23/08/2026
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাংয়ে বাড়ির কাছে সাইকেল চালাচ্ছিল ৬ বছর বয়সী ডেরেক লালছানহিমা। হঠাৎ দুর্ঘটনাবশত প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানাকে সাইকেল দিয়ে চাপা দেয় সে।
ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে আহত ছানাটিকে কোলে তুলে বাড়িতে ছুটে আসে ডেরেক। বাবাকে অনুরোধ করে সেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
ছেলের এমন অনুরোধে অবাক হন তার বাবা ধীরাজ ছেত্রী। তবে তিনি বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেননি। বরং বলেন, যদি এতটাই জরুরি মনে হয়, তাহলে সে নিজেই যেন হাসপাতালে নিয়ে যায়!
ডেরেক এক মুহূর্তও দেরি করেনি। নিজের কাছে থাকা একমাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা, অন্য হাতে নিজের সব সঞ্চয় নিয়ে ছুটে যায় কাছের হাসপাতালে।
হাসপাতালে উদ্বিগ্ন মুখে মুরগির ছানা আর ১০ রুপির নোট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ডেরেকের একটি ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করেন সাঙ্গা নামের এক ব্যক্তি। পোস্টে তিনি লেখেন, সাইরাংয়ের এই ছোট্ট ছেলেটি দুর্ঘটনাবশত প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে সাইকেলে চাপা দেয়। এরপর নিজের সব টাকা নিয়ে সেটিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সাহায্য চায়।
ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পরে সাঙ্গা ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনা নিশ্চিত করেন।
ডেরেকের বাবা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মুরগির ছানাটি মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সেটিকে বাঁচাতে পারেননি। তবে শিশুটির আন্তরিকতা দেখে তারা এতটাই মুগ্ধ হন যে তার একটি ছবি তুলে রাখেন এবং পরে বুঝিয়ে বলেন, আর কিছু করার নেই।
কিন্তু ডেরেক তখনও বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারেনি। কান্না করতে করতে বাড়ি ফিরে সে অভিযোগ করে, হাসপাতালের লোকজন শুধু তার ছবি তুলেছে এবং টাকা নিয়েছে, কিন্তু মুরগির ছানাটিকে বাঁচায়নি।
সে নাকি পরে বলেছিল, পরেরবার ১০ রুপি নয়, ১০০ রুপি নিয়ে যাবে, যাতে তারা অবশ্যই সাহায্য করে!
ডেরেকের বাবা বলেন, তিনি ভাবতেও পারেননি ছেলে সত্যিই একা হাসপাতালে চলে যাবে। আর এই ছোট্ট ঘটনাই একদিন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে, সেটিও তার কল্পনায় ছিল না।
পরে ডেরেকের স্কুলও তার সহমর্মিতার স্বীকৃতি দেয়। অসাধারণ সাহস ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে তাকে একটি ঐতিহ্যবাহী শাল পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।