20/05/2026
ভিসি কাঁচের পুতুল!!!
বিএনপির শাসনামলকে কালো সময় বলা এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার দাবি জানানো সেই মুনির চালাচ্ছেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়।
লন্ডন ভিত্তিক বাংলা সংবাদ মাধ্যম নেকড়ে নিউজের অনুসন্ধানে উঠে আসে.....
চট্টগ্রাম:
রাজনৈতিক বক্তব্য ও গবেষণার প্রসঙ্গ
২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় ইফতেখার মুনির বিএনপির শাসনামলকে ‘কালো সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বক্তব্যে তিনি ১৯৭৫-পরবর্তী সময়কে ‘অন্ধকার অধ্যায়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সে সময় একটি প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে দেওয়া হয়নি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জানার সুযোগ সীমিত ছিল। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তা গভীরভাবে অধ্যয়ন করার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি-তে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি এবং একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার ইফতেখার মুনিরের ভূমিকা ও প্রভাব নিয়ে শিক্ষক-সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইফতেখার মুনির প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তার নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে। উপাচার্যকে কার্যত প্রভাবহীন অবস্থানে রেখে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
নওফেল প্রশাসনে তার চাকরি জীবন ও দায়িত্বপালনের টাইমলাইন
অভিযোগ ও নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৫ সালে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানোর পর একই বছরই ইফতেখার মুনির প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি-তে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তার দায়িত্ব ও পদোন্নতির ধারাবাহিকতা নিম্নরূপ:
১। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত লেকচারার ছিলেন।
২। ২০০৯ সালে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হন।
৩। ২০১২ সাল: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। একই বছর অতিরিক্তভাবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পান। অর্থাৎ একযোগে দুইটি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৪। ২০১৫–২০১৯ সাল: ইইই বিভাগের পাশাপাশি গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ও তিনি একাধিক বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।
৫। ২০১৯–২০২৫ সাল: অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে পদোন্নতি পেয়ে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
৬। ২০২৫ সাল (অভ্যুত্থান-পরবর্তী): বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হলে তাকে ওই বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিন করা হয়।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির এই দীর্ঘ সময়ে তিনি মোট তিনটি বিভাগের (CSE, EEE, গণিত) চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিক সময়ে একযোগে দুইটি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে একাডেমিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তার প্রভাবেই নেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি কার্যত তার সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক অবস্থান শক্তিশালী করার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি সিটি মেয়রের সঙ্গে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
ইফতেখার মুনিরের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন:
ইফতেখার মুনিরের পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (ইউজিসি)-এর নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করেই তাকে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর করা হয়েছে। যেখানে ছয়টি স্বীকৃত জার্নাল প্রকাশনা প্রয়োজন। সেখানে তার জার্নাল আর্টিকেলের সংখ্যা মাত্র ৩ টি এবং কনফারেন্স পেপার ১১ টি। যেটি সরাসরি ইউজিসিকে বৃদাঙ্গুলি দেখানো।
বর্তমানে তিনি বিজ্ঞান বিভাগের এসিস্ট্যান্ট ডীন এবং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব পালন করছেন। গণ অভ্যুত্থানে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন ভিসি অনুপম সেন এবং রেজিস্ট্রার খুরশিদুর রহমান পদত্যাগের আগে তাদের আস্থাভাজন ইফতেখার মুনিরকে তারা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব দেন। ইফতেখার মুনির ছিলেন স্বৈরাচারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের খুব বিশ্বস্থ। তাই তাকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার করার পরিকল্পনাও ছিল নওফেলের। ২০২৩ সালে তার ভাই রেজাউল হক জসীমকে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল নওফেল।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, একাডেমিক মান এবং ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।
বি:দ্র: আওয়ামী ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মালিকানাধীন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি দখল করে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী নওফেল।
এখন প্রশ্ন হলো প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বিএনপি সমর্থিত মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন। ভিসি হলেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নসরুল কদির থাকাবস্থায় নওফেলের গুপ্তচর এই প্রতিষ্ঠান চালায় কিভাবে? আওয়ামী লীগের সুবিধা ভোগী এবং এতবড় গপ্তচরকে কেন বিএনপি শেল্টার দিচ্ছে? লালন পালন করছে? তাকে অপসারণ করা হবে কিনা?