25/08/2026
কলমাকান্দায়
চারু ও কারুকলা পরীক্ষার অনুপস্থিতিকেও হার মানাল ছোট্ট সিনথিয়ার চিত্রাঙ্কন স্পৃহা
প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা বা মূল্যায়ন নেই—এই অজুহাতে অনেক শিশুই পড়াশোনার বাইরে অলস সময় কাটায়। কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনথিয়া শেহেলী। চারু ও কারুকলা পরীক্ষা না থাকার পরও নিজ উদ্যোগে এবং মনের গভীর অনুভূতি থেকে একটি সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যের চিত্র এঁকে সে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের।
শিক্ষকের কাছে ছবিটি জমা দেওয়ার সময় সিনথিয়া জানায়, চিত্রাঙ্কন করতে তার ভীষণ ভালো লাগে। আর সেই ভালোলাগা ও সৃজনশীল তাড়না থেকেই সে পরীক্ষার অনুপস্থিতিকে বাধা না ভেবে নিজের অবসর সময়কে অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজে লাগিয়েছে।
একটি অবিচ্ছেদ্য মেলবন্ধন
সিনথিয়ার এই উদ্যোগটি কেবল একটি ছবি আঁকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিশুর মনস্তাত্ত্বিক ও মানসিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটিয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের চিত্রাঙ্কন চর্চা তাদের মেধা বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এর বহুমুখী ইতিবাচক দিক রয়েছে।
যেমনঃ
ছবি আঁকার সময় শিশুরা তাদের কল্পনার জগতে বিচরণ করে, যা তাদের মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখে। এটি দৈনিক পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করতে সাহায্য করে।
রং ও তুলির ছোঁয়ায় শিশুরা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে, যা তাদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তাধারাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র আঁকতে সময়ের প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ধৈর্য, মনোযোগ এবং সূক্ষ্ম দক্ষতা বিকশিত হয়।
নিজের সৃষ্টি বা শিল্পকর্ম যখন শিক্ষক বা অভিভাবকদের প্রশংসায় ধন্য হয়, তখন শিশুদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। পাশাপাশি তাদের অব্যক্ত অনুভূতি প্রকাশের চমৎকার মাধ্যম হলো শিল্পচর্চা।
আগামী দিনের প্রত্যাশা
সিনথিয়া শেহেলীর মতো ছোট্ট শিশুদের এই স্বতঃস্ফূর্ত শিল্পচর্চা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এবং পরিবারে এক নতুন আশার আলো দেখায়। প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে সৃজনশীলতার এই আনন্দময় পথচলাই শিশুদেরকে কেবল একজন ভালো শিক্ষার্থী নয়, বরং একজন সংবেদনশীল ও মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। সিনথিয়ার এই উদ্যোগ ও চিত্রাঙ্কন প্রীতি অন্য শিশুদেরও অনুপ্রাণিত করুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।