17/05/2026
ঢোল সমুদ্র দিঘি: ঝিনাইদহের এক অভিশপ্ত ইতিহাস ও রানীর আত্মত্যাগের রহস্য | Dhol Samudra Dighi History
ঝিনাইদহ জেলার পাগলা কানাই ইউনিয়নে অবস্থিত 'ঢোল সমুদ্র দিঘি' (Dhol Samudra Dighi) কেবল একটি সাধারণ জলাশয় নয়; এর শান্ত জলের নিচে লুকিয়ে আছে শত শত বছর আগের এক ভয়ংকর ও মর্মান্তিক ইতিহাস। আজকের এই বিশেষ আয়োজনে আমরা আপনাদের নিয়ে যাবো আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগের এক অভিশপ্ত অতীতে, যেখানে এক রানীর আত্মত্যাগ আর ঢোলের বিকট শব্দের আড়ালে চাপা পড়েছিল এক করুণ আর্তনাদ।
ঢোল সমুদ্র দিঘির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Historical Background of Dhol Samudra Dighi)
ইতিহাস ও লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী থেকে জানা যায়, রাজা মুকুট রায়ের শাসনামলে ঝিনাইদহ অঞ্চলে এক ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। মাসের পর মাস বৃষ্টি না হওয়ায় চারপাশের খাল-বিল, নদী-নালা সব শুকিয়ে যায়। প্রজাদের তীব্র জলকষ্ট দূর করতে রাজা এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি হাজার হাজার শ্রমিক নিয়োগ করে দিনরাত পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি বিশাল পুকুর খনন করার নির্দেশ দেন। প্রায় ৫২ বিঘা জায়গা জুড়ে এই বিশাল দিঘি খনন করা হলেও আশ্চর্যের বিষয় ছিল, এত গভীর খোঁড়ার পরও সেখান থেকে এক ফোঁটা পানিও ওঠেনি।
রানীর মর্মান্তিক আত্মত্যাগ ও ঢোলের শব্দ (The Queen's Sacrifice)
হতাশাগ্রস্ত রাজা একদিন স্বপ্নে দৈববাণী পান যে, রানী যদি নিজে পুকুরে নেমে পূজা দেন, তবেই নিচ থেকে পানি উঠবে। প্রজাদের স্বার্থে মহীয়সী রানী হাসিমুখে এই শর্ত মেনে নেন। নির্দিষ্ট দিনে পুকুর পাড়ে যখন হাজার হাজার প্রজা উৎসবের আমেজে ঢোল, বাঁশি ও সানাই বাজাচ্ছিল, তখন রানী পুকুরের তলদেশে নেমে পূজায় বসেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পূজা শুরু হতেই প্রবল বেগে নিচ থেকে পানি উঠতে শুরু করে। পানির বেগ এত বেশি ছিল যে রানী আর উপরে উঠে আসতে পারেননি। এদিকে পাড়ে থাকা প্রজারা পানি ওঠার আনন্দে এত জোরে ঢোল বাজাচ্ছিল যে রানীর বাঁচার আকুতি কারো কানেই পৌঁছায়নি। ঢোলের সেই বিকট শব্দই রানীর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায় এবং পানিতে তলিয়ে রানীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
আপনি যদি ইতিহাস, রহস্য এবং প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে চান, তবে ঝিনাইদহের এই ঐতিহাসিক স্থানটি অবশ্যই ঘুরে আসবেন। এরকম আরও অজানা ইতিহাস এবং রহস্যময় গল্প জানতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন!