24/02/2026
1. হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
🔺আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা ছিলাম অমঙ্গলের মধ্যে; তারপর আল্লাহ আমাদের জন্য মঙ্গল নিয়ে আসলেন। আমরা তাতে অবস্থান করছি। এ মঙ্গলের পিছনে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে?
__🔸তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
🔺আমি বললাম এ মঙ্গলের পিছনে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে?
__🔸তিনি বললেনঃ হ্যাঁ,
🔺আমি বললাম, এ মঙ্গলের পিছনে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে?
__🔸তিনি বললেনঃ হ্যাঁ,
🔺আমি বললাম, তা কিভাবে?
__🔸তিনি বললেন, আমার পরে এমন সব নেতার উদ্ভব হবে, যারা আমার হেদায়েতে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে না এবং আমার সুন্নাতও তারা অনুসরণ করবে না। তাদের মধ্যে এমন সব লোকের উদ্ভব হবে, যাদের অন্তঃকরণ হবে মানব দেহে শয়তানের অন্তঃকরণ।
🔺রাবী বলেন, তখন আমি বললামঃ তখন আমরা কি করবো ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আমরা সে পরিস্থিতীর সম্মুখীন হই?
__🔸বললেনঃ তুমি শুনবে এবং মানবে যদি তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় বা তোমার ধন-সস্পদ কেড়েও নেয়া হয়, তবুও তুমি আনুগত্য করবে।
[সহীহ মুসলিম ৪৬৩২ ইসলামী ফাউন্ডেশন]
2. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের উপর এরূপ কোন হাবশী দাসকেও শাসক নিযুক্ত করা হয়, যার মাথাটি কিশমিশের ন্যায় তবুও তার কথা শোন ও তার আনুগত্য কর [সহিহ বুখারী ৬৬৫৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশন]
3. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি ’আমীরের কোন কিছু অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে লোক সুলতানের আনুগত্য থেকে এক বিঘতও সরে যাবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলী যুগের মুত্যুর মত।[বুখারী ৭০৫৩,৭০৫৪, ৭১৪৩; মুসলিম ৩৩/১৩, হাঃ ১৮৪৯, আহমাদ ২৪৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৬)
4. ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার আমীরের কোন কার্যকলাপ অপছন্দ করে, তার উচিত ধৈর্যধারণ করা। কেননা যে কোন ব্যক্তিই শাসকের থেকে (তার আনুগত্য থেকে) বেরিয়ে গিয়ে বিঘৎ পরিমাণ সরে যাবে এবং তারপর এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু হবে। (বুখারী: ৮৬৮৫(হাদিস একাডেমি), ৪৬৩৮(ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
5. আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মুতী (রাঃ) এর নিকট এলেন যখন হারবা-র দুঃখময় ঘটনা ঘটেছিল। যুগটা ছিল ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়ার যুগ। তখন তিনি (ইবনু মুতী) বললেন, আবূ আবদুর রহমানের জন্য বিছানা পেতে দাও। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার কাছে বসতে আসিনি, এসেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তা তোমাকে শুনাতে। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে কিয়ামতের দিন দলিল বিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে মিলিত হবে। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো যে তার ঘাড়ে আনুগত্যের কোন শিকল নেই তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু হবে।
[সহীহ মুসলিম ৪৬৪০ ইসলামিক ফাউন্ডেশন]
6. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করলো, সে আল্লাহর আনুগত্য করলো আর যে আমার অবাধ্যতা করলো সে আল্লাহর অবাধ্যতা করলো। যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করলো সে আমারই আনুগত্য করলো আর যে ব্যক্তি আমীরের অবাধ্যতা করলো সে আমারই অবাধ্যতা করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯৫, হাদিস একাডেমি ৪৬৪১)
7. আবদুল্লাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যতক্ষন পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ দেওয়া না হয়, ততক্ষন পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় সব বিষয়ে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার মান্যতা ও আনুগত্য করা কর্তব্য। যখন নাফরমানীর নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন আর কোন মান্যতা ও আনুগত্য নেই।[বুখারী ৬৬৫৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ]
8. আলী (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক অভিযানে একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং এক আনসারীকে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তাদেরকে তার কথা শুনতে ও আনুগত্য করতে আদেশ করলেন। তারপর কোন ব্যাপারে তারা তাকে রাগিয়ে তুলল। সে তখন বললো, আমার জন্য কাঠ (কুড়িয়ে এনে) একত্রিত করো। তারা তা করলো। এরপর সে বললো, আগুন প্রজ্জ্বলিত কর। তখন তারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করল তারপর সে বললো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার কথা শুনতে এবং আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তারা বললো, জী হ্যাঁ। তখন সে বললো, তাহলে তোমরা এবারও এ আগুনে ঢুকে পড়। তখন তারা পরস্পরে পরস্পরের দিকে তাকাতে শুরু করলো। তারপর তারা জবাব দিলো- আমরাতো এ আগুন থেকে বাঁচাবার জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরণ নিয়েছি। তারা আগুনে ঝাপ দিলেন না। তার ক্রোধ প্রশমিত হলো এবং আগুন নিভিয়ে দেয়া হলো। তারপর যখন তারা ফিরে এলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট প্রসঙ্গটি বর্ণনা করলো তখন তিনি বললেনঃ যদি তারা তখন আগুনে ঝাঁপ দিতো, তা হলে আর বেরোতে পারতো না। আনুগত্য কেবল পূণ্য (শরী’আত সম্মত) কাজে।
[সহীহ মুসলিম ৪৬১৪(ইসলামী ফাইউন্ডেশ)]
9. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পাপ কাজের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের কথা শোনা ও তার আদেশ মানা অপরিহার্য। তবে পাপ কাজের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।’[সহীহ বুখারী ২৯৫৫ তাওহীদ পাবলিকেশন(৭১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৪৭)]
সম্পূর্ন দারসের লিংক কমেন্টে
শারহু উসূলিস সিত্তাহ: ছয়টি মূলনীতির ব্যাখা
আলোচক: শাইখ প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া হাফিযাহুল্লাহ
পি.এইচ.ডি. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদিনা
বই: উসূলুস সিত্তাহ — লেখক: শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহ