25/02/2026
জামায়াতে ইসলামের সাংগঠনিক অর্গানোগ্রামকে অনেকে সৌন্দর্যের কাব্য হিসেবে দেখেন। খোঁদ আওয়ামী লীগের ভিতরে এমন অনেক মানুষ আছে যারা জামায়াতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে নিজেদের তুলনা করে হীনমন্যতায় ভুগেন।
এই বোধ যাদের মধ্যে আছে তারা প্রত্যেকেই ভুল ন্যারেটিভের শিকার। রাজনৈতিক সংগঠন কেন গড়ে উঠে? সহজ কথায় গণমানুষের প্রয়োজনে। আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের যখম জন্ম হয় তখন বাঙালির সংস্কৃতি, চেতনা, নাগরিক অধিকার, জীবনবোধকে ধারণ করে এমন কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পূর্ব বাংলায় ছিল না। মুসলিম লীগের একচোখা রাজনীতি থেকে বাঙালি জাতির ভিতরে যে হতাশার তৈরী হয়েছিল সে শূণ্যতা কেটেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। আওয়ামী লীগের সুস্পষ্ট দর্শন ছিল। ছিল বলেই পূর্ব বাংলার জনগণের আস্থার জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছিল।
এবার আসি জামাতের রাজনীতিতে। এই দলটার প্রতিষ্ঠার পিছনে কোন পারপাজ নাই। এদের কোন দর্শন নাই। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় এরা জনগণের বিরুদ্ধে ছিল, একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামের সময়ও। বিএনপি আমলে এরা ছাত্রদল, আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগ। আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি এদের প্রধানতম স্ট্রেটেজি। এই দলটা এখন দৃশ্যমান শুধুমাত্র মেজরিটি মুসলিমের অপরিপক্ক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে। ধর্মের ব্যবসা না করলে এদের অবস্থাও হতো বাম দলগুলোর মতো।
অনেকে জামাতের সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে খুব পুলকিত বোধ করেন। কিন্তু জামাত যেটা করে সেটা মূলত ইনসিকিউরিটি পলিটিক্স। তোমার পড়াশোনার দরকার? ঠিক আছে, আমি তোমাকে শিক্ষাবৃত্তি দিবো। তুমি আজীবন আমার কাছে আজ্ঞাবহ থাকবে। সমাজে সর্বক্ষেত্রে এটাই ওদের রাজনীতি। ওরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রেখেছে, হাসপাতাল, কোচিং সেন্টার সর্বক্ষেত্রে এদের বিচরণ আছে। যদি বেনিফিটেড হতে চাও, জামাত করো। এদের রাজনীতি লটারির স্কিমের মতো। বাইতুল মাল নিবে এক হাজার জন থেকে, দশ জনকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে বাহবা কুড়াবে। বিনিময়ে পৃথিবীর যেখানেই যাবে জামাতি ভাবনার দাসত্ব করতে হবে। মৃত্যু অবধি জামাতকে সার্ভ করতে হবে।
জামাতের রাজনীতিতে কোন আইডিয়োলজিক্যাল বেইস নাই। ওরা সবসময় মানুষকে তার উইক পয়েন্ট দ্বারাই ট্রিগার্ড করতে চায়। এই নির্বাচনে তো এরা জান্নাতের টিকিট পর্যন্ত বিক্রি করেছে। প্রান্তিক মানুষ এইসব প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায়। অথচ রাজনীতি একটা আদর্শিক তাড়নার ব্যাপার। রাষ্ট্রচিন্তা থেকে রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম হয়। রাজনৈতিক সংগঠনের কাজ চাকরি দেওয়া না। বরং চাকরিক্ষেত্র তৈরী করা। রাজনৈতিক সংগঠনের কাজ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া না। সমাজের ধনী দরিদ্রের বৈষম্য কমানো এবং ক্লাস ডিফাইন্ড শিক্ষাবাণিজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। রাজনৈতিক সংগঠনের কাজ সাংগঠনিক কোটায় ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া না। বরং রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণগুলো (শিক্ষা, বস্ত্র, বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা) নিশ্চিতের জন্য কাজ করা।
সত্যিকারের রাজনৈতিক সংগঠন কখনো দলীয়ভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালায় না। অর্থ দিয়ে কর্পোরেট একটিভিস্ট পোষে না। বরং যোগ্য রাজনৈতিক কর্মী তৈরী করে, যারা দেশ গড়ার কাজে আসে। রাজনৈতিক সংগঠন মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন নামে রাজনীতির দোকান খোলে না। পলিসি তৈরী করে, সে পলিসি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে। সত্যিকারের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখায়। এরা শৃঙ্খলিত দাস বানায় না, স্বাধীনচেতা বিপ্লবী তৈরী করে। নিজেদের রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা, লুটেরা শ্রেণীসহ আরো অনেক কিছু নিয়েই যৌক্তিক সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে কোনভাবেই জামাতের মতো হতে চাওয়ার দরকার নাই। ছাত্রলীগের তৃণমূলের একজন কর্মী জীবনের সব বিসর্জন দিয়ে দিবে, কিন্তু কখনো গুপ্ত রাজনীতি করতে পারবে না। সাদিক কায়েম হইতে চাইবে না। এটাই ইস্পাত কঠিন আদর্শিক দৃঢ়তা। যাকে ভাঙা যায়, মচকানো যায় না। নিজেদেরকে আরো বেটার জায়গায় নেওয়ার চিন্তা ভালো। তবে কোন কারণেই জামাতকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার প্রয়োজন নেই। জামাত কোন রাজনৈতিক সংগঠন ই না, এটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।