30/09/2025
উহ্লামের বাবা—যিনি গুলিবিদ্ধ মেয়েকে কোলে নিয়ে দিকবিদিক ছুটেছিলেন, তিনি আজ মেরুদণ্ড সোজা রেখে ত্রাণের চাল ফিরিয়ে দিয়েছেন—তিনি কেবল একজন বাবাই নন, তিনি প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর সাহস আমাদের শেখায়, অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানই প্রকৃত নাগরিকের দায়িত্ব। এমন বাবার জন্ম হোক প্রতিটি ঘরে।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, সমগ্র দেশজুড়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে সহজেই “উপজাতি সন্ত্রাসী” তকমা দিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এই তকমা দেওয়ার আগে কেউ কি সত্যিই পাহাড়ের চলমান সাম্প্রদায়িক সংকটের গভীরে গিয়ে দেখেছে? পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে বহু দশকের দ্বন্দ্ব নিরসনে রাষ্ট্র বা মূলধারার সমাজ কখনো আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়নি। বরং পাহাড়ি এবং বসতি স্থাপন করা বাঙালিদের না বলা আর্তনাদকে বারবার অবহেলা করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় শক্তির বুটের তলায় পিষ্ট করা হয়েছে তাদের ন্যায্য কণ্ঠস্বর।
পাহাড়ের একটি চিরন্তন সত্য হলো—পাহাড়িরা ধর্ষক নয়। জন্ম থেকে আজ অবধি পাহাড়ি কর্তৃক কোনো বাঙালি নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা শোনা যায়নি। অথচ পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রতিনিয়ত খবর হয়ে আসে—বাঙালির হাতে পাহাড়ি মেয়েরা ধর্ষণের শিকার। এ এক বেদনাদায়ক বৈপরীত্য, যা সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ের নৈতিক দায়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ধর্ষণ একটি জঘন্যতম অপরাধ—তা পাহাড়ি হোক বা বাঙালি, অপরাধী যারাই হোক। কিন্তু রাষ্ট্র যদি বহু আগে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করত, তাহলে হয়তো আজ পাহাড়ের বাতাস আগুনে দগ্ধ হতো না, প্রতিদিন রক্তে ভিজতো না পাহাড়ি চারণভূমি।
পাহাড়ের আগুন নিভাতে হলে জাতিগত বিভাজন নয়- বরং প্রয়োজন ন্যায়বিচার এবং পাহাড়ের প্রতি রাস্ট্রের সমান দ্বায়বদ্বতা। সামরিকায়ন চশমা পরিহার করে পাহাড়ের বাস্তবতাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা রাস্ট্রের মোক্ষম সময়। একটি প্রজন্মকে সাম্প্রদায়িক মনোভাবে গড়ে তুললে কেবল পাহাড় পুড়বে না- সমগ্ররাস্ট্রকে পুড়তে হবে। এই চিরন্তন সত্য রাস্ট্র যত তাড়াতাড়ি বুঝবে- ততই মঙ্গল।