02/09/2021
কবিতাঃ প্রিয় মাগুরা
আতিয়ার রহমান (সহঃ অধ্যাপক, নাকোল সম্মিলনী ডিগ্রী কলেজ)।
বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমে জেলা মাগুরা,
ধনে,মানে, শিক্ষা ও কৃষিতে আমরাই সেরা।
অদুরে মধুমতি নদী, নবগঙ্গা পাশে দাঁড়িয়ে,
মাগুরা আছে তার-ই বুকে দু'হাত বাড়িয়ে।
নামকরণে,মগদের আক্রমণ থেকে মগরা,
এবং মাগুর মাছের আধিক্য থেকে মাগুরা।
পশ্চিমে ঝিনাইদহ,দক্ষিণে নড়াইল, যশোর,
উত্তরে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ি দু'টি জেলা শহর।
পূর্বে ফরিদপুর জেলা মধুমতি নদীর ওপার,
রাজধানী ঢাকা মেগাসিটি ১৭৬ কিলোমিটার।
১৮৪৫-এর বৃহত্তর যশোরের প্রথম মহাকুমা,
১৯৮৪ তে জেলা ঘোষিত চারটি উপজেলা।
মাগুরা সদর,শ্রীপুর, মহঃপুর এবং শালিখা,
মাগুরা-৯১, দুইটি আসন ১,২ বলে সমীক্ষা।
মাগুরা সদর ও শ্রীপুর নিয়ে আসন হল এক,
মহঃপুর ও শালিখা নিয়ে আসন দুই সার্বিক।
আধুনিক পৌরসভা,আসাদুজ্জামান স্টেডিয়াম,
বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
ফুটবলে গোরকী ভাই,উজ্জ্বল,রহমত,রয়েল,
ক্রিড়াঙ্গনের ইতিহাসে তারা থাকবে উজ্জ্বল।
হাডুডু, ফুটবল,লাঠিখেলা মাগুরার গৌরব,
ফুটবল যাদুতে গ্রীনিজবুকে ছড়ান সৌরভ।
২৫০ বেড হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ,
ফোর লেনের বিশ্ব রোডও মাগুরার আমেজ।
কবি সাহিত্যিকে আলোকিত মাগুরার প্রাণ,
কাদের নেওয়াজ এবং ডাঃ লুৎফর রহমান।
রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমেদ চরিত্রে শক্ত,
'পাঞ্জেরী' লিখনে সকলে হ'ল তার খুব ভক্ত।
সৈয়দ আলী আহসান শিক্ষাবিদ দক্ষ কবিতায়,
শিক্ষকতায় ছিলেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কবি যতীন্দ্র মোহন বাগচী-এর কাব্যগ্রন্থ 'কেয়া,'
সাহিত্যে ফুটিয়েছে ফুল ইতিহাস থেকে নেওয়া।
দক্ষিণারঞ্জন মাগুরায় জন্মেছিলেন বড় পণ্ডিত,
বাঙলা ভাষায় অগাধ দক্ষ ভালবাসতেন সঙ্গীত।
চিত্র শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার বাড়ি শৈলকূপায়,
নাকোল,শ্রীপুরে নানা বাড়ি তার জন্ম সেথা হয়।
নাকোলের উচ্চাঙ্গসংগীতের ওস্তাদ রইচ উদ্দিন,
সঙ্গীত ভুবনে উজ্জ্বল নক্ষত্র সে জেলার দর্পণ।
স্কুল,কলেজ এবং মাদরাসায় মাগুরা খুব নামী,
রাজনৈতিক মাঠে পূর্ব থেকেই মাগুরা অগ্রগামী।
দেশের প্রথম নিরক্ষর মুক্ত এই মাগুরা জেলা,
সকল মানুষের হাতের ছুঁয়াই মিলাব সুখ মেলা।
মাগুরার সেরা সরকারি হোঃ শঃ সোঃ কলেজ,
সরকারি মহিলা কলেজ, টেকনিকাল কলেজ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মাগুরার অনন্য নজীর,
সম্মুখ যুদ্ধ চালিয়ে ছিল মাগুরার সকল বীর।
৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ ঘোষিত মাগুরা মুক্ত দিবস,
রেখেছে মাগুরার মান সকলে দেখিয়ে সাহস।
জমিদারদের আবাসভূমি শক্তিশালী মাগুরায়,
মহঃপুরের রাজা ছিলেন রাজা সীতারাম রায়।
বিড়াট রাজার বাড়ি ছিল শ্রীপুর উপজেলায়,
চণ্ডীদাস ও রজকিনীর প্রেম ঘাট শালিখায়।
রাউতড়া এবং শ্রীপুরের জমিদারদের বাড়িঘর,
প্রচীন আমলে কেড়েছে সকল মানুষের নজর।
ইছাখাদায় শাহ মোকাররম (রঃ)-এর দরগাহ,
সিদ্ধেশরী মঠ, নেংটা বাবার আশ্রম সাতদহা।
বাংলাদেশের সেরা হাজরাপুরের সুমিষ্ট লিচু,
মাশরুম চাষে মাগুরা এখন মাথা করে উঁচু।
মাগুরায় বিনোদন পার্কের নাই কোন আকাল,
সিরিজদিয়ার নন্দিত বাওড় থাকবে বহুকাল।
শ্রীপুরের মঞ্জু পার্ক, ইকো পার্ক বেশ দর্শনীয়,
সবুজ ধানের মাঝে বড়বিলা বেশ আকর্ষণীয়।
জুট মিল ও টেক্সটাইল মিল মাগুরার গৌরব,
হাজরাপুরের প্লাষ্টিক মিল কর্ম সংস্থানে সৌরভ।
কামারখালির ব্রীজ দুইটি জেলার সেতুবন্ধন,
ভাতের ভিটা,ভদ্র দালান দেখতে দৃষ্টি নন্দন।
সোডিয়াম লাইট,ভায়না মোড়,নোমানী ময়দান,
আছাদুজ্জামান অডিটোরিয়াম,পৌর গোরস্থান।
ঔষধ শিল্পে ইনসেপ্টা, শিক্ষায় ইকোনো বলপেন,
বিনোদনে দু'টি সিনেমা হল, শিল্পকলা প্রধান।
মাগুরার কাত্যায়নী পুজা দেশে ফেলেছে সাড়া,
শহরের রসমালাই ও চমচম মিষ্টির মধ্যে সেরা।
টাউনহল ক্লাব,বাস টার্মিনাল এবং ট্রেন ষ্টেশন,
প্রিয় মাগুরার উন্নয়নে তারা রাখছে বড়ই মান।
ইনডোর স্টেডিয়াম এবং ঝিলিমিলি সুইমিংপুল,
শেখ কামাল সেতু, মডেল মসজিদ বিউটিফুল।
আইটি পার্ক,হর্টিকালচার,প্রজেক্ট,ট্রেন ব্যবস্থা,
ভবিষ্যৎ বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া মাগুরার আস্থা।
সৈয়দ আতর আলী পাঠাগার ঘুচাবে আধার,
জ্ঞানের আলো ছড়াতে আছে গণগ্রন্থাগার।
মাগুরা গড়ার পিছনে যারা ছিলেন ও আছেন,
মৃতদের আত্মার শান্তি হোক জীবিতরা বাঁচেন।