23/02/2026
রিজিকে বরকত লাভ করা মানে শুধু পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং অল্পতেও প্রয়োজন পূরণ হওয়া, শান্তি ও কল্যাণ আসা। কুরআন ও হাদীসে এর জন্য অনেক আমল ও দোয়া বর্ণিত আছে। সঠিকভাবে আমল করলে আল্লাহ তাআলা অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিক দান করেন।
নিচে ৩০টি প্রমাণিত ও গুরুত্বপূর্ণ আমলের তালিকা দেওয়া হলো (কুরআন, হাদীস ও উলামাদের বর্ণনা থেকে সংকলিত)। প্রত্যেকটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ও উপকারিতা সহ:
১। অধিক ইস্তিগফার করা — "আস্তাগফিরুল্লাহ" বেশি বেশি পড়া। হাদীসে আছে, নিয়মিত ইস্তিগফার করলে আল্লাহ দুশ্চিন্তা দূর করে অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিক দেন।
২। তাকওয়া অর্জন করা (আল্লাহকে ভয় করা ও গুনাহ থেকে বাঁচা) — কুরআনে বলা হয়েছে, তাকওয়া অবলম্বন করলে আল্লাহ অচিন্তনীয় উৎস থেকে রিজিক দান করেন (সূরা তালাক: ২-৩)।
৩। তাওয়াক্কুল করা (আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা) — চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।
৪। সকাল-সন্ধ্যা নির্দিষ্ট দোয়া পড়া — যেমন: আল্লাহুম্মা বারিক লি ফি রিজকি ওয়ারজুকনি মিন হাইসু লা আহতাসিব।
৫। প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পড়া — হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে এটি পড়বে তার রিজিকের অভাব হবে না।
৬। সাদকা দেওয়া (নিয়মিত দান) — সাদকা রিজিক বাড়ায় ও বিপদ থেকে রক্ষা করে।
৭। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) — এটি রিজিক ও আয়ু বাড়ায়।
৮। হালাল উপার্জন করা — হারাম থেকে দূরে থাকা রিজিকে বরকত আনে।
৯। জাকাত আদায় করা — সম্পদে বরকত আসে ও রিজিক প্রশস্ত হয়।
১০। দরূদ শরীফ বেশি পড়া — রাসূল (সা.)-এর ওপর দরূদ পড়লে আল্লাহ রহমত ও বরকত নাজিল করেন।
১১৷ হজ ও ওমরাহ পালন করা (বারবার) — এতে রিজিকে প্রবৃদ্ধি হয়।
১২৷ ফজরের নামাজ সময়মতো আদায় করা — ফজরের পর সকালের দিকে রিজিকের দরজা খোলে।
১৩। পিতা-মাতার সেবা ও সন্তুষ্টি অর্জন — এতে রিজিক বাড়ে।
১৪। অতিরিক্ত নফল নামাজ পড়া — যেমন তাহাজ্জুদ।
১৫। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা (আলহামদুলিল্লাহ বেশি বলা) — কৃতজ্ঞতা বরকত বাড়ায়।
১৬। সকালে বিসমিল্লাহ বলে বের হওয়া — বরকতময় শুরু।
১৭। ঘরে সালাম দেওয়া ও খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা।
১৮। ইস্তেখারা করা (সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে) — সঠিক পথে রিজিক আসে।
১৯। সকাল-সন্ধ্যা আয়াতুল কুরসি পড়া — সুরক্ষা ও বরকত আসে।
২০। সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস ৩ বার করে পড়া (সকাল-সন্ধ্যা)।
২১। হালাল রিজিকের দোয়া — আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা।
২২। পরিবারের সাথে ভালো ব্যবহার — পরিবারে শান্তি রিজিকে বরকত আনে।
২৩। অপচয় না করা — ইসরাফ এড়ানো।
২৪। সকালে সূরা ইয়াসিন পড়া (কিছু বর্ণনায়)।
২৫। দিনে ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়া।
২৬। ঘুমানোর আগে ইস্তিগফার ১০০ বার।
২৭। ব্যবসা/কাজ শুরুর আগে দোয়া পড়া।
২৮। অন্যের জন্য দোয়া করা — নিজের জন্যও দোয়া কবুল হয়।
২৯। সুন্দর চরিত্র ও সততা — মানুষের সাথে ভালো আচরণ রিজিক বাড়ায়।
৩০। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত — কুরআন পড়লে জীবনে বরকত নেমে আসে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: এগুলো শুধু পড়লেই হবে না, খাঁটি নিয়ত, পরিশ্রম ও হালাল পথে চলতে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে শুরু করুন।
ইনশাআল্লাহ নিয়মিত আমল করলে রিজিকে বরকত আসবে, অভাব দূর হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকে বরকত দান করুন। আমীন।