09/07/2026
সেনাসদস্যের ১১ দিনের কঠিন জীবনের গল্প
অনেকেই শুধু একজন বাংলাদেশ সেনাসদস্যের ইউনিফর্ম দেখে মুগ্ধ হয়। কাঁধের ব্যাজ, বুকের নামফলক আর সম্মান দেখে সবাই গর্ব অনুভব করে। কিন্তু এই সম্মানের পেছনে কত হাজার ফোঁটা ঘাম, কত না-ঘুমের রাত, কত ক্ষুধা, কত কষ্ট আর কত ত্যাগ লুকিয়ে আছে—সেটা খুব কম মানুষই জানে।
প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় কঠিন পরীক্ষা। কাঁধে ৩০ কেজিরও বেশি ওজনের ব্যাগ। সেই ব্যাগে ১১ দিন বাইরে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু—খাবার, কাপড়, তাঁবু, রান্নার জিনিসপত্র, পানির বোতল, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—সব নিজের কাঁধেই বহন করতে হয়। কোনো গাড়ি নেই, কোনো শর্টকাট নেই। সামনে শুধু ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ।
কিছুদূর হাঁটার পর কাঁধ অবশ হয়ে আসে। পিঠে ব্যথা শুরু হয়। বুটের ভেতরে পায়ে ফোস্কা পড়ে, তবুও থামা যায় না। কারণ একজন সেনাসদস্যের কাছে আদেশই সবচেয়ে বড়।
হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। মুহূর্তেই কাপড় ভিজে যায়, ব্যাগ আরও ভারী হয়ে ওঠে। পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। কোথাও খাড়া ঢাল, কোথাও গভীর খাদ। একটুখানি অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবুও দাঁত চেপে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
দীর্ঘ পথ চলার সময় রাস্তার পাশে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা দাঁড়িয়ে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকে। কেউ কেউ ছোট্ট হাত তুলে স্যালুট দেয়। সেই ছোট্ট স্যালুট, সেই নিষ্পাপ হাসি যেন মুহূর্তের জন্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। তখন মনে হয়—এই দেশের মানুষ, এই শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্যই তো এত ত্যাগ।
২০ কিলোমিটার হাঁটার পর মাত্র ৫ মিনিট বিশ্রাম। সেই পাঁচ মিনিটে কেউ রাস্তায় শুয়ে পড়ে, কেউ ব্যাগকে বালিশ বানিয়ে একটু চোখ বন্ধ করে। মনে হয়, যদি আর একটু সময় পাওয়া যেত! কিন্তু বাঁশির শব্দ শোনা মাত্র আবার উঠে দাঁড়াতে হয়।
খাওয়ার সময়ও কোনো আরাম নেই। রাস্তার ধারে বসে বা দাঁড়িয়ে দ্রুত খাবার শেষ করতে হয়। অনেক সময় নিজেরাই ভেজা কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করে খেতে হয়। ধোঁয়ায় চোখ জ্বলে, শরীর ক্লান্ত, তবুও রান্না শেষ করেই আবার দায়িত্বে ফিরতে হয়।
রাত বাড়তে বাড়তে প্রায় ৩টা। তখন পৌঁছাতে হয় জনমানবহীন গভীর জঙ্গলে। আশপাশে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। চারদিকে শুধু অন্ধকার, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর বুনো পরিবেশ। সেখানে পৌঁছে বিশ্রাম নয়—প্রথমে জঙ্গল পরিষ্কার করতে হয়, তারপর তাঁবু খাটাতে হয়। ⚔️