08/09/2026
শেরপুর সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে অনিয়মের অভিযোগ
ভর্তি চিকিৎসাপত্র খুঁজে পাচ্ছেন না নার্সরা
নিজস্ব সংবাদ দাতাঃ-
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডের স্ক্যানো ইউনিটে আসন থাকা সত্ত্বেও রোগীদের অন্যত্র রেফার করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রি এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাপত্র খুঁজে না পাওয়ার মতো ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এক শিশুর স্বজনের অভিযোগ, গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শিশুটিকে ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বহির্বিভাগের ১৫ টাকার টিকিট ২০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে শিশুটিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় স্ক্যানো ইউনিটে নেওয়া হয়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, স্ক্যানো ইউনিটে আসন খালি থাকা সত্ত্বেও অনেক গুরুতর শিশুকে ময়মনসিংহ সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। এতে একদিকে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে স্বজনদের দূরবর্তী হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে ।
এদিকে, ভর্তি শিশুর চিকিৎসাপত্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এক রোগীর স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর সকালে চিকিৎসা নেওয়ার পর দুপুর ২টার দিকে শিশুটির ভর্তি-সংক্রান্ত চিকিৎসাপত্র প্রয়োজন হলে কর্তব্যরত নার্সরা সেটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে রাত ৯টার দিকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু রাত ৯টায় হাসপাতালে গিয়ে যোগাযোগ করেও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ করেন ওই স্বজন।
শুধু একটি নয়, সংশ্লিষ্ট নার্সদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জন রোগীর চিকিৎসাপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সত্য হলে এটি রোগীদের চিকিৎসা-নিরাপত্তা ও হাসপাতালের নথি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
অন্যদিকে, শিশু ওয়ার্ডে জনবল সংকটের চিত্রও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, গুরুতর অসুস্থ শিশুদের সেবা দিতে বর্তমানে মাত্র দুইজন নার্সকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এত সংখ্যক রোগীর বিপরীতে পর্যাপ্ত নার্স না থাকায় তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শিশুদের মতো স্পর্শকাতর রোগীদের চিকিৎসায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। চিকিৎসাপত্র হারিয়ে যাওয়া বা সময়মতো খুঁজে না পাওয়ার কারণে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তারা বিষয়গুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্ক্যানো ইউনিটে প্রকৃতপক্ষে কতটি আসন রয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে কতটি আসন খালি ছিল, কেন রোগীদের ময়মনসিংহে রেফার করা হয়েছে, টিকিটের নির্ধারিত মূল্য কত এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাপত্র সংরক্ষণে কী ব্যবস্থা রয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।