19/06/2026
ইসলামি আদর্শ ও আধ্যাত্মিক দর্শনে একটি অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ কথা হলো—"কিছু মানুষ জমিনে অখ্যাত, কিন্তু আসমানে বিখ্যাত।" আমাদের চারপাশের চকমকে ও চাকচিক্যময় পৃথিবীতে আমরা সাধারণত খ্যাতি বলতে বুঝি পদমর্যাদা, অর্থবিত্ত, সামাজিক প্রতিপত্তি বা মিডিয়ার পরিচিত মুখ হওয়া। কিন্তু প্রকৃত সফলতা বা শ্রেষ্ঠত্ব যে এসবের ওপর নির্ভর করে না, এই উক্তিটি তারই এক অনন্য বার্তা। প্রকৃত সফল সে, যার অন্তরে থাকে আল্লাহর ভয়, সিজদায় চোখের জল, মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং নিভৃত মানবসেবার মানসিকতা
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে, একজন মুমিনের পরিচয় তার বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়, বরং তার হৃদয়ের বিশুদ্ধতায়। আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যার তাকওয়া বা খোদাভীতি সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, এমন একজন ব্যক্তি যিনি হয়তো সাধারণ কোনো পেশায় নিয়োজিত বা সমাজের চোখে তেমন গুরুত্বহীন, অথচ তিনি নীরবে এমন সব সৎ কাজ করছেন যা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে গেছে। তিনি নিজের কোনো প্রচার চান না, কারো বাহবাও তার কাম্য নয়। তার রবের সাথে তার সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে, তিনি মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই পরম পাওয়া মনে করেন।
আমাদের উচিত, জাগতিক খ্যাতির মোহে অন্ধ না হয়ে অন্তরের স্বচ্ছতা ও কাজের একাগ্রতা অর্জনের চেষ্টা করা। মনে রাখা প্রয়োজন, পৃথিবীর খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আসমানের খ্যাতি বা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া চিরস্থায়ী।
ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন
সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন