03/10/2026
মোবাইল পাওয়ার পর আরজান হত্যার আসামী গ্রেফতার হয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কাশবনের ভেতর হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবক আরজান মিয়া ওরফে আবদুল্লা (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার পর লুট হওয়া ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের সরকারি কলেজের সামনে একটি কাশবন থেকে আরজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত, দুই পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। এছাড়া হাঁটুর ওপর রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন আরজান। মরদেহ উদ্ধারের পর তার ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আ. আউয়াল বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১ অক্টোবর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সামসু মিয়ার কাছ থেকে নিহত আরজানের লুট হওয়া ভিভো মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ পৌর মার্কেটের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে অভিযান চালিয়ে সিহাব হোসেন (৩২) ও রাহাব আলী ওরফে জুয়েল (৩২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, হত্যার পর লুট করা মোবাইল ফোনটি হবিগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মোবাইলটি লুটের বলে জানার পরও কম দামে কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মোবাইলটির অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ-বল্লা বাজার এলাকা থেকে মো. তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫) এবং রিমন ওরফে মাহফুজুর রহমান (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরজানকে নাসিরনগরে নিয়ে আসেন। পরে তাকে হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন লুট করে মরদেহ কাশবনের ভেতরে ফেলে রেখে যান বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর লুট হওয়া মোবাইল ফোনটিই মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার সিহাব হোসেন ও রাহাব আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিবিআইয়ের দাবি, তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হিসেবে শনাক্ত তুহিন ও রিমন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া অটোরিকশা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পিবিআই।