OM 67 ভগবানের চড়নে সমপ্রিত মন......🌼🍃

আজ পবিত্র নাগপঞ্চমী। আজ বলব সর্পদের জিহ্বা দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার গল্প।কদ্রু ও তার সন্তান সর্পেরা পক্ষীরাজ গরুড়ের মাতা বি...
18/08/2026

আজ পবিত্র নাগপঞ্চমী। আজ বলব সর্পদের জিহ্বা দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার গল্প।

কদ্রু ও তার সন্তান সর্পেরা পক্ষীরাজ গরুড়ের মাতা বিনতাকে দাসী বানিয়ে রেখেছিল। সর্পদের কথায় ও নিজের মাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে গরুড় দেবলোক থেকে অমৃত ছিনিয়ে আনে। দেবলোক থেকে অমৃত আনার পথমধ্যে দেবরাজ ইন্দ্র গরুড়ের পথ আটকে দাঁড়ান। দেবরাজ কিছুতেই গরুড়কে অমৃত নিয়ে সর্পদের দেওয়ার ঘটনায় রাজি ছিলেন না। তিনি গরুড়কে বলেন, অমৃত পান করে সাপেরা প্রবল শক্তিশালী হবে। তারা তখন সকলকে কষ্ট দেবে। তখন গরুড় ইন্দ্রকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ঠিক আছে, আমি যেখানে গিয়ে অমৃতপাত্রটি রাখবো, সেখান থেকে আপনি পাত্রটি তুলে নেবেন। অমৃত নিয়ে এসে গরুড় একটি কুশের আসনের উপর অমৃতের পাত্রটি রাখে কিন্তু দেবরাজ ইন্দ্র সাথে সাথে সেখান থেকে পাত্রটি তুলে নেয়। সাপেরা অমৃত না পেয়ে ভাবে, কুশের আসনের উপর নিশ্চয়ই অমৃত পড়ে থাকবে সামান্য। এই ভেবে তারা আসনটি চাটতে থাকে এবং কুশের ধারে তাদের জিভ দুইভাগ হয়ে যায়।

সাপেরা তাদের মাতা কদ্রুকে বচন দিয়েছিলো যে কদ্রুর অনুপস্থিতিতেও তারা বিনতা ও গরুড়কে দিয়ে দাসত্ব করাবে। কিন্তু গরুড়ের পরাক্রম সম্বন্ধে জানতে পেরে তাদের লোভ হয়। তারা গরুড়কে দেবলোক থেকে অমৃত আনার কাজে পাঠায়। এদিকে তারা গরুড়কে বলে যে, অমৃত পেলে তারা তাদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে দেবে; কিন্তু তারা মনে মনে জানতো এসব তারা কখনও করবে না। একদিকে তো তারা তাদের মা কে দেওয়া কথা অমান্য করলো, অন্যদিকে গরুড়ের সাথেও ছল করেছিলো। এধরণের ব্যক্তিদেরকেই দুমুখ সাপের সাথে বাস্তবে তুলনা করা হয়।

পক্ষীরাজ গরুড় ছিলেন পবিত্র ও সৎ, তাই ভগবান বিষ্ণুর বাহন হওয়ার সুবাদে তিনি ও তার মাতা সাপেদের দাসত্ব থেকে মুক্ত হন। গরুড় নিজের কথা কিন্তু রেখেছিলেন। তিনি অমৃতের পাত্র এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু সর্পেরা তা পান করতে পারলো না। আসলে দীর্ঘকাল কাউকে অত্যাচার করে গেলে, অত্যাচারীকেও এর ফল পেতে হয়।

আজ পবিত্র নাগপঞ্চমী। নাগকে পৃথিবীর অন্তর্নিহিত শক্তির প্রতীক মনে করা হয়। পুরাণে নাগলোক, পাতাল এবং নাগদের সঙ্গে পৃথিবীর গভীর স্তরের সম্পর্কের কথা পাওয়া যায়। তাই নাগপূজার মধ্যে ভূমি, জল, উর্বরতা ও প্রকৃতির গুপ্ত শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিহিত আছে।

সকলকে নাগ পঞ্চমীর শুভেচ্ছা জানাই
জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু 🌺🌺🌺🙏🏻

স্বামীজি বললেন "অমরনাথে যাওয়ার পর থেকে আমার মনে হচ্ছে শিব আমার মাথায় চব্বিশ ঘণ্টা বসে আছেন এবং নামবেন না।"🌼🌼
05/07/2026

স্বামীজি বললেন
"অমরনাথে যাওয়ার পর থেকে আমার মনে হচ্ছে
শিব আমার মাথায় চব্বিশ ঘণ্টা বসে আছেন এবং নামবেন না।"
🌼🌼

এক নারীর মধ্যে এক দেবী শক্তির আবির্ভাব।❤️
30/06/2026

এক নারীর মধ্যে এক দেবী শক্তির আবির্ভাব।❤️

অস্ত্র সিরিজ (১৮)শকুনির অস্ত্র:শকুনি — কৌরবদের মামা, কুটকৌশলের সম্রাটমহাভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম...
26/06/2026

অস্ত্র সিরিজ (১৮)
শকুনির অস্ত্র:
শকুনি — কৌরবদের মামা, কুটকৌশলের সম্রাট

মহাভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম গান্ধাররাজ শকুনি। তিনি প্রচলিত অর্থে কোনো মহাবীর যোদ্ধা ছিলেন না, কিন্তু তাঁর বুদ্ধি, কৌশল ও ষড়যন্ত্র কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

🎲 সুবলের হাড়ের পাশা

শকুনির পিতা রাজা সুবলের হাড় দিয়ে তৈরি হয়েছিল এক বিশেষ পাশা। কিংবদন্তি অনুসারে, সেই পাশা সর্বদা শকুনির ইচ্ছামতো ফল দিত। এই পাশাখেলার মাধ্যমেই পাণ্ডবদের রাজ্য, সম্পদ ও সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

♟️ কুটকৌশল — তাঁর প্রকৃত অস্ত্র

তরবারি বা ধনুক নয়, শকুনির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ছিল তাঁর কৌশলী মস্তিষ্ক। দুর্যোধনের অহংকার ও হিংসাকে উসকে দিয়ে পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

🧠 মনোবিজ্ঞানের দক্ষতা

মানুষের দুর্বলতা বুঝতে শকুনি ছিলেন অসাধারণ পারদর্শী। যুধিষ্ঠিরের পাশাখেলার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কৌরব সভায় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনার সূচনা করেন।

গান্ধার খড়্গ

শুধু পরিকল্পনাকারীই নন, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে শকুনি নিজেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পাণ্ডব সহদেবের হাতে তিনি নিহত হন।

🔹 শকুনির কোন ভয়ংকর অস্ত্র ছিল না, ছিল না কোনো দেবাস্ত্র— ছিল তাঁর বুদ্ধি, কৌশল ও প্রতারণা।

#মহাভারত #শকুনি #কুরুক্ষেত্র #পাশাখেলা #পুরাণকথা #হিডেনসিম্বল #দেবঅস্ত্র_ও_প্রতীক_পর্ব

।। বিশেরা মোহান্তি- অচেনা জগন্নাথপ্রভু কথা।। হায় হায়, বলি বিশে ঝাঁপ দিলে অতলে,তুলে আনি প্রভুকে রাখলেম মৃদঙ্গ খোলে,প্রতিট...
24/06/2026

।। বিশেরা মোহান্তি- অচেনা জগন্নাথপ্রভু কথা।।

হায় হায়, বলি বিশে ঝাঁপ দিলে অতলে,
তুলে আনি প্রভুকে রাখলেম মৃদঙ্গ খোলে,
প্রতিটি সুরের বোলে মৃদঙ্গ কৃষ্ণ বলে,
মোহান্তি বিশেরা পরিচিত হল জগে জগার সখা বলে।

দিব্যপরিচা প্রভুকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ছুটে চলেছেন। প্রভুকে রক্ষা করতে হবে। চিলকার ঘন অরণ্যে এক বৃক্ষ কোটরে প্রভুকে সন্তর্পণে নামিয়ে হাউ হাউ করে কাঁদলেন দিব্যপরিচা। প্রভু গো, তোমাকে এখানে রেখে গেলাম৷ তুমি ভালো থেকো, সাবধানে থেকো। আমরা তোমার যত্ন নিতে পারলাম না, কয়টা দিন তুমি নিজের খেয়াল রেখো। আমি ফিরে আসবো, যে নিয়ে যেতে হবে।

***
কালাপাহাড় দিব্যপরিচা অর্থাৎ প্রধান পণ্ডার পিছনে লোক লাগিয়েছিলেন। প্রভুর মন্দিরে বিগ্রহ নাই! কোথায় গেল! ভিতরে ভিতরে ভীষণ আক্রোশের ফুঁসে উঠছিলেন বারবার। কোণারক থেকে লিঙ্গেশ্বর আশেপাশে ছোটখাটো যত মন্দির ছিল সবগুলি তছনছ করে ফেলছিলেন... কোথায় তুমি কোথায়! তুমি না ভগবান, তুমি আমাকে ভয় পাও!

রাত্রী গভীর চোরের মত গা ঢেকে শিবিরে প্রবেশ করল এক স্থানীয় উপজাতি যুবক ধনপতী সিং...
লোভে চকচক করছে চোখদুটো। তৈলাক্ত হাসি টপে পড়ছে গা দিয়ে।
চিলকার দিকেই তাদের বাস। সেখানে বনের মধ্যে অদ্ভুত এক আশ্চর্য দেখা যাচ্ছে সম্প্রতি। বন্যবরহ ও সর্পসংকুল ওই ঘন অরণ্যে কোনও মানুষ গিয়ে পড়লে তার জীবিত ফিরে আসা দায় ছিল অথচ এখন বরাহ বা সর্প মাথা নামিয়ে চলে যায়। ভীত হরিণদল এখন দারুণ সাহসী, মানুষের কাছাকাছি হরিণ এসে বিস্ময় ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে। যেন কেউ তাদের রক্ষা করছে, তাই তারা হিংসা- ভয় সকল কিছু ভুলেছে। গভীর রাত্রে বাঁশির সুর ভেসে আসে।

ধনপতি বুঝেছিল এ দৈবি প্রভাব। তাই অরণ্যে খোঁজ শুরু করে। এভাবেই বৃক্ষকোটরে দেখা পেয়েছিল প্রভুর। হতভাগা পিতার সওদা করলো মুষ্টিমেয় অর্থের বিনিময়ে...

***
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন কালাপাহাড়। ভেবেছিলেন দারুমূর্তি অগ্নি সংযোগ করলেই সব শেষ কিন্তু একপ্রহর অতিক্রান্ত শিখাগ্র পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি তাঁর গাত্র।
চোয়াল ঝুলে গেল দিগ্বিজয়ীর, না চেয়েও ভিতরে লুকিয়ে থাকা সনাতন বিশ্বাস তাকে বলছে তুমি পাপ করেছ কালাপাহাড়। সুদর্শনপাণি বড় নির্মম, জলে বিসর্জন দিয়ে ক্ষমা চাও...
চিলকার অরণ্য থেকে ভীত সন্ত্রস্ত কালাপাহাড় উরফ রাজীবলোচন পালিয়ে এলেন! যাবার আগে ভক্তি ভরে বিসর্জন দিলেন তাঁকে সমুদ্রবক্ষে।তমোঘ্ন

***

কালাপাহাড় জানতে পারেননি, তার পিছু পিছু গা ঢাকা দিয়ে আর একজন এসে সব দেখছেন। এতক্ষন হাউহাউ করে কাঁদছিলেন আর প্রভুর কাছে প্রার্থনা করছিলেন যেন কিছু একটা উপায় হয়। কালাপাহাড় দৃষ্টির আড়াল হতেই উত্তাল সমুদ্রের বুকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। তল থেকে তুলে এনেছিলেন দারু ব্রহ্ম।
তিনি বিশেরা মোহান্ত, এক দীন কৃষ্ণ সেবক। কিন্তু কোথায় রাখবেন প্রভুকে! চতুর্দিকে যে ওদের চর...

যেমন ভাবা তেমন কাজ। আপন মৃদঙ্গের খোল ফেড়ে তাতেই ভরে নিলেন ব্রহ্ম পদার্থ। তারপর মৃদঙ্গ বাজিয়ে কৃষ্ণ নাম করতে করতে করলেন গ্রামের পথে। সে সুর ভারী অপূর্ব! হবে না-ই বা কেন! মৃদঙ্গের হৃদয়ে, তন্ত্রীতে স্বয়ং তিনিই অবস্থান করছেন যে...

***
বিশেরা কুজং এ নিজের গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন। আপন মৃদঙ্গের খোল হতে বের করলেন দারুব্রহ্মকে। নিজ গৃহ বাটে আপন সামর্থ্য সাকুল্যে সেবা করতে লাগলেন প্রভুর...

***
এদিকে সিংহাসনে বসেছেন রাজা রামচন্দ্র দেব পট্টনায়ক। তিনি গজবতি উপাধিও পেয়েছেন। কিন্তু মনে শান্তি নেই, প্রভু নেই যে মন্দিরে। রাজা আকুল হয়ে কাঁদেন প্রভুর কাছে, প্রভু তুমি ফিরে এসো।

যতই রাগ অভিমান থাকুক ভক্তের কান্না ভগবান কোনকালেই এড়িয়ে যেতে পারেন না আর তিনি তো স্বয়ং ভক্তের ভগবান লোকেশ্বর রাজা স্বপ্ন দেখলেন স্বপ্নে দেখা দিলেন রাজাকে।

মহাসমারোহে লোকলস্কর নিয়ে, পুস্পের পথ রচনা করে রাজার জ্যেষ্ঠ পুত্র পদ্মনাভ এলেন প্রভুর পাদপদ্মে। উপস্থিত হলেন বিশেরার দীন অথচ মহার্ঘ্য পর্ণকুটিরে।

খুরদার মহাসমারোহে হলো প্রভুর নবকলেবর প্রভু ফিরে চললেন নিজ গৃহে। কিন্তু বিশেরাকে তিনি ছাড়লেন না। বিশেরাও চললেন প্রভুর সাথে, শেষদিন অবধি প্রভু তাকে সেবা করার সুযোগ দিলেন। গজপতি রামচন্দ্র ও পদ্মনাভের আমলে শ্রীক্ষেত্রের অন্যতম পণ্ডা ছিলেন বিশেরা... প্রভুর সেবাইত, প্রভুর সখা...

নিবেদনে- OM 67
।। জয় জগন্নাথ।।

যেটা ঘটতে চলেছে সেটা ঘটবেই,যা ঘটবে না তা কখনোই ঘটবে না এরকম নিশ্চয়তাপূর্ণ মনোভাব যার মধ্যে আছে,,তাকে দুশ্চিন্তা কখনোই ক...
22/06/2026

যেটা ঘটতে চলেছে সেটা ঘটবেই,
যা ঘটবে না তা কখনোই ঘটবে না
এরকম নিশ্চয়তাপূর্ণ মনোভাব যার মধ্যে আছে,,
তাকে দুশ্চিন্তা কখনোই কষ্ট দিতে পারেনা।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
রণে বনে জলে জঙ্গলে_ যেখানেই বিপদে পড়িবে_আমাকে স্মরণ করিবে_আমিই রক্ষা করিব"
#লোকনাথ

❝দারিদ্র্যের মাঝেও যিনি ব্রহ্মাণ্ডের মালিককে ঋণী করেছিলেন!❞ — শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও কলাবেচা শ্রীধরের মহিমান্বিত প্রেমলীল...
16/06/2026

❝দারিদ্র্যের মাঝেও যিনি ব্রহ্মাণ্ডের মালিককে ঋণী করেছিলেন!❞ — শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও কলাবেচা শ্রীধরের মহিমান্বিত প্রেমলীলা 🚩🙏

গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাসে কলাবেচা শ্রীধর এক অনন্য উজ্জ্বল নক্ষত্র। শ্রীচৈতন্যভাগবত ও শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে এই পরম ভাগবতের অপ্রাকৃত মহিমা। বাহ্যদৃষ্টিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র, কিন্তু আধ্যাত্মিক সম্পদে তিনি ছিলেন ত্রিভুবনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।

আজকের জড়জাগতিক যুগে যখন মানুষ অর্থ আর প্রতিপত্তির পেছনে ছুটছে, তখন শ্রীধরের জীবন আমাদের শেখায়—“ভগবান ধন বা পাণ্ডিত্যের কাঙাল নন, তিনি কেবল ভাবের কাঙাল।”

🔹 ভাঙা কুটির, ছেঁড়া বস্ত্র ও কোটি টাকার কৃষ্ণপ্রেম

নবদ্বীপের এক কোণে ছিল শ্রীধরের ভাঙা কুটির। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে কলাগাছের থোড়, কলাপাতা আর কলা বিক্রি করে যা সামান্য আয় হতো, তার অর্ধেকটাই তিনি নির্দ্বিধায় বিলিয়ে দিতেন মা গঙ্গার সেবায়! আর বাকি অর্ধেক দিয়ে কোনো রকমে আধপেটা খেয়ে বেঁচে থাকতেন। জীর্ণ বস্ত্র, ঘরে অন্ন নেই—তবুও তাঁর মুখে কোনো অভিযোগ ছিল না। তাঁর একমাত্র জপ ছিল—"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।"

🔹 নিমাই পণ্ডিতের "মধুর ডাকাতি" ও প্রেমের কলহ

শাস্ত্র বলে, ভগবান ভক্তের কাছে ঋণী হতে ভালোবাসেন। তাই তো স্বয়ং গোলকের বিহারী, নবদ্বীপের নব্য পণ্ডিত শ্রীনিমাই রোজ যেতেন শ্রীধরের দোকানে।

“তুমি তো রোজ গঙ্গা পূজা করো, তা গঙ্গা মা তোমাকে কী দিয়েছেন? তাঁর চেয়ে আমার পূজা করো, আমি তোমাকে সব দেব!” — নিমাইয়ের এই চপলতায় শ্রীধর হাসতেন।

শুরু হতো কলাপাতা আর থোড়ের দাম নিয়ে মধুর ঝগড়া। নিমাই জোর করে অর্ধেক দামে জিনিস নিতেন, কখনো বা বিনামূল্যে কেড়ে নিয়ে পালাতেন। বাহ্যিকভাবে একে সাধারণ ঝগড়া মনে হলেও, এটি ছিল স্বয়ং ভগবান ও তাঁর নিত্যপার্ষদের অপ্রাকৃত লীলাবিলাস। বৃন্দাবনের সখারা যেমন কৃষ্ণকে ঈশ্বর না ভেবে "আপনজন" ভাবতেন, শ্রীধরও নিমাইকে তেমনি নিজের ঘরের ছেলের মতোই ভালোবাসতেন।

🔹 মহাপ্রকাশ লীলা: যখন অন্তর্যামী ধরা দিলেন

শ্রীবাস অঙ্গনে যখন মহাপ্রভু একুশ ঘণ্টাব্যাপী "মহাপ্রকাশ লীলা" প্রদর্শন করলেন, তখন চারদিকে ব্রহ্মা, শিব, ইন্দ্র স্তব করছেন। সেই দিব্য সিংহাসন থেকে মহাপ্রভু ডাকলেন—"শ্রীধরকে নিয়ে এসো!"

শ্রীধর এসে দেখলেন, যাঁর সঙ্গে তিনি প্রতিদিন বাজারে সামান্য কয়েকটা পয়সার জন্য তর্ক করেন, তিনি আর কেউ নন—স্বয়ং সর্বেশ্বরেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ! কখনো চতুর্ভুজ নারায়ণ, কখনো দ্বিভুজ শ্যামসুন্দর রূপে প্রকাশ পাচ্ছেন তিনি। শ্রীধর প্রেমে ও বিস্ময়ে মূর্ছিতপ্রায় হলেন।

🔹 মুক্তির চেয়েও মধুর যে "কলাপাতার কলহ"

মহাপ্রভু প্রসন্ন হয়ে বললেন, "শ্রীধর! তোমার ভক্তিতে আমি পরাস্ত। বলো কী বর চাও? অষ্টসিদ্ধি, রাজৈশ্বর্য, স্বর্গভোগ, এমনকি জন্ম-মৃত্যুর হাত থেকে মুক্তি (মোক্ষ)—তুমি যা চাইবে, আমি এখনই দেব!"

শাস্ত্রীয় বিচারে 'মুক্তি' বা 'মোক্ষ' হলো সাধারণ মানুষের পরম চাওয়া। কিন্তু একজন শুদ্ধ বৈষ্ণবের কাছে তা অত্যন্ত তুচ্ছ। শ্রীধর হাত জোড় করে কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন:

"প্রভু! আমার ধন-সম্পদ, স্বর্গ বা মুক্তির প্রয়োজন নেই। যদি বর দিতেই হয়, তবে এই বর দিন—জন্মে জন্মে যেন সেই চঞ্চল ব্রাহ্মণ বালক নিমাই পণ্ডিত আমার প্রভু হন। আর আমি যেন কলাপাতা হাতে তাঁর সঙ্গে সেই মধুর ঝগড়া করে যেতে পারি।"

💡 এই লীলা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত:

১. ভক্তিই একমাত্র পথ: 'নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়াসমাবৃতঃ' — ভগবানকে টাকা বা অহংকার দিয়ে কেনা যায় না, কেবল সরল হৃদয়ের শরণাগতি দিয়েই তাঁকে বাঁধা যায়।

২. ঐশ্বর্যের চেয়ে মাধুর্য শ্রেষ্ঠ: বৈকুণ্ঠের ঐশ্বর্যময় নারায়ণকে ভয় ও শ্রদ্ধার সাথে পূজা করা হয়, কিন্তু নবদ্বীপের গৌরহরি বা বৃন্দাবনের কৃষ্ণ ভক্তের ভালোবাসার কাছে নিজের ঈশ্বরত্ব ভুলে যান।

৩. শুদ্ধ ভক্তির স্বরূপ: শুদ্ধ ভক্ত কখনো ভগবানের কাছে নিজের ভোগের জন্য কিছু চান না। শ্রীধরের মতো তাঁরা কেবল ভগবানের নিত্যসেবা ও তাঁর সান্নিধ্য কামনা করেন।

উপসংহার:

কলাবেচা শ্রীধরের ভাঙা কুটিরে যে প্রেমের ধন ছিল, তা এই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত রাজৈশ্বর্যের চেয়ে কোটি গুণ মূল্যবান। আসুন, আমরাও আমাদের অহংকার বিসর্জন দিয়ে শ্রীধরের মতো সরল ও শুদ্ধ চিত্তে মহাপ্রভুর চরণে আত্মসমর্পণ করি।

জয় শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু! জয় কলাবেচা শ্রীধর! জয় নামসংকীর্তন! 🚩

👉ধর্মীয় এই বিশেষ জ্ঞানটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি Share করুন। প্রতিদিন এমন সুন্দর আধ্যাত্মিক পোস্ট পেতে OM 67 (Follow✅) ফলো দিয়ে সাথে থাকুন।

লাইক | কমেন্ট | শেয়ার

❌ টেক্সট কপি করবেন না প্লিজ 🙏

#শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভু #কলাবেচাশ্রীধর #গৌরলীলা #চৈতন্যচরিতামৃত #নবদ্বীপধাম #শ্রীকৃষ্ণপ্রেম #শুদ্ধভক্তি #গৌড়ীয়বৈষ্ণব #হরিনামসংকীর্তন #ভক্তেরজয় #সনাতনধর্ম #চৈতন্যভাগবত #নিমাইপণ্ডিত #মহাপ্রকাশলীলা #কৃষ্ণচেতনা #হরেকৃষ্ণ #বৈষ্ণবতত্ত্ব #আধ্যাত্মিকতা #গৌরাঙ্গমহাপ্রভু #ভক্তিযোগ

গীতাতুমি যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারো, তাতে মন দাও, যা পারো না, তা ছেড়ে দাও।সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নয়, কর্তব্য পালনই হোক তোমার প...
15/06/2026

গীতা
তুমি যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারো, তাতে মন দাও, যা পারো না, তা ছেড়ে দাও।

সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নয়, কর্তব্য পালনই হোক তোমার পথ।

মনকে শান্ত করো, সব উত্তর নিজেই ধরা দেবে।

অতীতকে শিক্ষা বানাও, ভবিষ্যৎকে আশা বানাও, বর্তমানকে কর্মক্ষেত্র বানাও।

যে নিজেকে জয় করতে পারে, তার কাছে পৃথিবী জয় করা সহজ।

বিশ্বাস রাখো, শ্রীকৃষ্ণ সবসময় তোমার সাথে আছেন।

কর্ম করো নিষ্ঠার সাথে, ফল নিজেই আসবে তোমার দ্বারে।

জয় শ্রীকৃষ্ণ

ওম ওম

🌷🌷যদি মায়ার প্রভাববশত আমাদের অধিকাংশ সময় অনিত্য দেহের সেবায় বা 'অসত্য ধ্যানে'ই (সংসারাসক্তিতে) অতিবাহিত হয়, তবে একজন সংস...
12/06/2026

🌷🌷যদি মায়ার প্রভাববশত আমাদের অধিকাংশ সময় অনিত্য দেহের সেবায় বা 'অসত্য ধ্যানে'ই (সংসারাসক্তিতে) অতিবাহিত হয়, তবে একজন সংসারী মানুষ কীভাবে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে তার গৃহকে 'শ্রীহরির মন্দির' এবং আত্মীয়-পরিজনকে 'গোবিন্দের অংশ' হিসেবে দর্শন করতে পারেন, যাতে তার মহামূল্যবান সময় আর 'ব্যর্থ' না হয়ে পারমার্থিক সার্থকতা লাভ করে?🌷🌷

স্ত্রীর ঘরে স্ত্রী সেবা স্ত্রী সম্ভাষণে।
ব্যার্থ কাল যায় তার অসত্য ধ্যানে।।

এই পঙ্ক্তি দুটি অত্যন্ত গভীর এবং আধ্যাত্মিক তত্ত্বে পরিপূর্ণ। বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে এটি কেবল দাম্পত্য জীবনের কথা বলছে, কিন্তু এর গভীরে লুকানো আছে জীবাত্মা, মায়া এবং পরমাত্মার গূঢ় রহস্য।

১. 'স্ত্রীর ঘর' ও 'স্ত্রী সেবা'র গূঢ় অর্থ

এখানে 'স্ত্রী' বা 'নারী' কেবল কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়; আধ্যাত্মিক পরিভাষায় একে বলা হয় 'মায়া' বা 'প্রকৃতি'।

স্ত্রীর ঘর:

আমাদের এই নশ্বর শরীরই হলো সেই ঘর। এই দেহের ভেতরেই আমরা কাম, ক্রোধ, লোভ আর মোহের মায়াজালে আবদ্ধ।

স্ত্রী সেবা ও সম্ভাষণ:

এর অর্থ হলো ইন্দ্রিয়তর্পণ। চোখ রূপ দেখতে চায়, কান প্রশংসা শুনতে চায়, ত্বক স্পর্শ চায়—এই যে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তিবিধান, একেই বলা হয়েছে 'সেবা'। জীব যখন কেবল নিজের শরীরের সুখে মত্ত থাকে, তখন সে আসলে মায়ারই সেবা করে।

২. 'অসত্য ধ্যান'—বিভ্রমের জগত

শাস্ত্রে 'সত্য' তাকেই বলা হয় যা চিরন্তন, যার বিনাশ নেই (অর্থাৎ শ্রীহরি)। আর যা আজ আছে কিন্তু কাল নেই, তাকে বলা হয় 'অসত্য' বা 'অনিত্য'।
আমাদের রূপ, যৌবন, ঘর-সংসার, এমনকি প্রিয়জনের সঙ্গ—সবই সময়ের স্রোতে বিলীন হয়ে যাবে।

ব্যর্থ কাল:

আমরা যখন মনে করি "আমি ভোগ করছি", আসলে তখন সময় আমাদের ভোগ করে নিচ্ছে। আমরা আয়ু হারাই, কিন্তু আমাদের বাসনা ফুরায় না। এই অনিত্য শরীরের ও মায়ার চিন্তায় মগ্ন থাকাই হলো 'অসত্য ধ্যান'। এতে আত্মার কোনো কল্যাণ হয় না, কেবল জন্ম-মৃত্যুর চক্র দীর্ঘ হয়।

'দেহ' থেকে 'দেহী'র অভিমুখে

জীবের স্বরূপ বিস্মৃতি।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে বলা হয়েছে: "জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্যদাস।"

কিন্তু জীব যখন মায়াবদ্ধ হয়, তখন সে নিজেকে দেহের মালিক মনে করে। সে মনে করে— "আমি স্বামী, আমি ভোগী, আমি কর্তা।" এই 'অহং'ই হলো অন্ধকার ঘর।

গূঢ় তত্ত্বটি হলো:

আপনি যদি স্ত্রীর সেবা করেন 'স্ত্রী' জ্ঞান করে, তবে তা কাম। কিন্তু যদি সেই স্ত্রীর হৃদয়ে 'পরমাত্মা' বা 'শ্রীহরি....

Address

Hat Naogaon

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when OM 67 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share