Probashi Fahim

Probashi Fahim বই, গল্প এবং পাঠক এই তিনটিই আমার ভিষন প্রিয়।
গল্প প্রেমিদের স্বাগতম।

◥◣ ★ ◢◤

☬﷽☬﷽☬
�☬��☬�
� Fahim�
�☬��☬��☬�
�☬�
�☬�
�☬�●F▬▬๑۩۩๑▬▬S●�☬�
☆ ✰ ✯

গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসিপর্বঃ ০৪লেখকঃ ফাহিম """"""জানি না কেন, কিন্তু মনে হলো ওর নীরবতা তেও একটা শব্দ আছে যা শুধু আমি শুনত...
21/11/2025

গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসি
পর্বঃ ০৪
লেখকঃ ফাহিম
""
""
""
জানি না কেন, কিন্তু মনে হলো ওর নীরবতা তেও একটা শব্দ আছে যা শুধু আমি শুনতে পাচ্ছি।

সবাই চুপ করে গেল। আমি ফোনটা পকেটে রাখলাম মুখে হালকা একটা হাসি। তারপর বললাম,,,,,,,,

আমিঃ আচ্ছা দোস্ত এখন তাহলে বিদায় নেই । অনেক আড্ডা হলো ।

আমরা ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে টিএসসি'র দিক ধরে হাঁটতে শুরু করলাম ।

সোহানঃ সাবধানে যা আর রিমির আপডেট জানাস কিন্তু।

আমিঃ আচ্ছা জানাবো । চলি ।

বলেই বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে বাইক পার্কিং লটে গেলাম। বাইক স্টার্ট দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পার হয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলাম। রাস্তাঘাটে তেমন ভিড় না থাকায় অল্প সময়েই বাসায় পৌঁছে গেলাম।

বাইকটা গ্যারেজে রেখে ঘরে ঢুকতেই মায়ের গলার আওয়াজ পেলাম।

আম্মুঃ এই তো আমার ছেলে চলে এসেছে! এত তাড়াতাড়ি যে? আজ কি সব ক্লাস হয় নি?

আমি ড্রয়িংরুমে গিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিলাম। আর বললাম,,,,,,,,

আমিঃ না মা। শফিক স্যার অসুস্থ, তাই দুপুরের ক্লাসগুলো বাতিল হয়েছে।

আম্মুঃ ওহহ। তাহলে তো ভালোই হলো। একটু বিশ্রাম নিতে পারবি।

বলেই আম্মু আমার পাশে বসলেন ৷ মুখে স্নেহের হাসি।

আম্মুঃ আচ্ছা যা ফ্রেস হয়ে আয়। খাবার রেডি করছি।

আমি: আচ্ছা, যাচ্ছি মা।

বলেই মাকে জড়িয়ে ধরে একটু আদর করে বললাম,,,,,,,,

আমিঃ আজ কী রান্না করেছো? খুব ক্ষিদে পেয়েছে।

আম্মুঃ তোর পছন্দের মাছের ঝোল আর গরম ভাত। তাড়াতাড়ি আয়।

আমিঃ আসছি।

বলেই আমি ঘরে এসে জামাকাপড় বদলে ফ্রেশ হলাম। হাত-মুখ ধুয়ে টেবিলে রাখা ফোনটা হাতে নিলাম। দেখলাম রিমির কাছ থেকে একটা নতুন মেসেজ এসেছে।

রিমিঃ কি করছেন ।

আমি অবাক হলাম। আজ আগে এসএমএস দিলো । তাই আমিও রিপ্লাই দিলাম,,,,,,,

আমিঃ খাওয়ার জন্য ফ্রেশ হলাম ।

রিমিঃ এখনো খান নি ?

আমিঃ না এখনও খাইনি। তবে খাবার রেডি। আপনি খেয়েছেন?

কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর এলো।

রিমিঃ হ্যাঁ।

আমিঃ আমার সাথে ফোনে কথা বলতে আপনার কি কোনো সমস্যা হয়?

রিমিঃ কেন মনে হলো?

আমিঃ না মানে, আপনি তো কথা বলেন না। খালি মেসেজেই উত্তর দেন।

রিমিঃ ফোনে কথা বলার চেয়ে মেসেজ করাই তো ভালো। শান্তিতে নিজের মনের কথা বলা যায়।

আমিঃ কিন্তু আপনি তো একটা কথাও বলেন নি । অন্তত থ্যাংকস বা ওকে তো বলতে পারতেন ।

রিমিঃ এতো কথা না বলে খেয়ে নিন যান ।

আমি আর কিছু না বলে ফোনটা রেখে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু আমার মনের ভেতরে কৌতূহলটা তখনও রয়ে গেল। এই মেয়েটা কেন ফোন করলেই চুপ করে যায়? কেন একটা কথাও বলে না? এমন কেন ওর আচরণ? সব যেন এক গভীর রহস্যে ঢাকা।

আম্মুর হাতের গরম গরম মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে উপরে নিজের রুমে চলে এলাম। তারপর প্রতিদিনের মতোই আজকেও ঘুমিয়ে নিলাম ।

রুমের দরজা বন্ধ করে ল্যাপটপটা বন্ধ করলাম। এখন আর এসাইনমেন্টে মন বসবে না, আমি জানি। ফোনটা হাতে নিয়ে বিছানায় হেলান দিলাম, আর সঙ্গে সঙ্গে রিমির চ্যাটবক্স ওপেন করলাম।

আমিঃ হাই, কি করছেন ।

রিমিঃ কিছু না । আপনি ?

আমিঃ পড়া শেষ করলাম ।

রিমিঃ আপনি কোন ক্লাসে পড়েন ।

আমিঃ অনার্স ৪র্থ বর্ষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । আর আপনি ।

রিমিঃ পড়াশোনার খুব ইচ্ছে থাকলেও পার্সোনাল সমস্যার কারনে বেশি দূর পড়তে পারি নি । তাই বাদ দিতে হইছে । তাই ইন্টার পাশ করেছি ।

আমিঃ আপনার বাসা কোথায় ।

রিমিঃ খুলনায় ।

আমিঃ আপনার জীবনের অনেক রহস্যময় গল্প আছে তাই না ।

প্রায় পাঁচ মিনিট পর রিপ্লাই এলো।

রিমিঃ কার জীবনে নেই? আপনিও তো সব কথা বলতে পারেননি কাউকে তাই না ?

আমিঃ হয়তো কিছুটা সত্য ।

রিমিঃ আমার কাছে এটাকে গল্প নয়, এটাকেই জীবন বলা হয় । আপনি অকারণে সব কিছুকে জটিল করছেন।

আমিঃ জটিলতা তো আপনিই তৈরি করেছেন। একটা মানুষ ফোন ধরলেও কেন একটা কথাও বলবে না ? কারণটা কি আমি জানতে পারি না ?

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর এলো না। আমি অপেক্ষা করছিলাম। হয়তো ভাবছে কী উত্তর দেবে ।

রিমিঃ আমি চাইনা কারন টা বলতে ।

আমিঃ শুনতে চাই প্লিজ । আপনার কন্ঠ শোনার আমার খুব ইচ্ছে । একবার প্লিজ ?

রিমিঃ শুনতে হবে না । বাই ।

হয়তো রাগ করেছে । তাই ফোন পাশে রেখে আমি শুয়ে পড়লাম । কিন্তু ঘুম কিছুতেই ধরছে না । তাই আবার নির্লজ্জের মতো এসএমএস করলাম,,,,,,,,

আমিঃ আপনি কি রাগ করেছেন আমার কথায় ?

দশ মিনিট পর চেক করে দেখলাম সিন করেছে ঠিকই কিন্তু রিপ্লাই করে নি । তাই বিরক্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । রাতে তৃষ্ণায় ঘুম ভেঙে গেলো । তাই ঘুম থেকে উঠে নিচে ফ্রিজ থেকে পানি পান করে আবার রুমে আসলাম ।

টাইম দেখার জন্য ফোনের স্ক্রিন জালিয়ে দেখি,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,

ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট করে জানিয়ে দিন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসিপর্বঃ ০৩লেখকঃ  ফাহিম """"""আসলে আমার মনে তখনো রিমির কথাগুলো ঘুরছিলো। কিন্তু বন্ধুদের সামনে এসব আলো...
20/11/2025

গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসি
পর্বঃ ০৩
লেখকঃ ফাহিম
""
""
""
আসলে আমার মনে তখনো রিমির কথাগুলো ঘুরছিলো। কিন্তু বন্ধুদের সামনে এসব আলোচনা করতে চাইলাম না এখন ।

আমরা তিনজন হেঁটে যাচ্ছিলাম আর্টস বিল্ডিংয়ের দিকে। হঠাৎ পথেই দেখা হলো আমাদের ব্যাচের লাবণীর সাথে। লাবণী ব্যাচের সবচেয়ে মেধাবী আর স্পষ্টবাদী মেয়ে ।

লাবণীঃ এই তোরা কি আজ ক্লাস করবি ?

আমিঃ তো আমরা কি মশা মারতে যাচ্ছি ।

লাবণীঃ আরে এমন করে বলিস ক্যান । শফিক স্যার নাকি অসুস্থ তাই আজকের ক্লাসটা হচ্ছে না ।

আমি কপালে ভাঁজ ফেলে ফোনটা বের করলাম । আমাদের ডিপার্টমেন্টের গ্রুও চেক করলাম তারপর বললাম,,,,,,,,

আমিঃ সত্যি তো ? গ্রুপে তো এমন নোটিশ দেখলাম না।

লাবণীঃ আরে বেটা গ্রুপে নোটিশ দেওয়ার আগেই সব খবর এই লাবণীর কাছে থাকে ।

সোহান হাসতে হাসতে বললো,,,,,,,

সোহানঃ লাবণী তো আমাদের ব্যাচের লাইব্রেরি-ইন-চার্জ ।

লাবণীঃ ঠাট্টা বাদ দে । চল ক্যান্টিন যাই ।

তারপর ক্লাস বাতিল হওয়ায় বন্ধুদের মধ্যে একটা সতেজ ভাব দেখা গেলো । ক্যান্টিনের পরিচিত কোলাহল চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ আর বিভিন্ন দলের আড্ডা । ঢাবির ছাত্রদের কাছে এটা যেন দ্বিতীয় বাড়ি ।

টিএসসিতে বসে চা আর সিঙাড়ার অর্ডার দিলাম আমরা । আদনান হঠাৎ আমাকে খোঁচা দিলো আর বললো,,,,,,,

আদনানঃ রিহান কাল থেকে দেখি তোর ফোনটা একটু বেশিই ব্যস্ত। কীসের এত ব্যক্তিগত ঝামেলা রে বাবা ?

সোহানঃ আবার সেই ভুলে টাকা চলে যাওয়া ব্যক্তি টা মেয়ে নয় তো ।

লাবণীঃ ঘটনা টা খুলে বলতো ।

আমিঃ আরে তেমন কিছুই না ।

লাবণীঃ তুই চুপ থাক । সোহান ব্যাপারটা কি রে ।

সোহানঃ কাল রিহানের থেকে দশ হাজার টাকা চাইতেই ও বিকাশে পাঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । কিন্তু প্রথমে ভুল নাম্বারে দশ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয় ।

লাবণীঃ কি বলিস । তারপর,,,

সোহানঃ তারপর আর কি রিহান ফোন করে আর টাকাটা ফেরত চায় । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ওই ব্যক্তিটি সাথে সাথেই সব টাকা ফেরত পাঠিয়ে দেয় ।

আদনানঃ কি বলিস এমন মানুষ ও আছে ।

আমিঃ হুমম আছে । এর থেকেও আরেকটা আশ্চর্যের বিষয় আছে ।

লাবণীঃ কি ।

আমিঃ টাকা টা ফেরত চাইতেই ও আমার সাথে একটা কথাও বলে নি । ধন্যবাদ দিয়েছি তার ও উত্তর দেয় নি । এখন পর্যন্ত আমি তার ভয়েস শুনি নি ।

সোহানঃ কি বলিস দোস্ত । এটা তো বলিশ নি ।

লাবনীঃ আচ্ছা ও ছেলে নাকি মেয়ে ?

আমিঃ মেয়ে ?

লাবণীঃ তুই কি করে বুঝলি । তুই তো কন্ঠই শুনিস নি ।

তারপর আমি রাতের সব কথা তাদের কে খুলে বললাম । সব শুনে সোহান বললো,,,,,,,,

সোহানঃ এই তোর ব্যস্ততা মামা । এর সাথেই রাতে ব্যস্ত ছিলি । তা মেয়েটার নাম কি বাসা কই কেমন দেখতে ।

আমিঃ এতো কিছু জানি না । শুধু জানি ওর নাম রিমি ।

আদনানঃ তো তুই জানবি না সব কিছু ।

লাবণীঃ আচ্ছা এক কাজ কর । মেয়েটাকে ফোন দে ।

আমিঃ এখন ?

লাবণীঃ হুমম এখনি । রাতে তো তোর সাথে কথা হইছে । সো আমার মনে এবার তোর সাথে কথা বলবে ।

আমিঃ বলছিস ।

লাবণীঃ হুমম ১০০% । নে ফোন দে ।

আমিঃ ওকে ।

বলেই পকেট থেকে ফোন বের করলাম । তারপর রিমির নাম্বার ডায়াল করে ফোন দিলাম । ফোন বাজছে । সবাইকে চুপ থাকতে বললাম । সবাই যে যার জায়গা থেকে আমার ফোনের দিকে কথা শোনার জন্য মাথা এগিয়ে দিলো । একটু পর ফোনটা রিসিভ করলো । রিসিভ করতেই আমি বললাম,,,,,,,,,

আমিঃ হ্যালো আসসালামু আলাইকুম । চিনতে পারছেন ।

রিমিঃ ...............

আমিঃ আমি রিহান । কাল রাতে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস করলাম ।

রিমিঃ ..................

আমার বন্ধুরা সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আমিও তাকিয়ে আছি । তারপর আবার বললাম,,,,,,,,

আমিঃ আপনি কি একটি বারও আমার সাথে কথা বলবেন না ?

রিমিঃ ...............

ফোনটা কানে ধরে আছি আমি। ওপাশে নিঃশব্দ। তবুও ফোন কাটা হয়নি। সবার নিঃশ্বাস যেন আটকে গেছে। লাবণী ফিসফিস করে বললো,,,,,,

লাবণীঃ কিছু বল ।

আমি আবার বললাম,,,,,,,,

আমি: দেখেন, আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন । তাহলেও বলে দিতে পারেন সমস্যা নেই । কিন্তু তবুও বলুন ।

এবারেও কোনো শব্দ নেই তবে নিশ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি । বন্ধুরা ইশারা করলো,,,

বন্ধুরাঃ কি রে কথা বললো ?

আমিও মাথা নেড়ে আর ঠোঁট উল্টে না বললাম । তারপর লাবণী ফিসফিস করে বললো,,,,,,,

লাবণীঃ হয়তো লজ্জা পাচ্ছে।

তার কিছুক্ষন পর ফোনের অপর প্রান্তে ‘বিপ বিপ’ করে কলটা কেটে গেল। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সোহান প্রথমেই বললো,,,,,,,

সোহানঃ মামা, মেয়েটা আসলেই রহস্যময়! কথা বলে না কেন ।

লাবণীঃ না রে, কিছু একটা আছে মেয়েটার মধ্যে। এত নীরবতা সাধারণ না ।

আদনানঃ হয়তো ভয় পেয়েছে, বা হয়তো মন খারাপ ছিল।

আমি চুপচাপ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বললাম,,,,,,,,

আমি: জানি না কেন, কিন্তু মনে হলো ওর নীরবতা তেও একটা শব্দ আছে যা শুধু আমি শুনতে পাচ্ছি।

সবাই চুপ করে গেল। আমি ফোনটা পকেটে রাখলাম মুখে হালকা একটা হাসি। তারপর বললাম,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,

ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট করে জানিয়ে দিন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসিপর্বঃ ০২লেখকঃ ফাহিম """"""রাত এখন প্রায় সাড়ে দশটা। ল্যাপটপে বসে এসাইনমেন্ট করছিলাম, কিন্তু মাথায় ব...
19/11/2025

গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসি
পর্বঃ ০২
লেখকঃ ফাহিম
""
""
""
রাত এখন প্রায় সাড়ে দশটা। ল্যাপটপে বসে এসাইনমেন্ট করছিলাম, কিন্তু মাথায় বারবার ঘুরছিলো সেই অচেনা নাম্বারটা । শেষে আর থাকতে না পেরে ফোনটা হাতে নিয়ে আবার সেই নাম্বারটা খুলে দেখলাম।

হোয়াটসঅ্যাপে নাম্বারটা সার্চ দিলাম আর দেখলাম একটা প্রোফাইল পিক আছে ।

পিকটা দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেলো । কারন পিকে একটা মেয়ের ছবি । পর্দা টেনে তোলা মুখ চোখ দুটো টানা টানা আর গভীর । একটা অদ্ভুত মায়া আছে দৃষ্টিতে।

আমি ফিসফিসিয়ে মনে মনে বললাম,,,,,,

আমিঃ এইটা মেয়ে নাকি পরী । তাহলে এই জন্য কিছু বললো না ।

তখন ফোনে হয়তো ধন্যবাদ গ্রহন করে নি তাই ম্যাসেজে যদি করে । এটা ভেবে আমি একটা ম্যাসেজ লিখে সেন্ট করলাম । ম্যাসেজটা ছিলো,,,,,,,

আমিঃ আপনাকে আবারও ধন্যবাদ টাকা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। আপনি সত্যিই এক অসাধারণ মানুষ । আমি যদি পারতাম সামনা সামনিই ধন্যবাদ দিতাম।

কিছুক্ষন পর দুইটা নীল টিক পড়লো । মানে ম্যাসেজটা দেখেছে । কিন্তু রিপ্লাই নেই।

কিছুক্ষণ পর আমি আবারও লিখলাম,,,,,,

আমিঃ আপনি কি রাগ করেছেন নাকি ? ভুল করে টাকা পাঠিয়েছিলাম বলে । কিন্তু আপনি ফিরিয়ে না দিলে হয়তো আজ সারারাত ঘুম হতো না ।

আবারও ম্যাসেজটা পড়লো । কিন্তু এবারও কোনো রিপ্লাই নেই । মেয়েটা অনেক আজব প্রকৃতির দেখছি । বিরক্ত হয়ে মোবাইলটা পাশে রেখে শুয়ে পড়লাম।

কিন্তু ঘুম ঘুম চোখে আসছে না । চোখে ভাসছিলো সেই মেয়েটার হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল পিকের উপর । সেই চোখ দুটো অদ্ভুত শান্ত ও অদ্ভুত রহস্যময় ।

পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি মোবাইলে একটা নতুন মেসেজ । চোখ ঘষে এসএমএস ওপেন করতেই দেখি সেই অচেনা নাম্বার থেকেই এসেছে। এসএমএস টি এরকম ছিল,,,,,,,,

মেয়েটিঃ টাকাটা ভুল করে এসেছিলো, তাই ফেরত দিয়েছি। এতে ধন্যবাদের কিছু নেই।

আমি হাসলাম । আর মনে মনে বললাম,,,,,,,,

আমিঃ অবশেষে মুখ খুললো বটে।

তারপর আমি রিপ্লাই দিলাম,,,,,,,,

আমিঃ তবুও ধন্যবাদ পাওয়ারই কথা। আপনি না ফিরালে আমার বিশ্বাসটাই নষ্ট হয়ে যেতো। আজকাল তো দশ টাকা পেলেও মানুষ ফেরত দেয় না।

কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই এলো,,,,,,,,

মেয়েটিঃ সবাই তো আর একরকম না। কেউ কেউ শুধু নিজের না অন্যের শান্তিটাও গুরুত্ব দেয়।

আমিঃ আপনার কথা গুলো খুব সুন্দর। হৃদয় কেড়ে নেয়ার মতো । আমি কি আপনার নামটা জানতে পারি ?

একটু সময় নিলো। তারপর রিপ্লাই এলো,,,,,,,,,

মেয়েটিঃ নাম জেনে কি হবে ?

আমি হেসে লিখলাম,,,,,,,,,

আমিঃ উপকারীর নামটা জানা থাকলে সেটা তাকে মনে রাখা সহজ হয় ।

এরপর অনেকক্ষণ কোনো রিপ্লাই এলো না।
আমি ভেবেছিলাম হয়তো আর লিখবে না৷ তাই উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম । ফ্রেশ হয়ে আসতেই দেখি আবার এসএমএস আসলো ।

মেয়েটিঃ আমার নাম রিমি ।

আমিঃ রিমি…নামটা বেশ সুন্দর। নামের মতোই নিশ্চয় মানুষটাও সুন্দর ?

দীর্ঘ পাচ মিনিট কেটে গেলো, কিন্তু কোনো রিপ্লাই নেই।ভতারপর হঠাৎ একটা নোটিফিকেশন,,,,,,,

রিমিঃ আপনি অনেক প্রশ্ন করেন।

আমি হেসে ফেললাম। তারপর বললাম,,,,,,,,

আমিঃ প্রশ্ন না করলে জানবো কিভাবে? পৃথিবীতে সব সুন্দর জিনিসের পেছনেই তো কৌতূহল কাজ করে।

রিমিঃ সুন্দর জিনিসের পেছনে কৌতূহল নয় লোভও থাকে।

মনে হলো ওর ভেতরে কোনো গল্প লুকিয়ে আছে, হয়তো কষ্টের । তাই বললাম,,,,,,,

আমিঃ আপনি মনে হয় কষ্টে আছেন ?

রিমিঃ কষ্ট থাকলেই কি সবাই বলে দেয়?

আমিঃ না, কিন্তু কেউ পাশে থাকলে বলা সহজ হয়।

তারপরেই আম্মু নিচ থেকে ডাক দিলো নাস্তা খাওয়ার জন্য । মেয়েটার সাথে আর কথা হলো না । নিচে চলে আসলাম । তারপর নাস্তা খেয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হলাম ।

তারপর বাইক নিয়ে সোজা কলেজে চলে আসলাম । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সকাল দশটা বেজে গেলো। ঢাকা শহরের যানজট আর আমাদের ক্যাম্পাসের আশেপাশে ভিড় এই দুটো জিনিস আমার নিত্যদিনের সঙ্গী ।

বাইক পার্কিংয়ে রেখে যেই হাঁটা শুরু করলাম তখনই পেছন থেকে পরিচিত একটা গলা ভেসে এলো,,,,,,,

ছেলেটিঃ এই যে মিস্টার রিহান দেরি করে তো ভালোই এলেন । কালকের অ্যাসাইনমেন্ট করেছেন নাকি ?

আমি ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আদনান আর সোহান দাঁড়িয়ে । আদনান একটু ফাজিল প্রকৃতির আর সোহান তার তুলনায় শান্ত ও হিসাবী। আমি বললাম,,,,,,,

আমিঃ ধুর, অ্যাসাইনমেন্ট আর কত করবো । একটু ব্যক্তিগত ঝামেলায় ছিলাম। তোরা কখন এলি ?

সোহানঃ আমরা তো সেই পৌনে দশটায় আসছি । কিন্তু তোর মুখটা কেন জানি একটু উজ্জ্বল লাগছেবব্যাপার কী ? দশ হাজার টাকা ভুল করে পাঠিয়ে দিয়েছিস সেটা ফিরে পেয়ে এতো আনন্দ ?

আমি কথাটা উড়িয়ে দিয়ে বললাম,,,,,,,,

আমিঃ আরে নাহ । চল তোরা আজকের লেকচার মিস করা যাবে না। শফিক স্যারের ক্লাস জানিস তো!

আসলে আমার মনে তখনো রিমির কথাগুলো ঘুরছিলো। কিন্তু বন্ধুদের সামনে এসব আলোচনা করতে চাইলাম না এখন ।

আমরা তিনজন হেঁটে যাচ্ছিলাম আর্টস বিল্ডিংয়ের দিকে। হঠাৎ দেখলাম,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,

ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট করে জানিয়ে দিন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

আমার বন্ধুর নাম্বারে বিকাশে দশ হাজার টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুল করে অন্য নাম্বারে টাকা টা পাঠিয়ে দিয়েছি । এখন কি করি । নাম্বার...
17/11/2025

আমার বন্ধুর নাম্বারে বিকাশে দশ হাজার টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুল করে অন্য নাম্বারে টাকা টা পাঠিয়ে দিয়েছি । এখন কি করি । নাম্বারটায় কি ফোন দিবো ।

কিছুক্ষন ভাবলাম । তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম একবার ফোন দিয়েই দেখি । দশ হাজার টাকা তো আর কম না । যদি অর্ধেক ফেরত দেয় তাও ভালো । যেই ভাবা সেই কাজ । নাম্বার টা ডায়াল করে ফোন দিয়েই ফেললাম ।

প্রথমবার কল টা রিসিভ করলো না । হয়তো টাকা টা না দেয়ার জন্যই রিসিভ করছে না । একটু পর আবার কল দিলাম । এবার কলটা রিসিভ করলো । করার পর আমি বললাম,,,,,,,,,

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ।

ওপাশ থেকেঃ ....................

আমিঃ জ্বি শুনতে পাচ্ছেন ।

ওপাশ থেকেঃ ....................

আমিঃ কথা বলছেন না কেন ?

বলতেই টুট টুট টুট করে ফোন টা কেটে দিলো । কি আজব লোক রে বাবা । ফোনে কথা বলবে না তাহলে সাথে ফোন রাখছে কেন আল্লাহই জানে ।
একটু পর আমি আবার কল দিলাম । আবার কল রিসিভ করলো । আমি আবার বললাম,,,,,,,,,,

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ।

ওপাশ থেকেঃ ....................

আমিঃ দেখুন আপনি ছেলে নাকি মেয়ে তাও জানি না । আমি ডিস্টার্ব করার জন্যে ফোন দেই নি । ভুল করে আপনার নাম্বারে বিকাশে দশ হাজার টাকা চলে গেছে । টাকা টা ফিরিয়ে দিলে খুব উপকার হতো । আপনি চাইলে দুই - তিন হাজার টাকা রেখে বাকি টাকাও ফেরত দিতে পারেন । কিন্তু কষ্ট করে পাঠিয়ে দিন প্লিজ ।

ওপাশ থেকে কিছু না বলেই আবার ফোনটা কেটে দিলো । আজব ক্যারেকটার তো । এবার আমার একটু রাগ লাগলো । টাকা দিবে না ভালো কথা সেটা মুখে বলে দিলেই পারে । এভাবে চুপ করে থাকার মানে তো কিছুই বুঝলাম না ।

ওহহ আপনাদের তো পরিচয় ই দেয়া হলো না । আমি রিহান (গল্পে) ৷ ঢাকা তে থাকি । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ৪র্থ বর্ষে পড়াশোনা করছি । বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান । তাই আদরের একটা বাদর হয়ে উঠেছি । বাবা ছোট খাটো একটা ব্যবসা করে । ঢাকায় নিজেদের একটা বাড়ি আছে । আর মা হাউস ওয়াইফ । এখন এতো টুকু জানলেই চলবে ।

আপনাদের আমার পরিচয় দিতেই দেখি ফোনে একটা টুং করে এসএমএস আসলো । এসএমএস ওপেন করে দেখি বিকাশ থেকে এসেছে (You have received tk 10000.....) তার মানে ওই ব্যাক্তিটি টাকা টা ফিরিয়ে দিয়েছে ।

আমি অনেকটাই অবাক হলাম । আজকের যুগেও এরকম মানুষ আছে ? একটাকাও নেয় নি । সব টাকাই ফেরত দিলো । লোকটা অনেক ইনটেরিস্টিং মনে হলো । ভাবলাম একটা ধন্যবাদ তো পাওয়াই উচিৎ ।

তাই আমি তার নাম্বার ডায়াল করে আবার ফোন দিলাম । ফোন বাজতেই কিছুক্ষন পর আবার কলটা রিসিভ করলো । তারপর আমি বললাম,,,,,,,,,,

আমিঃ হাই । আবারও ডিস্টার্ব করলাম ।

ওপাশ থেকেঃ ....................

আমিঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ টাকা টা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য । আপনি চাইলে কিছু টাকা রেখে ফেরত দিতে পারতেন ।

ওপাশ থেকেঃ ....................

আমিঃ আপনি কি কিছুই বলবেন না ।

ওপাশ থেকে আবার নিস্তব্ধতা । কিছুক্ষণ এভাবেই থাকার পর কলটা কেটে দেয় । আমি বির বির করে বললাম,,,,,,

আমিঃ আজব তো । কি রকম মানুষ এটা ।

ফোনটা কেটে দেয়ার পরও আমি একরকম হতভম্ব হয়ে বসে আছি । ছেলে নাকি মেয়ে জানি না । যেই হোক না কেন এরকম আচরণ করবে ভাবিনি ।
টাকা ফেরত দিয়েছে অথচ একটা কথাও বললো না !

একটা "ঠিক আছে" বা "ওকে" বললেও তো হয়।
মনে মনে কেমন জানি কৌতূহল কাজ করছিলো কেমন হতে পারে এই মানুষটা ? কেন কিছু বললো না ?

যাইহোক টাকাটা আমার বন্ধুকে পাঠিয়ে দিয়ে আমি বাসায় চলে গেলাম । তারপর ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে দুপুরে একটা ঘুম দিলাম ।
এক ঘুমে সন্ধ্যা হয়ে গেছে । ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে একটু ফোন টিপছিলাম ।

রাত নয়টার দিকে নিচে থেকে মায়ের ডাক ৷

আম্মুঃ রিহান! খাবার রেডি, নিচে আয় বাবা।

আমি ফোনটা টেবিলে রেখে নিচে নামলাম। ডাইনিং টেবিলে আব্বু বসে আছে, আম্মু খাবার রেডি করছে । গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের গন্ধে মেজাজটাই ভালো হয়ে গেলো । আমি বললাম,,,,,,,,

আমিঃ কি আম্মু আজকে তো বেশ আয়োজন মনে হচ্ছে ?

আম্মুঃ সব তোর পছন্দের । এমনিই ভাবলাম আজকে তোর পছন্দের কিছু রান্না করি তাই ।

আমিঃ থ্যাংক ইউ আম্মু ।

বলেই আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম । আব্বু হঠাৎ বলে উঠলো,,,,,

আব্বুঃ বাহহ মা-ছেলে একে অন্যকে খুশি রাখবে আর আমি শুধু টাকাটা দিবো তাই না ?

আমিঃ হুমম আব্বু আপনি তো আমাদের ফাইন্যান্স ম্যানেজার! আপনাকে ছাড়া তো সংসারই চলে না।

আব্বুঃ তাই না । তা পড়াশোনা কেমন চলছে? সারাদিন তো দেখি ফোন নিয়ে ব্যস্ত!

আমিঃ আব্বু পড়াশোনা খারাপ করছি না। গ্রুপ স্টাডি, নোটস সব চলছে।

আব্বুঃ একটু সিরিয়াস হ বাবা।

আমিঃ আমি সিরিয়াস ই আছি আব্বু । আসলে আজ একটা ঝামেলা হয়েছিলো তাই একটু চিন্তিত ছিলাম।”

আম্মুঃ কি ঝামেলা ?

আমিঃ আমার বন্ধুকে বিকাশে টাকা দিতে গিয়ে ভুল করে দশ হাজার টাকা অন্য একটা নাম্বারে পাঠিয়ে ফেলেছিলাম। পরে আল্লাহর রহমতে লোকটা পুরো টাকা ফেরত দিয়েছে।

বাবাঃ কি বলছিস! দশ হাজার! ভাগ্যিস ভালো মানুষটার হাতে পড়েছিলো, না হলে তো গেলো টাকা।

আম্মুঃ আল্লাহ ওনাকে ভালো রাখুক, এমন মানুষ এখন আর কই?”

আমিঃ কিন্তু মজার ব্যাপার জানো? আমি এতোবার ফোন করে টাকা চাইলাম আরো কথা বললাম কিন্তু ওই লোকটা ফোনে একবারও কিছু বললো না। একটা কথাও না! শুধু টাকাটা পাঠিয়ে দিলো।

আব্বুঃ হয়তো ভালো কাজ করে প্রচার করতে চায় না।

আম্মুঃ অথবা হয়তো ভয় পেয়েছে যেন ঝামেলায় না পড়ে।

আমিঃ হুম… কে জানে। তবে জানি না কেন, মানুষটার ব্যাপারে কেমন জানি একটা কৌতূহল কাজ করছে।

আম্মুঃ আমাদের পক্ষ হতেও একটা ধন্যবাদ দিয়ে দেস ।

আমিঃ ওকে আম্মু ।

আম্মুঃ এখন বেশি কথা না বলে চুপচাপ খা । খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।

আমি খেতে খেতে মনে মনে ভাবছিলাম—
এই মানুষটা কে? কেন একটা কথাও বললো না?
হয়তো কোনো গল্প লুকিয়ে আছে ওর জীবনে ।

খাবার খেয়ে রুমে গেলাম । রাত এখন প্রায় সাড়ে দশটা। ল্যাপটপে বসে এসাইনমেন্ট করছিলাম, কিন্তু মাথায় বারবার ঘুরছিলো সেই অচেনা নাম্বারটা । শেষে আর থাকতে না পেরে ফোনটা হাতে নিয়ে আবার সেই নাম্বারটা খুলে দেখলাম।
হোয়াটসঅ্যাপে নাম্বারটা সার্চ দিলাম আর দেখলাম,,,,,,,,,,,,,,

গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসি
পর্বঃ ০১
লেখকঃফাহিম Prince Fahim
"'
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,, Probashi Fahim

ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট করে জানিয়ে দিন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

16/11/2025

hello bhai brother how are you I am back to my page

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলো পর্বঃ ০৬লেখকঃ Prince Fahim """"""আজ শুক্রবার তাই আর ভার্সিটি যেতে হলো না । রুম থেকে বের হয়ে ব্রাশ ...
01/06/2025

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলো
পর্বঃ ০৬
লেখকঃ Prince Fahim
""
""
""
আজ শুক্রবার তাই আর ভার্সিটি যেতে হলো না । রুম থেকে বের হয়ে ব্রাশ নিয়ে ছাদে চলে আসলাম,,,,,

এসে আমি তো অবাক হয়ে গেলাম । কারন রিদি গোসল করে কাপড় শুকাতে দিতে ছাদে আসছে । সকালে উঠেই ওর মায়াবী চোখ গুলো দেখতে পেলাম ।

আহ্ কত সুন্দর ওর চোখ গুলো । ওর চুল শুকানোর দিকে এক পানে তাকিয়ে আছি । কিছুক্ষণ পর রিদিও আমার দিকে তাকালো আর বললো,,,,,,,

রিদিঃ তুমি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন,,,?

ওর কথায় আমার ধ্যান ভাঙলো । তারপর আমি বললাম,,,,,,,

আমিঃ ক ক কই না তো ।

রিদিঃ ঐ পিচ্চি ওগুলো কি মেসেজ দাও হুমম ।

আমি তো শুনে চমকে উঠলাম । যাহহ ও কেমনে জানলো । তারপর আবার রিদি বললো,,,,,,

রিদিঃ কি হলো কথা বলছো না কেন ?

আমি না জানার ভান করে বললাম,,,,,,,

আমিঃ কো কো কোন মেসেজ ?

রিদিঃ নাটক করো না । আমি তোমার থেকে এক বছরের সিনিয়র মনে রেখ । আর এরকম করলে আন্টিকে বলে দিবো ।

আমিঃ না মানে,,,,

রিদিঃ এতো মানে মানে কইরো না ।

তখন আমি সাহস করে অনেক জোরেই বললাম,,,,,,

আমিঃ আমি আপনাকে ভালোবাসিইইই ।

রিদি একটু মুচকি হেসে বললো,,,,

রিদিঃ মাইর খাবা । আমি তোমার সিনিয়র ।

আমিঃ আমার কোনো সমস্যা নেই ।

রিদিঃ কিন্তু আমার সমস্যা আছে । আমি জুনিয়র জামাই চাই না । আর তাছাড়া আমার বয়ফ্রেন্ড আছে ।

আমিঃ সমস্যা নেই আমি দুই নম্বর জামাই হতেও রাজি হিহি ।

রিদিঃ তবে রে ।

বলেই আমার দিকে রিদি এগিয়ে আসতে লাগলো । আমি আমি এক দৌড়ে ছাঁদ থেকে রুমে চলে এলাম । এসে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে আবার রুমে চলে আসলাম ।

রাতে আমি আর রিদিকে মেসেজ করি নি । পরেরদিন সকালে উঠে নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।

দেখলাম মেসেদী এসে গেছে । আমিও ওর সাথে জয়েন করলাম । আমাকে মেহেদী বললো,,,,,,

মেহেদীঃ কি রে দোস্ত কি অবস্থা ।

আমিঃ এই তো ভালো । তোর কি খবর ।

মেহেদীঃ ভালো ।

আমিঃ চল ক্লাসে যাবি না ।

মেহেদীঃ হুমম চল ।

তারপর আমি আর মেহেদী চারটা ক্লাস করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে আবার বাসায় চলে আসলাম ।

দুই দিন পর,,,,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে আম্মু বললো,,,,

আম্মুঃ এই রাকিব একটু বাজার লাগতো । তুই কি যেতে পারবি বাবা ।

আমিঃ ঠিক আছে আম্মু আমি যাচ্ছি ।

আমি ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে আম্মুর থেকে বাজারের লিষ্ট নিয়ে বাজারে চলে গেলাম বাজার করতে ।

আর এদিকে,,,,,,,,,,

আম্মুঃ আরে রিদি মা যে । তুমি তো আসোই না ।

রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি । কেমন আছেন ?

আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম মা । আমি ভালো আছি । তুমি কেমন আছো ?

রিদিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আন্টি । আন্টি আর কাওকে দেখছি না তো ।

আম্মুঃ রাকিব বাজারে গেছে । আর ওর আব্বু তো অফিসের কাজে একটু বাহিরে গেছে ।

রিদিঃ ওহহ আচ্ছা ।

আম্মুঃ রিদি মা তোমাকে একটা কথা বলতাম যদি রাখতে ।

রিদিঃ আরে আন্টি বলে ফেলুন । এতো ভনিতা করার কিছু নেই ।

আম্মুঃ না মানে তুমি আর রাকিব তো ভার্সিটিতে পড়ো । তাই যদি তুমি একটু ওকে পড়াও তাহলে আমার ছেলেটা একটু মানুষ হবে । পড়াশোনায় একদম মনোযোগ নেই ।

রিদি কিছুক্ষণ ভেবে তারপর বললো,,,,,,,

রিদিঃ ঠিক আছে আন্টি সমস্যা নেই আমি ওকে পড়াবো । ওকে তাহলে আজকে থেকে সন্ধ্যা সাতটায় যেতে বলবেন ।

আম্মুঃ ঠিক আছে মা । বলে দিবো ।

রিদিঃ আন্টি আজ তাহলে আমি আসি ।

আম্মুঃ ঠিক আছে মা আবার এসো ।

রিদিঃ জ্বি আন্টি অবশ্যই ।

বলেই রিদি চলে গেল । কিছুক্ষণ পর আমিও বাজার থেকে বাসায় আসলাম । বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ভার্সিটিতে চলে গেলাম ।

আজকে মেহেদী আসে নি । তাই আমি দুইটা ক্লাস করে ভালো লাগছিল না । এজন্য ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাসায় চলে আসলাম ।

দুপুরে খাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে দিলাম এক ঘুম । সন্ধ্যায় আমার ঘুম ভাঙলো । ঘুম থেকে উঠতেই আম্মু এসে বললো,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,, Probashi Fahim Prince Sojib

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলো পর্বঃ ০৫লেখকঃ Prince Fahim """"""রুমে এসে শুয়ে রিদির মায়াবী চোখের কথা ভাবতেছি । কিভাবে একটা মানুষে...
29/05/2025

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলো
পর্বঃ ০৫
লেখকঃ Prince Fahim
""
""
""
রুমে এসে শুয়ে রিদির মায়াবী চোখের কথা ভাবতেছি । কিভাবে একটা মানুষের চোখ এতো সুন্দর হতে পারে । তখনি হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধির উদয় ঘঠলো । বুদ্ধি টা হলো,,,

আমার পুরোনো সিম তো আমার কাছেই আছে । তাই আমার ফোনে পুরোনো সিমটা তুলে রিদির নাম্বারটা ডায়াল করলাম ।

তারপর তাকে একটা মেসেজ পাঠালাম,,,,,,,,

""""আপনার মতো অপরুপাকে রাগলে যে এতো মিষ্টি লাগে তা নিজের চোখে না দেখলে বুঝতাম ই না ।""""

মেসেজটা সেন্ট করার পর ভয় ও লাগলো । যদি রাগ করে । তার পরে ভাবলাম আমার এই নাম্বার তো চিনেই না । আমি কতো বোকা । ধ্যাত ।

অনেক্ষন ফোন নিয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে ফোনে টাং শব্দ করে একটা মেসেজ এলো । মেসেজ টা রিদির ই ছিলো,,,,সে লিখছে,,,,

কে আপনি ?

আমিও লিখে দিলাম,,,,

""মুখোশের আড়ালে থেকে আপানাকে ভালোবেসে যাওয়া একটা মানুষ ।""

আবার অনেক্ষন পর আরেকটা মেসেজ আসলো । মেসেজে লেখা ছিল,,,

""মানে বুঝলাম না "" ।

কিন্তু মেসেজটা দেখার আর সৌভাগ্য আমার হলো না । কারন কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না ।

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করলাম । তারপর এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম ।

তার একটু পর আম্মু এসে আমাকে ডেকে গেল । কিন্তু উঠলাম না । ইতিমধ্যে আমাদের বাসায় বাড়িওয়ালার মেয়ে মানে রিদি আসছে ।

রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।

আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।

রিদিঃ আন্টি আপনাদের জন্য আম্মু এই পায়েশ টা পাঠিয়েছে ।

আম্মুঃ প্লিজ টেবিলের উপর রাখো । আমার হাতে অনেক কাজ রান্না করছি ।

রিদিঃ আন্টি কাউকে দেখছি না যে ?

আম্মুঃ তোমার আঙ্কেল অফিস গেছে আর রাকিব ঘুমাচ্ছে ।

রিদিঃ কিহহ এতো বেলা করে কেউ ঘুমায় নাকি ।

আম্মুঃ আমার ছেলেটা এতো অলস । কি আর বলবো মা । আমি কত ডাকলাম উঠলো না ।

রিদিঃ আন্টি আমি গিয়ে ডাক দিবো ?

আম্মুঃ তাহলে তো অনেক ভালো হয় মা ।

রিদিঃ ঠিক আছে আন্টি ।

বলেই রিদি আমার রুমে চলে আসলো । এসেই আমাকে বললো,,,,,,

রিদিঃ এই রাকিব উঠো ।

আমিঃ আম্মু আর একটু ঘুমাই না প্লিজ ।

রিদিঃ আমি তোমার আম্মু নই । আর কয়টা বাজে দেখছো ।

বলেই আমার ফোনের লক বাটনে ক্লিক করলো । আর সাথে রাতে রিদির পাঠানো মেসেজ টা দেখতে পেলো ।

তখনই রিদি বুঝে গেল রাতে মেসেজ গুলো আমি পাঠাইছি । তখন ই আমার ঘুম ভেঙে গেল । আর চোখ খুলেই আমি আবার মায়াবী চোখ গুলো দেখতে পেলাম ।

উফফ এই চোখ গুলো আমাকে ঘায়েল করেই ছাড়বে । তারপর আমি বললাম,,,,,,

আমিঃ আপনি আমার রুমে কি করেন ।

রিদিঃ তোমাকে ডাকতে আসছিলাম । তোমার আম্মু পাঠাইছে ।

আমিঃ ঠিক আছে আপনি যান ।

রিদিঃ ওকে ।

বলেই রিদি আমার রুমে চলে গেল । তারপর ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । আজকেও ভার্সিটি আসতে দেরি হয়ে গেলো ।

তাই ক্লাসরুমের সামনে এসে দেখি ম্যাডাম ক্লাস নিচ্ছে । আমি ম্যাডামকে বললাম,,,,

আমিঃ ম্যাডাম আসতে পারি ?

ম্যাডাম আমার দিকে চোখ তুলে তাকালো । এরপর বলল,,,,,,,

মেডামঃ প্রতিদিনই তোমার লেট হয় কেন ?

আমিঃ আসলে ম্যাডাম রাস্তায় জ্যাম ছিল । এজন্য লেট হয়েছে ।

মেডামঃ সব স্টুডেন্ট তো ঠিক সময়ে আসছে । ওদের তো জ্যামে পড়তে হলো না । জ্যামে মনে হয় খালি তুমি পড়ো।

সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠি এ কথা বললে ইজ্জত থাকবে না । মেডাম আবার বললো,,,,,,

মেডামঃ এই ছেলে বির বির করে কি বলছো ?

আমিঃ কিছু না ম্যাডাম ।

মেডামঃ ভেতরে আসো । আর চুপচাপ ফাঁকা ছিটে বসে পড়ো ।

আমি আর কোনো কথা না বলে মেহেদীর পাশে বসলাম । তারপর মেহেদী বললো,,,,,

মেহেদীঃ দোস্ত আমাদের ম্যাডাম কিন্তু সেই দেখতে ।

আমিঃ আরে ব*ল*দ ম্যাডাম কম করে হলেও তোর পাঁচ-ছয় বছরের বড় । ম্যাডাম কে দেখে তোর লাভ নাই । এরচেয়ে ক্লাসের কোনো মেয়ের উপর লাইন মা*র । এতে মেয়েটা পটতেও পারে।

মেহেদীঃ যাহহ বাবা তোকে কি বললাম আর তুই কি বললি ।

আমিঃ চুপ কর ।

তারপর আমরা দুইজন মিলে সব ক্লাস করলাম ।
তারপর অনেক্ষন আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম । বিকেলে ছাদে গিয়ে বসে থাকি যে রিদি ছাদে আসে কি না ।

কিন্তু আজকে সে এলো না । মন খারাপ করে রুমে চলে আসলাম । রাতে খাওয়া দাওয়া শুয়ে আছি ।

ফেসবুকে রিদি নামে সার্চ দিয়ে অনেক আইডিতে নক দিয়ে রাখলাম । কিন্তু তেমন কোনো উপকার পেলাম না ।

তাই মন খারাপ করে ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম । পরের দিন সকালে উঠে নামাজ পড়লাম । আজ শুক্রবার তাই আর ভার্সিটি যেতে হলো না । রুম থেকে বের হয়ে ব্রাশ নিয়ে ছাদে চলে আসলাম,,,,,

এসে আমি তো অবাক হয়ে গেলাম । কারন,,,,,,,,,,,,,
""
"" Prince Sojib
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,, Probashi Fahim

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলোপর্বঃ ০৪লেখকঃ Prince Fahim """"""সকালে খুব মিষ্টি একটা কন্ঠে আমার ঘুম ভাঙলো । আগে তো এরকম কন্ঠ এই ব...
28/05/2025

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলো
পর্বঃ ০৪
লেখকঃ Prince Fahim
""
""
""
সকালে খুব মিষ্টি একটা কন্ঠে আমার ঘুম ভাঙলো । আগে তো এরকম কন্ঠ এই বাড়িতে শুনি নি । কে সেই মিষ্টভাসি মানুষ । তাকে একবার দেখতেই হবে ।

তাই চোখ ডলতে ডলতে আমি নিচে গেলাম । আর নিচে আমি পুরো হা হয়ে গেছি ।

কারন সেই মিষ্টভাসি মানুষটা হলো মায়াবী চোখ গুলো দেখে ক্রাশ খাওয়া মেয়েটি । মানে রিদি । সকালে উঠেই এমন সারপ্রাইজ হবো ভাবতেই পারি নি ।

কিন্তু আজ শুধু তার মায়াবী চোখ গুলো দেখতে পাই নি । সাথে তার পুরো মায়াবী মুখটাও দেখতে পাইছি । পড়নে তার নীল শাড়ি,,নীল চুড়ি,,,নীল টিপ সবকিছু ম্যাচিং করে পড়ে এসেছে । দেখতে একদম নীল পরীর মতো লাগছে ।

আমি অনেক খুশি হলাম । তাকে দেখে আমার মুখে হাসি ফুটছে । আম্মু আমাকে অনেক দিন পর এরকম হাসতে দেখে সেও অনেক খুশি হইছে । আম্মু হয়তো ব্যাপার টা বুঝতে পারছে আমি ওর প্রতি আসক্ত আছি ।

তারপর রিদি আমার আম্মুর সাথে কথা বলতে লাগলো,,,,

রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।

আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম । কেমন আছো মা ?

রিদিঃ আলহামদুলিল্লাহ আন্টি ভালো আছি । আপনারা কেমন আছেন ?

আম্মুঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । তা তোমার নাম কি মা ?

রিদিঃ আমার নাম রিদি । এই বাসাটা আমাদের ই । শুনলাম আপনারা নতুন আসছেন,,,তাই একটু দেখা করতে এলাম আন্টি ।

আমি মনে মনে বললাম,,,,,

আমিঃ ওহহ তার মানে রিদি এই বাড়িতেই থাকে । মানে বাড়িওয়ালার মেয়ে । (মনে মনে)

আমার মনে তো লাড্ডু ফুটছে । আমার ক্রাশ এই বাসাতেই থাকে আর আমি জানি না । যাইহোক তারপর আম্মু বললো,,,,,,,,,

আম্মুঃ খুব ভালো করেছো মা । তুমি মাঝে মাঝে আমার সাথে দেখা করতে আসবে । ওর আব্বু তো চাকরি নিয়ে ব্যস্ত । আর আমার ছেলে তো কলেজে যায় । আমিই একা থাকি। তাই যদি আসতে খুব ভালো লাগতো মা ।

রিদিঃ সমস্যা নেই আন্টি সময় পেলে আমি অবশ্যই আসবো ।

তারপর আম্মু আমাকে দেখিয়ে বললো,,,,,,

আম্মুঃ মা এ হলো আমার ছেলে রাকিব ।

রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম ।

কি ব্যাপার রিদি আমাকে দেখে না দেখার ভান করলো কেন ?? তারপর আম্মুর ডাকে ধ্যান ভাঙলো,,,,

আম্মুঃ কি রে শুনতে পেলি না । তোকে সালাম দিলো ।

আমিঃ ওহহ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।

আম্মুঃ কোথায় পড়াশোনা করো মা ।

রিদিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

আম্মুঃ আমার ছেলেকেও ওখানে ভর্তি করে দিয়েছি ।

রিদিঃ ওহহ আচ্ছা । কোন ইয়ার,,?

আমিঃ সেকেন্ড ইয়ার । আপনি ??

রিদিঃ চতুর্থ বর্ষ ।

আমিঃ ওহহ আচ্ছা ।

রিদিঃ আচ্ছা আন্টি এখন তাহলে আমি আসি । আবার পরে আসবো ।

আম্মুঃ ঠিক আছে মা এসো ।

আমার মনে তো লাড্ডু ফুটতে লাগলো । এ তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি ।

আম্মু আমাকে এসে বললো,,,,

আম্মুঃ তোর মেয়েটাকে পছন্দ হইছে তাই না ।

আম্মুর কথা শুনে আমি তো অবাক । আম্মু কেমনে জানলো । তারপর আমি বললাম,,,,,

আমিঃ না মানে ইয়ে ,,

আম্মুঃ থাক আর না মানে করতে হবে না । আমারো মেয়েটাকে অনেক পছন্দ হইছে ।

আমি লজ্জা পেয়ে আমার রুমে চলে আসলাম । এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম । তারপর আবার কলেজে চলে গেলাম ।

এসেই সোজা ক্লাস রুমে ঢুকে পড়লাম । তিনটা ক্লাস করলাম ।

ক্লাস শেষ করে আমি আম তলায় এসে বসে আছি । তখন দেখি রিদিও ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে যাচ্ছে ।

হঠাৎ একটা সিনিয়র ছেলে এসে রিদিকে হাটু গেড়ে প্রোপোজই করে বসলো ।

ছেলেটিঃ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি রিদি । প্লিজ একসেপ্ট মাই লাভ ।

নিমিশেই আমার মন খারাপ হয়ে গেল । আমার ক্রাশ কে প্রোপোজ করেছে । খারাপ লাগার ই কথা ।

তারপর দেখি রিদি ওই ছেলেটার কাছ থেকে ফুলের তোরা নিলো । নেওয়ার পর ফুলটা একটু নেড়ে চেড়ে দেখে সোজা ছেলেটার মুখে মে*রে দিলো ।

তারপর সে সেখান থেকে চলে গেল । কলেজের সবাই হা করে তাকিয়ে আছে । আমিও তাকিয়ে আছি ।

তবে আমি অনেক খুশিই হয়েছি ।

হঠাৎ একটা ছেলে এসে আমাকে বললো,,,,,

ছেলেটিঃ হাই আমি মেহেদী ।

আমিঃ হাই আমি রাকিব ।

মেহেদীঃ আমি তোমার ডিপার্টমেন্টেই সেম ইয়ারে । তাই বন্ধুত্ব করতে এলাম ।

আমিঃ ধন্যবাদ ।

যাক বাবা অন্তত একটা বন্ধু তো পেলাম । তারপর মেহেদীর সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম । তারপর দুপুরে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম ।

কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে যানি না । উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসলাম । অনেক্ষন পড়ে রাতে ডিনার করলাম ।

তারপর রুমে এসে শুয়ে রিদির মায়াবী চোখের কথা ভাবতেছি । কিভাবে একটা মানুষের চোখ এতো সুন্দর হতে পারে । তখনি হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধির উদয় ঘঠলো । বুদ্ধি টা হলো,,,,,,,,,,,

""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,, Probashi Fahim Prince Sojib

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলো পর্বঃ ০৩লেখকঃ Prince Fahim """"""দেখলাম 9 টা মিসড কল আননোন নাম্বারে ।একটু পর আবার ফোন করেছে । ফোন ...
27/05/2025

গল্পঃ মায়াবী চোখ গুলো
পর্বঃ ০৩
লেখকঃ Prince Fahim
""
""
""
দেখলাম 9 টা মিসড কল আননোন নাম্বারে ।

একটু পর আবার ফোন করেছে । ফোন রিসিভ করলাম,,,,,,,,

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ।

ওপাশ থেকেঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।

আমিঃ জ্বি কে বলছেন ?

ওপাশ থেকেঃ আমি রিদি ।

আমিঃ ওহহ আচ্ছা । বলেন ?

রিদিঃ বাসায় ঠিক মতো পৌছেছো নাকি সেটার শুনার জন্য ফোন করে ছিলাম ।

আমিঃ জ্বি পৌছেছি ।

রিদিঃ কাল কি ক্লাসের পর একবার দেখা করতে পারবে ?

আমিঃ কেন ?

রিদিঃ সেটা না হয় কাল ই বলবো ।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে । দেখা করবো ।

রিদিঃ ঠিক আছে তাহলে আমি টেক্সট করে জানিয়ে দিবো কোথায় আসতে হবে ।

আমিঃ হুমম ঠিক আছে ।

রিদিঃ ওকে রাখছি । আল্লাহ হাফেজ ।

আমিঃ আল্লাহ হাফেজ ।

তারপর ফোন রেখে দিলাম । আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম,,,

একদিনের পরিচয়েই রিদি আমাকে কি বলতে চায় ।

যাইহোক কাল তো শুনতেই পাবো । এতো চিন্তা করে লাভ নেই । তারপর একটু পড়াশোনা করে রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম ।

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আবার একটু করলাম । তারপর গোসল করে সকালের খাবার খেয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।

তারপর ভার্সিটি গিয়ে ক্লাস শেষ করলাম । এখানে নতুন ভর্তি হওয়ায় আমার তেমন বন্ধু হয় নি । তাই ক্যাম্পাসে চুপচাপ বসে আছি ।

হঠাৎ রিদি টেক্সট করে ঠিকানা পাঠিয়ে দিল । আর বললো ঠিকানা অনুযায়ী চলে যেতে । আমিও যথারীতি রিদির পাঠানো ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে পৌছে গেলাম ।

গিয়ে দেখি রিদি আগেই সেখানে পৌছে গেছে । আমি সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই আবার তার চোখের প্রতি ক্রাশ খেয়ে গেলাম ।

উফফ এই চোখ আমাকে ঘায়েল করেই ছাড়বে । তারপর আমি রিদিকে বললাম,,,,,

আমিঃ আপনি আমাকে এখানে ডাকলেন কেন ?? আর কি বলতে চান বলুন ?

তারপর রিদি তার আঙুল দিয়ে পথশিশুদের দিকে ইশারা করে বললো,,,,,

রিদিঃ তুমি সামনে ওই ছোট ছোট বাচ্চাগুলো কে দেখতে পাচ্ছো ।

আমিঃ হুমম কেন ?

রিদিঃ তাদের দিকে একবার লক্ষ্য করে দেখো,,তারা নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য কত কষ্টই না করছে । জীবনযুদ্ধ টা হাসি মুখে লড়ে যাচ্ছে । তাদের কাছে একটা জীবনের মূল্য অনেক ।

আমি নিশ্চুপ হয়ে শুধু রিদির কথা শুনেই যাচ্ছি । তারপর রিদি আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,,,,,

রিদিঃ আর তুমি সেই সুন্দর জীবন কোথাকার কোন মেয়ের জন্য দিতে বসেছিলে । জীবনটা কি এতো সস্তা তোমার কাছে । তারা জীবন বাঁচার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে আর তুমি দেয়ার জন্য লড়াই করেছো । ছিঃ ।

রিদির কথা শুনে সত্যিই আমি অনেক লজ্জিত হলাম । ওর কথা শুনে মাথা নিচু করে আছি । আর ভাবছি,,,

সত্যিই তো রিদি অনেক সুন্দর কথা বলেছে । এভাবে তো আমাকে কেউ বুঝায় নি । এভাবে তো কখনো ভেবে দেখি নি । তারপর আমি রিদিকে বললাম,,,,

আমিঃ সরি ।

রিদিঃ হুমম । জীবন একটাই তাই সুন্দর ভাবে বাঁচতে শিখো ।

এতক্ষণে তো ওর শুধু চোখ দেখে প্রেমে পড়েছিলাম । এখন ওর সুন্দর করে কথা বলে বুঝানোর জন্যও প্রেমে পড়ে গেলাম ।

তারপর আমি বললাম,,,,,

আমিঃ ধন্যবাদ । এভাবে আমাকে কেউ বুঝায় নি ।

তারপর আমি আর রিদি সেখান থেকে চলে এলাম । তারপর ও ওর মনে বাসায় চলে গেল । আমার কিছুই ভালো লাগছিল না । ওর ওসব কথা শুনে এখন নিজের প্রতিই খারাপ লাগছে ।

তাই আর বাসায় গেলাম না । অনেকক্ষণ ধরে পার্কে বসে আছি মন ভালো করার জন্য । বসে থাকতে থাকতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসলো ।

সন্ধ্যায় আমি বাসায় ফিরলাম । আম্মু আমাকে জিজ্ঞাসা করলো,,,,

আম্মুঃ রাকিব এতক্ষণ দেরি হলো যে বাবা । কোথায় গেছিলি ।

আমিঃ এমনিই ঘুরতে গেছিলাম আম্মু ।

আম্মুঃ ওহহ আচ্ছা । এখন রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে । আমি খাবার দিচ্ছি ।

আমিঃ হুমম আচ্ছা ।

তারপর আমি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিজের রুমে এসে তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়লাম । খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম ।

ঘুম থেকে উঠেই আমি তো অবাক । কারন,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
Probashi Fahim Prince Sojib

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।

Address

Habiganj

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Probashi Fahim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share