19/01/2026
আলহামদুলিল্লাহ! বাবা সোনাটা আজকের এই দিনে জন্ম নিয়ে আমাদের পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলে। তোমার জন্মের দুই মাস পরে ই ধরা পড়লো নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্ট। তোমাকে দ্রুত ডাক্তরের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। ডাক্তার বলল তুমি নাকি ডাউন সিনড্রোম বেবি। যাকে বলে স্পেশাল চাইল্ড। ডাউন সিনড্রোম শব্দটার সাথে আগে পরিচিত ছিলাম না। তারপর গুগলে সার্চ দিয়ে দেখি প্রতিটি মানুষের শরীরে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। ২১ নম্বর ক্রমযোমটি জোড়া থেকে সংখ্যায় একটি বেশি হলে সেই সব শিশুদের ডাউন সিনড্রোম বেবি বলে। ডাক্তার আর বললো তোমার হাট ছিদ্র। থাইরয়েড।এত সব কিছু শোনার পরে আমাদের পরিবারের মনে হয় যে আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। তারপর আল্লাহর পরে ভরসা রেখে ধৈর্য ধরে তোমাকে নিয়ে আমাদের জার্নি শুরু হলো।সেই সময় আমি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কর্মরত ছিলাম। তোমার মা ছিল যশোরে। তিনি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা। দুইজনে কেউই ছুটি পাচ্ছিলাম না। সেই সময় পৃথিবীতে আবির্ভূত হল কোভিড ১৯। যা পৃথিবীতে মহামারি আকার ধারণ করল। এরমধ্যে তোমার মায়ের স্কুল বন্ধ হয়ে গেলো।তোমাকে নিয়ে চলে এলাম ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা তত্ত্বাবধানে তোমার নিবিড় চিকিৎসা শুরু হলো। ডাক্তাররা জানালেন তোমার ওপেন হার্ট অপারেশন করতে হবে কিন্তু বাংলাদেশের সম্ভব নয়। দেশের বাইরে ভারতে নিয়ে যেতে হবে। তখন ভারতে কোভিড 19 এর অবস্থা আরো ভয়াবহ। এরমধ্যে আমাদের পাসপোর্ট, ভিসা , প্রতিরক্ষা ক্লিয়ারেন্স, আমার এবং তোমার মায়ের ছুটি, সবকিছু সম্পন্ন করে তোমাকে নিয়ে যাওয়া হলো দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে।২০২১ সালের ২১ জুলাই ঈদুল আযহার দিন তোমার ওপেন হাট অপারেশন করা হলো। তোমার বয়স তখন সবে মাত্র ১৮ মাস। তোমার মা এবং আমি হাসপাতালের বাহিরে আমাদের সে কি উৎকণ্ঠা। প্রতিমুহূর্তে মহান আল্লাহকে স্মরণ করছি, আর পানা চাচ্ছি আল্লাহ যেন তোমাকে সুস্থ ভাবে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তারপর ডাক্তার এসে যখন জানালো অপারেশন সাকসেস। এবং যখন তোমার জ্ঞান ফিরলো,তখন আমরা মহান রবের কাছে সিজদা অবনত চিত্ত শুকরিয়া আদায় করি। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যই তোমার জন্য প্রতি মুহূর্তে দোয়া করেছে।তোমার দাদা দাদু নানা-নানী,কাকু খালামণি মামা প্রতিমুহূর্তেই তোমার খবর নিয়েছে বাংলাদেশ থেকে। তারপর থেকেই তোমাকে পাখির ছানার মত প্রতিটি মুহূর্ত তোমাকে দেখে রাখতে হয়। তবে তুমি অনেক লক্ষী ছেলে বাবা। তোমার অনেক ধৈর্য। তুমি অনেক সাপোর্টিং। আমরা ভেঙে পড়লেও ধৈর্যের সাথে আমাদের সাপোর্ট দিয়ে গেছে। তোমাকে কিউট বয় বলে। তুমি সত্যিই আমাদের কিউট বয়। তোমার জন্ম ক্ষনের এই দিনে মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি তিনজনে তোমাকে সব সময় সুস্থ রাখেন ভালো রাখেন। আমি এবং তোমার মায়ের অবর্তমানে ও যেন আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখেন, হেফাজত করেন।লাভ ইউ বাবা।আমরা তোমাকে অনেক ভালবাসি।" শুভ জন্মদিন নুর"