেড়া দিয়ে কুরবানি করেছেন। এরপর বলেছেন, ‘এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মাহর মধ্যে যারা কুরবানি করেনি, তাদের পক্ষ থেকে।’ (আহমাদ, মুসনাদ- ১৭/১০৩, হাদিস: ১১০৫, মুআসসাসাতুর রিসালা, ১ম প্রকাশ, ১৪২১ হি.। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদিস সহিহ।)

ঠিক এভাবে হজরত জাবির ও আবু রাফি (রা.) থেকে বর্ণনা এসেছে। নবীজি (সা.) যারা কুরবানি দেন নি, তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছেন। কুরবানি ওয়াজিব হলে সবাই বাধ্যতামুলক ভাবে কুরবানি দিতেন। তাই বলা চলে, কুরবানি সুন্নাত, ওয়াজিব নয়।

নিরসন:
নবীজি (সা.) যারা কুরবানি দেন নি, তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছেন। এখানে বলা হয়নি যে, যারা সামর্থ্য থাকা সত্বেও কুরবানি দেন নি, তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছেন। এভাবে বললে প্রমাণ হিসাবে উদ্ধৃতিযোগ্য ধরা হতো। বরং বলা যায়, যারা অসহায়, সম্বলহীন এবং কুরবানি দোওয়ার সামর্থ্য নাই, তবুও সাওয়াব ও প্রতিদান পাওয়ার আগ্রহী, নবীজি (সা.) তাদের পক্ষ থেকেই কুরবানি দিয়েছেন। আর সামর্থ্যবানদের বাধ্যতামূলক ভাবে দিতে হবে।

চতুর্থ সংশয়:
হজরত আবু মাসউদ আনসারি (রা.) বলেন, ‘আমি সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও কুরবানি করি না। এই ভয়ে যে, আমার প্রতিবেশীরা মনে করবে এটা আমার উপর বাধ্যতামূলক।’ (বায়হাকি, সুনান কাবির- ৯/৪৪৫, হাদিস: ১৯০৩৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, ৩য় প্রকাশ, ১৪২৪ হি.। আলবানি বলেছেন, সনদ সহিহ।) [২]

হজরত আবু বাকার, উমার ও ইবনু আব্বাস (রা.) থেকেও ইত্যাকার বর্ণনা পাওয়া যায়। যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কুরবাবি ওয়াজিব নয়।

নিরসন:
এ হলো সাহাবাদের (রা.) ব্যক্তিগত ইজতিহাদ ও মতামত। সাহাবাদের বক্তব্য প্রমাণযোগ্য, যদি শক্তিশালী প্রমাণ, তথা কুরআন, হাদিস ও কিয়াসের পরিপন্থী না হয়। তাদের এই বর্ণনাগুলো কুরআনের স্পষ্ট আয়াত, একাধিক সহিহ হাদিস ও কিয়াসের বিপরীত। তাই তাদের বর্ণনার উপর ভিত্তি করে কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট ঘোষণার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া যাবে না।

পঞ্চম সংশয়:
কুরবানি যদি ওয়াজিব হতো, তাহলে কুরবানির কাজা আদায় (তথা কেউ তিন দিনের ভেতর কুরবানি করতে না পারলে পরবর্তীতে তা আদায় করা) ওয়াজিব হতো। যেমন, জুমার নামাজ ওয়াজিব। যদি কারো জুমা ছুটে যায়, তার উপর ঐ দিনের জোহর ওয়াজিব। কিন্তু কেউ তিন দিনের ভেতর কুরবানি দিতে না পারলে, পরবর্তীতে কোনো ভাবেই তার কাজা আদায় করতে হয় না। এটা প্রমাণ করে যে, কুরবানি ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নাত।

নিরসন:
এটা একটি ভুল মন্তব্য। হানাফি মাজহাবের বিধান হলো, কেউ সঠিক সময়ে কুরবানি দিতে না পারলে, পরবর্তীতে সে পশু গরিবদের দান করে দিতে হবে বা তার সমমূল্যের অর্থ দান করতে হবে। ইমাম হাসকাফি (রহ.) বলেন, ‘যদি সময় পার হয়ে যায়, তবে পশুটি বা তার সমমূল্যের অর্থ সাদকা করে দিবে।’ (হাসকাফি, দুররু মুখতার- ৯/৫২৪, মাকতাবাতুল আশরাফিয়্যা, দেওবন্দ, ৩য় প্রকাশ, ১৪৪৫-৪৬ হি.)

[১] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি- ১০/৪, মাকতবাতুস সালাফিয়্যা, ১৩৮০ হি.।
[২] আলবানি, ইরওয়াউল গালিল- ৪/৩৫৫, মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত, ২য় প্রকাশ, ১৪০৫ হি.।

25/05/2026

Enjoy the videos and music you love, upload original content, and share it all with friends, family, and the world on YouTube.

25/05/2026

আরাফার রোজা কি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাখবো?

24/05/2026

কোরবানি সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর।
মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ
খতিব : সওদাগর পাড়া জামে মসজিদ, কোয়েপাড়া রাউজান,

23/05/2026

কোয়েপাড়া খেলার ঘাট গরু-ছাগলের ঘাট

23/05/2026

কোয়েপাড়া খেলার ঘাট গরু-ছাগলের হাট

23/05/2026

খেলারঘাট গরু ছাগলের হাট

22/05/2026

কোরবানির ছুটি উপলক্ষে ছাত্রদেরকে বিশেষ নসিহত পেশ করছেন, হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মাদুল্লাহ সাহেব

22/05/2026

কোরবানির ছুটি উপলক্ষে ছাত্রদেরকে বিশেষ নসিহত পেশ করছেন, হেফজ বিভাগীয় প্রধান : হাফেজ মাও: ইয়াসিন আরাফাত

22/05/2026

কোরবানির ছুটি উপলক্ষে ছাত্রদেরকে বিশেষ নসিহত পেশ করছেন, নাজারা বিভাগীয় প্রধান :হাফেজ আব্দুল হামিদ সাহেব

Address

Shuktail
Gopalganj

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ahad Media posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share