18/09/2025
এক লোক তার পালিত মোরগটাকে জবাই করতে চাইল। কিন্তু সে ভাবল কোন বাহানা দিয়ে তাকে জবাই করবে? অনেক ভেবে সে মোরগটাকে ডেকে বললো- "কাল সকাল থেকে তুই উচ্চস্বরে ডাকাডাকি করতে পারবি না। যদি করিস তাহলে তোকে আমি মেরে ফেলবো। "
মোরগটি বলল - "ঠিক আছে মালিক। আপনি যা বলবেন তাই হবে"
পরের দিন মোরগটি ডাকাডাকি করলো না। শুধু পাখা ঝাপটা ঝাপটি করলো কিন্তু মালিক মোরগটি কে বলল- "কাল থেকে তুই পাখা ঝাপটা ঝাপ্টি করতে পারবি না নইলে তোকে আমি মেরে ফেলবো"
পরের দিন মোরগটি পাখা ঝাপটা ঝাপটি করলো না। শুধুমাত্র তার ঘাড় উঁচু করলো। সেটা দেখে মালিক বলল - "কালকে থেকে তুই তোর ঘার যদি উঁচু করিস তাহলে তোকে আমি মেরে ফেলব।"
এরপর থেকে মোরগটি একেবারে চুপ হয়ে গেল। কিছুই করল না। তখন মালিক ভাবতে লাগলো তাকে কি এমন করতে বলা যায়, যা সে করতে পারবে না। আর এই বাহানায় আমি তাকে মারতে পারবো। অনেক ভেবে মালিক মোরগটিকে বলল -
"কাল থেকে তোকে ডিম দিতে হবে তুই যদি ডিম দিতে না পারিস তাহলে কালই হবে তোর শেষ দিন।"
এটা শুনে মোরকটি ভাবল - আসলে আমার মালিকের ইচ্ছে তো আমাকে মেরে ফেলা। বাহানা যাই হোক। মোরগ তখন জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। মালিক বলল - "কি ভয়ে কাঁদছিস?"
মোরক বলল - "না আমি ভয়ে চিৎকার করে কাঁদছি না। সকালে ডাকাডাকি করাটা হলো আমার পরিচয়। আমি যদি সেই কারণে মারা যেতাম তাহলে আমিও আমার পরিচয় সাথে মারা যেতাম। ডিম না দিতে পারার অজুহাতে মরার চেয়ে সেই মৃত্যু অনেক ভাল ছিল, যে আমি ডাকাতির কারণে মরেছি। আমি তোমার কথায় সব কিছু ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু যার লক্ষ্যই হলো আমাকে মেরে ফেলা তার সামনে মাথা নিচু করা উচিত ছিল না। লড়াই করলে হয়তো বেঁচে যেতাম।"
সহজ কথা হল, সব সময় সমঝোতা করা জরুরী নয়। লড়াই করাটাও জরুরী হয়ে পরে। আর যখন তুমি তোমার আওয়াজকে দমন করতে থাকো তখন তোমার অস্তিত্ব ধীরে ধীরে শেষ হতে থাকে।
আর যখন নিজের অস্তিত্ব বা পরিচয়ই থাকে না তখন তাকে জীবিত থাকা বলে। বেঁচে থাকা বলে না।