05/05/2020
Facebook, Twitter, YouTube, LinkedIn, Instagram, Pinterest ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে যে মার্কেটিং করা হয় তাকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে।
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া হ’ল আমাদের প্রতিদিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এমন অবিশ্বাস্য সুবিধা দেয় যা সারা বিশ্ব জুড়ে কয়েক বিলিয়ন মানুষের কাছে Ad (বিজ্ঞাপন) পৌঁছাতে সহায়তা করে। যারা মার্কেটিং এর এই লাভজনক উত্সটি প্রয়োগ করছেন না, তারা অবশ্যই একটি আকর্ষণীয় মার্কেটিং এর সুযোগ মিস করছেন। কম খরচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে গ্রাহকদের পণ্য এবং সেবা ছড়িয়ে দেওয়া এখন খুব সহজ বিষয়।
স্টার্টআপস এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের বিশাল সুবিধা রয়েছে। সঠিক গ্রাহকদের টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়া যথাযথভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি বিক্রয়, ব্র্যান্ডের আনুগত্য, ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক (ভিজিটর), এসইও ইত্যাদির সুবিধা পাওয়া যাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে তাই আপনার প্রতিযোগীদের সাথে পাল্লা দিয়ে মার্কেটিং করতে চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কোন বিকল্প নেই।
আপনার ব্র্যান্ড তৈরি করতে, বিক্রয় বাড়াতে এবং ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক (ভিজিটর) আনতে এবং আপনার কাস্টমারের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অত্যাবশ্যক। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
Facebook Marketing
YouTube Marketing
LinkedIn Marketing
Instagram Marketing
Twitter Marketing
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিতি
Facebook
ফেসবুকের রয়েছে ২৩০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।
ফেসবুক বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া সাইট, প্রতি মাসে দুই বিলিয়নেরও বেশি লোক এটি ব্যবহার করে। যা বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ!
বিশ্বের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান page ব্যবহার করে এবং যার মধ্যে ৬০ লক্ষ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন (Facebook Boosting) প্রদান করে। তাই মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম।
YouTube
ইউটিউবের রয়েছে ১৯০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।
ইউটিউব সর্বাধিক জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন এক বিলিয়ন ঘন্টা ভিডিও দেখে। ইউটিউব মার্কেটিং শুরু করতে চাইলে আপনি নিজের ব্র্যান্ড বা ব্যবসায়ের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন যেখানে আপনি আপনার গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও আপলোড করতে পারেন। ইউটিউব (গুগলের মালিকানাধীন) গুগলের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন হিসাবেও পরিচিত।
Messenger
ম্যাসেঞ্জারের রয়েছে রয়েছে ১৩০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।
ফেসবুকের মালিকানাধীন একটি এপস হলো মেসেঞ্জার। ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পন্য বা সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়। ম্যাসেঞ্জারের নতুন একটি ফিচার হলে চ্যাটবট (Chatbot). চ্যাটবটের মাধ্যমে কোন ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই ম্যাসেজের রিপ্লাই দেয়া যায়। ফলে অফিস বন্ধ থাকুক বা কেউ রিপ্লাই না দিক, চ্যাটবট সেট করা প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করে থাকে।
Twitter
টুইটারের রয়েছে রয়েছে ৩৫ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী। টুইটার এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহারকারীদের ট্রেন্ডিং বিষয়ের (সমসাময়িক) প্রাসঙ্গিক কথোপকথন হয়ে থাকে। ছোট ছোট স্ট্যাটাস (টুইট) এবং মেনশন করে পারস্পরিক যোগাযোগ সম্পন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত ছোটটুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৬ কোটি টুইট বার্তা পাঠান।
Instagram
ইনস্টাগ্রামের রয়েছে রয়েছে ১০০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।
ইনস্টাগ্রাম একটি সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে আপনি ফটো এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারেন। মূলত টিন-এজাররা (১৩-১৯ বছর বয়সী) ইনস্টাগ্রাম এপটি বেশি ব্যবহার করে থাকে। যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখানে ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন প্রচারের মাত্রা খুব বেশি নয়। তবে দিন দিন ইনস্টাগ্রাম ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
LinkedIn
লিঙ্কডইন এর রয়েছে রয়েছে ৬১ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।
লিঙ্কডইন পেশাদারদের (Professional) জন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এবং একটি B2B (Business to Business) অডিয়েন্সদের মাঝে খুব জনপ্রিয়। প্ল্যাটফর্মটি কয়েক বছর ধরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে ৬১০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। লিঙ্কডইনে ব্যবহারকারীরা পোর্টফোলিওগুলি প্রদর্শন করতে পারেন এবং জব পোস্ট করতে পারেন এবং জবের জন্য আবেদন করতে পারেন। লিঙ্কডইন আপনার দক্ষতা (Skills) শেয়ার করার জন্য একটি দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম।