06/12/2025
ক্যাংকার কী?
ক্যাংকার মূলত Trichomonas gallinae নামক এক ধরনের প্রোটোজোয়া পরজীবীর সংক্রমণ। এটি মূলত কবুতর, ঘুঘু, ককাটেল, বাজি, ফিঞ্চ প্রজাতির পাখিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সংক্রমণ মুখ, গলা, ক্রপ, ও খাদ্যনালীতে হলুদ/সাদা ক্ষত (lesion) তৈরি করে।
আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, ক্যাংকার মানুষেরও হয়। তবে সেটা ক্যাংকার হিসেবে পরিচিত না। যাই হোক, এটা ছিলো আজাইরা আলাপ😁
১. ক্যাংকার হওয়ার কারণ
প্রোটোজোয়া Trichomonas gallinae–এর সংক্রমণই একমাত্র কারণ।
সংক্রমিত পাখির মুখ বা ক্রপ থেকে সরাসরি সংস্পর্শে।
সংক্রমিত পাখির খাবার, পানি, খেলনা, ফিডার শেয়ার করা।
“crop milk” দ্বারা বাচ্চাদের মধ্যে ছড়ায় (কবুতরের ক্ষেত্রে বেশি)।
অপরিষ্কার ড্রিঙ্কার/ফিডার।
স্যাঁতসেঁতে, উষ্ণ পরিবেশ (পরজীবীর জন্য আদর্শ বংশবিস্তার ক্ষেত্র)।
স্ট্রেসড পাখি (পরিবেশগত চাপ, খাঁচার ঘনত্ব, খাবারের অভাব)।
অনিয়ন্ত্রিত বন্য পাখির সংস্পর্শ।
২. লক্ষণ (Symptoms)
👉 প্রাথমিক লক্ষণ
মুখে হলুদ/সাদা পিণ্ডের মতো লেজন (cheesy plaques)
খাবার গিলতে সমস্যা
মুখ দিয়ে বাজে গন্ধ
অতিরিক্ত লালা ঝরা
দ্বিতীয়িক লক্ষণ
ওজন কমে যাওয়া
নিস্তেজ ও ঘুমঘুম ভাব
ডানার পালক ফুলিয়ে রাখা
শ্বাসের শব্দ অস্বাভাবিক হওয়া (যদি গলা অবরুদ্ধ হয়)
খাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া
মারাত্মক পর্যায়ের লক্ষণ
গলা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া
পানিশূন্যতা
শ্বাসকষ্ট
মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, বিশেষত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে।
৩. প্রতিকার (Treatment & Management)
প্রাথমিক চিকিৎসা
মুখের ভেতরের হলুদ পিন্ডটি জোর করে তুলে ফেলা যাবে না, এতে রক্তপাত/আঘাত এবং মৃত্যুঝুঁকি থাকে।
খাবার নরম করে দিতে হবে (soft food/dry food soaked)।
স্যালাইন/ইলেকট্রোলাইট দিয়ে ডিহাইড্রেশন কমানো।
পাখিকে আলাদা করে রাখতে হবে (Isolation)।
চিকিৎসা:
প্রথমেই বলে রাখি, আমি কোন ভেট ডাক্তার নই। আমার কোন সার্টিফিকেটও নেই। তবে দীর্ঘ ২৪ বছরের পাখি পালনের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন জার্নাল + অভিজ্ঞদের সাথে কথা বলে নিজের প্রয়োজনে কিছু শিখেছিলাম। সেগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করি😊
Metronidazole / Ronidazole / Carnidazole প্রোটোজোয়া নির্মূলে প্রচলিত ওষুধ।
সাধারণত ৫–৭ দিন কোর্সে ব্যবহার করা হয়।
বাচ্চা বা দুর্বল পাখির ক্ষেত্রে ওষুধ খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হয়।
মনে রাখবেন, ক্যাংকার একটি প্রোটজোয়া। এটা ব্যাকটেরিয়া নয়। সুতরাং, প্রোটোজোয়া এবং ব্যাকটেরিয়ার ট্রিটমেন্ট এক হয় না। এক্ষেত্রে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল মে/ডি/সিন ব্যবহারে বিরত থাকুন।না হলে পাখির ইমিউনিটি ফল করে বিপদে পড়তে পারেন।
এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত ব্যবস্থা -
পাখিকে ব্রিডে দিলে ডিম দেয়ার আগে
১। হেমিকো পি এইচ ১ এম এল / লিটার পানিতে ৫ দিন
২। টু প্লাস ১ এম এল + ডাইরোভেট ১ গ্রাম / লিটার পানিতে ৫ দিন
প্যারেন্টসের ক্যাংকারের সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে এবং বাচ্চাতেও ছড়ানোর ঝুঁকি কমে যাবে।
সাপোর্টিভ কেয়ার
পরিষ্কার, হালকা উষ্ণ পানি দেয়ার চেস্টা করবেন। বিশেষ করে শীতকালে। দিনে অন্তত ২ বার পানি পরিবর্তন করবেন।
হিট ল্যাম্প/ওয়ার্ম কর্নার এর ব্যবস্থা রাখতে পারেন।(ঠান্ডায় সংক্রমণ বাড়ে)।
A ও B-complex থাকে এমন খাবার দিবেন।
৪. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Prevention)
প্রতিদিন খাবার ও পানি পরিবর্তন।
ফিডার ও ড্রিঙ্কার গরম পানি বা mild disinfectant দিয়ে ধোয়া।
খাঁচায় বেশি পাখি না রাখা (overcrowding এ ঝুঁকি বাড়ে)।
বন্য পাখির সংস্পর্শ কমানো।
নতুন পাখিকে ১৪ দিন Quarantine।
মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। এই প্রতিরোধ করা আপনার পক্ষেই সম্ভব।
সবাইকে ধন্যবাদ🥰