02/02/2026
ছোটবেলায় দেখা নির্বাচনগুলো আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সে সময় আমাদের এলাকায় সম্পর্কে নানা শাহাব উদ্দিন মেম্বার পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়তেন। স্মৃতির পর্দায় এখনও স্পষ্ট—আমার মেঝ ভাই লুৎফর, বড় ভাই আয়নাল, গ্রামের খালেক ভাই, খালেক মামা,সাইফুল,দুলাল,সুজল,বেলায়েত,জমির,গোলাব নবী, আজম, রফিকুল, নুরু ভাই, স্বপন মামাসহ আরও অনেকেই, (এর মধ্যে অনেকেই তখন ছাত্র ছিল) সবাই মিলে রাত জেগে প্রতীক বানাতে ব্যস্ত থাকত।
প্রতীক ছিল মাছ। ফরমায়েস দিয়ে বানানো সেই মাছ রঙে রাঙিয়ে সাদা কাগজে চাপ দিলেই তৈরি হয়ে যেত মার্কা। নাম কিংবা অন্য লেখা সবই হাতে লিখতে হতো। রাতের শেষ প্রহরে বালি জাল করে মার্কা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ত সবাই। হাজীপুর, গোয়ালপাড়া, তালুকদারপাড়া, বাইশকাইল, আতরবাড়ি, আকন্দপাড়া, চতিলা, আটাপাড়া, গইজারপাড়া—প্রায় প্রতিটি বাড়ির বেড়ায় কিংবা রশিতে ঝুলে যেত সেই প্রতীক। পুরো গ্রাম যেন নিঃশব্দে জেগে উঠত এক আনন্দময় অপেক্ষায়।
মিছিলের দিন ছিল একেবারে উৎসবের মতো। কোনো হানাহানি নেই, নেই ভয় কিংবা বিভাজন—ছিল শুধু মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর আনন্দ। মিছিল শেষে নানার, অর্থাৎ প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে জমত চা খাওয়ার আসর। চা খাওয়া নিয়েও কত যে হাস্যরস! অনেকে চায়ে অভ্যস্ত নয়, না বুঝে জোরে লম্বা চুমুক—আর সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার! তারপর সবাই মিলে হাসি, ঠাট্টা, নির্মল আনন্দ।
আজকের নির্বাচন আর তখনকার নির্বাচন—দুটোর মাঝে যেন আকাশ-পাতাল তফাৎ। তখন ছিল মানুষের সাথে মানুষের আত্মার সম্পর্ক, ছিল বিশ্বাস আর ভালোবাসার বন্ধন। আজ সেই নির্বাচন হয়তো আছে, নিয়মও আছে—কিন্তু নেই সেই মানুষে-মানুষে হৃদয়ের টান। সেই দিনগুলোর কথা ভাবলেই মনটা কেমন করে ওঠে। আহা, কী যে সুন্দর দিন ছিল তখন!
#বাইশকাইল
#গোপালপুর
#টাংগাইল