Nazmin Nahar ria

Nazmin Nahar ria Digital Creator

ছেলেবেলায়, আমি ভাবতাম—নারীর সৌন্দর্যের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নাকি তার বুক।পুরুষ হয়ে জন্মেছিলাম, কিন্তু মানুষ হতে ...
31/01/2026

ছেলেবেলায়, আমি ভাবতাম—নারীর সৌন্দর্যের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নাকি তার বুক।
পুরুষ হয়ে জন্মেছিলাম, কিন্তু মানুষ হতে শিখেছি এক মায়ের শুকনো বুকের দিকে তাকিয়ে...

(লেখাটি একজন পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। দেখুন তো আপনি এর সাথে নিজেকে মিলাতে পারেন কিনা)

সত্যিটা স্বীকার করতে আজ আর কোনো লজ্জা নেই—
বয়স যখন কম ছিল, আর দশটা ছেলের মতো আমার চোখও পাপমুক্ত ছিল না। নারীর সৌন্দর্যের কথা ভাবলেই চোখ আটকে যেত তার শরীরের ভাঁজে, বিশেষ করে বুকের দিকে।
বন্ধুমহলে আড্ডায় বলতাম, "নারীর আসল সৌন্দর্য নাকি ওখানেই!"
ছিঃ! আজ ভাবতেই ঘৃণায় শরীর শিউরে ওঠে। তখন বুঝতাম না, মাংসপিণ্ডের ওই আকার বা আকৃতির নিচে কী বিশাল এক মহাসমুদ্র লুকিয়ে থাকে। আমার দৃষ্টি তখন চামড়া ভেদ করে আত্মার নাগাল পেত না।

কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো চেয়েছিলেন আমার এই "পুরুষত্ব"র অহংকার ভেঙে চুরমার করে দিতে। তাই আমাকে মুখোমুখি করেছিলেন এমন এক দৃশ্যের—যা দেখার পর আমি আর আগের আমি থাকিনি।

সময়টা চৈত্র মাসের কাঠফাটা দুপুর। গ্রামবাংলার আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। মাটি ফেটে চৌচির। ধুলোবালি ওড়া এক মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তৃষ্ণায় আমার নিজেরই গলা শুকিয়ে কাঠ।
হঠাৎ পথের ধারে এক জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের দিকে চোখ গেল। চালের খড় উবে গেছে, বেড়া নড়বড় করছে। সেই ঘরের দাওয়ায় বসে ছিলেন এক মা।

বয়স কত হবে? পঁচিশ? ছাব্বিশ? কিন্তু অভাব আর দারিদ্র্য তার যৌবন শুষে নিয়ে মুখে এঁকে দিয়েছে পঞ্চাশ বছরের বার্ধক্য। গায়ের ব্লাউজটা শতছিন্ন, শাড়ির আঁচলটা খসে পড়েছে—কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
কারণ, তার কোলে শুয়ে আছে এক হাড়জিরজিরে শিশু।

আমি থমকে দাঁড়ালাম। দৃশ্যটা আমাকে নড়তে দিল না।
বাচ্চাটা কাঁদছে না। কান্নার শক্তিও হয়তো তার নেই। সে শুধু প্রাণপণ শক্তিতে মায়ের বুকটা কামড়ে ধরে চুষছে।
কিন্তু হায়! সেই বুকে কি এক ফোঁটা দুধ আছে?
মায়ের শরীর নিজেই তো এক কঙ্কাল। বুকের হাড়গুলো গোনা যাচ্ছে। চামড়ার নিচে শুধুই হাহাকার।
তবুও অবুঝ শিশুটি চুষেই যাচ্ছে... *চোঁক... চোঁক...*
এক অদ্ভুত করুণ শব্দ। যেন শুকনো নদী থেকে শেষ বিন্দু জলটুকু নিংড়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা।

আমি স্পষ্ট দেখছিলাম—দুধ নয়, শিশুটি চুষছে মায়ের বুকের রক্ত, মায়ের কলিজার রস।
মায়ের চোখ দুটো একদম স্থির, পাথরের মতো। কিন্তু সেই পাথর চুইয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে।
ফোটা ফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে বাচ্চাটার কপালে, গালে, ঠোঁটে।
বাচ্চাটা হয়তো সেই নোনা জলই চেটে খাচ্ছে।
হয়তো ভাবছে, এটাই দুধ। এটাই মায়ের ভালোবাসা।

আমার বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে গেল। মনে হলো কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমার এতদিনের সব নোংরা চিন্তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।
মায়ের ওই নীরব চাহনি যেন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলছিল—
"ওরে খোদা! আমার বুকের মাংস গলে রক্ত দে, তবুও আমার বাচ্চার পেটে দু’ফোটা আহার দে... আমি যে মা! আমি যে আর সহ্য করতে পারছি না!"

আমি সেদিন পালিয়ে এসেছিলাম। হ্যাঁ, আমি পালিয়েছিলাম কারণ সেই দৃশ্য সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না।
কিন্তু সেই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। কানে শুধু বাজছিল সেই চোঁক চোঁক শব্দ আর চোখে ভাসছিল মায়ের সেই শুকনো বুক।

সেদিন বুঝেছিলাম, নারীর বুক কোনো ভোগের বস্তু নয়।
এটি কোনো কামনার উদ্যান নয়—এটি এক যুদ্ধক্ষেত্র।
যেখানে একজন নারী নিজের শরীরের সবটুকু নির্যাস দিয়ে তিলে তিলে বড় করে তোলে আগামীর পৃথিবী।
যেখানে ভালোবাসা মানে শুধু দেওয়া, বিনিময়ে কিছুই না চাওয়া।

আজ আমি বাবা হয়েছি।
যখন দেখি আমার সন্তান তার মায়ের বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমায়, যখন দেখি ক্ষুধা পেলেই সে হামাগুড়ি দিয়ে মায়ের বুকের কাছে আশ্রয় খোঁজে—তখন আমার চোখে জল আসে।
মনে হয়, এই বুকের নামই "নিরাপত্তা"। এই বুকের নামই "পৃথিবীর শেষ আশ্রয়স্থল"।

হে পুরুষ!
আজ তোমাকে একটা অনুরোধ করি।
রাস্তায় ঘাটে কোনো নারীর দিকে তাকানোর আগে, তার শরীরের ভাঁজ খোঁজার আগে—একবার নিজের মায়ের কথা ভেবো।
মনে রেখো, তুমিও একদিন ওই বুকের রস খেয়েই মানুষ হয়েছ। ওই বুকটা শুধু মাংসের দলা নয়, ওটা তোমার প্রথম জান্নাত।

নারীর বুক দেখে উত্তেজনা নয়, বরং শ্রদ্ধায় মাথা নত করতে শেখো।
কারণ, কোনো কোনো নারী তার শুকনো বুক দিয়েও সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধ করে যায়। তাদের শরীরের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকে একেকটি ত্যাগের মহাকাব্য।

নারীর সৌন্দর্য তার কামনাসিক্ত শরীরে নয়,
নারীর সৌন্দর্য তার মমতায়, তার ত্যাগে, তার আঁচলের মায়ায়।
যেদিন এটা বুঝবে, সেদিন দেখবে—পৃথিবীর সব নারীকেই মায়ের মতো পবিত্র মনে হচ্ছে।

সেই অচেনা মায়ের শুকনো বুক আমাকে মানুষ বানিয়েছে।
দোয়া করি, পৃথিবীর কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না থাকে। সব শিশু যেন দুধের স্বাদ পায়, চোখের জলের স্বাদ নয়।

(লেখাটি পড়ে যদি আপনার হৃদয়ে বিন্দুমাত্র নাড়া দেয়, তবে শেয়ার করে অন্য ভাইদের দেখার সুযোগ করে দিন। হয়তো আপনার একটি শেয়ারে কোনো এক পুরুষের দৃষ্টি পরিবর্তন হবে, বেঁচে যাবে মাতৃত্বের সম্মান।)
Picture & post Collected🧡🩷👨‍👩‍👦👨‍👩‍👧

31/01/2026
Khaben naki         ゚viralシfypシ゚viralシalシ
10/01/2026

Khaben naki

゚viralシfypシ゚viralシalシ

09/01/2026

Ainare ainare pakhi

05/01/2026

Ke ke chorte chan

কেমন লাগছে    ゚viralシfypシ゚viralシalシ
05/01/2026

কেমন লাগছে
゚viralシfypシ゚viralシalシ

03/01/2026

দুই পাগল ছবি তুলতে যে যখন ভিডিও করে
゚viralシfypシ゚viralシalシ

31/12/2025

Ma sha Allah amat mamonita
゚viralシfypシ゚viralシalシ

আল্লাহ তুমি সব মেয়েদের জীবনে সৎ সঙ্গী দিও❤️❤️
27/12/2025

আল্লাহ তুমি সব মেয়েদের জীবনে সৎ সঙ্গী দিও❤️❤️

23/12/2025

Meyeder Jibon ta onek koster

Address

Jessore

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nazmin Nahar ria posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share