18/05/2025
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যুগান্তকারী একটি অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। সৌদি আরবের বিনিয়োগে মহেশখালীতে বিশাল তেল রিফাইনারি প্রকল্প !
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দিন দিন শিল্পায়ন, পরিবহন এবং কৃষি খাতে জ্বালানির উপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের সবচেয়ে দুর্বল দিকগুলোর একটি হলো জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার অভাব। এখনো দেশের প্রায় ৭০% তেল চাহিদা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারি দিয়ে আর কত চলবে?
চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। এর পরিশোধন ক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন। অথচ দেশে বছরে তেলের চাহিদা ৬০ লাখ টন। ফলে ৪৫+ লাখ টন তেল আমদানির বোঝা, কোটি কোটি ডলার গচ্চা।
ঠিক এই বাস্তবতায় ২০১৯ সাল থেকে মোট ৩ বার বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান Saudi Aramco বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে চট্টগ্রামের মহেশখালীতে একটি আধুনিক তেল রিফাইনারি স্থাপনের জন্য। প্রস্তাবিত রিফাইনারিটি বছরে ৩-৬ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রাখবে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০-৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বৈদেশিক বিনিয়োগ হতো।
কিন্তু ওই সময়ের সরকার কী করেছিল?
তখন স্বামীর সংসার টিকিয়ে রাখতে মহেশখালীকে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি হাবে পরিণত করার সুযোগ ছাড়া করেছিল হাসু আপা।
ভারতের মন রক্ষা করতে গিয়ে সৌদি প্রস্তাবকেই ঠান্ডা করে দেওয়া হয়েছিল।
হ্যাঁ, ভারতের কূটনৈতিক চাপ (আনঅফিশিয়াল, কিন্তু বহু নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত) ছিল মূল কারণ। কারণ?
বাংলাদেশ যদি নিজস্ব রিফাইনারি বানিয়ে ফেলে, তাহলে ভারতীয় তেল রপ্তানির বাজার ম্রা খাবে। ভারতের IOC ও Reliance বাংলাদেশে রিফাইন্ড তেল পাঠায় বছরে ২০ লাখ টনের বেশি।
বাংলাদেশ যদি নিজেই পরিশোধন করতে পারে, তাহলে এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে ভারতের একেকটা কর্পোরেট গোষ্ঠীর কাঁপুনি শুরু হয়েছিল ২০১৯ থেকেই। আর এভাবেই বছরের পর বছর বিদ্যুৎ , জ্বালানি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে ভারত নির্ভর করে রেখেছিল সেক্সাচিনা।
কিন্তু এবার দৃশ্যপট বদলেছে আর দিল্লির মাথাব্যথাও বেড়েছে।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সৌদি আরামকোর সঙ্গে Joint Venture কাঠামোতে ফের আলোচনায় বসেছে।মহেশখালীতে জমিও প্রস্তুত সেই সাথে
ফিনান্সিয়াল ক্লোজিং ২০২৫-এর মধ্যেই হতে পারে। নির্মাণ শুরু হলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম রিফাইনারি হাব।
রিফাইনারি হলে কী হবে, জানেন?
প্রতিবছর প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার তেল আমদানি কমবে। ৪০০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। অন্তত ৬০০০ নতুন স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। নিজস্ব বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ হবে। স্থানীয় জ্বালানি শিল্পে বিপুল উন্নয়ন হবে আর ভারতীয় তেল রপ্তানিকারীদের জন্য বাংলাদেশের দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হবে।
এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতা শুরু হবে।