AYtv60 আমি আমার রবের উপর ভরসা করি, তিনি আমাকে সব দেন।

23/02/2026

মনের ঘরেতে গজল ছোট শিশুদের কন্ঠে

23/02/2026

প্রেমের ভিকারী ইসলামি সংগীত

07/02/2026

নারি পুরুষ সভাইকে লাগাদার পেটাচ্ছে,

06/02/2026

🔴সরাসরি Live মাওলানা মুফতী জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী সাহেব হবিগঞ্জ,
,

06/02/2026

চলছে সরাসরি Live🔴
🎤মাওলানা জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী সাহেব বানিয়াচং
🕋খতিব রসুল পুর কেন্দ্রীয় সুন্নী জামে মসজিদ

08/01/2026

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لِأَصْحَابِهِ: إِنَّهُ لَمَّا أُصِيبَ إِخْوَانُكُمْ يَوْمَ أُحُدٍ جَعَلَ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ تَرِدُ أَنْهَارَ الْجَنَّةِ تَأْكُلُ مِنْ ثِمَارِهَا وَتَأْوِي إِلَى قَنَادِيلَ مِنْ ذَهَبٍ مُعَلَّقَةٍ فِي ظلِّ العرْشِ فلمَّا وجَدوا طِيبَ مأكَلِهِم ومشرَبِهمْ ومَقِيلهِم قَالُوا: مَنْ يُبلِّغُ إِخْوانَنا عنَا أَنَّنا أَحْيَاءٌ فِي الْجَنَّةِ لِئَلَّا يَزْهَدُوا فِي الْجَنَّةِ وَلَا يَنكُلوا عندَ الحربِ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أَنا أبلغكم عَنْكُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: (وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ)
إِلَى أخر الْآيَات)
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
#ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বল্রন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের ভাইয়েরা যখন উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়, তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের রূহগুলোকে (জান্নাতের) সবুজ পাখির অভ্যন্তরে স্থাপন করেন। আর এ পাখিগুলো জান্নাতের নহরসমূহে বিচরণ করে, জান্নাতের ফল-ফলাদি খায় এবং ’আরশের ছায়ায় স্বর্ণের ফানুসে ঝুলন্তরূপে অবস্থান করে। অতঃপর তারা যখন এরূপ সুমিষ্ট পানীয়, সুস্বাদু খাদ্য ও আরামদায়ক মনোমুগ্ধকর বিশ্রামাগার লাভ করবে, তখন তারা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে বলে উঠবে, এমন কে আছে যে আমাদেরকে ভাইদের নিকট সুসংবাদ পৌঁছিয়ে দেবে, আমরা যে জান্নাতে জীবিত অবস্থান করছি তারা যাতে জান্নাত লাভে অবহেলিত না হয় এবং জিহাদের মাঠে পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে। এমতাবস্থায় তাদের এ আকাঙ্ক্ষার উত্তরে আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি তোমাদের পক্ষ হতে তাদের নিকট সুসংবাদ পৌঁছিয়ে দেব। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন, ’’যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তাদেরকে তোমরা মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে রিযকপ্রাপ্ত হয়’’- (সূরা আ-লি ’ইমরান ৩ : ১৬৯)। (আবূ দাঊদ)[1]

[1] হাসান : আবূ দাঊদ ২৫২০, সহীহ আল জামি‘ ১৫০৫, সহীহ আত্ তারগীব ১৩৭৯।
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

31/12/2025

আবুজেহেল ও তার বউর মজার কাহিনী শুনেন,

28/12/2025

এজিদের বাচ্চারা বয়ানের মধ্যে মাইকের তার কেটে দিলো,শোনেন

10/12/2025

যে আমলে মা ফাতেমার আগে কাঠুরিয়ার স্ত্রী জান্নাতে যাবে

একদিন হযরত মুহাম্মদ সাঃ ফাতেমা রাঃ তালা আনহুকে ডেকে বললেন। হে ফাতেমা! এই মদিনায় এমন একজন কাঠুরিয়ার স্ত্রী থাকে, সে এমন একটি আমল করে, যে আমলের কারণে সে তোমার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
হুজুরে পাক সাঃ এর কথা শুনে হযরত ফাতেমা রাঃ তা'আলা আনহা বললেন, আব্বাজান এটা কিভাবে সম্ভব?
আমি জান্নাতের সকল মহিলাদের সরদারিনি, কিভাবে কোন মহিলা আমার পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে?
জান্নাতে পূর্বে প্রবেশ করার আকাঙ্ক্ষা সকলেরই রয়েছে।
আব্বাজান দয়া করে আপনি আমাকে সেই কাঠুরিয়ার স্ত্রীর ঠিকানা বলুন। আমি যাতে দেখে আসতে পারি সে কি এমন আমল করে,?
যে আমলের কারণে সে আমার পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
মুহাম্মদ সাঃ তখন তাকে বললেন, ফাতেমা আজকে তুমি বাড়ি ফিরে যাও। কিছুদিন পরে আমি তোমাকে ডেকে নেব এবং আমি তোমাকে সেই কাঠুরিয়ার স্ত্রীর ঠিকানা বলে দেব।
হুজুরে পাক সাঃ এর এই কথা শোনার পরে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বাড়ি ফিরে আসলেন। এইভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল।
এর মধ্যে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। একে তো তিনি অসুস্থ, অন্যদিকে একাধারে তিনদিন তার বাড়িতে কোন খাবার ছিল না।
খাবার না খেয়ে এবং অসুস্থতার কারণে হযরত ফাতেমা রাঃ তা'আলা আনহা খুবই দুর্বল হয়ে পড়লেন।
শেরে খোদা হযরত আলীর কাছে তখন কোন অর্থ ছিল না,।
যেটা দিয়ে হযরত আলী কোন খাবার কিনে আনতে পারতো।
তিনদিন অতিবাহিত হবার পরে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর হাতে একটি কাপড় দিয়ে বললেন।
হে আমার প্রিয় স্বামী আপনার হয়তো মনে আছে, আব্বাজান মুহাম্মদ সাঃ আমাদের বিয়ের সময় এই কাপড়টি আমাকে হাদিয়া স্বরূপ দিয়েছিলেন।
এটি অত্যন্ত বরকতময় একটি কাপড়। আমার মন চাচ্ছে না যে, এই কাপড়টি আমি বিক্রি করে দেই।
কিন্তু তারপরেও যেহেতু আমাদের ঘরে তিনদিন যাবত কোন খাবার নেই, তাই আপনাকে এই বরকতময় কাপড়টি আমি দিচ্ছি।
, আপনি এটিকে বাজারে বিক্রি করে এর মূল্য দিয়ে আপনি কিছু খাবার কিনে আনুন।
হযরত আলী রাঃ তা'আলা আনহু হযরত ফাতেমা রাঃ তা'আলা আনহার কাছ থেকে সেই কাপড়টি নিয়ে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বাজারের দিকে রওনা হলো।
তিনি কাপড়টি নিয়ে বাজারে পৌঁছালেন এবং সেটি বিক্রি করার জন্য অনেক ক্রেতাকে দেখালেন।
কিন্তু কাপড়টি অত্যন্ত পুরনো হওয়ায় সেটি কেনার জন্য কেউ আগ্রহ হচ্ছিল না।
এই কারণে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অত্যন্ত নিরাশ হয়ে পড়লেন।
তখন তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ করলেন।
হে রাব্বুল আলামিন এই কাপড়টি অত্যন্ত পুরাতন তাই এটিকে কেনার জন্য কোন ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
আজ তিনদিন যাবত নবীজি সাঃ এর কলিজার টুকরো হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ও হাসান হোসাইন না খেয়ে আছে।
হে রাব্বুল আলামীন! আজকে যদি আমি এই কাপড়টি বাজারে বিক্রি করে, এর মূল্য দিয়ে খাবার কিনে বাড়িতে না যেতে পারি তাহলে আজকেও তাদেরকে না খেয়ে থাকতে হবে।
আপনি এই কাপড়টি কেনার জন্য একজন ক্রেতার ব্যবস্থা করে দিন।
শেরে খোদা হযরত আলী রাঃ এর এই দোয়ার পরে একজন ক্রেতা আগমন করল। এবং সে তাকে প্রশ্ন করল আলী তুমি কি এই কাপড়টি বিক্রি করতে চাও?
আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন জনাব আমি তো এই কাপড়টি বিক্রি করার জন্যই বাজারে নিয়ে এসেছি।
তখন সে বলল কি পরিমাণ অর্থ দিলে তুমি এই কাপড়টি বিক্রি করবে?
শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু জানতেন,
এই কাপড়টি অত্যন্ত পুরাতন এর মূল্য সর্বোচ্চ এক দিরহাম কিংবা দুই দিরহাম হতে পারে।
তাই তিনি কোন দাম না চেয়ে বললেন, জনাব আপনার যা মর্জি তাই প্রদান করুন। আমি নিজ থেকে এই কাপড়টির কোন দাম চাচ্ছি না।
তখন সেই ক্রেতা বলল আমি ছয় দিরাহাম দিয়ে এই কাপড়টি ক্রয় করতে চাই। তুমি কি বিক্রি করতে রাজি আছো?
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা খুশির সাথে রাজি হয়ে গেলেন এবং বললেন জনাব আপনি আমাকে ছয় দিরহাম দিয়ে এই কাপড়টি ক্রয় করতে পারেন।
এরপর ক্রেতা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলাকে ছয় দিরহাম দিল এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাকে সেই কাপড়টি হস্তান্তর করলেন।
ওদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একদল ফেরেশতা অন্য আরেকদল ফেরেশতাকে বলতে লাগলো, নবীজি সাঃ এর সাহাবীরা অত্যন্ত দানশীল তারা সুখে দুঃখে সর্ব অবস্থায় দান করে।
ফেরেশতাদের এই কথা শুনে অপর একদল ফেরেশতা বলল, আল্লাহর নবীর সাহাবীরা দান করে এটা ঠিক কথা। কিন্তু তারা সুখে দুঃখে সবসময় দান করে না।
তাদের হাতে যদি কিছু থাকে তাহলেই তারা দান করে এবং তাদের হাতে থাকা জিনিসটার প্রয়োজন যদি তাদের নিজেদের থাকে তখন তারা সেই জিনিসটি দান করে না।
ফেরেশতাদের এই ঝগড়ার সমাধান করতে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে বললেন। হে আমার ফেরেশতা তোমরা পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া না করে। এই বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য শেরে খোদা আলীর কাছে চলে যাও।
সে ছয় দিরাহাম দিয়ে একটি কাপড় বিক্রি করেছে আর এই ছয় দিরাহাম তার অত্যন্ত প্রয়োজন।
তোমরা আলীর কাছে সেই ছয় দিরাহাম চেয়ে দেখো সে তোমাদেরকে দেয় কিনা? আর এর মধ্যেই তোমাদের ঝগড়ার সমাধান হয়ে যাবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ লাভের পরে, একজন ফেরেশতা ফকির বেশে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে আগমন করলেন।
শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেই ছয় দিরহাম দিয়ে খাবার কিনতে যাচ্ছিলেন।
ইতিমধ্যে ফকির বেশে সেই ফেরেশতা বললেন, হে আল্লাহর বান্দা আমি কয়েকদিন যাবত না খেয়ে রয়েছি।
দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার কারণে আমার শরীরে সামান্যতম নড়াচড়া করার শক্তি নেই। আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমার কাছে কিছু ফরিয়াদ করছি। যদি তোমার কাছে কোন অর্থ থাকে দয়া করে আমাকে সেগুলি দান করো।
যাতে সেই অর্থ দিয়ে আমি খাবার কিনতে পারি এবং আমার ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করতে পারি।
ফকিরের এই প্রার্থনা শুনে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ভাবতে লাগলেন। হে আল্লাহ আজ তিনদিন যাবত আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা না খেয়ে রয়েছে। তিনদিন পরে আমার স্ত্রী ফাতেমা আমাকে একটি কাপড় বিক্রি করতে দিলেন।
বলা ছিল সেই কাপড় বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে আমি তাদের জন্য কিছু খাবার কিনে নিয়ে যাব। কিন্তু এখন আল্লাহর এক অসহায় বান্দা আমার কাছে ভিক্ষা প্রার্থনা করছে। এখন আমি কি করব?
আমি কি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য খাবার কিনে নিয়ে যাব?
নাকি এই ভিক্ষুক দান করে দিবো?
সর্বশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে এই অর্থগুলি ভিক্ষুকে দান করে দেবেন।
অতঃপর তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন, আল্লাহ আমার উত্তম অভিভাবক। এই ভিক্ষুককে আমি ছয় দিরহাম দান করে দেই।
অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে দেবেন।
তখন তিনি সেই ছয় দিরহাম ভিক্ষুককে দান করে দিলেন।
এরপর অত্যন্ত চিন্তিত এবং পেরেশান মনে হযরত আলী সামনের দিকে চলতে লাগলেন।
ইতিমধ্যে দেখা গেল এক ব্যক্তি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে একটি লাল ঘোড়া নিয়ে আসলো।
এবং সে তাকে বলল হে শেরে খোদা আলী আপনি কি আমার কাছ থেকে এই লাল ঘোড়াটি কিনতে চাচ্ছেন?
তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, ভাই আমি কিভাবে এই ঘোড়াটি আপনার কাছ থেকে কিনবো? আমার হাতে তো কোন অর্থ নেই?
তখন সেই ব্যক্তি বলল হে শেরে খোদা হযরত আলী, আমি বাকিতে আপনার কাছে এই ঘোড়াটি বিক্রি করব।
আপনি এই ঘোড়াটি নিয়ে ব্যবসা করুন। এরপর ব্যবসায় লাভ হলে আমার মূল্য আমাকে চুকিয়ে দেবেন।
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন ভাবলেন, যেহেতু বাকিতে তিনি আমাকে এই ঘোড়াটি বিক্রি করতে চাইছে তাহলে তা নিতে আমার সমস্যা কোথায়?
অতঃপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, আপনি কত দিরহামের বিনিময়ে এই ঘোড়াটি বিক্রি করবেন?
সেই ব্যক্তিটি বললেন আমি 100 দিরহামের বিনিময়ে এই ঘোড়াটি আপনার কাছে বিক্রি করলাম।
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেই ঘোড়াটি 100 দিরহামের বিনিময়ে তার কাছ থেকে কিনে নিল।
এরপর ঘোড়াটি বিক্রি করার জন্য বাজারে নিয়ে গেল। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যখন সেই ঘোড়াটি বিক্রি করার জন্য বাজারে নিয়ে গেলেন।
তখন এক ব্যক্তি এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে শেরে খোদা হযরত আলী আপনি কি এই ঘোড়াটি বিক্রি করতে চান?
তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন ভাই আমি তো এই ঘোড়াটি বিক্রি করার জন্যই বাজারে নিয়ে এসেছি।
সেই ব্যক্তিটি বললেন আপনি কত দিরহামের বিনিময়ে এই ঘোড়াটি বিক্রি করতে চান?
আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিজের থেকে কোন দাম না বলে, সেই ব্যক্তিকে বললেন আপনি কত দিরহামের বিনিময়ে এই ঘোড়াটি কিনতে পারবেন?
সেই ব্যক্তিটি বলল আমি 160 দিরহামের বিনিময়ে আপনার কাছ থেকে ঘোড়াটি কিনতে চাই। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু চিন্তা করলেন।
আমি তো এই ঘোড়াটি 100 দিরহামের বিনিময়ে কিনেছি, আর তিনি আমাকে মূল্য দিতে চাইছেন 160 দিরহাম।
অতএব এতে আমার 60 দিরহাম লাভ হবে। তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন। ভাই আমি আপনার কাছে 160 দিরহামের বিনিময়ে এই ঘোড়াটি বিক্রি করে দিলাম।
সেই ব্যক্তিটি 160 দিরহামের বিনিময়ে হযরত আলীর কাছ থেকে সেই ঘোড়াটি কিনে নিলেন।
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যে ব্যক্তির কাছ থেকে সেই ঘোড়াটি কিনেছিলেন, তাকে 100 দিরহাম পরিশদ করার পরেও তার কাছে রয়ে গেল 60 দিরহাম।
তিনি ছয় দিরহাম আল্লাহর রাস্তায় দান করেছিলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার বিনিময়ে তাকে 10 গুণ বৃদ্ধি করে 60 দিরহাম ফেরত দিলেন।
অতঃপর সেই 60 দিরহামের বিনিময়ে শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বিপুল পরিমাণ খাদ্য কিনে বাড়ির পথে রওনা হলেন।
যখন তিনি বিপুল পরিমাণে খাদ্য কিনে বাড়িতে ফিরে আসলেন। তখন হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তাকে বললেন।
হে আলী আমি আমি তোমাকে যে কাপড়টি বিক্রি করতে বলেছিলাম, সেই কাপড়ের মূল্য দিয়ে তো এত পরিমাণ খাবার কেনা সম্ভব নয়। তাহলে তুমি এত খাবার কেনার অর্থ কোথায় পেলে?
তুমি আগে আমাকে এই কথা বলো, তারপরে আমার বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবে।
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, ফাতেমা আগে আমি বাড়িতে প্রবেশ করি।
তারপরে না হয় আমি তোমাকে প্রকৃত ঘটনা খুলে বলবো।
কিন্তু হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তাকে বললেন, আগে আপনি প্রকৃত ঘটনা খুলে বলুন। তারপরেই আপনি বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবেন।
শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, ফাতেমা তুমি তো ভালো করেই জানো। যে তোমার স্বামী হযরত আলী কোনদিনই কোনভাবেই অবৈধ অর্থ উপার্জন করতে পারে না।
আমি যে পন্থায় এই অর্থগুলি উপার্জন করেছি, তা সম্পূর্ণ বৈধ একটি পন্থা। অতএব এই ব্যাপারে তোমার সন্দেহ করার কোন কারণ নেই।
কিন্তু হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর এই কথাগুলি তেমন ভাবে বুঝতে চাইছিলেন না।
হযরত আলী ও হযরত ফাতেমার মাঝে এই ঘটনা ঘটার কিছুদিন পরে, নবী পাক সাঃ হযরত ফাতেমাকে তার দরবারে ডাক দিলেন।
অতঃপর তিনি তাকে বললেন হে ফাতেমা তোমার কি মনে আছে আমি কিছুদিন পূর্বে তোমাকে বলেছিলাম, একজন কাঠুরিয়ার স্ত্রী তোমার পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে?
হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন, আব্বাজান অবশ্যই আমার মনে আছে এবং আমি সেই কাঠুরিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অধীর আগ্রহে ব্যাকুল হয়ে আছি।
দয়া করে আপনি আমাকে তার ঠিকানা বলুন, যাতে আমি দেখে আসতে পারি।
সেই কাঠুরিয়ার স্ত্রী কি এমন আমল করে? যার কারণে সে আমার পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তখন মুহাম্মদ সাঃ তাকে বললেন, হে ফাতেমা কোন এক নির্জন জঙ্গলের মাঝে সেই কাঠুরিয়া ও তার স্ত্রী বসবাস করে। তুমি যাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসো।
রাসূল সাঃ এর কাছ থেকে সেই কাঠুরিয়ার স্ত্রীর ঠিকানা পেয়ে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য রওনা হলেন।
যখন তিনি কাঠুরিয়ার বাড়িতে এসে পৌঁছালেন, তখন হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা সালাম দিয়ে বললেন, বাড়িতে কি কেউ আছেন?
আমি নবীর মেয়ে হযরত ফাতেমা বলছি। আমি কি বাড়ির ভিতরে আসতে পারি? বাড়ির ভিতর থেকে আওয়াজ আসলো আমি পরম সৌভাগ্যবান! যে আমার বাড়িতে নবীর মেয়ে হযরত ফাতেমা আগমন করেছেন।
হে আল্লাহর নবীর মেয়ে আপনি বলুন, কেন আমার বাড়িতে আগমন করেছেন?
তখন হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন, আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই। দয়া করে আমাকে ভিতরে আসতে দিন।
তখন কাঠুরিয়ার স্ত্রী বলল হে আল্লাহর নবীর মেয়ে, হে জান্নাতের সর্দারিনী, আপনার সাথে দেখা করার একটা ইচ্ছা ও আগ্রহ আমার মনেও রয়েছে।
কিন্তু তারপরেও আমি আপনাকে ঘরে আসার অনুমতি দিতে পারি না। কেননা এটি আমার স্বামীর ঘর, আর আমি আমার স্বামীকে না বলে কোন মানুষকেই ঘরে ঢোকার অনুমতি দিতে পারি না।
দয়া করে আপনি আগামীকালকে আসবেন। আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে আপনার ব্যাপারে অনুমতি নিয়ে রাখবো।
যদি আমার স্বামী অনুমতি দান করেন তবেই কেবল আপনাকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দিতে পারি। কাঠুরিয়ার স্ত্রীর কাছ থেকে এই কথা শোনার পরে, হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বাড়িতে ফিরে গেলেন।
দ্বিতীয় দিন যখন তিনি কাঠুরিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হবেন। তখন হাসান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আম্মাজান আপনি কালকে কোথায় গিয়েছিলেন? আপনাকে আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
আম্মাজান আপনি যেখানে যাচ্ছেন দয়া করে আমাকেও আপনার সাথে নিন। হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা, তখন তার বড় পুত্র হযরত হাসানকে তার সাথে নিলেন।
এরপর তিনি কাঠুরিয়ার স্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। অতঃপর সালাম দিয়ে বললেন বাড়িতে কি কেউ আছেন?
আমি নবীর মেয়ে ফাতেমা বলছি এবং আমার সাথে আমার বড় পুত্র হাসান রয়েছে, আমি কি বাড়ির ভিতরে আসতে পারি?
ভিতর থেকে আওয়াজ দিয়ে কাঠুরিয়ার স্ত্রী বলল, হে নবীর মেয়ে ফাতেমা। আপনার সাথে দেখা করার আগ্রহ আমার মনেও রয়েছে। গতকালকে আমার স্বামীর কাছ থেকে আপনার ব্যাপারে অনুমতি নিয়েছিলাম।
কিন্তু আপনার সাথে আপনার যে বড় পুত্র হাসানকে নিয়ে এসেছেন তার ব্যাপারে আমার স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করিনি।
এই কারণে আমি আপনাকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দিতে পারি। কিন্তু আপনার পুত্র হাসানকে অনুমতি দিতে পারি না।
দয়া করে আপনি আগামীকাল আসবেন। আপনার পুত্র হাসানের ব্যাপারে আমার স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাখবো।
কাঠুরিয়ার স্ত্রীর কাছ থেকে এই কথা শোনার পর, হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা আবারো বাড়ি ফিরে গেলেন।
পরের দিন আবারো তিনি যখন কাঠুরিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা করবেন, তখন তার ছোট ছেলে হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন।
আম্মাজান আপনি দুইদিন ধরে কোথাও যাচ্ছেন, আমি আপনাকে খুঁজে পাচ্ছি না।
আজকে আপনি আমাকেও সঙ্গে নিয়ে যান। হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তখন দুই পুত্র হযরত হাসান ও হোসাইনকে সঙ্গে নিয়ে আবারো সেই কাঠুরিয়ার বাড়িতে গেলেন।
বাইরে থেকে তিনি সালাম দিয়ে বললেন বাড়িতে কি কেউ আছেন? আমি নবীর মেয়ে ফাতেমা বলছি এবং আমার সাথে আমার দুই পুত্র হাসান এবং হোসাইন রয়েছে।
বাড়ির ভিতর থেকে কাঠুরিয়ার স্ত্রীর আওয়াজ দিয়ে বললেন।
হে নবীর মেয়ে ফাতেমা আপনার সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা আমার মনের মধ্যে রয়েছে। গতকালকে আপনার ব্যাপারে এবং আপনার বড় ছেলে হাসানের ব্যাপারে আমার স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি।
কিন্তু আপনার ছোট ছেলে হোসাইনের ব্যাপারে আমার স্বামীর কাছ থেকে কোন অনুমতি গ্রহণ করিনি। দয়া করে আজকেও আপনি ফিরে যান এবং আগামীকালকে আপনি আসবেন।
আগামীকালকে আপনাদের তিনজনের ব্যাপারেই আমি অনুমতি গ্রহণ করে রাখবো। কাঠুরিয়ার স্ত্রীর এই কথা শোনার পর হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা আবারো বাড়িতে ফিরে এলেন।
পরের দিন ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা আবারো সেই কাঠুরিয়ার স্ত্রীর বাড়িতে আসলেন। তখন তাকে কাঠিরিয়ার স্ত্রী ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দিল।
হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ঘরে প্রবেশ করে দেখল। কাঠুরিয়ার স্ত্রী বসে আছে। আর তার সঙ্গে রাখা আছে একটি লাঠি একটি মোটা দড়ি আর একটি পাত্রে পানি।
এগুলি দেখে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এগুলি নিয়ে বসে আছেন কেন?
সারাদিন পরিশ্রম করার পরে যখন আমার স্বামী বাড়িতে ফিরবে তখন হয়তো তার অযু করার প্রয়োজন হবে।
অথবা তার পানি পান করার প্রয়োজন হবে। আমি চাই না আমার ক্লান্ত স্বামী পানির জন্য সামান্যতম কষ্ট পাক।
যাতে পানির প্রয়োজন হবার সাথে সাথেই আমি তার কাছে পানি পৌঁছে দিতে পারি।
এই কারণেই আমি পানি নিয়ে বসে আছি। হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা আবার জিজ্ঞেস করলেন। হে বোন তাহলে এই লাঠি নিয়ে বসে আছো কেন? তাছাড়া এই দড়ির কি প্রয়োজন?
কাঠুরিয়ার স্ত্রী তখন উত্তর দিল, আমার স্বামী যদি কোন কারণে আমার উপর অসন্তুষ্ট হয় এবং আমাকে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছে করে। তখন তার প্রয়োজন হবে একটি লাঠি এবং আমাকে বেঁধে যাতে শাস্তি দিতে পারে তার জন্য প্রয়োজন হবে একটি দড়ি।
আমি চাই না এই জিনিসগুলি খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে আমার স্বামী কোনরকম কষ্ট হোক। সেই জন্য আমার সামনে এই জিনিসগুলো নিয়ে বসে আছি।
যখনই আমার স্বামী আমাকে কোন কারণে শাস্তি দিতে চাইবে। তখনই তার সামনে লাঠি এবং দড়ি আছে। যাতে তিনি আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে শাস্তি দিতে পারেন।
হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা কাটোরিয়ার স্ত্রীর স্বামী ভক্তি দেখে বিস্ময় হতবাক হয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি তাকে আর কিছু না বলে নবী কারীম সাঃ এর দরবারে ফিরে আসলেন।
রাসূল সাঃ ফাতেমাকে বললেন, ফাতেমা তুমি কি সেই কাটুরিয়ার স্ত্রীর সাথে দেখা করে এসেছো?
ফাতেমা বললেন আব্বাজান হ্যাঁ! আমি তার সাথে দেখা করে এসেছি।
নবী কারীম সাঃ বললেন তুমি কি দেখেছো?
হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তখন বললেন। সেই মেয়েটি অত্যন্ত স্বামী ভক্ত।
তখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ফাতেমা তার কাছ থেকে তোমার শেখার অনেক কিছু রয়েছে।
হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তখন বললেন। আব্বাজান আমি তার কাছ থেকে কি কি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি? এবং সে কিভাবে আমার পূর্বে জান্নাতে যাবে?
এই ব্যাপারটি আমাকে বুঝিয়ে বলুন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন হে ফাতেমা শোনো। তুমি কিছুদিন আগে তোমার স্বামী আলীকে একটি পুরাতন কাপড় বিক্রি করার জন্য দিয়েছিলে।
হযরত আলী সেই কাপড় বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে তোমাদের জন্য অনেক খাবার কিনে এনেছিল। কিন্তু তুমি সন্দেহ করেছিলে যে হযরত আলী এগুলি বৈধ উপার্জন করেছে কিনা?
এইজন্য তুমি তোমার স্বামীকে ঘরে প্রবেশ করতে দাওনি এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করার মাধ্যমে তাকে কষ্ট দিয়েছিলে।
অথচ তুমি জানতে তোমার স্বামী হযরত আলী কোনদিনই কোন অবৈধ পথে উপার্জন করে না।
হে ফাতেমা তুমি যখন আলীকে সেই কাপড়টি বিক্রি করার জন্য দিয়েছিলে হযরত আলী তার জন্য কোন ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছিল না। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার ফেরেশতা মিকাইলকে সেই কাপড়টি কেনার জন্য পাঠিয়েছিলেন।
আল্লাহর ফেরেশতা মিকাইল সেই কাপড়টি আলীর কাছ থেকে ছয় দিরহামের বিনিময়ে কিনেছিল।
এরপর আরেকজন ফেরেশতা এসে হযরত আলীর কাছ থেকে সেই ছয় দিরহাম ভিক্ষা প্রার্থনা করে।
আলী সেই ছয় দিরহাম আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেয়।
অতঃপর সে চিন্তিত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসছিল,।
এমন সময় ফেরেশতা জিব্রাইল তার কাছে একটি লাল ঘোড়া 100 দিরহামের বিনিময়ে বাকিতে বিক্রি করে।
হযরত আলী সেই ঘোড়াটিকে নিয়ে বাজারে যায় এবং ইসরাফিল ফেরেশতা হযরত আলীর কাছ থেকে সেই ঘোড়াটি 160 দিরহামের বিনিময়ে কিনে নেয়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছয় দিরহামের বিনিময়ে হযরত আলীকে 10 গুণ বৃদ্ধি করে 60 দিরহাম দিয়ে দেয় এবং সেই অর্থগুলো দিয়েই হযরত আলী তোমাদের জন্য বিপুল পরিমাণ খাবার কিনে এনেছিল।
ফাতেমা শুনে রাখো যে কাপড়টি হযরত আলী বিক্রি করেছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই কাপড়টি জান্নাতে সংরক্ষণ করে রেখেছে।
এবং যে ঘোড়াটি দিয়ে হযরত আলী ব্যবসা করেছিল সেই ঘোড়াটিও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জান্নাতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
কাল কিয়ামতের দিন তুমি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন তুমি সেই ঘোড়ার উপরে থাকবে এবং সেই কাপড়টি হবে ঘোড়ার লাগাম।
আর সেই লাগামটি ধরে থাকবে ওই কাঠুরিয়ার স্ত্রী। লাগামটি ধরে রাখার কারণেই সে তোমার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এবং তুমি তারপরে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
কাঠুরিয়ার স্ত্রীর অতুলনীয় স্বামী ভক্তি হলো তার এই মর্যাদা প্রাপ্তির একমাত্রই কারণ।

26/09/2025

রাসুলুল্লাহ সাঃ শিশু কাল কেমন ছিলো
#মক্কা নগরী থেকে: শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে তায়েফ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই ইতিহাসেও তায়েফ অধ্যায়ের কথা আলোচনা হয়েছে নানাভাবে, নানা প্রসঙ্গে।

নবী করিম (সা.) তায়েফ শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে বনু সাদ অঞ্চলে দুধমায়ের ঘরে লালিতপালিত হন। পরে তিনি নবুওয়তপ্রাপ্ত হলে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তায়েফ যান।


#তৎকালীন আরবের, বিশেষ করে মক্কার প্রথানুযায়ী সম্ভ্রান্ত পরিবারের শিশুসন্তানদের জন্মের পর মরুভূমির মুক্তাঞ্চলে লালনপালনের ব্যবস্থা করা হতো। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আট দিন মতান্তরে দশ দিন বয়সের সময় বনু সাদ গোত্রের হালিমা সাদিয়া তাকে লালনপালনের জন্য তার মা আমেনার কাছ থেকে নিয়ে আসেন।


দুধমা হালিমা যখন হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) তার ঘরে নিয়ে আসেন তখন পাঁচ বছর বয়সী সায়মা নামে তার এক কন্যাসন্তান ও আবদুল্লাহ নামে একজন দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান ছিলো। নবী করিম (সা.) কে লালনপালনের বিষয়ে সায়মা তার মাকে সাহায্য করতেন।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে গোসল করানো এবং বাইরে হাঁটাচলা করানোর দায়িত্ব সায়মা যত্ন ও পরম স্নেহের সঙ্গে সম্পাদন করতেন।

এমনই এক গাছের নিচে চাক করা হয়েছিলো মহানবী সা. এর সীনা।
#হজরত হালিমার ঘরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের পর পরিবারটির দারিদ্র্যবস্থা দূর হয়ে স্বাচ্ছন্দ্য আসতে থাকে। তা ছাড়া দুধমা হালিমা লক্ষ করলেন, যেদিন মা আমেনা শিশু মুহাম্মদকে তার কাছে অর্পণ করলেন, সেদিন তার স্তন দুধে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। তিনি মক্কা থেকে তায়েফ ফেরার পথে লক্ষ করলেন, নবী করিম (সা.) কে বহনকারী অপেক্ষাকৃত দুর্বল উটটি অপরাপর সবল উটের চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে চলছিলো। নিজ বাড়িতে ফেরার পর তিনি দেখলেন, তার মেষ ও দুম্বাগুলোর ওলান দুধে ভরপুর।

সময় তার স্বাভাবিক গতিতে চললেও হালিমার কাছে মনো হলো, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে লালনপালনের দুই বছর যেন খুব দ্রুতই পার হয়ে গেছে।

রীতি অনুযায়ী নবী করিম (সা.) কে তার মা আমেনার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় হলে দুধমাতা হালিমা, দুধভাই আবদুল্লাহ ও দুধবোন সায়মা খুবই দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন।

ঐতিহাসিকরা লেখেন, দুগ্ধপালনরত শিশু মুহাম্মদ (সা.) কে তার স্তন হতে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় মা হালিমার কান্না, আবেগ ও ভালোবাসায় অভিভূত হয়ে মা আমেনা তাকে আরও কিছুকাল তায়েফের বনু সাদ অঞ্চলে লালনপালনের জন্য আবার তার কাছে অর্পণ করেন।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তায়েফের বনু সাদ অঞ্চলে মা হালিমার যে দু’টি ঘরে লালিতপালিত হয়েছিলেন, সে দু’টি ঘরের অস্তিত্ব পাহাড়ের পাদদেশে এখনও বিদ্যমান। এখন পাহাড়ের ওপরে মানুষের বসতি থাকলেও, পাহাড়ের পাদদেশে কোনো বসতি নেই।

ছোটচেলায় এ পাহাড়ে খেলতেন মহানবী সা.। ছবি: মুফতি এনায়েতুল্লাহ ঘর দু’টির চার দিকের দেয়াল পাথর দিয়ে ঘেরাও করা। যার আয়তন দৈর্ঘ্যে ১৪ ফুট ও প্রস্থে ৬ ফুট। ঘর দু’টির ছাউনি বর্তমানে নেই।

আগেরকার আরবদের ঘরের ওপর খেজুরপাতার যে ধরনের ছাউনি থাকত, এ দু’টি ঘরের ওপরও অনুরূপ ছাউনি ছিলো। কালের বিবর্তনে সেগুলো হারিয়ে গেছে, আর হারিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

হজরত হালিমার ঘর দু’টি দেখার জন্য প্রতিদিন সেখানে প্রচুর মানুষের আগমন ঘটে। তবে সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশের লোকজনের আগ্রহই বেশি। কোনো আরবকে সেখানে খুব একটা যেতে দেখা যায় না।

তাদের যুক্তি, হ্যাঁ হতে পারে নবী করিম (সা.) এখানে জীবনের একটি অংশ কাটিয়েছেন। কিন্তু সেই স্থানের সঙ্গে তো ইসলামের কোনো বিধান সম্পৃক্ত নয়। সেখানকার কোনো ফজিলত বা মাহাত্ম্যের কথা আলাদাভাবে নবী করিম (সা.) বলে যাননি। তাই সেই জায়গাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার কোনো অবকাশ নেই। তাহলে ওই জায়গাকে ঘিরে নানা ধরনের নতুন নতুন কর্মকাণ্ড ঘটতে থাকবে। যার অনুমোদন ইসলামে নেই।

তারপরও মানুষ দলবেঁধে যান হালিমার বাড়ি দেখতে। স্থানটি তায়েফ শহর থেকে বেশ দূরে। অবশ্য রাস্তা ভালো হওয়ায় সময় বেশি লাগে না। সেখানে আসা-যাওয়ার জন্য ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস এমনকি বড় বাসও মেলে।

পাথরের ঘেরাও দিয়ে ঘর দু’টির মেঝেতে জায়নামাজ বিছানো রয়েছে। দর্শনার্থীদের অনেকে সেখানে শোকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা আদায়স্বরূপ নফল নামাজ আদায় করেন।

মহানবী সা. এর শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত পাহাড়। ছবি: মুফতি এনায়েতুল্লাহহালিমার বাড়ির পেছনে পাহাড়ের ঢালে একটি বিশাল জায়গা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখা আছে। মানুষজন বলেন, এখানে নবী করিম (সা.) দুধ ভাইবোনদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন এবং মেষ চরাতেন। সেখানে দেখা গেলো, সবুজ ঘাসের সমারোহ, একপাশে ভুট্টা চাষ হচ্ছে।

মেষ চরানোর জায়গা থেকে বেশ দূরে একটি পাহাড়ি গাছের নিচে মানুষের ভিড়। এখানেও জায়নামাজ বিছানো আছে, মানুষ গাছের নিচে বসে আসেন। ঠিক এই গাছটি নয়, তবে ওখানে একটি গাছের নিচে নবী করিম (সা.)-এর সিনা চাক করার ঘটনা ঘটেছিল।

পাহাড়ি ঢালুপথ বেয়ে নিচে নেমে দেখলাম, অনেক আবেগি মানুষ সেখানে থাকা গাছটির ছাল নিতে নেতে ন্যাড়া বানিয়ে ফেলছে। অনেকে আবার সেথানে আতর ঢেলে দিচ্ছে, কিছু দূরে একটি ঝোপের কাছে দেখলাম এক পাকিস্তানি বসে আতর বিক্রি করছে। কাছে গিযে বললাম, ‘ভাইলোগ! তুম ইধারভি আগায়া পায়সা কামানেকে লিয়ে?’ ক্রুদ্ধদৃষ্টিতে তাকিয়ে পলিথিনে আতরের পসরা নিয়ে উঠে গেলো সে।

পাহাড়ের পাদদেশে ঝিরঝিরে ঠাণ্ডা বাতাস আলতো করে দোলা দিচ্ছে নাম না জানা গাছের পাতাগুলোকে। আমাদের স্মৃতিতে একে এক ভেসে উঠতে থাকে, এই সেই উপত্যকা যেখানে নবী শিশু জীবনের প্রায় পাঁচটি বছর কাটিয়েছেন।

হ্যাঁ, হতে পারে চিহ্নিত করে রাখা হালিমার ঘর সেই আদিকালের ঘর নয়। কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এখানে বনু সাদের লোকজনের বাস ছিলো। সুতরাং সঙ্গতকারণেই, স্থানটির সঙ্গে মুসলমানদের আবেগ জড়িয়ে আছে, জড়িয়ে ইতিহাসের একটি বিশাল অংশও।

Address

Habiganj Sadar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AYtv60 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category