21/12/2025
সময়ের স্রোত কেয়ামতের দিকে ধাবিত হচ্ছে, এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই। এরই মাঝে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক দ্বীনি ভাই-বোন সঠিক পথে ফিরে আসছেন। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এর পাশাপাশি ফিতনার জোয়ারও বেড়ে চলেছে, যেন আকাশ ছুঁতে চায়। চ্যাটজিপিটিও এই ফিতনার অন্তর্ভুক্ত— আল্লাহুম্মা হফাজনা!
আমি এমন অনেক ভাইকে দেখেছি, যারা চ্যাটজিপিটির কাছে ধর্মীয় মাসআলা জিজ্ঞেস করেন, এবং তা নির্দ্বিধায় গ্রহণও করেন। কিন্তু এই পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিয়ে তাদের চিন্তা ভাবনা প্রায় শূন্য বলা চলে। তাদের যুক্তি একটাই— চ্যাটজিপিটি অনলাইন জগৎ ঘুরে আপনার জন্য সেরা উত্তরটি খুঁজে বের করে।
কিন্তু, ভাই! একটু ভেবে দেখেন, চ্যাটজিপিটির আসল কাজ কী? এটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ, ফোরাম ও প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করে উত্তর তৈরি করে। কিন্তু অনলাইনের তথ্য তো কোনো নির্দিষ্ট মাজহাব বা নির্ভরযোগ্য আলেমদের একচেটিয়া নয়। এখানে হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি, সালাফি, সুন্নি, (কা*ফে*র) কা*দি*য়ানি— সকল মতাদর্শের লেখা রয়েছে। আপনি যদি হানাফি হয়ে থাকেন, আর চ্যাটজিপিটি যদি কাদিয়ানিদের ফতোয়া আপনার সামনে উপস্থাপন করে, তাহলে হয়তো আপনি তা বুঝতেও পারবেন না, বরং তা গ্রহণও করে ফেলতে পারেন।
আরো ভয়ংকর বিষয় হলো— একই প্রশ্ন দুইবার করলে চ্যাটজিপিটি দুই রকম উত্তর দিতে পারে। একবার বলবে, "এটি জায়েজ," আবার কিছুক্ষণ পর বলবে, "এটি নাজায়েজ।" কেন এমন হয়? কারণ, প্রথমবার হয়তো হানাফি ফতোয়া দেখিয়েছে, দ্বিতীয়বার মালিকি মাজহাবের ব্যাখ্যা দিয়েছে। ফলে আপনি দ্বিধাগ্রস্ত হবেন, মনে সংশয় সৃষ্টি হবে, এবং একসময় সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করাটাই কঠিন হয়ে উঠবে।
আসলে চ্যাটজিপিটি এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে যে, এর প্রধান লক্ষ্য "ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখা," সত্যকে উপস্থাপন করা নয়। অথচ দ্বীনের ক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান, সন্তুষ্টি নয়।
তাই, কোনো মাসআলা জানা প্রয়োজন হলে, অভিজ্ঞ ও যোগ্য আলেমদের শরণাপন্ন হন। নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিভাগ বা মুফতির কাছে প্রশ্ন করেন। কারণ, দ্বীন কোনো খেলনা নয়, এটি জান্নাত ও জাহান্নামের প্রশ্ন!
আল্লাহ আমাদের সকলকে সত্য বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এ যেন এক নতুন ফেতনা!
-সজিবুল ইসলাম।