07/08/2026
শেষ গান গেয়েই না-ফেরার দেশে বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবী, বাবার চোখের সামনেই নিভে গেল একটি কণ্ঠের আলো
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
কিছুক্ষণ আগেও সুরে-সুরে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিলেন তিনি। মঞ্চজুড়ে ছিল করতালি, ভালোবাসা আর মুগ্ধতার আবেশ। সেই মানুষটিই আর কখনো মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়াবেন না, আর কোনো বাউল সুরে ভরিয়ে দেবেন না মানুষের মন। একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিল বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবীর জীবনের সব সুর।
জানা গেছে, সিলেটে একটি গানের অনুষ্ঠান শেষ করে প্রিয় বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্লিপার বাসে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বাবা-মেয়ে পাশাপাশি বসেছিলেন বাসের সামনের স্লিপার সিটে। হয়তো দু'জনেই ভাবছিলেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনজনদের কাছে ফিরে যাবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—পথেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনার তীব্রতায় বাসের ভেতরেই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান পেহেলি ভৈরবী। যে বাবার হাত ধরে তিনি বড় হয়েছিলেন, সেই বাবার চোখের সামনেই চিরতরে নিভে যায় তার আদরের মেয়ের জীবনের প্রদীপ।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাবাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যে কণ্ঠ কিছুক্ষণ আগেও মানুষকে আনন্দ, ভালোবাসা আর জীবনের গান শোনাচ্ছিল, সেই কণ্ঠ আজ চিরতরে নীরব। একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, অসংখ্য ভক্ত হারিয়েছেন তাদের প্রিয় শিল্পীকে, আর বাংলা লোকসংগীত হারিয়েছে এক সম্ভাবনাময় কণ্ঠ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেমে আসে শোকের ছায়া। ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহশিল্পীরা চোখের জলে স্মরণ করছেন প্রিয় এই শিল্পীকে। কেউই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না—যে মানুষটি কিছুক্ষণ আগেও গান গেয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন, তিনি আজ আর পৃথিবীতে নেই।
মহান আল্লাহ তাআলা মরহুমা পেহেলি ভৈরবীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক বহন করার ধৈর্য দান করুন। আমিন।