06/08/2024
সমন্বয়কদের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা ধরে নেই সকল বাধা পেরিয়ে এমন একটা পর্যায় আসবে যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলবে। বিএনপি তার মতো করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিক, হোফাজত তার মতো করে, বাম দলগুলো তাদের মতো করে, জামাত তাদের মতো করে, এভাবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো যার যার পরিকল্পনা সাজাবে। তাতে আমাদের সমস্যা নেই।
তারপর আমাদের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদেরকেও একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রের কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং লেখকরা হবেন এই দলের উপদেষ্টা। তারপর জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের বিপরীতে তারা ২৫-৩০ বছর বয়সী ৩০০ জন স্মার্ট, তরুণ ছেলেমেয়েকে দল থেকে মনোনয়ন দিবে। আমার বিশ্বাস যে Gen Z বন্দুকের মুখে দাড়িয়ে স্বৈরাচার পতন করতে পেরেছে, সেই জেনারেশনই রাষ্ট্র চালানোর পূর্ণ যোগ্যতা রাখে। কিংবা এটাতে বিতর্ক থাকলে একটা নির্দিষ্ট পারসেন্টেজ তরুণদের জন্য বরাদ্দ রেখে বাকিগুলো আসনে সৎ, যোগ্য, এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন সিনিয়র সিটিজেনকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। বিদেশে অবস্থানরত অনেক অরাজনৈতিক শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানীরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
তারপর দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া এই তরুণরা নিজ নিজ এলাকায় যাবে। তাদের সাথে ঐ নির্বাচনী এলাকার সকল তরুণ যোগ দিবে। তারপর চলবে Door to Door ক্যাম্পেইন।
সবাই মিলে জনগণকে বোঝাবে রাজনীতি কী, কেন রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরী, কেন রাজনীতিতে তরুণরা আসা আবশ্যক, কেন রাষ্ট্রের আগাগোড়া সংস্কার জরুরি ইত্যাদি ইত্যাদি সহজ করে বোঝাবে। যেভাবে আমরা টিউশনিতে একজন স্টুডেন্টকে বুঝাই। আলুর দাম কেন ৮০ টাকা হয়, টাকা পাচারে কেন মুদ্রাস্ফীতি হয়, মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা কেন জরুরী, নির্বাচনী প্রচারণায় পকেটে পকেটে টাকা দিলে কেন ক্ষতি হয় ইত্যাদি হাতে কলমে বোঝাবে।
এভাবে নিজ নিজ আসনে জনসংযোগ বাড়ানোর পর তরুণরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের জন্য কী কী করবে, কী কী পলিসি নিবে, সবগুলো সেক্টরে কোন ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করবো ইত্যাদি বুঝাবে। জনগণ এই তরুণদের কথা মুগ্ধ হয়ে শুনবে। আর বলবে আওয়ামী,বিএনপি, বাম, হেফাজত কোনটাই নয় বরং তোমদেরই এতোদিন আমরা চেয়েছিলাম। কী সুন্দর করে গুছিয়ে, যুক্তি দিয়ে কথা বলো তোমরা। ঠিক যেভাবে কোটা আন্দোলনে মিডিয়ায় তরুণরা বক্তব্য দিয়েছিলো।
তারপর সারা বাংলায় তরুণদের রাষ্ট্র সংস্কারের নীতিমালা নিয়ে হইচই উঠবে, মিডিয়া প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে, দেশ থেকে দেশ তারপর বিদেশেও তরুণদের নিয়ে দারুণ আলোচনা হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে তারুণ্যের বৈষম্য বিরোধী দল জনগণের কাছে সবচেয়ে বেশি লেজিট মনে হবে, সবচেয়ে বেশি আকাঙ্ক্ষিত মনে হবে।
তারপর একেক করে নির্বাচন ঘনিয়ে আসবে, তারপর বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মতো নির্বাচনী ডিবেট দেখবে। ডিবেট দেখতে জনগণের ঢল নামবে। ট্রাকে, বাসে, মটর সাইকেলে স্লোগান দিতে দিতে জনগণ রাজপথ আসবে। আর তারুণ্যের ডিবেট দেখে মানুষ মনমুগ্ধ হবে। সার্জিস এর যুক্তিনির্ভর বক্তব্য শুনে সারাবাংলা বিমোহিত হবে, নাহিদ এর পলিসি ব্রিফ নিয়ে জনগণ মেতে উঠবে, আসিফ আর রিফাত রাশিদ এর অগ্নি ঝরা বক্তব্যে মঞ্চ কেপে উঠবে। এভাবে মিডিয়া, টেলিভিশনে ফুলঝুরি ছুটবে রাফি, রনি, তাবাসসুম সহ সকলের মুখে। মিডিয়ার সামনে সাইয়েদ আবদুল্লাহর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং আলোড়ন তৈরি করবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পর্ক হবে সহনশীলতার, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না, Political Blame Game থাকবে না।
এভাবে একদিন দুইদিন করে করে ভোটের দিন চলে আসবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ফেয়ার
ইলেকশনটি অনুষ্ঠিত হবে। কোন সহিংসতা থাকবে না, দেশীয়-আন্তর্জাতিক মিডিয়া উপস্থিত থাকবে, পুলিশ-বিজিবি-সেনাবাহিনী উপস্থিত থাকবে। সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হবে। সেই ভোট গননার উৎকণ্ঠা, সবার চোখ টেলিভিশনে। একেক করে নির্বাচনী আসনের রেজাল্ট টেলিভিশনের পর্দায় ভাসতে থাকবে।
গণনা শেষে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। আনন্দ মিছিল বের হবে ঠিক যেমনটা হয়েছিলো স্বৈরাচার হটানোর সময়। তারপর মন্ত্রীসভা গঠনের পালা। আইন, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পররাষ্ট্র ইত্যাদি ক্রুশাল কিছু মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব দেওয়া হবে রাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেন বা টেকনোক্র্যাট থেকে। আর বাকিগুলো তাদের মধ্যে যে যে বিষয়ে এক্সপার্ট সে সেই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নিবে। বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দলের উপদেষ্টা এবং সার্বিক গ্রহনযোগ্যতার ভিত্তিতে একজন হবেন দলীয় প্রধান, আরেকজন হবেন সরকার প্রধান।এভাবে রাষ্ট্র বিনির্মানে সবায় নেমে পড়বে। আর হাতে ধরে ধরে জনগণকে সবকিছু শিখাবে যেমনটা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে তরুণরা দেখিয়েছিলো।
তারপর চলবে একের পর এক রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ;
প্রথমেই, হাত দিবে জাতীর মেরুদণ্ড শিক্ষা ব্যবস্থায়। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার নিয়ে আসবে। ভিসি নিয়োগের দায়িত্ব সরকার নয় সিনেটের হাতে দিয়ে দিবে। ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করবে, শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করবে, হলগুলোতে সীট বন্টনের দায়িত্ব হল প্রশাসনকে দিবে, মাস্টার্স শেষ হলে হল ছেড়ে দিতে হবে, ক্যান্টিন থেকে শুরু করে হলের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করবে। তারপর তরুণরা শিক্ষাবিদদের নিয়ে বসে জাতীয় শিক্ষানীতি সাজাবে। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোটা ঢেলে সাজাবে। রাজনীতিবিদদের সন্তানদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানোর জন্য তাগিদ দেওয়া হবে।
তারপর, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার।একটা ফাংশনাল পার্লামেন্ট তৈরি হবে। ফ্লোর ক্রসিং সিস্টেম থাকবে। পলিসি নিয়ে তুমুল বিতর্ক হবে। বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে চুক্তির পূর্বে সংসদে আলোচনা হবে। অন্যান রাজনৈতিক দলগুলোকেও স্পেস দিবে। বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের এই রাজনৈতিক দলের এবং দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলের একটা সুন্দর কাঠামো থাকবে। যেখানে দলের প্রধান আর সরকার প্রধান আলাদা থাকবে। দুই বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না, দুই বারের বেশি দলীয় প্রধানও হতে পারবে না। রাজনৈতিক দলের মধ্যেই গণতান্ত্রিক চর্চা থাকবে।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পরিবর্তিত হয়ে একটা স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। ৭৭ নম্বর অনুচ্ছেদ ও ১৯৮০ সালের ন্যায়পাল আইন কার্যকর হবে। বাংলাদেশ পুলিশ PRB,CRPC,মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন পরিবর্তিত ও কার্যকর করে পুলিশকে একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হবে।সিনিয়রদের পদ পদবী আর প্রমোশনের জন্য একটি পক্ষকে খুশি করতে জুনিযরদেরকে অবৈধ ও বেআইনী আদেশ বন্ধ হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বাইরে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য হবে সৎ ও দক্ষ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, নিরাপত্তা গবেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্তত একজন সাবেক বিচারপতি।পদাধিকারবলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিশনের সদস্য হবেন। এই কমিশন পুলিশ নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা, পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, পুরস্কার, শাস্তি এবং আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে কাজ করবে। তবে পেশাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে সাবেক পুলিশ অফিসারকে কমিশনের চেয়ারম্যান করতে হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেন রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত না করা যায় সে ব্যবস্থা করা হবে।
এই তরুণদের এসব কার্যক্রম দেখে দেশব্যাপী মানুষ খুশি হবে। সাধারণ মানুষদের সাথে নিজেদেরকে কানেক্ট করবে। তারাও কি চায় শুনবে। সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
তরুণরা রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ এই তিন বিভাগের মধ্যে কোনটা যেন স্বৈরাচারী না হয়ে উঠে সেজন্য Check and Balance প্রতিষ্ঠা করবে, পাশাপাশি এই তিনটা অঙ্গ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। বিজ্ঞ আইন প্রণেতা এবং রাজনীতি বিজ্ঞানীদের নিয়ে সংবিধান সংশোধন করবে, নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে আইন বিভাগ সহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও রিফর্ম করবে।
সব কিছুর Decentralization হবে। ঢাকার উপর নির্ভরতা কমাবো। সিম কোম্পানি গুলোর একচেটিয়া দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে। মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি আমলা কেউ কোথাও ঘুষ চাওয়া হলে সাথে সাথেই বরখাস্ত করা হবে। পুকুর চুরির অভিযোগে প্রহসনের বদলি কোন সমাধান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষক লবিং এবং নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে ঢুকেছে তাদের চিরতরে বহিষ্কার করা হবে। বাক স্বাধীনতার নিশ্চিতে সংবিধানের বিধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হবে। বাংলাদেশের সকল মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। সংখ্যা লঘুদের উপর নিপিড়ন এর বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ সদা হুশিয়ার থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুয়েট এর মতো ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হবে কিনা এ নিয়ে জনমত গঠন করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক সরকার ২ মেয়াদের বেশি সরকারে থাকতে পারবেনা এই নিয়ম করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। ইলেক্টোরাল অটোক্রেসি ঠেকাতে হলে এই পদক্ষেপ জরুরি। সকল সংসদ সদস্যের সম্পদের হিসেব নিকেশ থাকবে উন্মুক্ত। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংসদে প্রহসনের সংরক্ষিত নারী আসন বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীদের অন্তর্ভুক্ত বৃদ্ধি করা হবে। ন্যায়পাল গঠনের বিধান এখনি কার্যকর করা হবে। আমাদের ট্যাক্সের টাকা কিভাবে লুটপাট হয়েছে তা আমরা দেখেছি।।আজ থেকে একটা নির্দিষ্ট একাউন্টে বা একটা নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে আমাদের ট্যাক্সের টাকা যাবে। এবং এমন সিস্টেম করতে হবে যাতে জনগণ ট্যাক্সের টাকার জমা খরচ হিসেব ঘরে বসে অনলাইনেই দেখতে পারে তার টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের জন্য পিএসসি’র মতো আলাদা স্বাধীন কমিশন হবে। মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক নিয়োগ বাদ দেওয়া হবে। পিএসসি’র ও আগাগোড়া সংস্কার করা হবে। কোন ব্রিজ, স্থাপনা কোন রাজনৈতিক দলের নেতার নামে না হয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের নামে হবে।
এমন কোন সেক্টর নেই যেটার কোন ধরনের সংস্কার প্রয়োজন সেটা তরুণরা জানে না। তারা ঘুরে দাঁড়ানোর সকল পলিসি বুড়োদের থেকে অনেক বেটার জানে। আমরা তরুণরা প্রতি বছর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘তারুণ্যের বাংলাদেশ’ নামে সমাবেশের বা মিলন মেলার আয়োজন করবো যাতে করে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পলিটিক্যাল ক্যাপিটাল বা ট্রাস্ট বৃদ্ধি পায়। তরুণ এই রাষ্ট্রনায়করা এটাও নিশ্চিত করবে তারা অসুস্থ হলে টুং করে সিঙ্গাপুর চলে যাবে না। দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিবে। তাদের ছেলে মেয়েরা দেশের স্কুল কলেজেই পড়তে হবে। এমন হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আর শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতি না হয়ে যাবে কোথায়? এভাবে হাজারটা প্রাগমেটিক পলিসি সাজেস্ট করতে পারবো।
তরুণদের উপর জনগণের যতটুকু ট্রাস্ট, সেটা এই মূহুর্তে কোন রাজনৈতিক দলের উপরেও নেই। আপনি নিজ উদ্যোগে ১০০ জনকে এই প্রশ্নটা দিয়ে ইন্টারভিউ নিয়ে দেখেন। যে তরুণরা স্বৈরাচার হটিয়েছে সেই তরুণরা যদি রাজনৈতিক দল গঠন করে তাহলে তাদের ভোট দিবেন কিনা? নিশ্চিত করে বলতেসি, ১০০ এর মধ্যে ৯০ জন বলছে তাদেরকেই ভোট দিবে। আজ আমি বাংলাদেশের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় হেটে বাসে রিকশায় সিনএজিতে করে আসার সময় যেখানেই সুযোগ পেয়েছি মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি কাকে চান। সবার উত্তর তৃতীয় কোন দল।তাহলে দেশ গঠনের এই সুযোগটা কেন তারুণ্যের হবে না? জনগণ বসে আছি তারুণ্যের উত্থানকে স্বাগত জানাতে।
অপরদিকে লিখে রাখেন তরুণদের রাজনৈতিক এনটিটি উত্থান না হলে যে পরিণাম হবে; চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে না। আমাদের ভাগ্যের আর বদল হবে না। সাধারণ মানুষের আশা স্বপ্নভঙ্গ হবে। জ্বালাও-পোড়াও এর রাজনীতি বন্ধ হবে না। চাদাবজি, লুটপাট কমবে না। Political Blame Game চলতে থাকবে, গতানুগতিক ধারায় দেশ চলতে থাকবে। যাতে করে শহীদ আবরার, মুগ্ধ, আবু সাঈদ সহ শহীদ হওয়া কারও আত্মা শান্তি পাবে না।
আমরা তারুণ্যের বাংলাদেশ চাই, বুড়োদের নয়। আমি দেশপ্রেমিক আমলাদের, সেনাদের, বুদ্ধিজীবীদের আহবান জানবো তরুণদের নতুন একটা এনটিটি উত্থানে আপনারাও এগিয়ে আসেন। আমার এই ধারণা আপনাদের কাছে প্লেটোর Utopian মডেল মনে হতে পারে, এটা বলার চেষ্টাও হতে পারে যে, ভাই গ্রামের মানুষ তো অশিক্ষিত, তারা পুরাতন রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়া কিছুই বুঝে না। বিশ্বাস করেন এটা এখন আর পুরাতন বাংলাদেশ না। আপামর সকল জনতাই সজাগ। তারা এখন রাজনীতি নিয়ে মুটামুটি সরব। তারাও তৃতীয় একটা পক্ষ চায়। তরুণদের সাথে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এগিয়ে এসে ভিডিও বানালে ধীরে ধীরে একজন দুজন করে সবাই এগিয়ে আসবে।
আমরা বিশ্বাস করি যে সাহসী সমন্বয়করা মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে, বন্দুকের নলের সামনে থেকেও এদেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে পেরেছে, তারাই পারবে এদেশের জনমানুষের এই আশা রাখতে। এটা নিশ্চিত করেই বলতে পারি CIA বলেন, RAW বলেন, মিলিটারি ক্যু বলেন সবকিছু প্রতিহত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবেই হবে। আমি বারবার বলেছি একটা দেশে অদমনীয় রাজনৈতিক এনটিটির যখন উত্থান ঘটে পৃথিবীর কোন শক্তিই সেটাকে সাপোর্ট না দিয়ে বিরোধিতা করে না।
এখন যদি আমরা তারুণ্যের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে একদিন সারা বিশ্বে আমরা একটা নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হবো। আমাদের এই মডেল বিশ্বের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে একদিন পড়ানো হবে, সফল মডেল হিসেবে পলিটিক্যাল ডিসকোর্সে অন্তর্ভুক্ত হবে। ঠিক আজকে যেভাবে ড. ইউনুসের দারিদ্র্য দূরীকরণের মডেল সারা বিশ্বে পড়ানো হচ্ছে।
আমার বিশ্বাস সারা দেশের তরুণ এবং জনগণ কী চাচ্ছে আমি সেটা তুলে ধরতে পেরেছি।
সবশেষে, যারা পুরো পোস্টটা পড়লেন;
আপনি যদি তরুণদের থেকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন থেকে শুর করে নির্বাচনে পার্টিসিপ্যান্ট করার পুরো প্রক্রিয়াটাকে সমর্থন করেন তাহলে তিনটা কাজ করতে হবে।
এক. আমার এই পোস্টটা শেয়ার করবেন। আপনাদের মোট শেয়ার এবং প্রতিক্রিয়ার উপর পুরো বিষয়টি বুঝা যাবে আসলে এই প্রক্রিয়াটা মানুষ কতোটা চাচ্ছে।
দুই. নতুন রাজনৈতিক দল উত্থানের প্রসেসটা আর কীভাবে কীভাবে হতে পারে। সেটা মন্তব্যে জানাবেন। নতুন রাষ্ট্র গঠনের আর কী কী পলিস যুক্ত হতে পারে জানাবেন। সবাই আপনার কমেন্ট পরবে। পাল্টা কমেন্ট করবে। অনেক বিষয় ফুটে উঠবে। সেগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি হবে।
তিন. এই রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্বটা যেন প্রকৃত পক্ষেই তরুণদের হাতে হস্তান্তর হয় সেজন্য নিজের টাইমলাইনে লিখালিখি করা, মানুষকে বলা।
ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। [স্বাধীন দেশের একজন সচেতন নাগরিক]