02/10/2024
DSSP MMC-04
২০২১ এর শেষে সামনে আমাদের প্রফ।এর মধ্যে হচ্ছে রুম এলটমেন্ট।ক্লাস আইটেম সব ফেলে দিনের পর দিন রুমের পর রুম ঘুরছি। নাহ্,কোন রুমেই আমাদের জন্য জায়গা নেই।কারণ আমাদের প্রিয় বড় আপুরা আমাদের উঠতে দেবে না।তারা ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন এমনকি ওয়াশিংমেশিনের জায়গায় আমাদের একটু জায়গা দিতে পারবেন না।এমন সময় ম্যাম সবাইকে কনফারেন্স রুমে ডেকে নিয়ে সব্বাইকে রুম এলটমেন্ট দিল। আমার পড়ল নতুন বিল্ডিংয়ের ২ তলায় কারিমা আপুর রুমে।আমি ওসব কিছু জানতাম না।রুমের দায়িত্বে থাকা আপুরা বলে, রুমে গিয়ে খোঁজ নিতে।যখন আমি রুমে খোঁজ নিতে গেলাম সেখানে তৃণা কারিমা আপু কেউ ছিল না। তাদের জুনিয়র বিডিএস-৭ এর একজন আপু ছিলেন। উনি নাম্বার রেখে পরে যোগাযোগ করবেন আপুরা আসলে এটা বলে দিলেন।ওইদিন আমার এমনিতেই প্রচন্ড পেট ব্যথা ছিল,কিন্তু দৌড়াদৌড়ি না করে রুম পাব না তাই বাধ্য হয়ে রুমে রুমে দৌড়িয়েছি।যা করতে বলে তাই করেছি।তৃণা আপু কলেজ থেকে ফেরার পর ডেকে নিয়ে যায় ওই রুমে।উল্লেখ্য, ওটা তৃণা আপুর রুম ছিল না,কারিমা আপুর ছিল।কিন্তু সে তখন বাসায় থাকায় হেনস্তা করার দায়িত্বটা তৃণা আপু নিয়েছিল।আমার দোষ এটাই ছিল যে আমি রুমের জন্য গিয়েছিলাম।তৃণা আপু রুমের ভিতর ডেকে দরজা বন্ধ করে ১৫-২০ মিনিট ধরে ইচ্ছামতো হেনস্তা করেছে।সাথে ওই ফারাহ আপুও ছিল।
তৃণা:তোমাকে এই রুমে আসতে কে বলেছে?
আমি:আপু,ম্যাম।
তৃণা:ম্যামের সাথে তোমার কিসের পিরিত যে ম্যাম তোমাকে রুম দিয়েছে।
আমি:(তার চোখ মুখ দেখেই আমার গলা শুকিয়ে গিয়েছে,ওই রূপ আমি কোনদিনও ভুলব না)তবু বলার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুই বলতে দেয়া হলো না একের পর এক বাজে কথা বলে ধমক, হুমকি দিয়ে বলে,'আপুর নাম বলো যে আপু পাঠিয়েছে তোমাকে। '
আমি বললাম, আমি তো আপুর নাম জানি না(উল্লেখ্য তখন আপুর নাম জিজ্ঞেস করাও একটা অনেক গর্হিত অপরাধ ছিল)।এরপর আবার বাজে কথা শুরু। এসব বলে বের করে দিল রুম থেকে, অত্যাচারীরা যেভাবে গুলি ধরে কথা আদায় করে ওভাবে আদায় করলো আমার মুখ থেকে যে,'আমি আর ওদের রুমে উঠার চেষ্টাও করবো না আর উনারা যে উঠতে দেয় নি এটা ম্যাম বা অন্য কাউকে বলবও না।'আমি কোনমতে ভয়ে কেঁপে এসব বলে বেঁচে ফিরলাম।আমি ওই দিনের ট্রমা মনে হয় কোনদিনও ভুলতে পারবো না।ওইদিন এত কান্না করেছি, এত্ত অসহায় লেগেছে-- এসব বলে বুঝানোর মতো না।পরে ওই রুমের বিডিএস এর ওদের জুনিয়র আপু বলল,ওদের অত্যাচারে নাকি উনিই রুম বদলে ফেলেছেন।
ওইদিন