03/03/2026
একজন স্ত্রী চলে গেলেন। খবর এলো, তিনি আর নেই। স্বামী তখন বিদেশে, শুটিংয়ে। দেশে ফেরেননি সঙ্গে সঙ্গে। প্রথমে এলো একটি স্ট্যাটাস। তারপর এলো একটি ভিডিও। ভিডিওতে ছিল ব্যাখ্যা। অভিযোগ। ভয়। জনতার কথা। মবের আশঙ্কা।
সবকিছু মিলিয়ে যেন একটা অদ্ভুত দৃশ্য।
একদিকে মৃত্যু।
অন্যদিকে ইমেজ।
এই ঘটনাটা শুধু একজন মানুষের না।
এটা আমাদের সময়ের প্রতিচ্ছবি।
দেশে ফিরলে আক্রমণ হতে পারত।
কেউ বলছে, এটা অজুহাত।
কেউ বলছে, মানুষ নিষ্ঠুর।
কেউ বলছে, সে নির্দয়।
সত্যটা আদালত বলবে। তদন্ত বলবে।
কিন্তু একটা প্রশ্ন আদালতের না।
এটা বিবেকের।
যখন তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষটি চলে যায়,
তখন কি প্রথম চিন্তা হয়, আমি কীভাবে একটি স্ট্যাটাস লিখব?
নাকি প্রথম চিন্তা হয়, আমি কীভাবে পৌঁছাবো?
ভয় মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। নিজেকে বাঁচাতে চাওয়া অপরাধ নয়। কিন্তু ভালোবাসারও তো একটা ভাষা আছে। সেই ভাষা স্ট্যাটাসে লেখা হয় না। সেই ভাষা লাইভ ভিডিওতে বোঝানো যায় না। সেই ভাষা শুধু উপস্থিতিতে প্রকাশ পায়।
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে নীরবতা সন্দেহজনক।
চুপ থাকলে মানুষ ভাবে, কিছু লুকানো হচ্ছে। তাই সবাই দ্রুত কথা বলে। ব্যাখ্যা দেয়। নিজেকে সাফাই দেয়। শোকও এখন প্রতিরক্ষামূলক হয়ে গেছে। কিন্তু শোক তো আসলে খুব ব্যক্তিগত। শোক মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। শোক মানে শেষবারের মতো বিদায় বলা। শোক মানে পৃথিবীর সামনে নিজের অবস্থান প্রমাণ করা না।
হয়তো সত্যিই ভয় ছিল। হয়তো পরিস্থিতি জটিল ছিল। হয়তো অনেক অদৃশ্য বাস্তবতা আছে যা আমরা জানি না।
তবুও প্রশ্নটা থেকে যায়,
যদি পৃথিবী ভেঙে পড়েও, ভালোবাসার দাবি কি তখনও সবচেয়ে আগে না?
ইমেজ ভেঙে গেলে মানুষ আবার বানাতে পারে।
খ্যাতি কমে গেলে আবার বাড়তে পারে।
ফলোয়ার কমে গেলে আবার বাড়ে।
কিন্তু একটি বিদায়ের মুহূর্ত, একবারই আসে।
ডিজিটাল যুগ আমাদের শিখিয়েছে,
মানুষ হওয়ার আগে দৃশ্যমান হতে।
অনুভব করার আগে ঘোষণা দিতে।
ভাঙার আগে ব্যাখ্যা করতে।
এই ঘটনায় কে দোষী, কে নির্দোষ, সেটা সময় বলবে।
কিন্তু এই হাহাকারটা আমাদের সবার, আমরা কি এমন এক পৃথিবী বানাচ্ছি যেখানে ভালোবাসার চেয়ে ইমেজ বেশি জরুরি?
যেখানে মানুষ মরে যায়, আর আমরা লাইভে ব্যাখ্যা শুনি।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব নিঃশব্দ, কেউ যখন চিরতরে চলে যায়,
আমরা কি তার কাছে যাই? নাকি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই?