08/03/2020
দিনভর নারী অধিকার নিয়ে নানান আয়োজনের খবরাখবর দেখলাম।
অধিকারের জন্য নারীরাই মিছিল করছে। কার কাছে দাবি জানাচ্ছে? আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে, রাষ্ট্রের সমীপে, লোলুপ পুরুষের দরবারে। এই দাবি-সংগ্রামের নামে কি তারা নিজেকে রাষ্ট্র-সমাজ থেকে আলাদা ‘বস্তু’ হিসেবে উপস্থাপন করছে না?
পুঁজিবাদ দুনিয়ার এই যে আবিষ্কার, নারী দিবস করে নারীকে উদম হতে উস্কে দেবার মহড়া, আমাদের নারীদের একটা অংশ সামান্য বিবেচনা করে দেখল না! নারীবাদী দাবিদারদের উদ্ভট প্রক্রিয়া দেখলে মনে হয়, নিজেদের তারা মানুষ নয়, আলাদা ‘জীব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মহাব্যস্ত! অথচ নর-নারী/নারী-পুরুষ মিলেই মানুষ, সমাজ, সংসার! সব নারীই যে তাদের দাবির সাথে সহমত, এমনও না। গুটি কয়েক নারী নিজেদেরকে সমগ্র নারী জাতির ঠিকাদার মনে করে কীভাবে? তাদের কথাই গোটা নারী সমাজের কথা, এই সাহস তারা কোথায় পায়?
সাবলম্বী হওয়ার নামে, নিজের বুদ্ধিতে চলার নামে নারীকে উস্কে দিয়ে যে লোলুপ পুরুষেরা কাছে টানছে, প্রেমের ছলনা করে সম্ভ্রম লুটে নেবার ঘোঁট পাকাচ্ছে, এই সত্যটা নারী তখন বোঝে, যখন তার সর্বস্ব বিলীন হয়ে যায়। অথচ ইসলাম নারীকে কোনো কষ্ট দিতে চায়নি, পুরুষের ওপর বর্তেছে নারীর যাবতীয় বন্দবস্তের কর্তব্য।
আজ নারী দিবস আছে, আচ্ছা, টাকা-পয়সা দিবস নামে কোনো দিন নেই কেন? ‘অদেখা দেখিয়ে দাও তোমায়’, কাকে দেখাবেন আপনার সযত্নে গড়ে তোলা শরীর? কেন দেখাবেন? শরীর খুললেই যদি সত্যি সত্যি হিরো হওয়া যেত, কুকুর-বানর হতো পৃথিবীর সবচাইতে বড় হিরো।
বিভিন্ন সভ্যতায় নারী ছিল ঘটি-বাটির মতোই একটা তৈজসপত্র। হাটে-বাজারে বিক্রি হতো। জোর যার, সে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যেত।
পুঁজিবাদ দুনিয়ায় এখনো নারী দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। সিনেমায়, মিডিয়ায়, পতিতাবৃত্তিতে নারী বিক্রি হচ্ছে। পার্থক্য একটাই, তখন নারী শক্তির কাছে অসহায় ছিল, এখন নারী অসহায় তার বিবেকের কাছে।
নিয়ম হলো নারীর সারা অঙ্গ ঢাকা থাকবে, পুরুষের আবশ্যক সতর ঢাকা। অথচ এই অতি আধুনিক সভ্যতায় নারী ঘোরে উদম গায়ে। পশ্চিমের পুরুষেরা পোষাকে শরীর মুড়িয়ে রাখলেও নারীর বস্ত্রের ঠিকঠিকানা নেই।
পুঁজিবাদ সভ্যতা যে নারী অধিকার নামে নারীকে আলাদা ‘জন্তু’ হিসেবে পরিবেশন করছে, আমাদের নারীরা এই সত্য কবে বুঝবে? ইসলাম নারীকে কর্মক্ষেত্রের অধিকার দিয়েছে, ফ্রি-মিক্সিংয়ের পাল্লায়, লিভ-টু-গেদারের স্বেচ্ছাচারিতায় সম্ভ্রম বিকোবার অধিকার দেয়নি। আজ যে তুমি তরুণী, আগামী কাল হবে মা, তোমার ছেলে বড় হয়ে দেখবে তার মায়ের অদেখা দেখিয়ে দেওয়ার হুজুগ! আত্মমর্যাদাবোধ আছে যে নারীর, সে কখনোই পণ্য হতে যাবে না, পচতে যাবে না, মচকাবে না। নারীদের হৃদয় জাগুক, নিজেদের তারা বুঝুক, ঘুছিয়ে নিক সবকিছু।
© ওমর আলী আশরাফ
সিয়ান পাবলিকেশন
বিশুদ্ধ জ্ঞান〢বিশ্বমান