27/05/2026
গল্পের শুরুতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি নরকের গেটে এসে পৌঁছান। কিন্তু টিকিট চেকার তার কপাল স্ক্যান করতেই অবাক হয়ে হাসেন, কারণ ওই ব্যক্তি আসলে স্বর্গের যোগ্য! লোকটি নিজেই জানত না, সে শুধু ভিড় অনুসরণ করে ভুল করে এখানে চলে এসেছিল। চেকার তাকে একটি বিশেষ দরজা দেখিয়ে বলেন যে, সেটি দিয়ে গেলে সে সরাসরি স্বর্গে পৌঁছাবে।
লোকটি ভিড় ঠেলে সেই দরজা খুলতেই ভেতর থেকে চমৎকার সোনালি আলো বেরিয়ে আসে। চারপাশের মানুষ অবাক ও ঈর্ষান্বিত চোখে তাকিয়ে থাকে, আর সে শান্তভাবে স্বর্গে প্রবেশ করে। এই দৃশ্য দেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাকি মানুষদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তারা ভাবে, ওই দরজাই বোধহয় মুক্তির আসল পথ। পাগলের মতো সবাই সেই দরজার দিকে ছুটে যায়। কিন্তু দরজা খুলতেই তারা দেখতে পায় এক ভয়ংকর আগুনের সাগর—সেটি আসলে নরকেরই আরেক রূপ। তারা বুঝতে পারে, অন্ধভাবে অন্যের দেখানো পথে হাঁটলে মুক্তি মেলে না। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তারা আবারও নিজেদের বিচারের অপেক্ষায় লাইনে ফিরে আসে।
এরপর শুরু হয় কর্মের আসল হিসাব। এক ৮০ বছরের বৃদ্ধ লাইনে আসেন। তিনি জীবনে কাউকে সরাসরি হত্যা করেননি, তাই মনে মনে ভেবেছিলেন তার হয়তো কোনো শাস্তি হবে না। কিন্তু বিচারে তার আসল অপরাধ ধরা পড়ে। তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের প্রতারক, যিনি টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে স্ক্যাম করে অসংখ্য মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় কেড়ে নিয়েছিলেন। তার এই ভয়ংকর প্রতারণার কারণে ৪৮ জন মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল। কর্মের নিয়ম অনুযায়ী, তার এই অদৃশ্য অপরাধের জন্য তাকে চরম শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়।
সবশেষে এক বৃদ্ধ দম্পতি সামনে আসেন। তারাও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ, কারণ তারা নিজেদের হাতে কোনো অপরাধ করেননি। কিন্তু কপাল স্ক্যান করার সাথে সাথেই তাদের অতীতের লুকানো কৃতকর্ম সামনে চলে আসে এবং কর্মের ফলস্বরূপ তাদেরও নরকে নিক্ষেপ করা হয়।
গল্পের মূল বার্তা:
মানুষ যা করে, তাকে ঠিক সেই কাজেরই হিসাব দিতে হয়। নিজে সরাসরি কোনো ক্ষতি না করলেও, প্রতারণা বা অন্য উপায়ে মানুষের জীবন ধ্বংস করার ফল ভোগ করতেই হয়। অন্ধভাবে ভিড় অনুসরণ করে বা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কর্মের হাত থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই।