04/04/2026
*দয়া নয়, অধিকার চাই: প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সোচ্চার নাগরিক সমাজ*
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা | ৩ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। "দয়া নয়, নাগরিক হিসেবে ন্যায্য অধিকার চাই"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা বৃদ্ধির দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিদ্যমান বৈষম্য:
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে একজন সুস্থ-সবল ব্যক্তি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫০০ টাকার সমপরিমাণ সুবিধা পেলেও, একজন অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পাচ্ছেন মাত্র ৯০০ টাকা। এই সামান্য টাকা দিয়ে বর্তমান বাজারে ওষুধ কেনা তো দূরের কথা, একবেলার পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই বিশেষ দাবি?
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের লড়াই শুধু শারীরিক সীমাবদ্ধতার সাথে নয়, বরং মানসিক এবং অর্থনৈতিকভাবেও তারা চরম বৈষম্যের শিকার। একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে একজন প্রতিবন্ধী মানুষের যাতায়াত (রিকশা ভাড়া) এবং চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি। অথচ তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ সবথেকে কম হওয়াকে অমানবিক হিসেবে দেখছেন সচেতন সমাজ।
সরকারের কাছে উত্থাপিত প্রধান ৪টি দাবি:
১. ফ্যামিলি কার্ডে অগ্রাধিকার: বাংলাদেশের সকল নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর আওতায় আনতে হবে। সুস্থ মানুষের আগে এই অসহায় পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
২. ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিবন্ধী ভাতা মাসিক ন্যূনতম ৩০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. ঈদ বোনাস: প্রতি ঈদে অন্তত ১৫০০ টাকা বিশেষ উৎসব ভাতা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
৪. চিকিৎসা ও যাতায়াত: প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে জরুরি ওষুধ সরবরাহ এবং গণপরিবহনে ন্যায্য বা হাফ ভাড়া নিশ্চিত করতে হবে।
মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দাবিগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আন্দোলনকারীদের মতে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, বরং আমাদেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা গেলে দেশ যেমন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, তেমনি অর্জিত হবে মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনা করে বৈষম্যমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা