29/03/2026
ইয়াজিদের দাদা আবু সুফিয়ান প্রায় বিশ বছর যাবত নবী (সাঃ) এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, এমনকি শেষের পাঁচ-ছয় বছর তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত সংগ্রামে নেতৃত্বও দেন। আবু সুফিয়ান এবং মুয়াবিয়া মক্কা বিজয় পর্যন্ত ইসলাম গ্রহন করেননি।
ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান যার হাতে ইসলামের স্বর্গীয় কাঠামোর বিবর্তন, ভাঙ্গন ও পতন ঘটেছিল তিনিও এক সময় তার পিতা আবু সুফিয়ানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন।
আবু সুফিয়ানের স্ত্রী অর্থাৎ মুয়াবিয়ার মাতা হিন্দা ওহুদের যুদ্ধের সময় হজরত হামজা (রাঃ) শাহাদত বরনের পর উনার বুক চিড়ে কলিজা বের করে চিবিয়েছিল এবং অসংখ্য শহীদদের লাশ বিকৃত করতে তাতে অংশ নেয়।
অথচ হামজা (রাঃ) হলেন রাসুল (সাঃ) এর চাচা। রাসুল (সাঃ) তাঁর জন্য গর্ববোধ করতেন এবং তিনি যখন ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হলেন তখন রাসুল (সাঃ) তাঁর জন্য ক্রন্দন করেছিলেন এবং তাঁকে শহীদদের সরদার উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
এই আবু সুফিয়ানের দল তথা ‘উমাইয়া গোষ্ঠী’ ইসলামের শত্রুতে পরিণত হয়েছিল এবং নবী (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর অর্ধশতাব্দী গত হতে না হতেই ইসলামের মধ্যে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তার জন্য উমাইয়ারাই ছিল কার্যতঃ বেশী দায়ী।
রাসুল (সাঃ) মুয়াবিয়াকে লানত করেছেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) তাকে মুয়াবিয়াকে ডাকতে পাঠালে তিনি দেখেন সে খানা খাচ্ছে, ফিরে আসলে পূনরায় রাসূল (সাঃ) তাকে ডাকতে পাঠালে তিনি দেখলেন সে খানা খাচ্ছে। রাসুল (সাঃ) এর ডাকে সে সাড়া না দেওয়ার জন্যে রাসুল (সাঃ) বল্ললেন, “আল্লাহ যেন কখনোই তার উদর পূর্তি না করেন।”
(সহীহ মুসলিম ৮খন্ড, ২৭পৃষ্ঠা),
ইতিহাসবেত্তাগণ লিখেছেন যে, মুয়াবিয়ার উপর রাসুল (সাঃ) এর বদ-দোয়া কার্যকর হয়েছিল, আর সে কারণেই মুয়াবিয়া খেতে খেতে হাঁপিয়ে উঠতো তবুও তার পেট ভরতো না।
অপর একটি হাদীস হচ্ছে, ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত হয়েছে, আমরা একদা রাসুল (সাঃ) এর সফর সঙ্গী ছিলাম। দু’জন লোককে গান করতে দেখা গেল, গানের মধ্যেই তারা একে অপরের কথায় জবাব দিচ্ছিল। নবী (সাঃ) বল্লেন, “দেখ তো এরা কারা” লোকেরা বললো, “এরা হল মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনুল আস”
তখন রাসুল (সাঃ) হাত উত্তোলন করে বল্লেন, “হে পরোওয়ারদিগার ! এদেরকে বরবাদ করে দাও এবং জাহান্নামে ফেলে দাও”।
(মুসনাদে আহমদ ৪র্থ খন্ড, ৪২১ পৃষ্ঠা)
উল্লেখ্য যে, পরবর্তীতে মুয়াবিয়ার উজির ছিলো আমর ইবনে আস। সে ইমাম আলী'র (আঃ) অনুসারীদেরকে বিকৃতভাবে শাস্তি দিত এবং হত্যা করতো। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর এর হাত-পা কর্তন করে গাধার চামড়ায় পুরে সেটাকে সেলাই করে আগুনে নিক্ষেপ করেছিলো।
মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ছিলেন, হযরত আবু বকর এর পুত্র এবং ইমাম আলী'র (আঃ) অনুসারী।