26/03/2025
আজাদ রেস্ট হাউসের রহস্য
ঝিনাইদহ শহরের এক কোণে, পুরনো আমলের এক রেস্ট হাউস ছিল—"আজাদ রেস্ট হাউস"। সময়ের সাথে সাথে শহর বদলেছে, কিন্তু এই রেস্ট হাউসের চেহারা তেমন বদলায়নি। লোকে বলত, এখানে একসময় মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিত। কেউ কেউ আবার ফিসফিসিয়ে বলত, এখানে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে—যেন রাতের আঁধারে কেউ ফিসফিস করে কথা বলে, করিডোরে নিঃশব্দ পায়ের শব্দ শোনা যায়।
রাশেদ, এক তরুণ সাংবাদিক, এসব কথায় বিশ্বাস করত না। সে ঠিক করল, এক রাত এখানে থেকে পুরো ব্যাপারটা খতিয়ে দেখবে। এক সন্ধ্যায়, ছোট্ট একটা ব্যাগ নিয়ে সে হাজির হলো আজাদ রেস্ট হাউসে। মালিক, এক বুড়ো মানুষ, তাকে দেখে বলল,
— "তুমি কি নিশ্চিত, ছেলে? একা থাকতে চাও?"
রাশেদ হেসে বলল, "আমি ভূতে ভয় পাই না চাচা।"
বুড়ো কেবল মাথা নাড়ল, যেন কিছু বলার ছিল কিন্তু বলল না।
রাত গভীর হতেই রাশেদ রুমে শুয়ে পড়ল। বাইরে বাতাস বইছিল, জানালার কাচ মাঝে মাঝে কাঁপছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ সে শুনতে পেল করিডোরে চাপা শব্দ। যেন কেউ ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে। সে টর্চ জ্বালিয়ে দরজা খুলল। করিডোর ফাঁকা। কিন্তু মেঝেতে পানির দাগ! যেন ভেজা পায়ের ছাপ!
তার গা শিউরে উঠল, কিন্তু সে পিছপা হলো না। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল রেস্ট হাউসের পুরনো লাউঞ্জের দিকে। সেখানে পৌঁছে সে স্তব্ধ হয়ে গেল। দেয়ালে ঝোলানো মুক্তিযুদ্ধের পুরনো ছবি, আর ঠিক তার নিচে একটা কালো ছায়া নড়ে উঠল!
রাশেদ আতঙ্কিত হয়ে পিছু হটল। কিন্তু ছায়াটা কিছু বলেনি, শুধু ইঙ্গিত করল ছবিটার দিকে। রাশেদ কাঁপতে কাঁপতে ছবিটার ফ্রেমটা নামিয়ে দেখল, পেছনে লুকানো একটা পুরনো চিঠি! চিঠিতে লেখা ছিল এক নিখোঁজ মুক্তিযোদ্ধার শেষ কথা—
"যদি কেউ কখনো এই চিঠি খুঁজে পায়, তাহলে জানবে, আমি বিশ্বাসঘাতকদের হাতে ধরা পড়েছি। কিন্তু আজাদ রেস্ট হাউস আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল, আমাদের গোপন বার্তা এখানেই লুকানো। যারা দেশকে ভালোবাসো, তারা এ ইতিহাস ভুলে যেও না..."
রাশেদ বুঝতে পারল, এটা শুধু একটা ভূতের গল্প নয়। আজাদ রেস্ট হাউস মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী! সে চিঠিটা ভালোভাবে তুলে নিল, যেন সবাই জানে এই জায়গার সত্যিকারের ইতিহাস।
সেই রাতের পর থেকে আজাদ রেস্ট হাউস আর শুধু রহস্যের জায়গা থাকল না—এটা হয়ে উঠল এক সত্যের প্রতীক, এক ইতিহাসের সাক্ষী।
বিশেষ দ্রষ্টব্য এটা কিন্তু একটি গল্প -
কলমে সমাজকর্মী গণমাধ্যম কর্মী Taraque Mahamud Joy
©️ Voice of Joy