27/08/2026
হিমবাহ ধস (পাহাড়ি বা মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বিশাল বরফের স্তরের ধস ) নেপালে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার কারণ হয়ে থাকতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা!
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী একটি উঁচু পার্বত্য উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ পাথর ও বরফের স্রোতের চিহ্ন স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। এই অঞ্চলেই নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে।
সংক্ষেপে
১. বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে উপত্যকার তলদেশে আছড়ে পড়ে থাকতে পারে।
২. স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, আগে সবুজে ঢাকা পাহাড়ি এলাকা এখন ধ্বংসাবশেষ ও পলিতে ঢাকা।
৩. দুর্যোগের আগে উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে তুষার গলেছিল।
৪. ভূমিকম্প বা জলবায়ু পরিবর্তন এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বুধবার তিব্বতের সীমান্তসংলগ্ন নেপালের একটি এলাকায় ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যা সম্ভবত একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে পড়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। হিমবাহের ওই অংশটি কয়েকশ মিটার নিচে উপত্যকার তলদেশে আছড়ে পড়ে। প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এমন ধারণা দিয়েছেন।
হিমবাহটি ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়েছিল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে নেপালি কর্মকর্তারা বলেছেন, ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ওই অঞ্চলে একটি ভূমিকম্প হয়েছিল এবং সেটি সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হতে পারে।
সীমান্তের উভয় পাশের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০টি মরদেহের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ জনেরও বেশি যাত্রী নিখোঁজ ছিলেন।
প্ল্যানেট ল্যাবসের ঘটনার আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবি রয়টার্স পর্যালোচনা করে দেখেছে, আগে ঘন সবুজে ঢাকা পাহাড়ি এলাকা এখন বাদামি রঙের ধ্বংসাবশেষ ও পলির নিচে চাপা পড়েছে।
ভারতের সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ বিক্রম গুপ্ত বলেন,
“এটি নিশ্চিত যে হিমবাহের সম্মুখভাগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে পড়েই এই ঘটনার সূচনা হয়েছে। এর সঙ্গে সম্ভবত প্রচুর পাথর ও পলিও নিচে নেমে এসেছে।”