The Daily Mohadan Gold

The Daily Mohadan Gold Kazi Rafiqul Hasan
Editor

The Daily Mohadan Express  জুতা পায়ে রথে উঠে রিলস মুসলিম যুবকের: প্রতিদিন মন্দির পরিষ্কারের শর্তে জামিনNur A Azom Kazi ...
30/07/2026

The Daily Mohadan Express

জুতা পায়ে রথে উঠে রিলস মুসলিম যুবকের: প্রতিদিন মন্দির পরিষ্কারের শর্তে জামিন
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
31 July 2026

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রিলস’ বা ভিডিও বানাতে গিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক মুসলিম যুবককে শর্তাধীন জামিন দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমা আদালত। জামিনের অনন্য শর্ত হিসেবে আদালত তাঁকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন মন্দির প্রাঙ্গণ ও সামনের রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উল্টো রথযাত্রার দু’দিন পর পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম বাবুলাল শেখ, তিনি সমুদ্রগড়ের বাসিন্দা। স্থানীয় ‘পশ্চিম নসরতপুর হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সংঘ’-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাবুলাল জুতা পরা অবস্থায় রথের সিঁড়িতে উঠে নাচানাচি করেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন।

অভিযোগটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কিছু বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নাদনঘাট থানা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে বাবুলালকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযুক্তকে কালনার অতিরিক্ত প্রধান বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কিছু কড়া শর্তে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্তকে প্রতিদিন স্থানীয় মন্দির প্রাঙ্গণ এবং সামনের রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে। সেই সাথে প্রতি সপ্তাহে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হয়ে তদন্তে সহায়তা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে শুনানি চলাকালীন বাবুলালের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ইচ্ছা ছিল না। গ্রেপ্তারের আগে আইনি নোটিশ না দেওয়ার বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরেন আইনজীবী।

আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাতজোড় করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান বাবুলাল শেখ। তিনি বলেন, “রথে যে জুতা পরে উঠতে হয় না, তা আমি জানতাম না। আমি আমার ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত। জীবনে আর কখনো এমন ভুল হবে না।” স্থানীয়রা জানান, তিনি কান ধরেও নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, জামিনের শর্ত হিসেবে একজন মুসলিম যুবককে হিন্দু মন্দিরের প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার নির্দেশের বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও নতুন করে যেন কোনো উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Islami Bangladesh News 24 bd. com আমিরাতের সহায়তায় ইরানে বাহরাইন ও কুয়েতের নজিরবিহীন বিমান হামলা!News publis...
25/07/2026

The Mohadan Islami Bangladesh News 24 bd. com

আমিরাতের সহায়তায় ইরানে বাহরাইন ও কুয়েতের নজিরবিহীন বিমান হামলা!
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
26 July 2026

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির খবর সামনে এসেছে। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে হামলা চালিয়েছে বাহরাইন ও কুয়েত।সংবাদ বিশ্লেষণ সেবা



হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তা
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাহরাইন ও কুয়েতের এই যৌথ অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং আকাশে প্রতিরক্ষামূলক বিমান হামলা (Air Cover) প্রদানের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারগুলো, যা থেকে এতদিন উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছিল।



কুয়েতের অস্বীকৃতি ও কৌশলগত অস্পষ্টতা
তবে এই দাবির পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কূটনৈতিক মহলে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত শেখা আল-জাইন আল-সবাহ প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কুয়েত ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি এবং প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। বাহরাইনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।



বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় ছোট দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে এবং ইরানি আক্রমণ প্রতিহত করতে কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে এখন পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Islami Bangladesh democracy Times 24 bd. com হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞাNews publisher ...
19/07/2026

The Mohadan Islami Bangladesh democracy Times 24 bd. com

হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
20 July 2026

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।



রোববার (১৯ জুলাই) ইরানের স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।



সূত্রটি দাবি করে, বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের যেকোনো চেষ্টা, বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।



আইআরজিসির ওই সূত্র আরও জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেগুলোর মুখোমুখি হয় এবং তাদের প্রতিহত করে।



সূত্রটি জোর দিয়ে বলে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের জাহাজ চলাচল হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে এই নৌপথ বন্ধই থাকবে এবং কোনো জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Daily Mohadan Times তেহরান ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টাপাল্টি হামলাNews publisher and Editorial Nur A Azom Kazi Rafiqul ...
16/07/2026

The Daily Mohadan Times
তেহরান ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টাপাল্টি হামলা
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
17 July 2026

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাল্টা আঘাত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সর্বশেষ তরঙ্গে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গতকাল ভোরে এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরানের পক্ষ থেকে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবেই এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বন্দর আব্বাস, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রেটার তুনব দ্বীপ, চাবাহার, কোনারক, রাসক, খোররামাবাদ এবং সেমনানসহ বহু অঞ্চলের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি চৌকি লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করে। হামলায় আহভাজ শহরের একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজধানী তেহরান, পাকদাশত ও পারচিন এলাকায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, আনদিমেশক শহরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে আরোপিত নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি নির্দেশ অমান্যকারী তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।সংবাদ সতর্কতা

মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান। ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সুপার হক রাডার এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেনা সমাবেশ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে জর্ডান সরকার দাবি করেছে, তারা আকাশেই ইরানের ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে। ইরাকের ইরবিল শহরে ৫টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে দুটি মার্কিন ঘাঁটির কাছে বিধ্বস্ত হয় এবং একটি মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ভূপাতিত করা হয়। তবে এই হামলার দায় ইরান এখনও স্বীকার করেনি।

ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প : পেনসিলভেনিয়ার ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজে বক্তব্য রাখার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পর্দার আড়ালে একটি শান্তি চুক্তি করতে চাইছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করছি তা তারা পছন্দ করছে না এবং তারা এর সমাধান চায়। এখন দেখা যাক আমরা তাদের সাথে সমঝোতায় আসি নাকি এই অধ্যায়ের চূড়ান্ত সমাপ্তি টানি।’ তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই একটি বিরল সৌজন্যতা দেখা গেছে। ২০২৪ সাল থেকে ইরানে ‘অন্যায়ভাবে’ বন্দি থাকা মার্কিন নাগরিক দিনা কারারি-কে মুক্তি দেওয়ায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‹ট্রুথ সোশ্যাল›-এ ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা রক্ষা করে কথা বললেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়াতে দ্রুত দুই পক্ষের মধ্যে একটি টেকসই চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

চুক্তি ভণ্ডুলের চেষ্টাকারী ইসরাইলি মন্ত্রীদের জাহান্নামে যেতে বললেন ভ্যান্স : যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরাইলি সরকারের ভেতরের কিছু অংশের বিরুদ্ধে ইরানের সাথে সমঝোতা আলোচনা নস্যাৎ করার এবং যুদ্ধ জারি রাখতে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেছেন, তারা যেন ‘জাহান্নামে যায়’। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইসরাইলের কিছু ব্যক্তিত্ব কোনো নির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই ইরান সংঘাতকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টেনে নিয়ে যেতে চাইছেন। ভ্যান্স বলেন, ‘তাদের ব্যবস্থার ভেতরে এমন কিছু মানুষ আছেÑযা আমরা নিঃসন্দেহে জানিÑযারা যুদ্ধকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত ও পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য নয়, স্রেফ অন্তহীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য।’

ফের আলোচনার জন্য পাকিস্তানের তোড়জোড় : গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওআই) অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনা টেবিলে ফিরিয়ে আনতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাবি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য উৎসাহিত করে যাবে।’ চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। এর আগে গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের উদ্যোগেই একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে দীর্ঘ চার দশক পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি একই কক্ষে বসে আলোচনায় অংশ নেন।

টানা চতুর্থ দিন বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সর্বশেষ বাজারদর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Islami Republic Bangladesh world news 24 bd. com বিহারে জোরপূর্বক নিকাব খুলে নিয়ে মুসলিম তরুণীকে সিঁদুর পরা...
09/07/2026

The Mohadan Islami Republic Bangladesh world news 24 bd. com

বিহারে জোরপূর্বক নিকাব খুলে নিয়ে মুসলিম তরুণীকে সিঁদুর পরালো হিন্দুত্ববাদীরা
News publisher and Editorial
Poet Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
10 July 2026



ভারতের বিহারে এক মুসলিম তরুণীকে জনসমক্ষে হেনস্তা ও জোরপূর্বক নিকাব খুলিয়ে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। বিহারের নওয়াদা জেলায় একজন হিন্দু যুবকের সাথে দেখা করায় ওই তরুণীকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী একদল যুবক এই চরম লাঞ্ছনার শিকার করে বলে অভিযোগ উঠেছে।



গত সপ্তাহে কামালপুর নওয়াদায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিওটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।



ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা যায়, আক্রান্ত তরুণীটি বারবার যুবকদের কাছে হেনস্তা বন্ধ করার জন্য কাকুতি-মিনতি করছেন। কিন্তু আক্রমণকারীরা তার কোনো কথাই শুনছিল না, উল্টো পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে তাকে ধর্মীয়ভাবে হুমকি দিতে থাকে।



এক পর্যায়ে ওই উগ্রপন্থী দলটির চাপে পড়ে তরুণীর সঙ্গে থাকা হিন্দু বন্ধুটি তার কপালে সিঁদুর পরাতে বাধ্য হন। তরুণীটি এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে হেনস্তাকারীদের একজন বলে ওঠে, "ভিডিও তো তৈরি হবেই। প্রমাণ তো থাকা চাই।” এরপর তারা তরুণীর নিকাব জোর করে টেনে খুলে ফেলে এবং 'জয় বজরংবলী' স্লোগান দিতে শুরু করে।



তরুণীর সাথে থাকা যুবক বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আক্রমণকারীরা থামেনি। উল্টো একজন উপহাস করে বলে, “আরে, তুমি এখানে সিঁদুর পরাও, পরে মুসলিম রীতিতে যা করার করো।” ভিডিওর শেষ অংশে দেখা যায়, হেনস্তার শিকার ওই যুগল চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও উগ্রবাদীরা ক্যামেরা নিয়ে তাদের পিছু ছাড়ছে না।



নওয়াদা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।



নওয়াদা পুলিশ প্রশাসন জানায়, "আমরা ভিডিওটি খতিয়ে দেখছি। ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে যোগাযোগ করে তার আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"



এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মানবাধিকার কর্মী ও নেটিজেনরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Islami Bangladesh world press 24 bd. com ইন্দোনেশিয়া থেকে কি শিক্ষা নেবেন মোদি?মুসলিম দেশে সগর্বে দাঁড়িয়ে মন...
09/07/2026

The Mohadan Islami Bangladesh world press 24 bd. com

ইন্দোনেশিয়া থেকে কি শিক্ষা নেবেন মোদি?
মুসলিম দেশে সগর্বে দাঁড়িয়ে মন্দির, ভারতে কেন ভাঙা হচ্ছে মসজিদ?
News publisher and Editorial
Poet Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
10 July 2026

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। অথচ এই মুসলিম দেশটিতেই প্রায় এক হাজার বছর ধরে সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন হিন্দু উপাসনালয় ‘প্রাম্বানান মন্দির’। কোনো ভাঙচুর নেই, কোনো উগ্রতা নেই; বরং পুরো মুসলিম জাতি এটিকে তাদের জাতীয় সভ্যতা ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরম মমতায় আগলে রেখেছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফর এবং এই মন্দিরে তার পূজা-অর্চনার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই সফর একই সাথে ভারতের বর্তমান উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গালে এক সজোরে চপেটাঘাতও বটে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদির এই সফর কেবল কূটনীতির অংশ নয়, বরং ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর জন্য এটি এক বিরাট শিক্ষণীয় অধ্যায়। প্রশ্ন উঠেছে, একটি মুসলিম দেশ যদি তাদের মাটিতে হাজার বছরের অমুসলিম ঐতিহ্যকে সগর্বে রক্ষা করতে পারে, তবে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে কেন শত শত বছরের প্রাচীন মসজিদ, মাদ্রাসা ও দর্গা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে?

সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন প্রাম্বানান মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রার্থনা করছিলেন, তখন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো অত্যন্ত গর্বের সাথে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কোনো বিক্ষোভ হয়নি, কোনো ঘৃণামূলক প্রচার চালানো হয়নি, কিংবা এই সফরকে কেন্দ্র করে কোনো সাম্প্রদায়িক জিকিরও তোলা হয়নি। এটি প্রমাণ করে, প্রকৃত ধর্মীয় আত্মবিশ্বাস অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোয় নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্যেই নিহিত থাকে।

অথচ এর বিপরীতে ভারতের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যে ভারত একসময় ‘সর্ব ধর্ম সমভাব’ বা সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধার বাণী শুনিয়ে বিশ্বজুড়ে বাহবা কুড়াতো, আজ সেই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পুরোপুরি উন্মোচিত। বর্তমান বিজেপি শাসনামলে ভারতের সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম সমাজ এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

বিগত কিছুদিনে ভারতের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেবল উচ্ছেদ আর আইনি মারপ্যাঁচের অজুহাতে একের পর এক ঐতিহাসিক মসজিদ ও মাদ্রাসা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম উপাসনালয়গুলোকে টার্গেট করছে। ধর্মীয় উৎসবের নামে মসজিদের সামনে উসকানিমূলক স্লোগান, মাইকের তাণ্ডব এবং মুসলিমদের ওপর হামলা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতে তথাকথিত গো-রক্ষার নামে ভারতে প্রতিনিয়ত নিরীহ মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যা (মব লিঞ্চিং) করা হচ্ছে, যা দেশটির বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে বিশ্বদরবারে কালিমালিপ্ত করেছে। শুধু তা-ই নয়, মুসলিমদের শত বছরের ধর্মীয় সম্পত্তি ও ওয়াকফ আইন সংশোধনের নামে তা কেড়ে নেওয়ার এক গভীর চক্রান্ত চলছে, যা ভারতীয় মুসলমানদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। উগ্রপন্থীদের এই অন্যায় আচরণ দমনের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে অনেক ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

সবচেয়ে বড় পরিহাস হলো, ভারতের বর্তমান সরকার যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ব্যাপক উৎসাহ দেখায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধর্মীয় সহনশীলতার বড় বড় বাণী প্রচার করে, ঠিক তখনই নিজ দেশের মাটিতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।Legal

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে—অন্য ধর্মের ঐতিহ্য রক্ষা করলে নিজের ধর্ম বা জাতীয় পরিচয় ক্ষুণ্ণ হয় না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ইন্দোনেশিয়া সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে শেষ হওয়া উচিত নয়। মোদি ও তার সরকারের উচিত এই সফর থেকে প্রকৃত শিক্ষা নেওয়া। বিদেশে গিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করার আগে, নিজ দেশের মাটিতে মুসলিমসহ সকল সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং চলমান ‘বুলডোজার নীতি’ বন্ধ করাই হবে ভারতের জন্য প্রকৃত আত্মদর্শনের কাজ।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Washington Times 24 bd. comইরানের জন্য রাশিয়ার ২০টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত: চলতি বছরেই সরবরাহের সম্ভাব...
05/07/2026

The Mohadan Washington Times 24 bd. com
ইরানের জন্য রাশিয়ার ২০টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত: চলতি বছরেই সরবরাহের সম্ভাবনা

প্রকাশ : ০6 জুলাই ২০২৬,
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
ইরানের ক্রয়াদেশ দেওয়া ২০টি সু-৩৫ (সুখোই-৩৫) যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এটিকে একটি বড় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'মিলিটারনি ওয়াচ ম্যাগাজিন'-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানগুলো রাশিয়ার কোমসোমলস্ক-অন-আমুর অ্যাভিয়েশন প্ল্যান্টে তৈরি করা হয়েছে। ইরানের কাছে চূড়ান্ত হস্তান্তরের আগে বিমানগুলো বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছে এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই বড় অগ্রগতিটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার কিছুকাল আগে গত বছরের শেষদিকে রাশিয়ার সামরিক-শিল্প খাতের ফাঁসে হওয়া কিছু অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে, সে সময় ইরানের জন্য ১৬টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান উৎপাদনের কাজ চলছিল।

প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার (১,০০০ মাইল) কমব্যাট রেডিয়াসের (যুদ্ধসীমা) সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের ন্যাটো প্রদত্ত সাংকেতিক নাম– ফ্ল্যাঙ্কার-এম বা "সুপার ফ্ল্যাঙ্কার"। এই ফাইটার জেট শত্রু ভূখণ্ডের অনেক গভীরে ঢুকে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া সংক্ষিপ্ত বা অস্থায়ী রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের বিশেষ ক্ষমতার কারণে এটি বড় কোনো বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালনার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে না, যা যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর পক্ষে এটিকে নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র উৎপাদক লকহিড মার্টিনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ কিংবা চীনের তৈরি শেনিয়াং জে-১৬-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমানের চেয়ে কিছুটা কম অত্যাধুনিক হলেও, সুখোই-৩৫ এখনো বিশ্বের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে-পরীক্ষিত (ব্যাটল-টেস্টেড) ফাইটার জেট। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন প্রযুক্তির আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংযোজনের মাধ্যমে এই বিমানটিকে আরও উন্নত করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া প্রতি বছর গড়ে মাত্র ১৪টির মতো সু-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করে থাকে, যা তাদের চাহিদার তুলনায় বেশ ধীরগতির। তবে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

২০২৫ সালের মে মাসে রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট কর্পোরেশনের (ইউএসি) মহাপরিচালক ভাদিম বাদেখা নিশ্চিত করেছিলেন যে, বিমানের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। তবে ইরানের ক্রয়াদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে, এই উৎপাদন বৃদ্ধির ফলেও আগামী দুই থেকে তিন বছর রাশিয়ার নিজস্ব বিমানবাহিনীর জন্য নতুন সুখোই-৩৫ সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

২০২৫ সালের শেষদিকে ফাঁস হওয়া রাশিয়ার সরকারি নথিপত্র থেকে ইঙ্গিত মেলে, ইরান রাশিয়ার কাছে মোট ৪৮টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের আগের একটি অস্পষ্ট বিবৃতির সত্যতা নিশ্চিত হয়, যেখানে তারা সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করে রাশিয়া থেকে বড় ধরনের যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

মূলত ২০২৩ সালে রাশিয়ার সাথে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। ১৯৯০-এর দশকের পর এটিই ছিল ইরানের প্রথম আধুনিক ফাইটার জেট কেনা সংক্রান্ত চুক্তি, যার মধ্যে সুখোই-৩৫ ফাইটার ছাড়াও মিল মি-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ জেট ট্রেইনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সুখোই-৩৫ নিয়ে অন্যান্য দেশের আগ্রহ বেশ সীমিত। এর প্রধান কারণ হলো বিমানটির কিছুটা সেকেলে বা প্রাচীন অ্যাভিওনিক্স ব্যবস্থা, এবং এটি কিনলে মার্কিন বা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার আশঙ্কায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাই এটি কিনতে আগ্রহ দেখায়নি।

ইরান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে তাদের বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে যাওয়া এই নতুন যুদ্ধবিমান বহরের জন্য পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের কাছে রাশিয়ার তৈরি ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ ট্রেইনার বিমান সরবরাহ শুরু হয়, যা মূলত ভবিষ্যতে সুখোই-৩৫ পরিচালনার জন্য পাইলটদের একটি ব্যাপক ও উন্নত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সুখোই-৩৫ সরবরাহ চলতি ২০২৬ সালেই শুরু হতে পারে। তবে কিছু আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, ইরানের হামাদান বিমানঘাঁটির সাম্প্রতিক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে, এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। খবর পাওয়া গেছে যে, রুশ ও ইরানি ইঞ্জিনিয়ারিং দলগুলো বর্তমানে ঘাঁটিটি দ্রুত সংস্কারের জন্য কাজ করছে এবং মূল যুদ্ধবিমানগুলো পৌঁছানোর আগেই উন্নতমানের ফ্লাইট সিম্যুলেটর সেখানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরান দেশ

রাশিয়ার কাছ থেকে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের এই প্রক্রিয়া কেবল সুখোই-৩৫ কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রুশ সামরিক সূত্রগুলো গত জুন মাসে জানিয়েছে, তেহরান রাশিয়ার কাছে আরও ১২টি সুখোই-৩০এসএম২ ফাইটারের অর্ডার দিয়েছে। রুশ বিমানবাহিনীর সক্রিয় সামরিক ইউনিটগুলো থেকে বিমান স্থানান্তরের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই সরবরাহ শুরু হতে পারে।

সুখোই সু-৩০এসএম২ মূলত সুখোই সুখোই-৩৫-এর চেয়ে কিছুটা কম জটিল একটি সংস্করণ। এটি তুলনামূলক সস্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ হলেও—আক্রমণাত্মক মিশন এবং নতুন পাইলটদের অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

ইরান

এছাড়া ইরান রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টিলথ ফাইটার সুখোই সু-৫৭ ক্রয়ের চেষ্টাও করতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে রাশিয়ার নিজস্ব উৎপাদন জটের কারণে এই সুপার-স্টিলথ বিমানের সরবরাহ ২০৩০ সালের আগে ইরানের হাতে পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।

স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের প্রথম কোনো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান অর্জন করার এই বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ইরানকে এখনো স্নায়ুযুদ্ধ আমলের পুরোনো মার্কিন ও পশ্চিমা বিমানবহরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার মধ্যে গ্রুম্যান এফ-১৪এ টমক্যাট, ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ-৪ডি/ই ফ্যান্টম ২ এবং নর্থরপ এফ-৫ই/এফ টাইগার ২-এর মতো বিমান রয়েছে।

ইরান

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে কেনা পশ্চিমা প্রযুক্তির এই জরাজীর্ণ বিমানের ওপরই ইরানের বিমানবাহিনী দীর্ঘকাল ধরে নির্ভর করে আসছে, যার অনেকগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রক্ষণাবেক্ষণ করা এখন দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়ার কাছ থেকে মিকোয়ান মিগ-২৯ বিমান কেনার পর বড় কোনো ফাইটার বহর যুক্ত করতে পারেনি তেহরান।

যদিও ইরান গত কয়েক দশকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অন্যতম শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, তবে দেশীয় বিমান বা এভিয়েশন সক্ষমতার দিক থেকে তারা প্রতিবেশীদের তুলনায় এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

ইরান ফ্রান্স

প্রযুক্তির দিক থেকে পুরোনো হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানি বিমানগুলো সফলভাবে বেশ কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। এমনকী ইসরায়েলি বা মার্কিন হামলা থেকে নিজেদের অনেকাংশেই রক্ষা করতে পেরেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই সুখোই সু-৩৫ যুদ্ধবিমানের চূড়ান্ত অন্তর্ভুক্তি ইরানের বিমান শক্তিকে রাতারাতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে দূরপাল্লার আকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশলগত সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Washington Times 24 bd. com মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতিকেন তীব্র খাদ্য সংকটে মার্কিন সামরিক পরিবারগুলো? ২৭ ...
27/06/2026

The Mohadan Washington Times 24 bd. com

মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি
কেন তীব্র খাদ্য সংকটে মার্কিন সামরিক পরিবারগুলো?

২৭ জুন ২০২৬,
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক দ্বিবার্ষিক জরিপ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দেশটির বিপুল সংখ্যক সামরিক পরিবার মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অলাভজনক সংস্থা 'মিলিটারি ফ্যামিলি অ্যাডভাইজরি নেটওয়ার্ক' (এমএফএএন) কর্তৃক পরিচালিত এই জরিপে ১০,০০০-এরও বেশি সামরিক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের পরিবার অংশ নেয়। গত অক্টোবর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশেরও বেশি পরিবার তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ২০২৩ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মাত্র দুই বছরে এই সংকট দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৫৩.৮% পরিবার জানিয়েছে, অতিরিক্ত দামের কারণে তারা পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারছে না। জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে অনেকে নিজে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী ঘন ঘন আবাসন বা স্টেশন পরিবর্তনের কারণে সেনাসদস্যদের স্ত্রীদের স্থায়ী কোনো চাকরি বা ক্যারিয়ার গড়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ২০২৩ সালে সামরিক স্বামীদের/স্ত্রীদের বেকারত্বের হার ২১.৮% থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে **২৯.৯%-এ।

বদলির সময় যাতায়াত, সাময়িক আবাসন, খাবার এবং নতুন বাসা ভাড়ার জন্য বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা দিতে হয়। যদিও সামরিক বাহিনী এই ব্যয়ের একটি অংশ ক্ষতিপূরণ দেয়, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রায় ৫৯% থেকে ৬৩% পরিবার জানিয়েছে, প্রতিবার বদলির সময় তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১,০০০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়।



তীব্র আর্থিক অনটনে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদের পে-ডে লোন এবং অটো টাইটেল লোনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ফাঁদে পা দিচ্ছে।আর্থিক অনটন ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সামরিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ৪টি সামরিক পরিবারের মধ্যে অন্তত ১টি পরিবার (২৫.১%) সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেয়ে জরুরি বিভাগে মানসিক চিকিৎসার জন্য যেতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি সামরিক স্ত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা চিন্তার মতো উদ্বেগজনক তথ্যও উঠে এসেছে।

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাম্প পেন্ডলটনের কাছে বসবাসরত এক সেনাসদস্যের স্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "মানুষ সত্যিই খুব কষ্টের মধ্যে আছে। জিনিসপত্রের দাম, বিশেষ করে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী। বর্তমানে আমার স্বামী বাইরে মোতায়েন থাকায় কিছু অতিরিক্ত ভাতা পাচ্ছি, কিন্তু সে ফিরে আসলেই এই টাকা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।"



সামরিক হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব এবং দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকার কারণে সাধারণ চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। মিলিটারি ফ্যামিলি অ্যাডভাইজরি নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী শ্যানন রাজসাদিন এই পরিস্থিতিকে আমেরিকার জন্য একটি "জাতীয় নিরাপত্তা সংকট" হিসেবে অভিহিত করেছেন।



তিনি বলেন, "দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত সেনাদের পরিবারগুলো যদি সুস্থ ও নিরাপদ না থাকে, তবে তা বাহিনীর কার্যক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।" তিনি মার্কিন সামরিক প্রশাসনকে অতি দ্রুত আবাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Washington Times 24 bd. comযুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না ইসরায়েলপ্রকাশ : ১৫ জুন ২...
15/06/2026

The Mohadan Washington Times 24 bd. com
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না ইসরায়েল

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬,
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নতুন সমঝোতার খবরে যখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ লেবানন না ছাড়ার ঘোষণা দিল ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় সামরিক অভিযান ও সেনা উপস্থিতি অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে কাৎজ জানান, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর তৎপরতা মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান সরাসরি হামলা চালালে তেহরানকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানান। প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে ইসরায়েলের সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে সমর্থন জানানো হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও তার জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী চুক্তি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির বলেন, বিদেশি কোনো সমঝোতা ইসরায়েলের ওপর বাধ্যতামূলক নয় এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে দেশটি নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও চুক্তির সমালোচনা করে এটিকে ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকট সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক, ইরাক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যুদ্ধ পরবর্তী সমঝোতা কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজা সীমান্তসংলগ্ন যেসব এলাকাকে নিরাপত্তা বলয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে ইসরায়েলের বাহিনীর উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকতে পারে। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবকাঠামো ধ্বংস এবং ভবিষ্যৎ হামলার ঝুঁকি কমানোই এই নীতির মূল লক্ষ্য।

চুক্তির খবরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, নতুন সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা কী ধরনের অবস্থান নেবে।

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan Washington Times 24 bd comপদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রজেক্ট নির্মাণের প্রেক্ষাপট : সেই সাথে প্রাসঙ্গিক দু’টি ক...
27/05/2026

The Mohadan Washington Times 24 bd com
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রজেক্ট নির্মাণের প্রেক্ষাপট : সেই সাথে প্রাসঙ্গিক দু’টি কথা
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
২৬ মে ২০২৬,

অবশেষে বর্তমান বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ মনে হচ্ছে, এসময় যদি বি এম আব্বাস বেঁচে থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশের কতই না উপকার হতো। বি এম আব্বাস নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে অতীত এবং বর্তমানের শ্রেষ্ঠ পানিবিশেষজ্ঞ ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তার একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। বইটির নাম, ‘ ফারাক্কা ব্যারাজ ও বাংলাদেশ’। ১৬৮ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে তিনি ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ যে বাংলাদেশের ওপর কত ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার ঐ পুস্তকে দেখা যায়, গঙ্গার পানি সমস্যাটি নতুন নয়। সেই পাকিস্তান আমলে ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই সমস্যা নিয়ে তিনি এবং তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ভারতের পানি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। ভারতের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে পাকিস্তানের তরফ থেকে বলা হয়েছিলো যে, যদি পাকিস্তানের অমত সত্ত্বেও ফারাক্কা বাঁধ চালু করা হয় তাহলে বোমা মেরে সেটিকে উড়িয়ে দেওয়া হবে। তখন পাকিস্তানের ক্ষমতায় ছিলেন প্রেসিডেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান। ফারাক্কা বাঁধের মূল নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে। পাকিস্তান আমলে আর ফারাক্কা বাঁধ চালু করা হয়নি।

দ্বিতীয় পর্বে অর্থাৎ বাংলাদেশ পর্ব-১ এ বি এম আব্বাস দেখিয়েছেন যে, ফারাক্কা চালু হলে পদ্মাতীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শুকিয়ে যাবে। এই জন্য বিপুল তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তিনি মুজিব সরকারের বিভিন্ন মহলে, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকেও বাংলাদেশের ওপর ফারাক্কা ব্যারাজের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আগাম জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ আজ অনেক কিছুই জানেন না। কিন্তু বি এম আব্বাস আজ বেঁচে না থাকলেও সেই সময়কার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ আমলা আসাফুদ্দৌলা (সম্ভবত তখন জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলেন) আজও বেঁচে আছেন। তিনি জানেন, কীভাবে বি এম আব্বাস এবং আসাফুদ্দৌলা পরীক্ষামূলকভাবে হলেও ফারাক্কা বাঁধ চালুর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে অনুরোধ করেন যে, শুষ্ক মওসুমে ৪১ দিনের জন্য তিনি ট্রায়াল রান হিসাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু করতে চান। বি এম আব্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মর্মে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক বললেও একবার যদি ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করে তাহলে ৪১ দিন পর কেনো, আর কোনো দিনও সেটি বন্ধ করবে না। আজ কিছু বর্ণচোরা আওয়ামী লীগার শেখ মুজিবকে ভারতের ব্যাপারে আপোসহীন বলে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন। তারা জেনে রাখুন, শেখ মুজিব বি এম আব্বাস, আসাফুদ্দৌলা প্রমুখ কারো কথায় কর্ণপাত করেননি। বরং তিনি যে ৪১ দিনের পরীক্ষামূলক ফারাক্কা চালুর ভারতীয় সিদ্ধান্তে একমত হন, সেটি বাংলাদেশ টিমের কাউকে জানাননি। সকলকে অন্ধকারে রেখে তিনি ৪১ দিনের ফারাক্কা চালুর সিদ্ধান্তে সায় দেন।
তার পরের কথা সকলেরই জানা। ১৯৭৫ সালে সেই যে, পরীক্ষামূলক চালুর নামে ফারাক্কা বাঁধ চালু হয়ে গেলো সেটি আর পরীক্ষামূলক রইলো না। সেই যে ফারাক্কা বাঁধ চালু হলো, আজও সেটি অব্যাহত রয়েছে।

শেখ মুজিব ফারাক্কা বাঁধ চালু করার অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশের যে সর্বনাশ করেছেন, তার আংশিক পূরণ করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত প্রথম ফারাক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন রিয়ার এ্যাডমিরাল এমএইচ খান এবং ভারতের পক্ষে সই করেন তৎকালীন সেচমন্ত্রী সুরজিৎ সিং বার্নালা। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মোরারজি দেশাই। এই চুক্তিতে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন প্রশ্নে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অধিক পরিমাণে পানি পায়।

॥দুই॥
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিতীয় ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেবে গৌড়া। চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় ৩০ বছরের জন্য। এই চুক্তিতে বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালের শহীদ জিয়ার চুক্তির চেয়ে অনেক কম পানি পায়। আমার কাছে ১৯৭৭ সালের চুক্তি এবং ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে ভারত এবং বাংলাদেশ কে কত পানি পাবে তার বিস্তারিত ও খুঁটিনাটি তথ্য আছে। আজকের আলোচনায় সেটি প্রাসঙ্গিক নয় বলে উল্লেখ করলাম না। এটুকু উল্লেখ করা দরকার যে, শহীদ জিয়ার চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ ছিলো। কিন্তু শেখ হাসিনার চুক্তিতে সেটিও বাদ দেওয়া হয়।

যাই হোক, ১৯৯৬ সালের চুক্তিটি বাংলাদেশের প্রতিকূলে স্বাক্ষরিত হলেও চুক্তি অনুযায়ী যতখানি পানি বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিলো তার চেয়ে অনেক কম পানি পায়। এই ৩০ বছর ধরে কম পানি পাওয়ার ফলে বাংলাদেশের একটি অংশ মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এখন সরকারকে আগে থেকেই ভাবতে হবে যে, ৩০ বছর মেয়াদী ঐ চুক্তিটির কি নবায়ন হবে? নাকি নতুন করে চুক্তি হবে? নাকি আদতেই কোনো চুক্তি হবে না? ঐ দিকে বছরের পর বছর ধরে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে। ফলে উত্তরবঙ্গের প্রায় সমগ্র অঞ্চল, বিশেষ করে গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গঙ্গা তথা পদ্মা এবং তিস্তা নিয়ে ভারত বাংলাদেশকে গ্রীষ্মকালে পানিতে শুকিয়ে মারা এবং বর্ষাকালে বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়ার যে ভয়াবহ খেলা শুরু করেছে, তার পটভূমিতেই জনগণ দাবি উঠিয়েছিল, পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা প্রজেক্ট অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা হোক।
বি এম আব্বাস যে কতখানি দূরদর্শী ছিলেন, সেটি বোঝা যায় সেই ১৯৮৮ সালেই তার চিন্তা ধারায়। তখনই তিনি পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার ‘ফারাক্কা ব্যারাজ ও বাংলাদেশ’ পুস্তকের ১৬৬ ও ১৬৭ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, “গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র-দুটি নদীতেই ব্যারাজ নির্মাণের বিষয় অনেক দিন ধরে বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক প্রকৌশলী সংস্থা দ্বারা এ দুটি প্রকল্পের কারিগরী ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা স্থাপিত হয়েছে। ব্যারাজ নির্মাণ করলে নদীর পানির উপরে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানি ব্যবহারের দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে ও নদীর পানি ব্যবহারের উপরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের ফলে অনেক অকৃষিজাত সুবিধা হবে, তবে এর প্রধান উদ্দেশ্য কৃষির উন্নতি। গঙ্গা ব্যারাজ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল প্রায় ৩৮ লাখ একর জমিতে সেচ সুবিধা সৃষ্টি করবে। এ এলাকা সেচ, পানি নিষ্কাশন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে খাদ্য শষ্য উৎপাদন বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।” খেয়াল করুন এগুলি ১৯৮৮ সালের কথা।

॥তিন॥
এখন মে মাস শেষ হওয়ার পথে। সামনে আছে আর মাত্র ৬ মাস সময়। আগেই বলেছি, আগামী ১২ ডিসেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী করবে? বাংলাদেশ কি চুক্তিটি নবায়ন করবে? যদি নবায়ন না করা হয় তাহলে ভারত ইচ্ছা মতো তার দিকে পানি অপসারণ করতে থাকবে। আর যদি চুক্তিটি নবায়ন করা হয় তাহলে এটির বাংলাদেশ বিধ্বংসী ধারাগুলো অব্যাহত থাকবে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করতে সময় লাগবে। এই সরকারই বলেছে যে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ এবং চালু করতে সময় লাগবে ৭ বছর। এই মধ্যবর্তী সময় কী করা হবে?

কী করা হবে? সে সম্পর্কে কিছু বলার আগে আমাদের দেখতে হবে, বিগত ৩০ বছর তথা বিগত ৫০ বছরে পদ্মা বা গঙ্গার পানির অবস্থাটি কী? এ সম্পর্কে আমেরিকার কেন্টাকিতে অবস্থিত জেফার্সন কমিউনিটি এবং টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যাপক আহাদ চৌধুরী বলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী অঞ্চলের মাটিকাটা ইউনিয়নের অধিবাসীদের রিপোর্ট মোতাবেক ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পূর্বে পদ্মা নদীর গভীরতা ছিলো বর্ষাকালে ১০০ ফুট এবং শুষ্ক মওসুমে ৬০ ফুট। এর ১৮ বছর পর ২০১৫ সালে বর্ষাকালে গভীরতা কমে হয় মাত্র ১৫ ফুট। আর শুষ্ক মওসুমে যেটুকু পানি থাকে সেটাকে হাঁটু পানি বললেও ভুল হবে না। এই এলাকায় যেটিকে বরেন্দ্র এলাকা বলা হয়, সেটি এক সময় ছিলো অনেক উর্বরা। এখন সেটি বন্ধ্যা অঞ্চলে পরিণত হতে চলেছে। বাংলাদেশের এই ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে ভারত কর্তৃক গঙ্গা নদীর উজানের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে তাদের দিকে পানি প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়া থেকে সেকথা বলাই বাহুল্য। আজ আমি পানি প্রাপ্তির টেকনিক্যাল এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্যে গেলাম না। কারণ, আগামী দিনে এ সম্পর্কে অনেক লেখালেখি করতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

॥চার॥
সেদিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে যে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে তার নাম হলো ‘পদ্মা ব্যারাজ’। এর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক জনসভায় বলেছেন যে, তার সরকার তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে সাধুবাদ। তবে এখানে ছোট্ট একটি কথা আছে। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই তিস্তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তিস্তা ব্যারাজ নয়, বরং তিস্তা প্রকল্পের ওপর একাধিক স্টাডি করেছে। সেই প্রকল্প নিয়ে চীনের সাথেও অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। চীন এই প্রকল্পটিতে শুধুমাত্র অর্থায়ন নয়, বরং তারাই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিস্তায় শুধুমাত্র ব্যারাজ নয়, বরং তিস্তাকে ঘিরে ঐ অঞ্চলে একটি বিশাল এবং বিস্তীর্ণ জনপদ গড়ে তোলার আগ্রহও তারা প্রকাশ করেছে। তিস্তা প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ভারত যেমন বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে যে কোনো বড় প্রজেক্টে বাগড়া দেয়, তেমনি তিস্তা প্রজেক্টেও চীনা জুজুর ভয় দেখিয়ে প্রকল্পের শুরুটা থামিয়ে দিয়েছে।

যে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন, ঐ সভায় আরো ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তা প্রকল্প শুরুর আগে চীনের সাথে যেমন কথা হবে, তেমনি ভারতের সাথেও কথা হবে। এটি ঠিক বোঝা গেলো না যে, ভারতের সাথে কথা বলার কী প্রয়োজন আছে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী যেমন বলেছেন যে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্য কারো সাথে আলোচনা করবে না। কারণ, এটি বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যাপার। আমরা মনে করি, তিস্তা প্রজেক্টের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

দেশে আজ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলে জনগণের বিশ^াস। পদ্মা ব্যারাজের ব্যাপারে একটি অতি সংক্ষিপ্ত আইডিয়া দেওয়া হয়েছে। প্রথম কিস্তি এবং দ্বিতীয় কিস্তির অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে ব্যারাজের বিস্তারিত বিবরণ জনগণকে জানানো হয়নি। এমনকি পার্লামেন্টের সামনেও পেশ করা হয়নি।

পার্লামেন্টের আগামী সেশন অর্থাৎ যেটি ৭ জুন শুরু হবে, সেটি হবে বাজেট সেশন। এই সেশনে পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা প্রজেক্ট সম্পর্কে আলোচনার সুযোগ রাখা সরকারের জন্যই ভালো হবে। কারণ, সেক্ষেত্রে জনগণ ভাববে যে এই সরকার কোনো কিছুই জনগণকে অন্ধকারে রেখে করে না।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

Address

Jamalpur Sadar Upazila
2000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Daily Mohadan Gold posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share