02/07/2026
The Mohadan New York post 24 bd. com
কালেমা খচিত পতাকার ব্যাপক ব্যবহার নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে: ইফায় মতবিনিময় সভায় শীর্ষ উলামায়ে কেরাম
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
০3 জুলাই ২০২৬,
সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা, হিজরী নববর্ষ উদযাপন এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, শহর ও অঞ্চলে গণহারে পবিত্র কালেমা খচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পবিত্র কালেমা আমাদের ঈমানের মূল ভিত্তি। এর প্রতি প্রতিটি মুসলমানের গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে।
তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কালেমা লিখিত নির্দিষ্ট ধরনের কালো পতাকা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় কিছু মহলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো গোষ্ঠী এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল বা সমাবেশে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাতে পারে। এতে ইসলাম, মুসলিম সমাজ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লেও বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগ ও নেতিবাচক ব্যাখ্যার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসব পতাকার ব্যাপক ব্যবহার এবং তরুণদের হাতে হাতে বহনের ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
ফলে দেশের সর্বজনস্বীকৃত উলামায়ে কেরাম, ইসলামী দলসমূহের নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত মহলে এ বিষয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় সর্ম্পকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত শীর্ষ উলামায়ে কেরামের মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।Geographic Reference
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকীর সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ধর্মমন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, দেওনার পীর সাহেব প্রিন্সিপাল মিজানুর রহমান চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও ১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র ড.শাইখুল হাদিস গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, মধুপুর পীর সাহেব মাওলানা আব্দুল হামিদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ,বেফাকের মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক, মুফতি মনির হুসাইন কাসেমী, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মুফতি হারুন এজহার, জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা, মাওলানা শরীফ উল্লাহ, মাওলানা মাহমুদ হাসান গুনভী, মাওলানা আজহাল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মাওলানা এজহারুল হক, মাওলানা জাকির হোসেন খান, মাওলানা ড. মুশতাক আহমদ, মাওলানা ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, মাওলানা মীর ইদরিস, মুফতি মো. আবদুল্লাহ, মাওলানা আনিসুজ্জামান সিকদার ও মাওলানা ছানাউল্লাহ আজহারী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কালেমা খচিত পতাকা তৈরি ও উত্তোলন মূলত জায়েয। হাদিস ও সীরাতগ্রন্থে’ বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে সাদা, কালো কিংবা কালেমা-সংবলিত পতাকার ব্যবহার মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল
যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সাধারণ সভা-সমাবেশ বা মিছিলে এ ধরনের পতাকা বহনের নজির কুরআন, হাদিস বা নির্ভরযোগ্য ফিকহের কিতাবে পাওয়া যায় না।
ইসলামী শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো সমাজে ফিতনা বা বড় ধরনের বিভ্রান্তির আশঙ্কা দেখা দিলে অনেক বৈধ (জায়েয) কাজও সাময়িকভাবে পরিহার করা উচিত। এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির আশঙ্কা না থাকত, তবে তিনি কাবা শরিফকে হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ভিত্তির ওপর, অর্থাৎ হাতীমসহ পুননির্মাণ করতেন। অর্থাৎ বৈধ হওয়া সত্ত্বেও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কায় তিনি সেই কাজ থেকে বিরত ছিলেন। পবিত্র হারামাইনের দেশ সউদী আরবের জাতীয় পতাকায় পবিত্র কালেমা ও তরবারির প্রতীক রয়েছে। আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকাতেও কালেমা সংবলিত লেখা রয়েছে। এসব পতাকা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ব্যবহৃত হয় এবং যথাযথ সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়। সউদী আরবের জাতীয় পতাকায় কালেমা খচিত থাকায় সেটি কখনো অর্ধনমিত করা হয় না।
অপরদিকে, গণহারে ব্যবহৃত কালেমা খচিত পতাকা কর্মসূচি শেষে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা, ছিঁড়ে যাওয়া বা পদদলিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পবিত্র কালেমার এমন অবমাননার সম্ভাবনার কারণে অনেক মুসলিম স্কলার পতাকায় কালেমা লিখে গণহারে ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করেছেন। খেলাধুলা বা অন্যান্য সাধারণ কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে কালেমা খচিত পতাকার ব্যবহার অনিচ্ছাকৃতভাবে এর পবিত্র মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে দেশের জমহুর উলামায়ে কেরাম, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পবিত্র কালেমার মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট এই স্পর্শকাতর বিষয়টির যথাযথ সমাধান সম্ভব। এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে জনগণের মধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor