12/09/2026
ঐ যে তিনি, যিনি এমন একটা গাড়ি মেইনটেইন করেন, যে-টা মিরপুরে ঢুকবেই না, তাকে যদি কেউ পি স্ত ল ঠেকিয়ে ম দ খেতে বাধ্য করে থাকে, তাহলে আমরা অন্তত এটুকু বুঝতে পারি যে, ইনোসেন্ট একটা মেয়ে কেন ভয় পেল!
কিন্তু ফৌজিয়া,
আপনি কেন ভয় পেলেন?
আপনার সামনে তো পি স্ত ল ছিল না। ছিল একটা মোবাইল ক্যামেরা আর একজন ভিউ ব্যবসায়ী। একজন অপেশাদার সাংবাদিক।
আপনি একজন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া পেরিয়ে চাকরিতে এসেছেন। আপনার সামনে X, Y, Z যে-ই মাইক্রোফোন বা মোবাইল ধরুক, আপনি কি উত্তর দিতে বাধ্য?
এমনকি আপনি ভুল করে থাকলেও!
অপরাধ করে থাকলেও!
আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও!
আপনার জবাবদিহির জায়গা হলো আপনার প্রতিষ্ঠান, আপনার কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। তদন্তকারী সংস্থা আছে।
আর একটা কথা। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আছেন কি জন্য? তিনিই তো বিষয়টার সহজ সমাধান করে ফেলতে পারতেন। অনুমতি ছাড়া এমন সংবেদনশীল জায়গায় একজন সাংবাদিক ঢুকে কিভাবে? এতজন ব্যাংককর্মকর্তার সামনে তাদের এক সহকর্মীকে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হলো কেন?
সাংবাদিক প্রশ্ন করতে পারে। সাংবাদিক কিন্তু পুলিশ, আদালত অথবা বিচারক না। কেউ জেরা করলেই, আপনাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করলেই আপনি সেই সুযোগ তাকে কেন দিবেন?
বিশেষ করে নারী employee দের বলি, প্লিজ, শক্ত হন।
ক্যামেরা দেখে ঘাবড়াবেন না। একসঙ্গে দশজন মানুষ দাঁড়িয়ে গেলেও ভয় পাবেন না। কেউ উচ্চস্বরে প্রশ্ন করলেই উত্তর দেওয়ার তাড়াহুড়ো কেন করবেন?
আপনারও তো হাতে মোবাইল আছে। বিনা অনুমতিতে যে কেউ আপনার ভিডিও ধারণ করতে কি পারে?
আপনার কোনো ভুল হয়ে থাকলে আপনার প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নেবে। অপরাধ হয়ে থাকলে আইন ব্যবস্থা নেবে।
আর আপনি নির্দোষ হলে সেটাও তদন্তেই প্রমাণ হবে। আর নিজের কোন বক্তব্য থাকলে নিজের মোবাইলে রেকর্ড করে সেটা ফেসবুকে দিবেন। প্রচার করার দায়িত্ব জনগণের।
কিন্তু তার আগে নিজেকে এমনভাবে অসহায় করে ফেলবেন না যে একজন অপরিচিত মানুষ ক্যামেরা হাতে সামনে দাঁড়িয়েই আপনাকে চার্জ করতে পারে! অপরিচিত সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আপনার নেই।
এই ঘটনায় দেখলাম সেই সাংবাদিক আরো কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেছে। তারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার ফিরিস্তি দিয়েছে। আদৌ তারা গ্রাহক ছিল কিনা সেটার অবশ্য কোন প্রমাণ নেই। আবার প্রতিবারই গণনায় ভুল পাওয়ার অর্থই এই না যে ব্যাংক কর্মকর্তা ইচ্ছা করে এটা করেছে। হয়তো প্রতিবারই সে অনিচ্ছাকৃতভাবেই ভুল করেছে। সে ক্ষেত্রে তাকে ক্যাশ থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও দায়িত্ব দেওয়া যায়।
আর গ্রাহক টাকা গুছিয়ে কাউন্টারে জমা দেবে। অন্যথা হলে সেটা গ্রাহককে দিয়েই গুছিয়ে নিতে হয়। যে দায়িত্ব আপনার নয় সেটা খামাখা কাঁধে তুলে নিতে যাবেন কেন? Be professional.
আর একজন গ্রাহক যদি বারবার একই বিষয়ে অভিযোগ করে, তাহলে তার অভিযোগটিকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কোনো সমস্যাকে বারবার উপেক্ষা করে সেটিকে আরও জটিল করার চেয়ে, শুরুতেই সমস্যাটির মূল কারণ বুঝে সহজ ও কার্যকর সমাধানই শ্রেয়। যখন ভুল গণনার অভিযোগ এসেই গেছে তখন সবগুলো বান্ডেল নতুন করে কাউন্ট করলেই তো হয়ে যেত! সিসিটিভি পর্যন্ত যাওয়ার পরিস্থিতিটাই তৈরি হতো না।
আজকের দিনে সাংবাদিকতার নামে যেভাবে হঠাৎ মোবাইল-মাইক নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেকোনো সময়, যে কাউকে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।
সহজ কথা হচ্ছে, ভুল হলে তদন্ত হবে। গাফিলতি হলে ব্যবস্থা হবে। আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তি হবে। কিন্তু প্রমাণের আগে একজনকে চো র বানিয়ে জনসম্মুখে উল্লাস করা কোনো ন্যায়বিচার না।
আপনার অধিকার আছে ‘না’ বলার। সব কথার উত্তর ‘হ্যাঁ’ নয়। মাঝে মাঝে একটি ‘না’ জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়। প্লিজ 'না' বলতে শিখুন।
Trust me, ‘না’ বলতে শেখার উপকার অগণিত!
#নারী