19/05/2026
আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?
আজকের দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন চোখের সামনে সড়কে ধান মাড়াই, ধান শুকানো, খড় ছড়িয়ে রাখা— সবই চলছে প্রকাশ্যে। মানুষ জানে ঝুঁকি আছে, প্রশাসনও জানে। তবুও কার্যকর ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়।
বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন গ্রামীণ সড়কে ধান শুকানো, ধান মাড়াই বা খড় রাখা নিষিদ্ধ। কারণ এগুলো সরাসরি দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রশ্ন হলো— আইন যদি বাস্তবে প্রয়োগই না হয়, তাহলে সেই আইন বইয়ের পাতায় থাকলেই বা লাভ কী?
প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু অফিস করা নয়; জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাও দায়িত্বের অংশ। নিয়মিত মাইকিং, সতর্কতা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা কিংবা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিলে অনেক আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ছিল। দু-চারটি কঠোর পদক্ষেপই মানুষকে সচেতন করতে পারত।
তবে দায় শুধু প্রশাসনের একার নয়— সমাজেরও দায় আছে। নিজের সুবিধার জন্য আমরা অনেক সময় অন্যের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করি। রাস্তা চলাচলের জন্য, ধান শুকানোর জন্য নয়— এই সাধারণ বোধটুকুও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
কিন্তু একটি কথা সত্য— দায়িত্বের চেয়ার মানে দায়বদ্ধতার চেয়ার। সেখানে যিনি বসবেন, মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে তাকে জবাবদিহির মধ্যেই থাকতে হবে। কারণ একটি দুর্ঘটনা শুধু খবর নয়, কারো পুরো পৃথিবী ভেঙে যাওয়ার নাম।