29/06/2026
The Mohadan Washington Times 24 bd. com
রিপাবলিকানদের 'ঘৃণাভাষ্য': টেক্সাসে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হেনস্থার শিকার মুসলিমরা
২৯ জুন ২০২৬,
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের লক্ষ্য করে তীব্র হচ্ছে বর্ণবাদ এবং ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া)। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিবিদদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও ঘৃণাভাষ্যের (হেট স্পিচ) জেরে সাধারণ মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। স্কুল, শপিং মল, পার্ক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়—সবখানেই প্রতিনিয়ত হেনস্থা ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রাইমারি রান-অফ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামভীতি চরম আকার ধারণ করে। রাজনীতিবিদদের দেওয়া এসব উসকানিমূলক বক্তব্য এখন সমাজের সাধারণ স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মুসলিম শিক্ষার্থী যখন ক্যাম্পাসে নামাজ পড়ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাদের সামনে গিয়ে পবিত্র কুরআন পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া হিজাব বা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরার কারণে নারীদের প্রকাশ্যে মৌখিকভাবে আক্রমণ করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
ডালাসের বাসিন্দা এবং 'ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ আমেরিকা কাউন্সিল ফর সোশ্যাল জাস্টিস'-এর সদস্য নাইলা সৈয়দ জানান, স্কুলে তার দুই ছোট মেয়েকে ইসলাম-বিরোধী নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সহপাঠীরা তাদের মুখস্থ বুলি আউড়ে জিজ্ঞেস করছে—ইসলামে নারীদের ওপর নির্যাতন করা হয় কি না। একজন মা হিসেবে এই পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
সম্প্রতি টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির (GOP) অফিসিয়াল কনভেনশনে যোগ দেওয়া মুসলিম প্রতিনিধিদেরও চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো, না হয় দেশ ছাড়ো। এমনকি রিপাবলিকানদের দলীয় ইশতেহারে 'ডোন্ট শরিয়াহ আওয়ার টেক্সাস' নামে একটি নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য মূলত শরিয়াহ আইনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেক্সাসে শরিয়াহ আইন চালুর কোনো দূরবর্তী চেষ্টাও কেউ কখনো করেনি।
এদিকে, টেক্সাসের উগ্র ডানপন্থী কর্মকাণ্ডকে উসকে দিচ্ছেন খোদ আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস এবং ব্র্যান্ডন গিল সোমালিয়া বা মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বন্ধের জন্য আইন আনার প্রস্তাব করেছেন। ব্র্যান্ডন গিল তার ভোটারদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলের শিরোনাম দিয়েছেন—‘এখনই ইসলামিক অভিবাসন বন্ধ করুন, অন্যথায় আমাদের সন্তানদের মাশুল দিতে হবে।’ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এখনই এটি না থামালে তার মেয়েসহ আমেরিকান শিশুদের বোরকা পরে স্কুলে যেতে হবে।
এই তীব্র বিদ্বেষের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে টেক্সাসের শিক্ষাব্যবস্থাতেও। টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন সম্প্রতি ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে। যেখানে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব ও জুডিও-খ্রিস্টান সংস্কৃতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বিশ্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাসে মুসলিম সভ্যতার অবদান সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো বাদ বা সংকুচিত করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেক্সাসের একমাত্র দুই মুসলিম আইনপ্রণেতার একজন ডা. সুলেমান লালানি হাউজে একটি 'আন্তঃধর্মীয় ককাস' গঠন করেছেন। তিনি বলেন, "অজ্ঞতা থেকে ভয়ের জন্ম হয়, আর ভয় থেকে আসে ঘৃণা। আমাদের নিজেদের মধ্যে সংলাপ বাড়াতে হবে।" তবে অধিকার কর্মীদের মতে, কেবল মুসলিমদের ওপর এই বর্ণবাদ মোকাবিলার দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তর থেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor